27/07/2026
গত ২৫শে জুলাই ছিলো ঐতিহাসিক সোহাগপুর গণহত্যা দিবস।
পালিত হয়নি দিবস, নেওয়া হয়নি কর্মসূচি, নেয়নি কেউ খোঁজ!
২৫ জুলাই ছিলো শেরপুরের ঐতিহাসিক সোহাগপুর গণহত্যা দিবস, গত দুই বছরে দিবসটি উপলক্ষে নেয়া হয়নি কোনো কর্মসূচি.. বীরকন্যাদের খোঁজ নেয়নি কেউ!
১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই- শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি সেনা গ্রামটি ঘিরে ফেলে। প্রফুল্লের দিঘি থেকে সাধুর আশ্রম পর্যন্ত এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের আশ্রয়দাতাদের খুঁজতে গিয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে এগিয়ে যান আলী হোসেন ও জমির আলী। তবে বেশিদূর এগোতে পারেননি তাঁরা। এক রাজাকার তাঁদের গুলি করে হত্যা করে। এরপর শুরু হয় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।
মাঠে কর্মরত গারো আদিবাসী রমেন রিছিল, চটপাথাং ও সিরিল গাব্রিয়েলকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে হত্যা করা হয় আনসার আলী, লতিফ মিয়া, ছফর উদ্দিন, শহর আলী, হযরত আলী, রিয়াজ আহমেদ, রহম আলী, সাহেব আলী, বাবর আলী, উমেদ আলী, আছমত আলী, মহেজ উদ্দিন, সিরাজ আলীসহ গ্রামের নিরীহ মানুষদের।
মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রামের ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষকে হত্যা করা হয়। বিধবা হন ৫৭ নারী।
সেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন ১৩ নারী। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে পরবর্তী সময়ে সরকার বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়। ‘বিধবাপল্লী’র নাম হয় ‘বীরকন্যাপল্লী’।
স্বাধীনতার ৫০বছর পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে ২০২২ সালে সোহাগপুর বীরকন্যা পল্লীতে ‘সৌরজায়া’ নামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে শেরপুর জেলা প্রশাসন।
প্রতি বছর সোহাগপুর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হতো। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর গত দুই বছরে এ উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি।
সোহাগপুরের ‘সৌরজায়া’ স্মৃতিফলটি ভেঙে ফেলার জন্য হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । ২০২৪ সালের ২৫শে জুলাইয়ের পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সোহাগপুরের বিধবাপল্লী এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির স্মারক। শহীদদের স্মৃতি ও বীরকন্যাদের আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দিতে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিসৌধ দ্রুত সংস্কার করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা।