Youth Action For Social Change - YASC

Youth Action For Social Change - YASC Youth Action For Social Change (YASC) is a youth based non profit organization dedicated to build social awareness in Rajshahi.

It's vision is to end different social discrimination in society and to bring positive change in society as well as to create leaders. As a part of our community service we took different Social Action Project (SAP).

পুনর্বাসন ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধনরাজশাহী ll ৬ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবাররাজশাহী নগরের ভূমিহীন ও...
06/08/2026

পুনর্বাসন ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

রাজশাহী ll ৬ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার
রাজশাহী নগরের ভূমিহীন ও নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীদের আবাসনের অধিকার নিশ্চিত, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ এবং মানবিক নগর গঠনের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬, রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এক মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নামোভদ্রা লেকপাড় বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন, গ্রীন কোয়ালিশন ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যৌথ আয়োজিত কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজ, বস্তিবাসী, মানবাধিকারকর্মী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, রাজশাহী শহরের নামোভদ্রা লেকপাড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১০৪টি বস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী হাজারো পরিবার উচ্ছেদের অনিশ্চয়তায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদের অধিকাংশই রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও দিনমজুর যাদের শ্রমেই নগরের অর্থনীতি সচল থাকে। অথচ তারাই আজ নিরাপদ আবাসনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

বক্তারা আরও বলেন, আবাসন কেবল একটি সামাজিক চাহিদা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর আলোকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না।

নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমরা দখলদার নই, আমরা এই শহরের শ্রমজীবী মানুষ। আমাদের ঘামেই রাজশাহীর চাকা ঘোরে। কিন্তু আজ মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর ভয়ে প্রতিদিন আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা উচ্ছেদ চাই না, আমরা মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার চাই।”
নামোভদ্রা বস্তিবাসী জেসমিন খাতুন বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সরকার তারেক রহমানের কাছে জানাই আমদের উচ্ছেদ করার আগে আমাদের বসতবাড়ি দেন। রোহিঙ্গারা যদি এদেশে থাকার জায়গা পায় তাহলে আমরা এদেশের নাগরিক আমরা কেন পাবো না।”

জামালপুর বস্তিবাসী খলিল হোসেন বলেন, “আমরা নদী ভাঙ্গনের ফলে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছি। এই শহরের নোংরা বোতল, পলিথিন, ময়লা ইত্যাদি আমরা সংগ্রহ করি। শহরকে পরিস্কার-পরিছন্ন করি আমরা কিন্তু আমাদের থাকার জায়গা নেই।”
নগর দরিদ্র অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামালপুর বস্তিবাসী নিলুফা ইসমত আরা বলেন, “একটি ঘর হারানো মানে শুধু একটি ঠিকানা হারানো নয়; হারিয়ে যায় সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা, জীবিকার সুযোগ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সরকার আমাদের অপরাধী নয়, নাগরিক হিসেবে দেখুক। নির্বাচনের সময় আমরাও ভোট দেই, আমরা আমাদের অধিকার চাই।”
বহরমপুর বস্তিবাসী মতি মিয়া বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা এই শহরে কাজ করছি, আমার রান্না না করলে আপনাদের রান্না হবে না, ঘর পরিস্কার হবে না অথচ আমাদের কাজের, অস্তিত্বের কোনো স্বীকৃতি নেই। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা যেন উচ্ছেদের ভয়ে নয়, নিরাপদ একটি ঘরে থেকে ভবিষ্যৎ গড়তে পারে।”

গ্রীণ কোয়ালিশন রাজশাহীর সভাপতি, মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, “একটি সভ্য নগর কখনো তার সবচেয়ে দুর্বল মানুষদের উচ্ছেদ করে উন্নয়নের গল্প লিখতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য ও নগরায়ণের এই সময়ে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের অন্যতম পূর্বশর্ত। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিরও পরিপন্থী।”

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি, মো. আতিকুর রহমান বলেন, “রাজশাহীকে যদি সত্যিকার অর্থে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও টেকসই এবং জলবায়ু সহনশীল নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং এই জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষগুলোর কথাও বিবেচনা করতে হবে। আমরা এমন কোনো উন্নয়ন চাই না, যা দরিদ্র মানুষের মাথার ওপরের ছাদ কেড়ে নেয়। পুনর্বাসন নিশ্চিত করেই উন্নয়ন করতে হবে, এটাই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”

