29/07/2026
হবিগঞ্জে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দলের প্রধান সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এনসিপির দাবি, তাদের নেতাদের বহরে হামলা, ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার পর সারজিস আলম অভিযোগ করেন যে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে কাছাকাছি একটি ভবনে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে এ ঘটনাকে ঘিরে বিএনপির পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার অভিযোগ একতরফা এবং ঘটনাটি নিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যেও এ ধরনের অভিযোগ আনা হতে পারে। ফলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পর এনসিপি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। একই সময়ে বিএনপিও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এতে হবিগঞ্জ শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, একই সময়ে উভয় দলের কর্মসূচি পালিত হলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এই আদেশের আওতায় নির্ধারিত এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। প্রশাসন জানায়, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান, আবার কেউ রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা সহিংসতায় রূপ নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। মত প্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার থাকলেও তা অবশ্যই আইন ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জের এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কে বা কারা দায়ী এবং প্রকৃত ঘটনা কী—তা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব। তাই এ বিষয়ে সব পক্ষেরই সংযম প্রদর্শন, গুজব এড়িয়ে চলা এবং তদন্তের ফলাফলের প্রতি সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ।