10/06/2023
"" অধ্যাপক আবু সাইদ এমএনএ ভারতের কুরমাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ ""
মার্চ মাস বাংলাদেশের জন্য গৌরবের এবং দুঃখেরও মাস। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার সাথে সাথে এদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাকুল উদ্দীপনা দেখা গেলো।আমাদের তখনকার অভিভাবক অধ্যাপক আবু সাইদ এমএনএ। আমাদের যুব সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে সবাইকে হুকুম দিল যার যার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ নেও এবং দেও।আমাদেরকে বললো সবাই ট্রেনিং দেবার পর বিকেলে তার কাছে রিপোর্ট করতে হবে।আমরা বিকেলে ট্রেনিং শেষ করে অধ্যাপক আবু সাইদ সাহেবের সাথে দেখা করতাম। এক পর্যায়ে আমাদের বেশ কয়েকজনের নাম দিয়ে বললো তোমরা ট্রেনিং দিবেই।আরও গ্রামের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তোমাদের দায়িত্ব আহমদপুর ইউনিয়নের দলিল উদ্দিন দুলাল (শেখ সাহেবের আগরতলা কেসের প্রতিবাদ করা এবং হরতাল করায় কাজিরহাট স্কুল থেকে গ্রেফতার হওয়ায় সে আমাকে আগে থেকেই চিনতো), আবদুস সামাদ,,জাত সাখনি আবদুর রহমান আরও কয়েকজন ভারেংগার ফজলু চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজনের নাম দিয়ে দিল। এই এলাকার ছাত্র নেতা আবদুল কাদের সব সময়ই আমাদের সাথে থাকতেন। ট্রেনিং দিয়ে বিকেলে তার সাথে দেখা করতাম।আমাদের ট্রেনিং দেওয়ার সময় শত শত লোক দেখতো।সাইদ সাহেব আমাদের বললেন দেশ স্বাধীন হবেই। তা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের মাধ্যমে। আমরা তারপর ২২,২৩,২৪ মার্চ আমাদের ডেকে নিয়ে বললো কঠিন ভাবে নগরবাড়ির ঘাট পাহাড়ায় রাখতে হবে।বাংকার কেটে রেডি করতে হলো।ঢাকা থেকে মানুষ আসা যাওয়া বন্ধ করে দিল। ২৪শে মার্চ আরিচা থেকে ফেরি আসলো।মাইক্রোবাস কাশিনাথ পুর আসলে বাসটি থামিয়ে সাইদ সাহেব কে তুলে দেবার আগে সে এক হৃদয় বিদারক
অবস্থার সৃষ্টি হয়।তিনি বললেন আমি যে পরামর্শ দিয়েছি সেই অনুপাতে তোমরা চলবে। অধ্যাপক আবু সাইদ চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বললেন অবস্থার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।অধ্যাপক আবু সাইদ প্রতিদিন সকাল থেকে কাশিনাথ পুর তে মাথায় থাকতেন এবং কোথায় খেতেন,কোথায় খেতেন একমাত্র তিনিই জানতেন। তার অবিরাম পরিশ্রমের ফল মুক্তিযোদ্ধারা পালন করেন। এপ্রিলের ৬ তারিখ পাক হানাদার বাহিনী আরিচা থেকে বোমবিং করা শুরু করলো। আমরা কিছু গুলি বিনিময় করলাম। পরে ছন্নছাড়া হয়ে গেলাম। ৭ মাস পরে অধ্যাপক আবু সাইদ এর সাথে দেখা। ৭ নম্বর সেক্টরের হেড কোয়ার্টার পশ্চিম দিনাজপুর বালুর ঘাটের তরঙ্গপুর সাইদ সাহেব কে দেখে চোখের পানি ঠেকিয়ে রাখতে পারলাম নাহ। তবুও বললাম কেমন আছেন! ছলছল চোখে অত্যন্ত ভার কন্ঠে বললো এই তো আছি।অনেক পরে জিজ্ঞেস করলাম কোন জায়গায় আছেন। উনি বললেন কুরমাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ। ওই ক্যাম্প থেকে কয়েকটি জেলার মুক্তিযোদ্ধা দের অস্ত্র ইশু করা হতো। অধ্যাপক আবু সাইদ সহ মোমিন তালুকদার ইন্ডিয়ান একজন সুবেদার মেজর সাম বড়ুয়া। বাংলাদেশের জন্য অধ্যাপক আবু সাইদের দান অবদান ত্যাগ তিতিক্ষার কথা কেউ ভুলবে না।তার গুণের শেষ নেই। স্বাধীনতার ইতিহাস বইতে হাসান হাফিজুর রহমান তার লেখায় পরিস্কার ভাবে বলে গেছেন আবু সাইদ বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সাথে জড়িত ছিল।
~ বীর মুক্তিযোদ্ধা দলিল উদ্দিন কমান্ডার