নৃবিজ্ঞানী ও গ্রীন কোয়ালিশন রাজশাহীর সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, জোরপূর্বক উচ্ছেদ দারিদ্র্যকে আরও গভীর করে, সামাজিক বৈষম্য বাড়ায় এবং শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বস্তিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং পুনর্বাসনকে আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। নিরাপদ আবাসন কোনো দয়া নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।”
তিনি আরো বলেন, “ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন সময়ে নগর দরিদ্র ও বস্তিবাসীদের জন্য আবাসন প্রকল্প নেয়া হয়েছে এবং নেয়া হচ্ছে কিন্তু রাজশাহী শহরে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হলেও এই নগর দরিদ্র, জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষগুলোর জন্য কোন আবাসন প্রকল্প নেয়া হয় নি।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম সারোয়ার সুজন বলেন, “পুর্নবাসন ছাড়া কোন উচ্ছেদ করা যাবে না। বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার কিন্তু বস্তিবাসীরা এগুলোর কোনটাই তারা পায় না। তারা প্রচন্ড কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করে। জনগণের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বই এর গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশ এর গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে প্রত্যেকটা আন্দোলন সংগ্রামে জনগণ তাদের এই অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে কিন্তু তাদের অধিকার হরণ হয়ে গিয়েছে, লুন্ঠন হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন আর এটি দেখতে চাই না এই মানুষগুলোর আবাসন নিশ্চিত করেই উচ্ছেদ করা হোক।”

জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী মানববন্ধনের পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে রাজশাহীর কোনো বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না; সকল বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে; বস্তিবাসীদের পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে; উচ্ছেদসংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করতে হবে; নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন অধিকারকে স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজশাহীকে সত্যিকার অর্থে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কোন জনগোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে নয়, সমতাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। মানুষকে আবাসনহীন করে উন্নয়ন নয়, বরং আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করেই উন্নয়ন হতে হবে।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনুভা আমিন, সম্পর্ক সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি গোপাল দেব শর্মাসহ প্রমূখ।

আয়োজকরা জানান, এই মানববন্ধনের পাশাপাশি গণস্বাক্ষর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সংগৃহীত গণস্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ এবং নগর দরিদ্র মানুষের আবাসন অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Ministry of Environment, Forest and Climate Change, Bangladesh PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় Ministry of Railways, Bangladesh জেলা প্রশাসন, রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) সংলগ্ন ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা, যানবাহন পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের ...
04/08/2026

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) সংলগ্ন ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা, যানবাহন পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকাকে স্থায়ী ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণার দাবিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)’ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) সংলগ্ন ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা, যানবাহন পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং হাস.....

Freeing the footpaths and main road adjacent to Rajshahi Medical College Hospital (RMCH), control vehicle parking, and d...
04/08/2026

Freeing the footpaths and main road adjacent to Rajshahi Medical College Hospital (RMCH), control vehicle parking, and declare the 400-meter area around the hospital as a permanent ‘Emergency Response Zone’ has been sought.

The development research-based youth organization 'Youth Action for Social Change (YASC)' and the cultural organization 'Bhangi Nritya Shilpalay' submitted a memorandum to the Administrator of Rajshahi City Corporation (RCC), Mahfuzur Rahman Riton.

RAJSHAHI, Aug 3,  2026 (BSS)- Freeing the footpaths and main road adjacent to Rajshahi Medical College Hospital (RMCH), control vehicle

30/07/2026

Speakers urged authorities to turn the sanctuary declaration into practical conservation by enforcing existing laws, curbing destructive fishing practices and pesticide pollution, and ensuring community participation in long-term wetland management.

Read the full article in the comments section.

Bangladesh’s first nationwide blood lead assessment highlights widespread exposure among young children while raising co...
30/07/2026

Bangladesh’s first nationwide blood lead assessment highlights widespread exposure among young children while raising concerns over unsafe battery recycling, electronic waste management and the need for stronger safeguards as the country expands renewable energy.

Read the full article in the comments section.

30/07/2026

The Rajshahi human chain linked pesticide use to threats facing native fish, pollinators, soil life and rural livelihoods, while calling for safer farming systems.

Read the full article in the comments section.

উন্নয়ন-বর্ণবাদের চাদর সরিয়ে ‘বাদাবনের বিজ্ঞান’বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হলেও এই বন নিয়ে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শনগত অ...
28/07/2026

উন্নয়ন-বর্ণবাদের চাদর সরিয়ে ‘বাদাবনের বিজ্ঞান’
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হলেও এই বন নিয়ে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শনগত অবস্থান অস্পষ্ট। বেশির ভাগ গবেষণা ও প্রকল্প সুন্দরবনকে দেখেছে ঔপনিবেশিক আয়নায়। বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে লিখেছেন পাভেল পার্থ

আয়তনে ছোট হলেও বাংলাদেশের বনের বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্য। পাতাঝরা, জলাবন, কাশবন, পাহাড়ি বন, বৃষ্টিবন, গ্রামীণ বন, পাড়াবন, উপকূল বন কিংবা ম্যানগ্রোভ—কী নেই এ বদ্বীপে? উপকূলের খণ্ডবিখণ্ড ক্ষয়িষ্ণু কিছু টুকরো আর সৃজিত ম্যানগ্রোভ থাকলেও মূলধারায় বেশি আলোচিত ‘সুন্দরবন’।

সুন্দরবনসহ দেশের প্রতিটি ম্যানগ্রোভ বন বিপুল কার্বন শোষণ করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙনের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দাঁড়ায়। বহু স্থলজ ও জলজ প্রাণপ্রজাতির আবাস ও প্রজননস্থল। উপকূলের ১০ লাখ মানুষের জীবন–জীবিকা এই বনের ওপর নির্ভরশীল। বাংলা বাঘ, ইরাবতী ডলফিন, শ্বাসমূলীয় বৃক্ষ, বহু পাখি ও কুমিরের বিচরণস্থল।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হলেও এই বন নিয়ে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শনগত অবস্থান অস্পষ্ট। বেশির ভাগ গবেষণা ও প্রকল্প সুন্দরবনকে দেখেছে ঔপনিবেশিক আয়নায়। এক খণ্ডিত বিচ্ছিন্ন বন্য প্রাণীর বাস্তুতন্ত্র হিসেবে। অন্যায়ভাবে ম্যানগ্রোভ ইতিহাসের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নির্দয় রক্তপাত ও নিখোঁজের খতিয়ান। নয়া উদারবাদী ব্যবস্থা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলগুলোকে কাঠামোগতভাবে খুন করে চলেছে।

নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বহু এলাকায় এখনো কিছু খণ্ডবিখণ্ড ম্যানগ্রোভ বনের চিহ্ন আছে। গড়ে উঠেছে সৃজিত কিছু ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র।

সুন্দরবনসহ দেশের সব ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের লোকায়ত জ্ঞান, লোকবিজ্ঞান, বনজীবীদের সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের দার্শনিক ও উৎপাদনমূলক প্রতিবেশগত সম্পর্ককে আমরা বুঝতে চাইনি।

উন্নয়ন-বর্ণবাদের চাদর সরিয়ে সুন্দরবনসহ দেশের ম্যানগ্রোভ বনগুলোকে পাঠ করা জরুরি। বনজীবীদের লোকায়ত বিজ্ঞান ও দর্শন এ ক্ষেত্রে জাতীয় ম্যানগ্রোভ নীতি ব্যবস্থাপনার অন্যতম ভিত্তি হতে পারে।

শের ম্যানগ্রোভ জীবনব্যবস্থা নিয়ে আমাদের জানা–বোঝা প্রবলভাবে পরস্পরবিরোধী এবং খণ্ডিত। কারণ, বনজীবীদের বিচ্ছিন্ন ও আড়াল করে আমরা জোয়ার–ভাটার বনভূমির ব্যাকরণ বুঝতে চেয়েছি। সুন্দরবনসহ দেশের সব ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের লোকায়ত জ্ঞান, লোকবিজ্ঞান, বনজীবীদের সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের দার্শনিক ও উৎপাদনমূলক প্রতিবেশগত সম্পর্ককে আমরা বুঝতে চাইনি।

চার বিভাগে বিন্যস্ত সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কাজের অভিজ্ঞতা থেকে দাঁড় করাই ‘বাদাবনের বিজ্ঞান’, প্রতিচিন্তা জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। ২০১০ সালে এই গবেষণার কিছু অংশ উপস্থাপনকালে বন বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা কপাল কুঁচকেছিলেন। মানুষ খায় এমন কোনো গাছের পাতা নেই সুন্দরবনে, এই বনের কিছু ফল কাঁচা খাওয়া গেলেও পাকলে খাওয়া যায় না, এক ফোঁটা মধুর জন্য একটি মৌমাছি ৮০টি ফুলে যায়—এসব তথ্য অনেকের প্রথম জানা হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর বন বিভাগ সুন্দরবন থেকে গোলপাতা আহরণ নিষিদ্ধ করে। প্রথাগতভাবে এই পাতা আহরণ না করলে শুকিয়ে মারা যায়। বনজীবীদের নিয়ে বহু দেনদরবারের পর বন বিভাগ বিজ্ঞানটি বুঝতে পেরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

নৃবিজ্ঞানী আন্নু জালাইসের ফরেস্ট অব টাইগারস: পিপল, পলিটিকস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইন দ্য সুন্দরবনস বইটি প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। বাঘ ও বনের সঙ্গে বনজীবীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে আলোচনার ভেতর দিয়ে লেখক সুন্দরবনের এক বিঔপনিবেশিক বয়ান হাজির করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বনজীবী ও বননির্ভর জনগণের চোখে ম্যানগ্রোভ বন দেখার তৎপরতা রাষ্ট্র এখনো শুরু করেনি। তাই দেশের ম্যানগ্রোভ বনগুলো ক্ষতবিক্ষত ও নিরন্তর নিখোঁজ হচ্ছে। একটা সময় ম্যানগ্রোভ বনকে ‘বাণিজ্যিক চিংড়িঘেরের’ জমি হিসেবে দেখা হয়েছে, সম্প্রতি হট্টগোল তোলা হচ্ছে ‘কার্বন শোষণাগার’ হিসেবে।

২০১৫ সালে ইউনেসকোর সাধারণ সম্মেলনে ২৬ জুলাইকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। সুন্দরবনসহ দেশের ম্যানগ্রোভ বনের ‘লাশগুলো’কে নয়া উদারবাদী উন্নয়ন-বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে হাজির করার পাশাপাশি লোকায়ত জ্ঞাননির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা ও বন-দর্শনকে বিঔপনিবেশিক নীতি হিসেবে প্রস্তাব করছি চলতি আলাপে।

'খুন’ হওয়া চকরিয়া সুন্দরবন
সুন্দরবনের পর কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। গোলপাতা, কেওড়া, ধুন্দল, বাইন, গরান, গেওয়া, হারগোজা, সুন্দরী, টাইগারফার্নের বিস্তার ছিল চারধারে। প্রায় ২১ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত এই বনকে ১৯০৩ সালে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছিল। মাতামুহুরী নদী ও মহেশখালী চ্যানেলের জোয়ার–ভাটায় গড়ে ওঠা এই প্রাচীন বনটিকে নির্দয়ভাবে খুন করা হয়েছে। ফাসিয়াখালীতে একটিমাত্র সুন্দরীগাছ রাজসাক্ষী হয়ে টিকে আছে।

১৯৭৭ সালের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয় এই বন বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের জন্য ইজারা দেওয়া শুরু করে। পরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বিশ্বব্যাংক চিংড়ি চাষে বিনিয়োগ শুরু করে। দিনে-দুপুরে প্রাচীন বনটির ওপর উন্নয়নের জুলুম শুরু হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বিশ্বব্যাংক ১৯৮৬ সালে মাছ চাষের আরেক বিশাল প্রকল্প শুরু করে। দশাসই বাণিজ্যিক মাছের খামারের মুনাফার তলায় নিখোঁজ হয়ে যায় এক প্রাচীন ম্যানগ্রোভ। এই বন হত্যার কারণে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে এক লাখ মানুষ নিহত হয়। কারণ, আর কোনো প্রাকৃতিক ঢাল ছিল না চারধারে।

সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন
কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বনকেও হত্যা করা হয়েছে বাণিজ্যিক মাছ চাষের ছুতায়। ধ্বংস হয়েছে মহিষের চারণভূমিগুলোও। ২০১৬ সালে সোনাদিয়া দ্বীপের প্রায় ৯ হাজার ৪৬৬ একর জমি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বেজার কাছে হস্তান্তর করেন। ২০১৮ সালে আরও প্রায় ১২ হাজার একর। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার জন্য জমি হস্তান্তর হলেও বাণিজ্যিক চিংড়িঘেরই প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। সোনাদিয়ার প্রায় ৮ হাজার একর বনকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

