06/08/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
০৬ আগস্ট ২০২৬
থানচি, বান্দরবান
পিসিপি থানচি থানা শাখার ১২তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত
গত ০৪ আগস্ট ২০২৬ (মঙ্গলবার) “সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হিউম্যানিটারিয়ান হলে পিসিপি থানচি থানা শাখার ১২তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থানচি থানা কমিটির সভাপতি চসাথোয়াই মার্মা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেংইয়ং ম্রো, পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডিসন চাকমা প্রমুখ।
সম্মেলনে থানচি থানা শাখার সভাপতি সিংওয়াইমং মার্মার সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক উমংহ্লা মার্মা সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন থানা শাখার দপ্তর সম্পাদক উশৈসিং মারমা।
প্রধান অতিথি চসাথোয়াই মার্মা বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ঘর প্রয়োজন, মাটি প্রয়োজন; এই মাটি এই ঘর রক্ষার জন্য আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। যে মানুষ জাতির জন্য কাজ করতে পারে, যে মানুষ অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে পারে তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মাটি, এই ভূমি আমরা কখনো ছাড়তে পারি না। এম এন লারমা সেই বেঁচে থাকার লড়াই সংগ্রাম করার চেতনা আমাদের জাগিয়ে দিয়ে গেছে। বেঁচে থাকার একমাত্র পন্থা হলো লড়াই সংগ্রাম করা। তাই শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাহাড়ে ভিন্ন ভাষাভাষী জুম্ম জাতিগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই সংগ্রাম করতে হবে।
রেংইয়ং ম্রো বলেন, শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে জুম্মদের উপর দমন-পীড়ন জারি রেখেছে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে ৯৮ ভাগ অমুসলিম হওয়া শর্তেও জুম্মদের কে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। ৭২ এর সংবিধানে আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের চিত্র আমরা দেখেছি। অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্যে অবৈধভাবে সেটেলারদের পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুপ্রবেশ করানোর মধ্য দিয়ে জুম্মদের সংখ্যালঘু থেকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র শাসকগোষ্ঠী এখনো চলমান রেখেছে। জুম্মদের নানাভাবে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও জুম্মরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারে না, নিজেদের অস্তিত্বের কথা বলতে পারে না। যারা এই অস্তিত্বের কথা বলে যারা অধিকারের কথা বলে তাদেরকে নানাভাবে নিপীড়ন, নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পাহাড়কে নানাভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর রক্তক্ষয়ী লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়েছে। আজ ২৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো কোনো সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি বরং চুক্তি বাস্তবায়নে পথে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে, কিন্তু এত বছর অতিবাহিত হলেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বর্তমান সরকারকেও আমরা চুক্তি লঙ্ঘন করে নানা ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেখছি। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ী একজন মন্ত্রী থাকার উল্লেখ থাকলেও একজন বাঙালি প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
এডিসন চাকমা বলেন, ঔপনিবেশিক কাল থেকে এই পাহাড়ের মানুষ প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। যে পাহাড়ের জুম্মরা একসময় নিজেদের মতো করে বেঁচে ছিলো, স্বাধীনভাবে বেঁচে ছিলো সেই পাহাড়ের জুম্মরা এখন যন্ত্রণাকাতর জীবন অতিবাহিত করছে। শাসকগোষ্ঠীর নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে জুম্মদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জুম্মদেরকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া, ইসলামি সম্প্রসারণ, বাঙালিকরণ করার নানা পরিকল্পনা শাসকগোষ্ঠী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। জুম্ম জনগণ যখনই অধিকার চেয়েছে, অধিকারের জন্য কথা বলেছে তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, নিপীড়ন, নির্যাতন চালানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত উন্নয়নের নামে ভূমি বেদখল করা হচ্ছে। এইসব ভূমি বেদখল ও নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে ঐকবদ্ধভাবে লড়াই সংগ্রাম করতে হবে।
কাউন্সিল অধিবেশনে সিংওয়াইমং মার্মাকে সভাপতি, উমংহ্লা মার্মাকে সাধারণ সম্পাদক এবং ক্যসাইনু মার্মাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট থানচি থানা শাখা কমিটি গঠন করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা।
বার্তা প্রেরক
মাংচং ম্রো
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পিসিপি, থানচি থানা শাখা।