16/02/2026
নির্বাচন সমাচার ২০১৮: ভোটের আগের রাত (স্মৃতিচারণ)
২০১৮ (সম্ভবত) সালের নির্বাচনের আগের রাত—ঠিক আজকের মতোই। সারা এলাকায় কিছুক্ষণ পরপর চকলেট বাজি/বোমা ফাটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল আওয়ামী লীগের লোকজন। ভোটের আমেজে শহর থেকে গ্রামে এসেছিলাম। অন্য দিনের মতোই বাড়ির সামনের রুমে সবাই বসে গল্প করছিলাম।
হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের কিছু লোক বাড়ির সামনে এসে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে থাকে, সঙ্গে “ধর ধর রাজাকার ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর”—এই স্লোগান। চকলেট বোমা ফাটাতে ফাটাতে একপ্রকার মিছিল করে বাড়ির সামনে দাঁড়ায়।
কিছুক্ষণ পর দেখি, তারা বাড়ির উঠানে ঢুকে পড়েছে। ঘরের সামনে দরজার কাছেও চকলেট বোমা ফাটাচ্ছে। আমরা তখন ঘরের ভেতরে ৪/৫ জন—কাজিনসহ কয়েকজন পুরুষ—চুপচাপ বসে ছিলাম। সেদিনের মতো এতটা অসহায় আর কখনো মনে হয়নি। নিজের ঘরের সামনে বোমা ফাটছে, আর আমরা অসহায়ের মতো বসে আছি—কিছুই করার ছিল না, করতে পারিনি। আহ্…
পরদিন সকালে উঠে দেখি বাড়ির উঠানে ভুল বানানে লিখে রেখে গেছে—‘আওম লীগ’।
২০১৪ সালের ১০ম নির্বাচনে আমি ভোটার ছিলাম না। তবুও নির্বাচন কেমন হয়, সেই আমেজটা দেখার জন্য ২/৩ জন মিলে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম। বাজারে ঢোকার একটু আগে দেখি, আমাদেরই সমাজের কিছু আওয়ামী লীগপন্থী খেলার সাথী দাঁড়িয়ে আছে। ভাবলাম, হাই-হ্যালো করবে। কিন্তু তারা উল্টো কড়া ভাষায় বাড়ি ফিরে যেতে বললো। বাজারে গেলে নাকি সমস্যা হবে। আর কী করার—ফিরে আসলাম।
এটাই ছিল সেই সময়ের বাস্তবতা।
তবে এবারের নির্বাচনের আমেজ পুরোপুরি ভিন্ন। কেন জানি ঈদ-ঈদ একটা অনুভূতি কাজ করছে—যেন ঈদের আগের রাত, চাঁদের রাতের মতো পরিবেশ। লম্বা ছুটিতে সবাই গ্রামে এসেছে, চারদিকে ঈদের মতোই মানুষজনের আনাগোনা, এক ধরনের উৎসবমুখর আবহ চারপাশে ছড়িয়ে আছে।
কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন চোখে পড়ছে। যেমন, আওয়ামী লীগপন্থীদের বাড়ির সামনে বিএনপি-সমর্থকদের আনাগোনা বেশ সরব, এলাকার চেয়ারম্যানসহ। আবার কিছু সূত্রে শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগপন্থীদের সঙ্গে টাকা লেনদেন বা ভোট কেনাবেচার খবরও আছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ইনসাফ কিংবা ইসলামী শাসন কায়েম সম্ভব—এ বিশ্বাসও ঘুনাক্ষরে করি না, বরং অসম্ভবই মনে করি। আমার বিশ্বাস, মুক্তির পথ হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রদর্শিত পথ—ইসলামী শরিয়া, দাওয়াত এবং জিহাদের মাধ্যমে।
বাদ ইশা
১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