31/07/2026
প্রেরণার মুখ | লংগদুর নিবেদিত মানুষের পথচলা।
পাহাড়বেষ্টিত রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউপির শান্ত, নিবিড় ও লেকবেষ্টিত গ্রাম মধুয়াছড়া। এই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব এক নিরাহংকার, নিবেদিতপ্রাণ ও সমাজ পরিবর্তনের আলোর দিশারীর নাম হাজী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি নিজ গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লংগদু উপজেলার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।
নিরহংকারী ও নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটির হাত ধরেই ২০০৩ সালে লংগদু উপজেলায় সর্বপ্রথম তাবলীগ জামায়াতের আনুষ্ঠানিক দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু হয়। সেই থেকে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে উপজেলার পাহাড়ি পাড়া-মহল্লায় দ্বীনের আলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ইসলামের সৌন্দর্যে আলোকিত হতে থাকে পাহাড়ি জনপদের বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে অসংখ্য শিশু-কিশোরের জীবন।
লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারেও রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। উপজেলার পানি-বেষ্টিত ও দুর্গম কালাপাকুজ্জা ইউনিয়নের দক্ষিণ রহমতপুর গ্রামে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়াতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা। একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে মুসল্লিদের জন্য গড়ে তুলেছেন একটি জামে মসজিদ। এছাড়া ২০০৪ সালে বগাচতর ইউপির মধুয়াছড়া এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষার একমাত্র বাতিঘর বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি মাদ্রাসায় তিনি নতুন করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, দৃঢ় মনোবল ও আল্লাহর ওপর অটল ভরসা রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। বর্তমানে মাদ্রাসাটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটি তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা দিয়ে সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। তিনি বর্তমানে রাঙামাটি জেলা এবতেদায়ী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একই সঙ্গে লংগদু উপজেলা জাতীয় ইমাম সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের একজন জ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে বর্তমানে লংগদু উপজেলার পাঁচটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা এলাকায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
ব্যক্তিগত জীবনে হাজী মোহাম্মদ কামাল হোসেন একজন আদর্শ পিতা। তিনি তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও সুশিক্ষার ফলস্বরূপ তাঁর তিন পুত্রই পবিত্র কোরআনের হাফিজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। একমাত্র কন্যাও ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধে সুসংগঠিত হয়ে বেড়ে উঠেছে। শৈশব থেকেই তিনি সন্তানদের মাঝে কোরআনের শিক্ষা, দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিকতার বীজ বপন করেছেন, যা আজ তাদের জীবনে আলোর দিশা হয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে।
দ্বীনের খেদমতের এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি যেমন অগণিত মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দোয়া অর্জন করেছেন, তেমনি সম্মুখীন হয়েছেন নানা প্রতিকূলতারও। সমাজের কিছু প্রতিহিংসাপরায়ণ মানুষ তাঁর সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে কখনো আর্থিক সংকট সৃষ্টি করেছে, কখনো মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে, আবার কখনো সম্মানহানির অপচেষ্টা চালিয়েছে। তবুও তিনি থেমে যাননি, অটল থেকেছেন তাঁর আদর্শ ও বিশ্বাসে। আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা শব্দে নয়, কর্মে নিজেদের পরিচয় রেখে যান সময়ের বুকে। হাজী মোহাম্মদ কামাল হোসেন তেমনই এক নীরব আলোর কারিগর, যিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি আলোকিত প্রজন্ম। তাঁর জীবন যেন এক দীপ্ত শিখা, যার আলোয় পথ খুঁজে পায় অগণিত মানুষ; যার উষ্ণতায় জেগে ওঠে মানবতা, ঈমান ও নৈতিকতার চেতনা। পাহাড়ের নির্জনতায়, লেকের নীরব জলে, গ্রামের প্রতিটি অলিগলিতে তাঁর পদচিহ্ন আজ একেকটি জীবন্ত ইতিহাস।
এই পৃথিবীতে সবাই বেঁচে থাকে, কিন্তু কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল। হাজী মোহাম্মদ কামাল হোসেন তেমনই একজন, যাঁর জীবন আমাদের শেখায়, নিজেকে নয়, সমাজকে নিয়ে ভাবলেই প্রকৃত সার্থকতা আসে। তাঁর নিঃস্বার্থ ত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অটল বিশ্বাস আমাদের হৃদয়ে নতুন করে জাগিয়ে তোলে দায়িত্ববোধ ও অনুপ্রেরণা।
ভয়েস অব লংগদু, স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক অনলাইন কমিউনিটি পক্ষ হতে সমাজের কল্যাণে নিবেদিত এই মহান মানুষটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি । হাজী মোহাম্মদ কামাল হোসেন এর মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষের জীবনগাথা আমাদের আগামীর পথচলায় প্রেরণা যুগায়। সমাজের কল্যাণে তাঁর নিরলস অবদান আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল, আরও মানবিক হতে শেখায়। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই লংগদু তথা সমগ্র সমাজে মমতা, ন্যায় ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে যাবে। মহান আল্লাহ তাঁর এই খেদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু দান করুন।
— আসুন মমতা ছড়াই,
— কথা বলি আর্তপীড়িত মানুষের।
ভয়েস অব লংগদু — একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক অনলাইন কমিউনিটি।