মোঃ বিশাল ইসলাম

মোঃ বিশাল ইসলাম দলিল লেখক সদর-সাব রেজিস্ট্রার অফিস, রংপুর

আলহামদুলিল্লাহ, জনগণের জন্য সুখবর! হেবা ও দান দলিলে উৎসে কর বাতিল করেছে সরকার। হেবা ও দান দলিলে কোনো উৎস লাগবেনা মর্মে আ...
07/07/2026

আলহামদুলিল্লাহ, জনগণের জন্য সুখবর! হেবা ও দান দলিলে উৎসে কর বাতিল করেছে সরকার। হেবা ও দান দলিলে কোনো উৎস লাগবেনা মর্মে আজ এনবিআর থেকে সরকারি আদেশ জারি হয়েছে।

১) পিতামাতা ছেলেমেয়েদের আগের মতোই সম্পত্তি হেবা করতে পারবে। কোনো কর লাগবেনা।

২) স্বামী-স্ত্রী আগের মতোই পরস্পরকে কোনো কর ছাড়াই হেবা করতে পারবে।

৩) একই মায়ের পেটের ভাই বোনের মধ্যে সম্পত্তি হেবা করলেও কোনো কর লাগবেনা।

এসব সম্পর্কের বাইরে হেবা বা দান দলিল করলে তখনও উৎস কর দিতে হবেনা, কেবল প্রযোজ্য হারে দানকর দিতে হবে।

আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে দলিলে উৎসে কর আদায়ের ক্ষেত্রে যে সকল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে...বি. দ্র: যেহেতু এখনো চূড়ান্ত গেজেট ...
15/06/2026

আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে দলিলে উৎসে কর আদায়ের ক্ষেত্রে যে সকল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে...

বি. দ্র: যেহেতু এখনো চূড়ান্ত গেজেট হয়নি তাই এনবিআর চাইলে পরিবর্তন করতে পারবে। ধন্যবাদ

 #উৎসেকর_বিধিমালা_২০২৬১) দান সংক্রান্ত দলিল যেমন হেবার ঘোষণা / দানের ঘোষণা, দানপত্র, হেবাবিল এওয়াজ দলিলে উৎস কর প্রযোজ্য...
13/06/2026

#উৎসেকর_বিধিমালা_২০২৬

১) দান সংক্রান্ত দলিল যেমন হেবার ঘোষণা / দানের ঘোষণা, দানপত্র, হেবাবিল এওয়াজ দলিলে উৎস কর প্রযোজ্য হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের জমিতে দলিল মূল্যের ২% বা প্রতি শতক ৫০০ টাকা যা অধিক। উপজেলা পৌরসভায় দলিল মূল্যের ২% বা ১০ হাজার টাকা যা অধিক। জেলা সদরের পৌরসভা তে দলিল মুল্যের 3% বা প্রতি শতক ২৫ হাজার টাকা যা অধিক এই হারে উৎস কর জমা দিতে হবে। বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ইত্যাদি এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাভোদে একেক জায়গায় একেক রকম উৎস কর ধার্য করা হয়েছে। দেশের মোট জমিকে ৬ টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। এক এক শ্রেণীতে উৎস কর একেক রকম।
২) কেউ জমিতে রাস্তা নির্মাণপূর্বক প্লট আকারে জমি বিক্রি করলে তাকে কোডেভলপার হিসেবে সাধারণ বিক্রেতার চেয়ে অতিরিক্ত ৫% কর ও ভ্যাট জমা দিতে হবে। এটি পূর্বেও ছিলো।
৩) জেলা ও উপজেলা পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জমি কেনাবেচা করতে হলে দলিলের দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখাতে হবে। এটি পূর্বেও ছিলো।
৪) দানপত্র দলিলে উৎস কর ধার্য হওয়ায় ১ জুলাই থেকে দানপত্র দলিল এবং বিক্রয় কবলা দলিলে একই পরিমাণ সরকারি ট্যাক্স ফিস জমা দিতে হবে।
যারা যারা বিল এওয়াজ হেবা দলিল আর হেবার ঘোষনা দলিল পরের মাসে করার চিন্তা করেছেন তারা তারা সময় থাকতে অতি তাড়াতাড়ি জুন মাসেই করে ফেলেন।
অন্যথায় বিল এওয়াজ হেবা দলিলে কিন্তু সাফ কবলা দলিলের মতো খরচ লাগতে পারে।

 #দলিল_নিবন্ধন (Registration of Deeds) ও  #সাব_রেজিস্ট্রি_অফিসের_ঐতিহাসিক_পটভূমিউপমহাদেশের ভূমি প্রশাসনের ইতিহাস পর্যালো...
05/06/2026

#দলিল_নিবন্ধন (Registration of Deeds) ও #সাব_রেজিস্ট্রি_অফিসের_ঐতিহাসিক_পটভূমি

উপমহাদেশের ভূমি প্রশাসনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জমি হস্তান্তরের আইনি বৈধতা (Registration) এবং ভূমির খাজনা আদায় (Revenue)—এই দুটি ধারা সবসময়ই ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য ও মনস্তত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

মোঘল আমলে (১৫২৬-১৮৫৭) দলিল নিবন্ধনের জন্য আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রি অফিস না থাকলেও একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ছিল। জমি হস্তান্তরের (Land Transfer) চুক্তিপত্র বা ‘কাবালা’ (Kabala)-র আইনি বৈধতা দিতেন এলাকার #কাজী (Qazi)। তিনি সাক্ষ্য গ্রহণ করে তাঁর রাজকীয় সিলমোহর দিতেন। এরপর পরগনার #কানুনগো (Kanungo) এবং গ্রামের ‘পাটোয়ারি’ (Patwari) তাদের দপ্তরে বালাম খাতায় নতুন মালিকের নাম তুলতেন, যা বর্তমানে নামজারি (Mutation) নামে পরিচিত। অর্থাৎ, মোঘল আমলেও দলিলের Registration (কাজী) এবং Mutation (কানুনগো) সম্পূর্ণ আলাদা দুটি সত্ত্বা ছিল।

পরবর্তীতে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশদের আগমনের পর লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালের ১ নম্বর রেগুলেশনের মাধ্যমে #চিরস্থায়ী_বন্দোবস্ত’ (Permanent Settlement) চালু করেন। রাষ্ট্র ও কৃষকের মাঝখানে ‘জমিদার’ শ্রেণী তৈরি করে জমির চিরস্থায়ী মালিকানা জমিদারদের দেওয়া হয়। এর সাথে যুক্ত হয় কুখ্যাত ‘সূর্যাস্ত আইন’ (Sunset Law)—যেখানে নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে খাজনা পরিশোধ না করলে জমিদারি নিলামে উঠত। মোঘল আমলের নমনীয়তা বাদ দিয়ে এটিকে শতভাগ কঠোর ও বাণিজ্যিক করা হয়।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে দলিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লর্ড কর্নওয়ালিস Bengal Regulation ###VI of 1793 জারি করেন। এর মাধ্যমে প্রতি জেলায় #রেজিস্ট্রার_অব_ডিডস (Registrar of Deeds) অফিস স্থাপন করা হয়, যা দেওয়ানি আদালতের #জজদের (Civil Court Judges/District Judges) অধীনে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে এবং নিবন্ধন ব্যবস্থাকে বিস্তৃত করতে ১৮৬৪ সনে ব্রিটিশ সরকার আইন (The Registration Act, No. XVI of 1864) পাস করে। এই আইনের মাধ্যমেই প্রথম জেলা সদরের বাইরে থানা বা মহকুমা পর্যায়ে #সাব_রেজিস্ট্রার’ (Sub-Registrar) পদের জন্ম হয়। পরবর্তীতে এটি ১৮৭৭ সালের আইন (The Indian Registration Act, No. III of 1877) এবং সর্বশেষ ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন (The Registration Act, 1908) দ্বারা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। ১৯০৮ সনের এই আইনটিই দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত এবং পাকিস্তানেও অদ্যাবধি বহাল আছে।

শুরুর দিকে সাব-রেজিস্ট্রারের কাজ শুধুমাত্র দলিলের অনুলিপি সংরক্ষণ ও বালাম বই রক্ষণাবেক্ষণের ফিস (Fees) আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো সরকারের সবচেয়ে বড় ও #নির্ভরযোগ্য_রাজস্ব (Revenue) আদায়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই #নির্ভরযোগ্যতার জন্যই সময়ে সময়ে বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারের ওপর এই কর আদায়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। যেমন:

১) Collection of Stamp Duty: দলিলের আইনি গুরুত্ব বৃদ্ধি ও শুল্ক আদায়ের জন্য ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৯ সনে (The Stamp Act, 1879) আইন পাস করে দলিলে #স্ট্যাম্প_পেপার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। দলিলের এই স্ট্যাম্প ডিউটি সরকার সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আদায় করে থাকে।

২) Collection of Local Govt. Tax: উপমহাদেশে জমি বা স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর #স্থানীয়_সরকার কর্তৃক কর আরোপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৯ সনে পাকিস্তান আমলে, আইয়ুব খানের ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ (The Basic Democracies Order, 1959) আদেশের হাত ধরে। The Municipal Administration Ordinance, 1960 এবং The Chittagong/Dacca District Council Rules, 1960-এর মাধ্যমে প্রথম পৌরসভা (Municipality) এবং জেলা কাউন্সিলগুলোকে (District Council) তাদের নিজ নিজ এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়। তবে সে সময় এই করটি সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের মূল্যের সাথে আদায় না হয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে আদায় হতো, যার ফলে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ ছিল।

এরপর #শহীদ_প্রেসিডেন্ট_জিয়াউর_রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সনে 'The Local Government Ordinance, 1976' জারির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ) ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হয়। এই অধ্যাদেশের অধীনে জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল গঠনের লক্ষ্যে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের মূল্যের ওপর কর নির্ধারণ করা হয়, যা দলিল রেজিস্ট্রির সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃক আদায় করে স্থানীয় সরকারের তহবিলে স্থানান্তরের নিয়ম শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কর্তৃক আরোপিত স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের সময় আদায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

৩) Collection of Income Tax: এরপর NBR তথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শে ১৯৮৯ সনে সরকার দলিল নিবন্ধনের সময় সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিক্রেতার নিকট থেকে #উৎসে_কর আদায়ের কার্যক্রম শুরু করে। এজন্য Finance Act, 1989-এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ সংশোধন করা হয়।

৪) Ensuring Collection of VAT: এরপর ২০০১-২০০২ অর্থবছরের বাজেটে প্রথম আবাসন খাতের ফ্ল্যাট ও প্লটের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সনে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে #ভ্যাটের মূল চালানের কপি যাচাই করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

৫) Collection of Transfer Fee: সর্বশেষ ২০২৫ সনে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন হাউজিং এস্টেটের জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে #হস্তান্তর_ফি (Transfer Fee) আদায়পূর্বক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা প্রদানের দায়িত্ব সাব-রেজিস্ট্রারের উপর অর্পণ করা হয়।

সাব-রেজিস্ট্রারদের এই রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম বিবেচনায় #ভারতে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসমূহ কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Rural Development ও রাজ্য সরকারের #অর্থ_মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজস্ব বিভাগের অধীনে কাজ করে থাকে। ভারতের পাশাপাশি #পাকিস্তানেও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসমূহ প্রাদেশিক সরকারের রাজস্ব বিভাগের (Board of Revenue) অধীনে কাজ করে।

সম্প্রতি কতিপয় মহলে জনভোগান্তি কমানোর অজুহাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে #ভূমি_মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার যে আলোচনা চলছে, তা প্রশাসনিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ত্রুটিপূর্ণ। সাব-রেজিস্ট্রারের কাজের পরিধি ও প্রকৃতি বিবেচনা করে এই দপ্তরটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (আইন ও বিচার বিভাগ) অধীনেই থাকা যুক্তিযুক্ত। কেননা:

১) Quasi-Judicial Nature (আধা-বিচারিক প্রকৃতি):
দলিল নিছক ভূমি রেকর্ড নয়, এটি একটি আইনি চুক্তি (Legal Contract)। দলিল সম্পাদন কোনো সাধারণ কর বা খাজনা আদায়ের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ নয়। এটি ১৮৭২ সালের চুক্তি আইন (The Contract Act, 1872) এবং ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (The Transfer of Property Act, 1882) দ্বারা পরিচালিত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আইনি প্রক্রিয়া; যেখানে চুক্তির পক্ষদ্বয় সাবালক কি না, তাদের সম্মতি স্বেচ্ছাধীন কি না, দলিলের আইনি ভাষা ও শর্তাবলী আইনসম্মত কি না—তা নিখুঁতভাবে যাচাই করতে হয়।

