01/08/2026
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লগে আপনি কি মাইয়া বিয়া দেবেন? আত্মীয়তা করবেন? যদি না করেন, তাহলে ও বেয়াদব নাকি আদব- তা দিয়ে আপনি কী করবেন?
নাসীর পলিটিক্স করে। ওরে আপনি সমর্থন করতে পারেন, ঘৃণাও করতে পারেন। আপনার পছন্দ। কিন্ত আপনি তার বাপও না, চাচাও না, যে আপনে তারে মাইরা ঠিক করবেন। এই দায়িত্ব আপনার না। আজকাল তো স্কুলেও মারা নিষেধ। জামানা এই জায়গায় চলে গেছে।
কথা খুব সিম্পল। নাসীরের কথা বেয়াদবি মনে হলে ইগনোর করবেন। তা না পারলে স্যাটায়ার করবেন, ব্যঙ্গ করবেন। সমালোচনা করবেন পাল্টা বলবেন। তাতেও যদি কাজ না নয়, মানহানীর মামলা করে দেন। আর কেউ ক্রমাগত খারাপ কথা বললে, সে নিজেই রাজনীতি থেকে ছিটকে যাবে। মনে আছে, অতি কথনের জন্য হাসানুল হক ইনু, হাছান মাহমুদ, আরাফাত, ওবায়দুল কাদেররা কী পরিমাণ অজনপ্রিয় হয়েছিল? এটাই রাজনৈতিক সমাধান।
কিন্তু হামলা করা যাবে না, যাবে না, যাবে না। এই হামলাকে সেলিব্রেটও করা যাবে না। বরং হামলা হলে কঠোর নিন্দা করতে হবে। এটা না করলে একদিন আপনিও বিপদে পড়বেন।
কারণ, রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য হামলাকে নরমালাইজ করা হলে, আবার ৫ আগস্টের আগের জায়গায় ফিরবেন। তখন যে কোনো কথাকে কোনো না কোনোভাবে বেয়াদবি বলে আখ্যা দেওয়া হবে।
একটা সিম্পল উদাহরণ দেই। রুহুল কবির রিজভী একদিন বলেছিলেন, 'খুনি হাসিনা দেশ ধ্বংস করছে'। 'খুনি' শব্দটা পত্রিকায় ছাপা হয়। তখন শেখ হাসিনার অফিসের প্রেস উইং দেখে বলা হয়, সরকার প্রধানের নামের আগে খুনি শব্দটা ব্যবহার অবামনানকর (মানে বেয়াদাবি)। যে রিপোর্টার এই রিপোর্ট লিখছে এবং যে সাব এডিটর এডিট করছে, ওদের চাকরি খাও।
শুধুমাত্র ২০২৩ সালে এপ্রিল ও মে মাসে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে জনসভার বক্তব্যের কারণে ধরে মেরে জেলে দেওয়া হয়েছিল শেখ হাসিনা সম্পর্কে 'আপত্তিকর' ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে। আজকাল যেটাকে 'যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা' হিসেবে দেখা হয়।
তাই বেয়াদবি এড়াতে বিরোধীলের নেতাকর্মীরাও মাইর ও জেলের ভয়ে ভাষণে বলত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলা শুরু করেন। ইউটিউব করেন পেয়ে যাবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেকে সম্মাণ দেওয়া খারাপ কিছু না। বরং ভালো কাজ। কিন্তু খারাপ হল, চাপিয়ে দেওয়া। তো আজ যে গুন্ডা, চাঁদাবাজ, বেইমান শব্দগুলোকে বেয়াদবি বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, হামলা-মারধর করা হচ্ছে: এটাকে সমর্থন দিলে তা এক্সট্রিম দিকে যাবে। এবং নামবেই। তখন বলা হবে, দুর্নীতিবাজ বলা যাবে না, লুটেরা বলা যাবে না, ব্যর্থ বলা যাবে না।
শেখ হাসিনার শেষ ১৫ বছরের শাসনামলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হল, কিছু মানুষের ব্রেইনে ফ্যাসিবাদ গেড়ে বসেছে। ওই সময় একটা প্রতিষ্ঠা করা হয়, আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আক্রমনাত্মক কিছু বলা মানে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এর শাস্তি মাইর। এটা দেখে দেখে বড় হওয়া লোকজন মনে করছে, সরকারে থেকে যদি এগুলো করতে না পারি, তাহলে কীসের ক্ষমতা! এটাই রাজনীতি। সরি ব্রো, এটা পলিটিক্স না। এটা হল, কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা।
বাইরে আরেকটু উদার যারা আছে, তারা বলছে আরে এটা তো জনরোষ। একজন জনপ্রিয় নেতা সম্পর্কে খারাপ কথা বললে, জনগণ তো হামলা করবেই। সরি ব্রো, একই কথা ছাত্রলীগও বলত। শেখ হাসিনার সম্পর্কে কটুক্তির ধোয়া তুলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে পিটিয়ে বলত, আরে এটা তো সাধারণ ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে করেছে। তো গত দুই বছর ধরে যে শেখ হাসিনা সম্পর্কে এত কটুক্তি করা হচ্ছে, তাতে সেই 'সাধারণ ছাত্রদের' কী এখন রাগ হয় না? ক্ষোভ হয় না?
তো সিম্পল বিষয় হল, কর্তৃত্ববাদী মানসিকতাটা আসে ক্ষমতা থেকে। তখন অনেক কিছুকেই বেয়াদবি মনে হয়। ক্ষমতা না থাকলে আর মনে হয় না।
-রাজিব আহাম্মদ