31/07/2026
নতুন বিভাগ গঠন করা যদি খুভ বেসি জরুরী হয়ে থাকে, তবে সিরাজগঞ্জ কে বিভাগ করা হোক। অর্থনৈতিক দিক থেকে বগুড়ার চেয়ে সিরাজগঞ্জ বিভাগ হওয়ার যোগ্যতা বেসি রাখে।
সিরাজগঞ্জের মানুষ কোন দুঃখে বগুড়া বিভাগে নাম লিখাবে?
এ তো গ্রাজুয়েট ছাত্রকে ক্লাস টু তে এনে ভর্তি করার মতো।
এখন আসি পয়েন্টে। বগুড়ার মানুষ দাবি করছে, বগুড়া শহরে নাকি সিরাজগঞ্জের মানুষজন বাস করে। কিছু ছাত্ররা সেখানে পড়াশোনা করে, এটাই তাদের যুক্তি। অথচ তারা এটা জানে না,
১. বগুড়া সহ উত্তরের ১৬ জেলার ব্যবসায়ীরা জ্বালানী নিতে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নদীবন্দরে এসে পড়ে থাকে।
২. র্যাব ১২ এর সদর দপ্তর সিরাজগঞ্জে, যারা আন্ডারে তাদের বগুড়া জেলা।
৩. পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি PGCL এর সদর দপ্তর সিরাজগঞ্জে, যেখান থেকে সারা পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস যায়, ইনক্লুডেড বগুড়া।
৪. সিরাজগঞ্জ এমন একটি স্বতন্ত্র জেলা যেখানে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ৩ টা মেডিকেল কলেজ, ২ টা বিশ্ববিদ্যালয়, ১ টা মেরিন ইন্সটিটিউট, মাভাবিপ্রবির ভেটেরিনারি ক্যাম্পাস সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বগুড়ায় আজিজুল হক কলেজ ছাড়া কি ঘোড়ার ডিম রয়েছে?
৫. সিরাজগঞ্জের দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নির্মাণাধীন, যেখানে কর্মসংস্থান হবে ০৭ লাখ মানুষের, সেখানে কি বগুড়ার মানুষ কাজ করবে না?
৬. ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জ দেশের ৫ম ধনী জেলা, যেখানে ৭ম পাবনা এবং ৯ম স্থানে ছিল বগুড়া।
৭. সিরাজগঞ্জে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ইকোনমিক জোন নির্মাণাধীন, যেখানে লাখো মানুষের কর্মস্থল সৃষ্টি হবে। অথচ বগুড়াবাসীর এর বদলে রয়েছে ফাও বুলি।
৮. সিরাজগঞ্জ সমগ্র উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, এই জেলার ভৌগোলিক অবস্থান বগুড়ার ভৌগোলিক অবস্থানের ১০ গুণ বেশি মূল্যবান।
৯. সিরাজগঞ্জ যখন শহরের মর্যাদা পায়, তখন অবধি আজকের বগুড়া শহরের মর্যাদা পায়নি। সিরাজগঞ্জ পৌরসভা উত্তরবঙ্গের প্রথম পৌরসভা যা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে বগুড়া পৌরসভা ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত।
১০. সিরাজগঞ্জের সাথে বগুড়ার সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য কোনোকিছুর মিল নেই। এই জেলা বৃহত্তর পাবনা জেলার অংশ ছিল। সিরাজগঞ্জবাসী দীর্ঘ ১৯৭ বছর ধরে রাজশাহী বিভাগের পরিচয় দিয়ে আসছে, কোন দুঃখে তারা এখন বগুড়ার পরিচয় দিতে যাবে? যে বগুড়া আর কয়েকমাস আগেই কোথায় লুকিয়ে ছিল কেউ জানে না 😃
এখন জিজ্ঞেস করেন আমার বাড়ি কোথায়?
আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ এর বেলকুচি উপজেলাতে। জন্মের পর থেকে কোনো কাজে বগুড়া যাবার প্রয়োজন আমার পড়েনি। তবে কয়েকবার বগুড়াতে ঘুরতে গিয়েছি মনরঞ্জনের জন্য। কিন্তু প্রত্যেক বগুড়াবাসীকে একবার হলেও সিরাজগঞ্জের উপর দিয়ে কোথাও যেতে হয়েছে। আমাদের এক তাঁত শিল্পই, জেলার ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে,যার মাধ্যমে জেলার কয়েক লাখ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে দেশের দারিদ্র্যের হার কমাতে অবদান রাখছে। সিরাজগঞ্জের অন্যান্য উপজেলার কথা নাইবা বল্লাম। আধুনিক শিল্প, শিক্ষা,কৃষি ও বহুমুখী অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমাদের এক বেলকুচি উপজেলা দেশের জাতীয় জিডিপিতে যে অবদান রাখে, যার পরিমান বছরে প্রায় ১৯০০ কোটি টাকা! আমাদের এক বেলকুচি উপজেলার সমান জাতীয় অর্থনৈতিক অবদান হয়ত পুরো বগুড়া জেলা রাখতে পারেনা।
বগুড়া বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার এই পরিকল্পনা ধীক্কার জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করলাম।
আমরা রাজশাহীর বিভাগে ছিলাম, রাজশাহীর আছি, রাজশাহীর থাকবো।
চৌধুরী বাগান সিরাজগঞ্জ।Chowdhury Bagan Sirajgonj