পুরোপুরি বিচারিক না হলেও সাব-রেজিস্ট্রারের কাজের মধ্যে বিচারিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের মতো তিনি কোনো জমি কার মালিকানায় যাবে—সেই রায় দিতে পারেন না। কিন্তু ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ধারা ৩৪ ও ধারা ৭২ অনুযায়ী, একটি দলিল নিবন্ধনের সময় তাঁর সামনে কোনো বিরোধ বা জালিয়াতির সন্দেহ তৈরি হলে, তিনি সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন, পক্ষদের জবানবন্দি নিতে পারেন এবং দলিলটি নিবন্ধন করবেন কি করবেন না—সেই সিদ্ধান্ত (Order) দিতে পারেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন, যা দেওয়ানি আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হলো আধা-বিচারিক (Quasi-judicial)। কোনো সাব-রেজিস্ট্রার যদি কোনো দলিলের রেজিস্ট্রেশন প্রত্যাখ্যান (Refuse) করেন, তবে তাঁর সেই আধা-বিচারিক আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে #জেলা_রেজিস্ট্রারের কাছে এবং পরবর্তীতে #দেওয়ানি_আদালতের আশ্রয় নিতে হয়। এই পুরো আপিল ও প্রতিকারের চেইনটি বিচার বিভাগের সাথে সম্পর্কিত।

২) Check and Balance (ক্ষমতার ভারসাম্য):
ভূমি ব্যবস্থাপনা ও দলিল নিবন্ধন—এই দুটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কাজ ভিন্ন দুটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দেশের সাধারণ মানুষের সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সুরক্ষাকবচ। ভূমি মন্ত্রণালয় (এসি ল্যান্ড, সেটেলমেন্ট ও তহশিল অফিস) মাঠ পর্যায়ে জমির বাস্তব দখল, ম্যাপ এবং বার্ষিক রাজস্ব (খাজনা) দেখভাল করে। অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয় (সাব-রেজিস্ট্রি অফিস) দলিলের স্বত্ব (Title) এবং আইনি বৈধতা নিশ্চিত করে। যদি দুটি কাজই একক মন্ত্রণালয়ের (ভূমি মন্ত্রণালয়) অধীনে চলে যায়, তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতার চরম #কেন্দ্রীভূতকরণ ঘটবে। এর ফলে জালিয়াতি, একতরফা খতিয়ান পরিবর্তন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি আত্মসাতের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। দুটি ভিন্ন চোখ দিয়ে জমি যাচাই হওয়া নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য নিরাপদ।

৩) One Stop Service (একক জানালার সেবা):
জনগণ চায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, তারা মন্ত্রণালয় বদল চায় না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে নিলেই রাতারাতি ভোগান্তি কমবে না, কারণ দুটি দপ্তরের কাজের প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। এর আসল আধুনিক সমাধান হলো—আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমকে ডিজিটাইজড করে এর সার্ভারের সাথে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি (e-Mutation) সার্ভারের 'রিয়েল-টাইম #ডেটা_ইন্টারঅপারেবিলিটি' (Data Interoperability) বা ডিজিটাল আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা। দলিল রেজিস্ট্রির সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য ভূমি অফিসের ডেটাবেজে চলে গেলে দুই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকেও নাগরিককে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

অতএব, সুপ্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানান্তর করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং, সাধারণ মানুষের রক্তের ঘামে কেনা জমির আইনি সুরক্ষার স্বার্থে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে আইন ও বিচার বিভাগের অধীনেই বহাল রেখে, আইসিটি বিভাগের সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি মজবুত ডিজিটাল ডেটা ইন্টারঅপারেবিলিটি স্থাপন করাই হবে রাষ্ট্রীয় এবং জনস্বার্থের অনুকূলে সবচেয়ে যুগোপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। কেননা, শাসন ব্যবস্থার একটি মূল নীতিই হলো #চেক_অ্যান্ড_ব্যালেন্স’ (Check and Balance)। ভূমি মন্ত্রণালয় যদি নিজেই জমির খতিয়ান লেখে, নিজেই জমি রেজিস্ট্রি করে এবং নিজেই নামজারি করে, তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতার #বিকেন্দ্রীকরণের পরিবর্তে চরম কেন্দ্রীকরণ (Centralization) ঘটবে। একটি দপ্তরের ভুল বা জালিয়াতি ধরার মতো দ্বিতীয় কোনো 'নিরপেক্ষ চোখ' বা ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ফিল্টারিং তখন আর থাকবে না।