কুকরিমুকরি, ল্যুমফ্রু বা ঢাল চর ম্যানগ্রোভ
নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বহু এলাকায় এখনো কিছু খণ্ডবিখণ্ড ম্যানগ্রোভ বনের চিহ্ন আছে। গড়ে উঠেছে সৃজিত কিছু ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র। ভোলার চরফ্যাশনের চর কুকরিমুকরি ম্যানগ্রোভ অভয়ারণ্য হরিণের এক বৃহৎ বিচরণস্থল। মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন ও মো. আবদুল্লাহর এক যৌথ গবেষণায় (২০১৬) চর কুকরিমুকরিতে ২৭৭ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করেছেন। ২০১০ সালে এই বনের ১৫ হাজার গাছ কেটে বাবুগঞ্জ থেকে পাতলিয়ার বুড়াগৌরাঙ্গ পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মাণ করতে চেয়েছিল ইউনিয়ন পরিষদ।

একইভাবে ঢালচরের সৃজিত ম্যানগ্রোভ বনও স্থানীয় রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে ছিন্নভিন্ন হয়েছে বহুবার। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত লাগোয়া ল্যুমফ্রুর বনটি গড়ে ওঠে ল্যুমফ্রু রাখাইনের নামে। ক্ষয়িষ্ণু বনটির নাম পাল্টে বর্তমানে করা হয়েছে ‘লেবুর বন’। বাণিজ্যিক পর্যটনের কারণে নতুন ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়েছে এই টুকরো বন।

সুন্দরবনে বারবার আগুন আর জাহাজডুবি কেন?
২০০২ থেকে ২০২৪ গত ২৪ বছরে প্রায় ২৫ বার আগুন লেগেছে সুন্দরবনে। প্রায় ৭২ একর ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র অঙ্গার হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে বন বিভাগ বনের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের হিসাব করে না। শুধু বৃক্ষ ও বড় প্রাণীদের হিসাব করে। অথচ অগ্নিকাণ্ডে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বনতল। বিপর্যস্ত হয় খাদ্যশৃঙ্খল এবং আঘাত লাগে সামগ্রিক খাদ্যজালে। বিগত অগ্নিকাণ্ডে দেখা দেখা গেছে হারগোজা, ধানচি, টাইগারফার্ন, সিংড়া, বলা, কালিলতা, গোলপাতা, কেয়া, হেন্তাল, আঙ্গুরলতা, বাওয়ালিলতা পুড়েছে বিস্তর।

১৯৮৮ সালে জাহাজ ডুবে উচ্চ মাত্রার সালফারযুক্ত তেলে ছড়িয়ে যায় সুন্দরবনে। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ‘এমটি সাউদার্ন স্টার-৭’ নামের এক কার্গোবোট ডুবে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস তেল ছড়িয়ে পড়ে শ্যালা নদীসহ চাঁদপাই রেঞ্জের প্রায় ২০টি খাল, দুটি ভাড়ানি ও বনস্তরে। অগ্নিকাণ্ড ও জাহাজডুবির মাধ্যমে দূষণ ও দখলের কোনো উত্তর নেই।

অস্বীকৃত ‘বাদাবনের বিজ্ঞান’
ম্যানগ্রোভ বনের লোকায়তবিদ্যাকে অস্বীকার করে বারবার এই বনের ওপর কখনো মার্কিন শেল কোম্পানির জরিপ বা রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ প্রকল্পের মতো বহিরাগত খবরদারি চাপানো হয়েছে। ক্ষমতাকাঠামোর একতরফা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তাই সুন্দরবনের বনজীবীদের লোকবিজ্ঞানকে ‘অপর’ করে দেয় এবং এক উন্নয়ন-বর্ণবাদ প্রতিষ্ঠার জুলুম করে।

বনজীবীদের কাছে সুন্দরবন বা ম্যানগ্রোভ হলো ‘বাদাবন’। এই বনের রক্ষাকবচ মা বোনবিবি। যাকে মূলধারায় ‘বনবিবি’ বানানো হয়েছে (তিনি বনের নয়, তিনি বোন)। সুন্দরবন–সম্পর্কিত প্রাচীন দলিল হলো বোনবিবির পুঁথিগুলো। ‘বোনবিবির কেরামতি অর্থাৎ বোনবিবি জহুরানামা ও ধেনামৌলে ও দুঃখের পালা’ পুঁথিতে আছে, বাদাবন এক জেয়ার–ভাটার জঙ্গল এলাকা। এখানে দক্ষিণরায় বাঘের বেশে থাকে। এখানে মধু-মোম হয়, তাই কাটতে মৌয়াল-বাওয়ালিরা চৈত্র মাসে বনে প্রবেশ করেন।

সুন্দরবনের বনজীবীদের কাছে বন এক পবিত্র সত্তা এবং জীবনের আশ্রয়স্থল। বনে থাকার সময় সরাসরি প্রস্রাব করা যায় না মাটিতে, একটা পাতার ওপর করতে হয়। এই বন দিনে চারবার রূপ বদলায়। বাদাবনের সবচেয়ে দূরতম স্থানে যেতে হয় আঠারভাটির পথ পাড়ি দিয়ে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থাননাম মাছের নামে বাঘের নামে কোনো স্থাননাম নেই। পারশেখালী, কৈখালী, দাঁতিনাখালী, ভেটখালী, ভেটকীখালী, আমাদি, চিংড়াখালী, জোংড়াখালী।

ম্যানগ্রোভ বন থেকে বাঘ, বনজীবী, বোনবিবি, মৌমাছি, বাইন, মাছ, পাখি কাউকে আলাদা করা যাবে না। অথচ বহু প্রকল্প সুন্দরবনের গ্রামে গিয়ে বনজীবীদের জোর করে ‘বিকল্প কর্মসংস্থানের’ মহড়া দিয়েছিল। যারা কোনো দিন বন ধ্বংসের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক কারণ এবং বৈশ্বিক অস্ত্র এবং কার্বন–বাণিজ্যকে প্রশ্ন করেনি। কেওড়ার ফলন বেশি হওয়া মানে বনে ফুলের পরাগায়ন ভালো হয়েছে বোঝা যায়। পরাগায়ন ভালো হয়েছে মানে বৃষ্টিপাত ভালো হয়েছে এবং মৌমাছিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ আছে। মৌমাছিরা নিরাপদে আছে মানে মধু-মোমের পরিমাণও ভালো হয়েছে। মৌয়ালরা যদি ভালোভাবে মধু আহরণ করেন এবং জেলেরা মাছ ধরতে পারেন, তবে বন বিভাগও ভালো রাজস্ব পায়। বনজীবী পরিবারওগুলোও ভালো থাকে। মাছ, ধান, মৌমাছি, মানুষ, বন বিভাগ সব নিয়ে এক জটিল সংসার বাদাবন।

বাদাবনে গাছের পাতা থেকে মাছ, মাছ থেকে মাটি, মাটি থেকে মানুষ জন্ম নেয়। পুরো বাদাবন যেন পাতার খেলা। ঝরাপাতা, নয়া পাতা, মরা পাতা। রংবেরঙের নানা পাতা। বাদাবনের পাতা দেখেই বলে যায় বনের শরীর কেমন আছে। কি গাছে থাকা পাতা, কি ঝরা পাতা। পাতার বর্ণ ও গন্ধ জানান দেয় বাদাবনের সুস্বাস্থ্য। জোয়ার-ভাটায় ঝরা পাতারা এক খাল থেকে আরেক খালে, এক চর থেকে আরেক চলে জমা হয়।

কাদামাটিতে নানা বয়সী নানা জাতের পাতা জমে জমে স্তূপ তৈরি হয়। কাদাজলে জমে জমে এই স্তূপ রং বদলায়। একসময় ঝুরঝুরে নরম কালচে স্তরীভূত মণ্ড হয়ে ওঠে। ঝরা পাতার এ অবস্থাকে ‘মেথানি’ বলে। এই মেথানিতেই চিংড়ির জন্ম হয়। মেথানি হলো বাদাবনের চিংড়ির আঁতুড়ঘর। ঝরা পাতা থেকে যেমন মেথানি, ঠিক তেমনি জঙ্গলে নতুন পাতা দেখা দিলেই মধু মৌসুমের সূচনা হয়। ম্যানগ্রোভ বনের লোকায়ত বিজ্ঞান ও জীবনকে বুঝতে হবে। খবরদারি ও অপরায়ণের মাস্তানি বাতিল করে ম্যানগ্রোভ বনের পাশে দায় ও দরদ নিয়েই দাঁড়াতে হবে।

উন্নয়ন-বর্ণবাদের চাদর সরিয়ে
বিশেষজ্ঞরা সুন্দরবনের ‘বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব’ আবিষ্কার করেছেন। যদিও বনজীবীরা এটি বিশ্বাস করেন না। বাদাবনে বাঘের আক্রমণে মানুষ মারা গেলে কখনোই বলা হয় না বাঘে মেরেছে বা বাঘে খেয়েছে। বলা হয় মানুষটি বাদায় পড়েছে। বনজীবীরা যেমন বাঘের হামলায় নিহত হয়েছেন, খাবারের অভাবে গ্রামে আসা বাঘও অনেক সময় মারা পড়েছে। কারণ, রাষ্ট্র অসহায় বাঘগুলোকে বনে ফিরিয়ে নেয়নি।

সিডরের পর সুন্দরবন থেকে ফিরে একটা লেখা লিখেছিলাম: ‘বীর সুন্দরবন: জীবন দিয়ে বাঁচাল স্বদেশ’। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে আম্পান ঘূর্ণিঝড়ের পর আবার লিখি, সুন্দরবন আবারও জীবন দিয়ে বাঁচাল স্বদেশ। যে বনের ওপর আমাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে, সেই বনকে আমরা নিস্তার দিইনি কখনো। উন্নয়ন-বর্ণবাদের চাদর সরিয়ে সুন্দরবনসহ দেশের ম্যানগ্রোভ বনগুলোকে পাঠ করা জরুরি। বনজীবীদের লোকায়ত বিজ্ঞান ও দর্শন এ ক্ষেত্রে জাতীয় ম্যানগ্রোভ নীতি ব্যবস্থাপনার অন্যতম ভিত্তি হতে পারে।

প্যারাকুয়েট নিষিদ্ধে আর বিলম্ব নয়জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধে জোর দাবিস...
27/07/2026

প্যারাকুয়েট নিষিদ্ধে আর বিলম্ব নয়
জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধে জোর দাবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (রাজশাহী, ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার):
বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক অবিলম্বে নিষিদ্ধ করে নিরাপদ খাদ্য, জনস্বাস্থ্য ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষক-কৃষানী, গবেষক, মৎস্যজীবী, যুব সংগঠক ও পরিবেশকর্মীরা। তাদের মতে, পৃথিবীর প্রায় ৭০ টি দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যারাকুয়েট বাংলাদেশে এখনও অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজশাহীর পবা উপজেলার কর্ণহার বিল এলাকায় উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম এবং গ্রীণ কোয়ালিশন-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে কৃষক-কৃষাণি, মৎস্যজীবী, কৃষিবিদ, যুব প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির নামে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার আজ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য এক নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে। প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় মাছ, মৌমাছি, পরাগায়নকারী পতঙ্গ, মাটির অণুজীব এবং জলজ ও স্থলজ প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এর ফলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষকের স্বাস্থ্য এবং দেশের খাদ্যব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, প্যান এশিয়া প্যাসিফিক-এর ২০২৫ সালের গবেষণায় বাংলাদেশসহ চারটি এশীয় দেশে ব্যবহৃত ৯৬টি কীটনাশকের মধ্যে ৫৩টিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এসব কীটনাশক পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার এবং নিরাপদ বিকল্প কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুপারিশ করে আসছে। বাংলাদেশ রটারডাম কনভেনশন ও স্টকহোম কনভেনশন এর সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দায় বহন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্যারাকুয়েট নিষিদ্ধ করা কৃষির বিরুদ্ধে অবস্থান নয়; বরং কৃষক, ভোক্তা ও পরিবেশের পক্ষে একটি বৈজ্ঞানিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। কৃষকদের নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তি, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা এবং এগ্রোইকোলজি ভিত্তিক কৃষি চর্চায় সরকারি বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সহায়তা বৃদ্ধি ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী মৎস্যজীবী, কৃষক ও গবেষকরা বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশকের কারণে দেশীয় মাছ বৈচিত্র্য, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাদ্যবৈচিত্র্য, পরাগায়নকারী প্রাণী এবং কৃষি-প্রতিবেশব্যবস্থা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকট কেবল পরিবেশগত নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং গ্রামীণ জীবিকারও সংকট।

