23/08/2026
ই-জিপিতে পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরে বিপিপিএ-এর দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত
অফলাইন ক্রয়ের জন্য ঢালাও অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) জনাব আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, এমসিআইপিএস। তিনি বলেন, ই-জিপি সিস্টেম থেকে অব্যাহতি চাওয়ার আগে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে অফলাইনে ক্রয়ের জন্য তাদের প্যাকেজ সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং ই-জিপি ব্যবহার শুরুর একটি নির্দিষ্ট তারিখও দিতে হবে।
বিপিপিএ-এর সিইও বলেন, “অফলাইন ক্রয়ের জন্য বিপিপিএ ঢালাও অনুমতি দেবে না। বর্তমান সরকার সব সরকারি ক্রয় ই-জিপির আওতায় আনার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
২০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে চার সপ্তাহব্যাপী বেসিক পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজমেন্ট (পিপিএম) প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আয়োজিত বিপিপিএ ও এর কার্যক্রমবিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ৮ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ইএসসিবি ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণটি ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে শেষ হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মোট ২৮ জন কর্মকর্তা এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে চারজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।
বিপিপিএ-এর সিইও প্রশিক্ষণার্থীদের চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণ থেকে সর্বোচ্চ জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। তিনি বিপিপিএ-এর প্রতিষ্ঠা, কার্যাবলি ও পরিচালনা পর্ষদ, ই-জিপি সিস্টেম ও এর অগ্রগতি, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ, টেকসই সরকারি ক্রয়, বিপিপিএ-এর প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিস্তৃত উপস্থাপনা দেন।
সরকারি ক্রয়ে ‘উদ্দেশ্য অনুযায়ী উপযোগিতা’ (ফিট ফর পারপাস) এবং ‘অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে সিইও বলেন, টেকসই ক্রয়ের ক্ষেত্রে শুধু মূল্যকে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হবে না। তিনি বলেন, “টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য টেকসই সরকারি ক্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সিইও বলেন, মানুষ, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক লাভ—টেকসই ক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মাত্রা। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ৪-আর-বর্জ্য হ্রাস, পুনঃব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন ও পুনরুদ্ধার-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ইএসসিবিতে চলমান প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা সরকারি ক্রয় কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে বিপিপিএ কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ই-জিপি হেল্প ডেস্ক, রিভিউ প্যানেলসহ সরকারি ক্রয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
বিপিপিএ-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) শেখ মুহাম্মদ রেফাত আলী এবং সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট জনাব মো. মোশাররফ হোসেন প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেন। জনাব রেফাত আলী বিপিপিএ-এর সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে সংস্থার কার্যাবলি ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন এবং তাদের মধ্যে বিপিপিএ-এর বার্ষিক প্রতিবেদনের কপি বিতরণ করেন।
সাবেক সিপিটিইউর পরিচালক (রুলস), সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব মাসুদ আকতার খান ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিয়মিত পাওয়া বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত প্রশ্ন ও চিঠির বিষয়ে বিপিপিএ কীভাবে মতামত প্রদান করে, সে প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করেন। তিনি জানান, এ ধরনের মতামত প্রদানের বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বিপিপিএ-এর পরিচালক মিস অপর্ণা বৈদ্য ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং এ-সংক্রান্ত জারি করা একটি প্রজ্ঞাপন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। বিপিপিএ-এর পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলী আহম্মেদ খাঁন রিভিউ প্যানেল এবং ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করেন।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘প্রকিউরমেন্ট মডার্নাইজেশন টু ইমপ্রুভ পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি (পিএমআইপিএসডি)’ প্রকল্পের আওতায় বিপিপিএ চার সপ্তাহব্যাপী বেসিক পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজমেন্ট (পিপিএম) প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।