(মো: নাজমুল হক)
সাব-রেজিস্ট্রার
সদর, দিনাজপুর

02/03/2026

জমি জমা সংক্রান্ত সকল ধরনের পরামর্শ, রেজিস্ট্রি, নামজারি বিষয়ক সকল ধরনের সেবা প্রদান করে থাকি বিশ্বাসের সাথে।

যোগাযোগ : ০১৫৬৮-০৯০৩৫১

#রংপুর সদর-সাব রেজিস্টার অফিস

রেজিস্ট্রিকৃত দলিল কোন সময় থেকে কার্যকর হয়?উত্তরঃ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ধারা-৪৭ অনুসারে, কোন দলিলের কার্যকারিতার সাথ...
15/02/2026

রেজিস্ট্রিকৃত দলিল কোন সময় থেকে কার্যকর হয়?

উত্তরঃ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ধারা-৪৭ অনুসারে, কোন দলিলের কার্যকারিতার সাথে দলিলটির রেজিস্ট্রির তারিখের সম্পর্ক নেই। বরং কোন রেজিস্ট্রিকৃত দলিল সেই সময় থেকে কার্যকর ধরা হয়, দলিলটি রেজিস্ট্রির প্রয়োজন না থাকলে যে সময় থেকে কার্যকর হতো। (A registered document shall operate from the time from which it would have commenced to operate if no registration thereof had been required or made, and not from the time of its registration.)

প্রকৃতপক্ষে একটি রেজিস্ট্রিকৃত দলিল সম্পাদনের তারিখেই কার্যকর হয়, রেজিস্ট্রির তারিখে নয় ।

সম্পাদন রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ২৩ ধারা অনুসারে, (উইল বা অছিয়ত দলিল, বিদেশে সম্পাদিত কোন দলিল এবং বায়নাপত্র দলিল ব্যতিত প্রায় সকল দলিল) সম্পাদনের তারিখ থেকে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য দলিলটি রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করতে হয়। অবশ্য ঐ আইনের ২৫ ধারা বিধান মোতাবেক জেলা রেজিস্ট্রার প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন ফি এর ১০ (দশ) গুন পর্যন্ত জরিমানা আদায় করে সাব-রেজিস্ট্রারকে দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য আদেশ দিতে পারেন।

উইল/অছিয়ত দলিল সম্পাদনের পর যেকোন সময়ে রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করা যায়। রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭(এ) ধারা অনুসারে, বায়নাপত্র সম্পাদনের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করতে হয় এবং উক্ত আইনের ২৬ ধারা অনুসারে, বিদেশে সম্পাদিত কোন দলিল বাংলাদেশে প্রবেশের তারিখ থেকে ৪(চার) মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করা যায়।

দলিলটি রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে সম্পাদনের তারিখ থেকেই দলিলটি কার্যকরী হয়। দলিলটি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত হলে তা আইন অনুসারে অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয়, রেজিস্ট্রি না করা হলে দলিলটির কার্যকরীতা থাকে না।

‘হেবার ঘোষনাপত্র’ বা ‘দানের ঘোষনাপত্র’ দলিলের ক্ষেত্রে কোন সম্পত্তির দাতা মৌখিকভাবে গ্রহিতার অনুকূলে সম্পত্তি দান করে থাকেন এবং গ্রহিতার অনুকূলে সম্পত্তির দখল অর্পণ করে থাকেন। মৌখিক দানের পরবর্তী কোন এক দিন গ্রহিতার অনুকূলে দলিল সম্পাদন করেন এবং রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করেন। গ্রহিতার অনুকূলে সম্পাদিত দলিলটি যে তারিখেই রেজিস্ট্রি হোক না কেন, মৌখিকভাবে দানের তারিখেই দান কার্যকর হবে, যদি গ্রহিতা উক্ত তারিখে দানকৃত সম্পত্তির দখল গ্রহন করে থাকে।

রংপুর সদর দলিল লেখক সমিতি
14/02/2026

রংপুর সদর দলিল লেখক সমিতি

13/02/2026

বায়নানামা দলিলে কোন মেয়াদ উল্লেখ করা না হলে কত দিনের মধ্যে মূল বিক্রয় কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে?