মানববন্ধন থেকে প্যারাকুয়েটসহ বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী সব অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ করা; নিবন্ধিত সব কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন; খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার জাতীয় কর্মসূচি জোরদার; কৃষকদের জন্য নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তিতে ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণ; মৌমাছি ও পরাগায়নকারী প্রাণী সংরক্ষণ; জাতীয় বিষক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু; এবং জাতীয় এগ্রোইকোলজি রূপান্তর কর্মসূচি গ্রহনের জোর দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরো বলেন, “প্যারাকুয়েট নিষিদ্ধের দাবি কোনো একক সংগঠনের দাবি নয়; এটি দেশের মানুষের জীবন, নিরাপদ খাদ্যের অধিকার, কৃষকের স্বাস্থ্য, পরিবেশ-প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জাতীয় দাবি।” তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, “প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কৃষকদের জন্য নিরাপদ বিকল্প নিশ্চিত এবং এগ্রোইকোলজিকে জাতীয় কৃষি উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করার।” তাদের মতে, কীটনাশক ও রাসায়নিক নির্ভর কৃষি নয়, বরং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষিই নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের ন্যায্য অধিকার, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

নজরুল ভিলেজে আজ থেকে শুরু হয়েছে বৃক্ষ মেলা।সরকারি তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত এই বৃক্ষ মেলার‌ প্রথম দিন ঘুরে দেখা গেল দেশীয়...
25/07/2026

নজরুল ভিলেজে আজ থেকে শুরু হয়েছে বৃক্ষ মেলা।

সরকারি তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত এই বৃক্ষ মেলার‌ প্রথম দিন ঘুরে দেখা গেল দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই মেলাগুলোতে দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকা জরুরি।

আরো জরুরি হলো মেলাগুলোতে হারিয়ে যাওয়া, বিলুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং এই প্রজাতির গাছগুলো পর্যাপ্ত রোপন ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা।

জেলা প্রশাসন, রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তর-Department of Environment-DOE Ministry of Environment, Forest and Climate Change, Bangladesh

Human Chain in Rajshahi Presents 15-Point Demands to Phase Out Highly Hazardous Pesticides (HHPs) in BangladeshRajshahi,...
25/07/2026

Human Chain in Rajshahi Presents 15-Point Demands to Phase Out Highly Hazardous Pesticides (HHPs) in Bangladesh

Rajshahi, Bangladesh | 20 July 2026

1. Immediately publish the official list of Highly Hazardous Pesticides (HHPs) used in Bangladesh in accordance with the WHO–FAO criteria, and conduct a comprehensive scientific reassessment of all registered pesticides.

2. Phase out Highly Hazardous Pesticides (HHPs) in line with WHO and FAO guidelines, and make the scientific reassessment of all registered pesticides mandatory every five years.

3. Strengthen the national pesticide residue monitoring programme for food and ensure that test results are regularly disclosed to the public.

4. Promote Agroecology nationwide through the Department of Agricultural Extension (DAE) as a core strategy for sustainable agriculture.

5. Provide subsidies and technical support for safer alternatives to chemical pesticides. Ensure subsidies and training on Agroecology, Integrated Pest Management (IPM), and biological pest management, and guarantee incentives and fair market prices for farmers producing pesticide-free food.

6. Make the protection of bees, pollinators, the environment, and biodiversity a mandatory component of national agricultural policies.

7. Strictly regulate pesticide advertising and strengthen the licensing and mandatory training requirements for pesticide dealers and retailers.

8. Establish a national pesticide poisoning database and introduce a National Poisoning Surveillance System to monitor pesticide-related health impacts.

9. Ensure public access to information on pesticide management, food safety, and pesticide-related risks through transparent and accessible information systems.

10. Ensure access to safe protective equipment for farmers, making Personal Protective Equipment (PPE) affordable and widely available.

11. Immediately stop misleading pesticide advertising, indiscriminate use, and uncontrolled sales of pesticides. Ban the import, promotion, marketing, and distribution of hazardous, highly hazardous, and prohibited pesticides.

12. Declare safe food production a national priority and adopt a National Agroecology Transition Programme to integrate safe food production, farmers' fair incomes, and environmental protection.

13. Establish a National HHPs Task Force comprising representatives from the agriculture, health, environment, and food safety authorities to coordinate policy and implementation.

14. Launch nationwide awareness programmes for farmers, consumers, and students on the risks of hazardous pesticides and the benefits of Agroecology.

15. Reform key national laws and policies—including the Pesticide Act 2018, Safe Food Act 2013, Environment Conservation (Amendment) Act 2010, National Agricultural Policy 2018, and National Agricultural Extension Policy 2020—to align them with current scientific evidence and international standards.

Address

2, Kalabagan Mosque Market, Boalia
Rajshahi
6000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Youth Action For Social Change - YASC posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Youth Action For Social Change - YASC:

Shortcuts

Share