27/09/2017
—যেভাবে সম্ভাবনা হারায়—
_______________________
আমাদের মাঝে অনেকেই কোনদিন আঁকার স্কুলে যায়নি। কিন্তু ভালো আঁকতে পারে। অনেকেই ভালো লিখতে পারে, অথচ কোনদিন লেখার কোন কর্মশালা করেনি। এটা মানুষের মধ্যে অহরহ হয়। আমরা এটাকে বলি সহজাত মেধা বা ইনেইট ট্যালেন্ট। অনেকেই এমন ইনেইট ট্যালেন্ট নিয়ে জন্মায়। অনেক কিছু না শিখেই করতে পারে। এই সহজাত মেধার সাথে, পরীক্ষায় বেশি বা কম নম্বর পাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। যে সমাজ, এই ধরণের মেধাকে পরীক্ষার নম্বর দিয়ে বিচার করে, সে সমাজ মূলত মেধাকে ধ্বংস করে। ইচ্ছাকৃতভাবে সম্ভাবনাকে গলা টিপে মারে।
গবেষণার নেশা, গবেষণায় ধৈর্য্য বা সৃষ্টিশীলতা একধরণের সহজাত মেধা। অনেকে পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না, তবে সে দারুণ ভাবতে জানে। অদ্ভুত অদ্ভুত সব আইডিয়া দিতে পারে। নতুন কিছু ডিজাইন করতে জানে। তাহলে এইধরণের ছেলে-মেয়েদেরকে আমরা কী করে বাছাই করবো? —তাদেরকে বাছাইয়ের জন্য তরুণ বয়সে বিভিন্ন রিসার্চ প্রজেক্ট বা গবেষণার সুযোগ দেয়া হয়। সেখান থেকে তাদের প্যাশন, ধৈর্য্য, সৃষ্টিশীলতা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
কিন্তু আমরা কী করি? —আমাদের দেশে থিসিস বা গবেষণা করার সুযোগ পায় গোটা কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই থিসিস করার শর্ত হলো, পরীক্ষায় একটা নির্দিষ্ট ‘জিপিএ’ পাওয়া। এই যে জিপিএ নির্ভর গবেষণায় সুযোগ দেয়া, এটা হলো জাতীয় সম্ভাবনা ধ্বংস করা। ব্যাচেলর বা মাস্টার্স পর্যায়ে সবাইকে গবেষণা করার সুযোগ দিতে হয়। এই কাজটাই করা হয় ইউরোপ-আমেরিকা কিংবা অন্যান্য দেশে। আফ্রিকার দেশগুলোতেও সম্ভবত থিসিস ছাড়া মার্স্টাস হয় না। অথচ আমরা নাম দিয়েছি, থিসিস এবং নন-থিসিস মাস্টার্স! ‘নন-থিসিস মার্স্টাস’ কি জিনিস, এটা বিদেশে কাউকে বুঝানো যায় না। কী প্যারাময় জীবন আমাদের!
স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে দেখেছি, যেসব ছেলে-মেয়ে কোর্স পরীক্ষায় ফেইল করেছে, তারা পর্যন্ত একসময় পিএইচডি করছে। আমি তো পুরো থ! পরে বুঝলাম, প্রফেসর মূলত তাকে নিচ্ছে শুধু থিসিসের পারফমেন্সের উপর ভিত্তি করে। সহজাত মেধাকে বের করতে হলে কাউকেই অবহেলা করা যায় না। গত আট বছরে বহু ছেলে-মেয়েকে দেখেছি, যারা পরীক্ষায় ভালো করে গবেষণায় ভালো করতে পারেনি। আবার অনেকেই পরীক্ষায় তুলনামূলক খারাপ করে, গবেষণায় দারুণ পারফর্মেন্স দেখিয়েছে। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীকে গবেষণার সুযোগ না দেয়া একটা প্রতারণা। শুধু নম্বরের ভিত্তিতে গবেষণার সুযোগ দেয়া একটা প্রবঞ্চনা। এতে মেধাবীরা প্রবঞ্চিত হয়। সম্ভাবনা হারিয়ে হয়! সমাজ বঞ্চিত হয়।
প্রিয় স্বদেশ কী এই প্রবঞ্চনা থেকে বেরিয়ে আসবে কখনো?