উত্তরঃ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৯০৮ এর ৫৪এ ধারায় বলা হয়েছে, কোন স্থাবর সম্পত্তির বায়নাপত্রে, বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে একটি সময় উল্লেখ করিতে হইবে, যা বায়নাপত্র রেজিস্ট্রেশন এর তারিখ থেকে কার্যকর হবে, তবে যদি কোন সময়সীমা উল্লেখ করা না হয়, তাহলে সময়সীমা ৬ (ছয়) মাস বলিয়া গন্য হইবে।

বিক্রয় চুক্তি বা বায়নানামা দলিলে মেয়াদ সম্পর্কে কোন বাধ্যবাধকতা আইনে উল্লেখ না থাকলেও বিক্রয় চুক্তি বা বায়নানামা দলিলে মূল বিক্রয় বা কবলা দলিল রেজিস্ট্রির সময়সীমা বা মেয়াদ উল্লেখ করা সমীচীন। এর মেয়াদের বিষয়টি মূলত: উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে। তবে, তামাদি আইনের বিধান অনুযায়ী সময়সীমা উত্তীর্ণের পর ১(এক) বছরের মধ্যে প্রতিকার প্রার্থনা করে আদালতে শরণাপন্ন হতে হয়।

তথ্যসূত্র: দলিল রেজিস্ট্রেশন : ব্যবহারিক বিধানাবলী

ভূমি জরিপ/রেকর্ড পরিচিতভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত। আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey A...
13/02/2026

ভূমি জরিপ/রেকর্ড পরিচিত
ভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত। আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey Act, 1875 এর ২ ধারা অনুযায়ী, ‘জরিপ’-এর অন্তর্ভুক্ত হইবে সীমানা চিহ্নিতকরণ, নদীতীর বরাবর ক্ষয়প্রাপ্ত বা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জমি, নদীর গতি পরিবর্তনের ফলে পুনঃউদ্ভব বা নূতন উদ্ভবকৃত জমির পরিমাণ নির্ধারণ এবং জরিপের সহিত যুক্ত পূর্ববর্তী সকল কার্যক্রম।

একটি ভূমির মালিক কে এবং তার সীমানা কতটুকু এটা ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা/ম্যাপ নির্ণয় করা হয়। এই নকশা এবং ম্যাপ অনুসারে মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য যেমন ভূমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত, এর খতিয়ান নম্বর, ভূমির দাগ নম্বর, মালিক ও দখলদারের বিবরণ ইত্যাদি প্রকাশিত হয় যাকে খতিয়ান বলে। রেকর্ড বা জরিপ প্রচলিতভাবে খতিয়ান বা স্বত্ত্বলিপি বা Record of Rights (RoR) নামেও পরিচিত।

আমাদের দেশে পরিচালিত ভূমি জরিপ বা রেকর্ড গুলো হচ্ছেঃ
1. CS -Cadastral Survey (1888)
2. SA- (1956)
3. PS – Pakistan Survey
4. RS -Revitionel Survey
5. BS- Bangladesh Survey (1990)
6. সিটি জরিপ
7. দিয়ারা জরিপ

১) সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)
“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৮ সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপ ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ম পরিচ্ছেদে অনুসারে সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারা দেশে পরিচালিত হয়। উক্ত জরিপের মাধ্যমে জমির বিস্তারিত মৌজা নকশা (ম্যাপ) প্রস্তুত করা হয় এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক ভূমির বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণী, পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। এ জরিপ পি-৭০ সীটে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সিএস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামু থানা হতে আরম্ভ হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়। সে সময়ে সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অধীন থাকায় সিলেট জেলায় সিএস জরিপ হয়নি। তবে জরুরী বিবেচনায় ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের (Sylhet tenancy Act) আওতায় সিলেট জেলার ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভে ১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়।

সি.এস. জরিপে সময় প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে এবং দখলকার রায়তের নাম খতিয়ানের নিচে লেখা হত। সে সময় জমিদারগণ সরকার পক্ষে জমির মালিক ছিলেন এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে শুধুমাত্র ভোগ দখলকার ছিলেন। প্রথম জরিপ এই জরিপ এবং প্রস্তুতকৃত নকশা ও খতিয়ান খুবই নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে এখনো গ্রহণীয়। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।

২) এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)
১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২/৪/১৯৫৬ তারিখে এই আইনের ৩ ধারার আওতাধীন বিজ্ঞপ্তির মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল নেয়ার পর উক্ত এ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তা এস এ খতিয়ান বলে পরিচিত।

মূলত, জমিদারী ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ তালিকা প্রণয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে/রায়তকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার লক্ষ্যে সে সময় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা পরবর্তীতে এসএ খতিয়ান বলে পরিচিত পায় ।

১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে ভূমি মালিকের নাম ও জমির বিবরণাদি সম্বলিত হাতেলেখা রেকর্ড/খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় । সে সময় এই রেকর্ড মোট তিন কপি প্রস্তুত করা হয় যার মধ্যে একটি জেলা রেকর্ড রুমে, এক কপি তহশলি ( ইউনিয়ন ভূমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয় । জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

৩) পি.এস. জরিপ (Pakistan Survey)
এস.এ. জরিপকেই পি.এস. জরিপ বলে। ১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়।

৪) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)
সি.এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমির অবস্থা, প্রকৃতি, মালিক, দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার লক্ষ্যে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। এস.এ. জরিপের সময় সরেজমিনে তদন্ত বা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা হয়নি। জমিদারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এস.এ জরিপ বা খাতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছিল যার কারণে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যায়। এই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ভূমি জরিপ করার সিদ্ধান্ত নেয় যা আর.এস বা Revisional Survey জরিপ হিসেবে পরিচিত। এই জরিপে প্রস্তুতকৃত নকশা (ম্যাপ) এবং খতিয়ান নির্ভূল হিসেবে গ্রহণীয়।

৫) বিএস জরিপ (Bangladesh Survey)
বিএস জরিপ হলো মূলত বাংলাদেশ সার্ভে এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী এই জরিপ কার্য পরিচালিত হয়। ১৯৯৮ সাল হতে বর্তমানে চলমান জরিপকে বিএস খতিয়ান বা সিটি বলা হয়। যা এখনো সারা দেশে চলমান। শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরীতে বিএস খতিয়ানকে সিটি জরিপ বলা হয় এই সিটি জরিপের আরেক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর এস জরিপের পর বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে এ জরিপের উদ্যোগ নেয় এ যাবৎকালে এটিই হলো আধুনিক জরিপ।

৬.সিটি জরিপ (City Survey)
সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে এ জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এ যাবত কালে সর্বশেষ ও আধুনিক জরিপ এটি। এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট এ পকাশিত হয়।

৭) দিয়ারা জরিপ কি?
দিয়ারা জরিপ হলো দরিয়া সম্পর্কিত জরিপ। জেগে উঠা নতুন ভূখন্ড (চর) জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সিকস্তি পয়স্তির কারণে ভৌগলিক সীমারেখা ও স্বত্বের পরিবর্তন হলে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় নতুন জরিপ করা হয়। এ সমস্ত জরিপে নকশা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়।

এটি অতি পুরাতন জরিপ। ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ আরম্ভ হয় ১৮৮৮ সালে, পক্ষান্তরে দিয়ারা জরিপ আরম্ভ হয় ১৮৬২ সালে। দিয়ারা জরিপে সাধারন জরিপের জন্য প্রযোজ্য সকল স্তর অনুসরন করে পয়স্তি ভূমির(চর) নক্সা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪টি (রাজশাহী, নরসিংদী, চট্রগ্রাম ও বরিশাল) বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক অফিস ও ক্যাম্পের মাধ্যমে সারাদেশের সুনির্দির্ষ্ট কিছু মৌজায় এ জরিপ কাজ পরিচালিত হয়।

দলিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াবায়া দলিল, খতিয়ানের কপি এবং হস্তান্তরের ইতিহাস যাচাই করুন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসে র...
13/02/2026

দলিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

বায়া দলিল, খতিয়ানের কপি এবং হস্তান্তরের ইতিহাস যাচাই করুন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসে রেকর্ড মিলিয়ে নিন।

বিস্তারিত জানতে ইনবক্স করবেন।

Address

House:152, Road:03, Kamarpara
Rangpur
5400

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মোঃ বিশাল ইসলাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category