04/04/2026
গণভোট নিয়ে কিভাবে বিএনপির কাছে জামাতসিপির রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছে সেটা সকল প্রজম্মের জেনে রাখা উচিত।
জামাতসিপি ভেবেছিলো, ওরাই একমাত্র চালাক। ইন্টেরিম ও সংস্কার কমিশনকে চাপ দিয়ে, অতি চতুরতার সাথে গণভোটের প্রশ্ন গুলো সেট করেছিলো যেনো বিএনপির নোট অফ ডিসেন্ট গুলো পাশ কাটানো যায়!
জামাতসিপি সংস্কার কমিশনকে চাপে রাখে যেন গণভোটের প্রশ্ন তাদের পছন্দমত করা হয়, এদিকে তারা বিএনপিকেও চাপে রাখে যে গণভোট নিয়ে কোনো ঝামেলা করলে জাতীয় নির্বাচন হতে দেবেনা!
কিন্তু রাজনীতির চালে বিএনপির হাটুর সমান ও না জামাতসিপি। ওরা ডালে ডালে চলেছে আর বিএনপি পাতায় পাতায়।
বিএনপি এখানে একটা ইন্টারেস্টিং গেইম খেলেছে। তারা বুঝেছে, গণভোট প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ করলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে এবং জাতীয় নির্বাচন হুমকির মুখে পড়বে।
তাই তারা টার্গেট করা শুরু করে যে, জুলাই আদেশ যেনো তাদের সুবিধানুযায়ী হয়। এখানে বলে রাখা ভালো, বিএনপিকে আগ বাড়িয়ে কিছুই করা লাগেনি।
বেকুব কমিশন জুলাই আদেশের যে খসড়া তৈরি করে, সেখানে যে সাংবিধানিক গোলমাল আছে সেটা সালাউদ্দিন সাহেব শুরুতেই আচ করতে পারে কিন্তু বিষয়টা জোরালোভাবে সামনে আনেন না!
কারণ সালাউদ্দিন সাহেব জানতেন যে, এটা নিয়ে বেশি কথা বললে, প্রতিপক্ষ এলার্ট হয়ে যাবে, আর তখন নতুন এমন কোন পন্থা অবলম্বন করবে যাতে বিএনপির নোট অফ ডিসেন্ট গুলো চূড়ান্তভাবে নাকচ হয়।
অত:পর সেই সাংবিধানিক লুপহোল সহই ১৩ নভেম্বার ২০২৫ এ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। বিএনপি মনে মনে স্বস্তির নি:স্বাস ফেলে কিন্ত সেটা প্রকাশ করেনা!
অত:পর এর ১২ দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট অধ্যাদেশ জারি করে। জামাতসিপি খুশিতে বাকবাকুম হয় কিন্তু সেটা প্রকাশ করেনা।
এদিকে বিএনপিও আশ্চর্যজনকভাবে চুপ থেকে যায়, কারণ তারা জানে, ১২ দিন আগের জুলাই সনদ আদেশেই গোড়ায় গলদ রয়ে গেছে।
অত:পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির রুদ্ধধার এক বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমেদ সে রাতে তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেন, এখন অব্দি যা যা হয়েছে সব "ম্যানেজেবল", শুধু প্রয়োজন নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট!
এইভাবেই সংস্কার কমিশন, জুলাই আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপির কাছে রাজনৈতিক ভাবে পরাস্থ হয় জামাতসিপি।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় তারেক রহমান একটি কথা বার বার বলতেন, বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, জামাতের নেই। কেনো বলতেন এবার বুঝেছেন?
শুধু চাপাবাজি আর লম্ফজম্ফ করলেই হয়না! ওরা জানেই না কিভাবে সংবিধান ও রাষ্ট্রযন্ত্র ফাংশন করে! সম্প্রতি তাদের গুরু পিনাকি পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে যে পুরো প্রক্রিয়াটা এখন সংবিধানের মায়াজালে আটকা, আর তেমন কিছু করার নাই। এখানে সংসদই আল্টিমেট ডিশিসান দিবে!
সুতরাং, জামাতসিপি যে নতুন করে হুমকি দিচ্ছে, আন্দোলন কারেঙ্গা, হ্যান কারেঙ্গা, ত্যান কারেঙ্গা,, পরিস্কার ভাবে বলতে চাই, ফালাফালি করে কোনো লাভই নেই। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি কোনো লাভ নেই।
মুখে যতই ফটর ফটর করুক, বুঝতে অসুবিধা হয়না জামাতসিপি প্রচন্ড ফ্রাস্টেশানে আছে, আর তাদের সব ক্রোধ আর ফ্রাস্টেশান মূলত এক ব্যক্তিকে ঘিরে, এজন্য তাকে নিয়ে যে যেভাবে পারে বিষোদগার করে যাচ্ছে!
সত্য বলতে, গণভোট নিয়ে জামাতসিপির এহেন ন্যাক্কারজনক রাজনৈতিক পরাজয় বিএনপির কাছে নয়, তারা হেরেছে ওই এক ব্যক্তির কাছেই!