12/05/2026
১৩০ বছরের ঐতিহ্য বহন করেও উন্নয়নবঞ্চিত কাহেতের গাঁও চন্ডিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
।। কাজী আনোয়ার কামাল ।।
সম্পাদক, দৈনিক গ্রামীণ দর্পণ
মনোহরদী উপজেলার শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম ৪৫ নং কাহেতের গাঁও চন্ডিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৮৯৬ সালে মরহুম খলিল মাস্টারের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৩০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আজও এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘ এই সময়ে বিদ্যালয়টি থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে কাজ করছেন। কেউ হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেউ সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, আবার কেউ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এলাকার শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যালয়টির অবদান অনস্বীকার্য।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, যুগের পর যুগ পার হলেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মনোহরদী উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন দোতলা কিংবা আধুনিক ভবনে রূপ নিয়েছে। অথচ শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি এখনও পুরোনো কাঠামোতেই পড়ে আছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্কুলটি আধুনিকায়নের দাবি বহুদিনের। নতুন ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ পরিবেশ ও শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বর্ষাকালে দুর্ভোগ ও শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রায়ই শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সরকার যখন দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক ভবন নির্মাণ করছে, তখন ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহনকারী এই বিদ্যালয়টিকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “শুধু নতুন স্কুল নির্মাণ নয়, পুরোনো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। কাহেতের গাঁও চন্ডিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নতুন ভবন পেলে এলাকার শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।”
অভিযোগ রয়েছে ম্যানেজিং কমিটির গাফিলতি ও যথাযথ উদ্যোগের অভাবেই স্কুলটির এই দুরবস্হা। উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি।
এখন দেখার বিষয়, প্রায় দেড় শতকের ইতিহাস বহনকারী এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।