27/07/2026
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যেন এক আজব দপ্তর!
যেখানে প্রায় সকল সফলতার কৃতিত্ব পান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শ্রমবাজার-সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, রাষ্ট্রীয় সফর ইত্যাদি ক্ষেত্রে দায়িত্ব থাকে মূলত মন্ত্রী ও উপদেষ্টার হাতে। অথচ সকল বেগার খাটা, মাঠপর্যায়ের সীমাবদ্ধতা, অসন্তোষ কিংবা ব্যর্থতার দায় এসে পড়ে ঠিকই প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কাঁধে।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো— বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, দাবি-দাওয়া ও অভিযোগের প্রধান ঠিকানাও যেন একমাত্র নুরুল হক নুর। অথচ অনেক প্রবাসীই হয়তো উপলব্ধি করেন না যে, একজন প্রতিমন্ত্রীর সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা একজন পূর্ণমন্ত্রীর সমপর্যায়ের নয়। সীমিত ক্ষমতা দিয়ে অসীম প্রত্যাশা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দেশ পরিচালনায় সময়োপযোগী, উদ্ভাবনী ও জনমুখী নীতি গ্রহণের চেষ্টা করে চলেছেন। সেই ধারাবাহিকতায়, যদি সত্যিই প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও প্রত্যাশার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হয়, তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্ব নুরুল হক নুরের হাতে অর্পণ করা সময়ের দাবি।
এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে কোনো দাবি নয়; বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি নীতিগত প্রশ্ন।
রাজপথের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সাধারণ ছাত্র থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা ভিপি নুরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাকে প্রতিমন্ত্রীর সীমিত কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ রাখলে তাঁর পূর্ণ সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার সম্ভব হবে না। এতে একদিকে যেমন মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রবাসীদের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একজন পরীক্ষিত গণআন্দোলনের নেতার ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়নও প্রশ্নের মুখে পড়ে। একই কথা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জোনায়েদ সাকি ভাইয়ের জন্যও প্রযোজ্য। চিরন্তন ডানপিঠে বিপ্লবীদের দেশের স্বার্থে কাজ
করার পরিসর কোনভাবেই সীমাবদ্ধ করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।
সুতরাং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পরিচালনার স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচিত বিষয়টি গভীর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
মোঃ নাহিদুল ইসলাম ( SA Nahid )
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ - ফেনী জেলা