19/04/2025
Copy post
আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর যেভাবে চলে । 🤧
লিখাটা বড় তাই সময় করে পড়বেন, এই লিখা বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ার, স্টুডেন্ট এবং এইচ.এস.সি সাইন্স তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন।
ডিপ্লোমারা আবার আন্দোলন শুরু করেছে, তাদের কিছু দাবিসমুহের যুক্তিখন্ডন, লিখার পরের অংশে করছি।। এই অংশে ১৩ এর নীল নকশা এর কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।। ২০১৩ এর আগে, ২০০৮ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা সুপারভাইজার হিসেবে গন্য হতো ।। কিন্তু ১৩ এর আন্দোলনে জন দুর্ভোগ এড়াতে এবং সে সময় বি.এস.সি প্রকৌশলী ও ছাত্রদের নিরব ভুমিকার কারনে তৎকালীন সরকার এক প্রকার বাধ্য হয়েই তাদের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দাবি মেনে নেয়।। এখন সেই সিদ্ধানের মাশুল দিতে হচ্ছে বি.এস.সি প্রকৌশলীদের ও সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে ।। সব গুলো প্রতিষ্ঠান এর সিস্টেম আজকে কলাপসের পথে।। কিভাবে হচ্ছে নিচে পড়লেই বুঝবেন।
১৩ এর আন্দোলনে ইঞ্জিনিয়ার পদবী পাওয়ার পর ডিপ্লোমাদের প্রমোশন এর পথ খুলে যায় অর্থাৎ বি.এস.সি প্রকৌশলীরা প্রমোটেট হয়ে যতদুর যেতে পারবে তাদের ও যাওয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকলো নাহ।। এখন আসেন সমস্যা টা কোথায় তাহলে।। আমাদের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা মনে করছে তাদের জন্য ১০ম গ্রেড ও প্রমোশনে ৩৩% বরাদ্দ রাখলে সমস্যা টা কোথায়?? ভাইরা তোমারা শুধুমাত্র এন্ট্রী লেভেল নিয়ে পড়ে আছো, পরের গুলো নিয়ে ভাবোই নি যে তোমাদের জব লাইফে কি হবে ভবিষ্যতে।। বুঝিয়ে বলছি, ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে সরকারী প্রতিষ্ঠানে ঢুকার পোস্ট ২ টা,
১। ৯ম গ্রেড ও
২। ১০ম গ্রেড যা ডিপ্লোমাদের জন্য বরাদ্দ
সরকারী প্রতিষ্ঠানে ৯ম ও ১০ম দুইজনেই ফিল্ডের কাজে সুপারভাইজার হিসাবে থাকে, ফিল্ডে কাজ করে থাকে টেকনিশিয়ানরা।। ১৩ এর পর ডিপ্লোমারা অফিসার হিসাবে গন্য হয় , যেহেতু তারা অফিসার হিসাবে গন্য হয় তাই তারা কোনো ফিল্ড লেভেলে কাজ করে নাহ যা করে তা হল সুপারভাইজিং।। মানে পদ ভিন্ন কিন্তু বিএসসি দের সাথে কাজও এক, মর্যাদাও এক।। এখানে থেকেই আপনাদের অধঃপতন শুরু। । সুতরাং ডিপ্লোমারা যে শিখা বুলি বলে যে আমরা ফিল্ড এ কাজ করব বিএসসি রা করবে নাহ তারা কমান্ডিং সিট এ থাকবে এই কথা সম্পুর্নরুপে ভুয়া। এরি সাথে ১৩ এর আন্দোলনে ইঞ্জিনিয়ার পদবী পাওয়ার পর বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা যে উদ্দেশ্য নিয়ে চালু হয়েছিল সেই উদ্দেশ্য এখন সম্পুর্ন ব্যাহত কেননা কারিগরি শিক্ষা দেশে চালুই করা হয়েছিল ফিল্ড লেভেল কাজের দক্ষ কারিগর ও জনশক্তি এর জন্য।। কিন্তু তারা তো এখন কারিগর নয়।। তারা এখন ঢুকেই অফিসার হিসাবে।।
এখন আসেন দেখি উপরের পোস্ট গুলোতে কি হচ্ছে , সরকারি চাকুরীর ৯ম গ্রেডের এন্ট্রি লেভেল… এরপর উপরের যত পোস্ট এ আছে সব গুলো ম্যানেজেরিয়াল পোস্ট, মানে ডিশিসন মেকিং পোস্ট।। এখন এই পোস্টে কারা যাওয়া উচিত?? অবশ্যই বিএসসিরা, কেননা বিএসসি দের একাডেমিক কোর্স গুলা ডিজাইন করা হয়েছে তারা যেন এসব ডিসিশন মেকিং করতে পারে, অন্যদিকে ডিপ্লোমাদের কোর্স ডিজাইন করা হয়েছে ফিল্ড লেভেল কাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কোনো ডিসিশন মেকিং এর জন্য নাহ।। তাহলে কারা যাওয়া উচিত, অবশ্যই বিএসসি রা তাই নাহ।। আসলেই কি যায়।। আসেন দেখি, প্রতিবছর সরকারি প্রতিষ্ঠান শুন্যপদের বিপরীতে ৯ম গ্রেডের সারকুলার প্রকাশিত করে, ধরা যাক ২০২৫ এ শুন্যপদের সংখ্যা ৩৫।। তাহলে এই সংখ্যার কিছু আসবে প্রমোশনে কিছু আসবে সরাসরি নিয়োগে নিম্নোক্তভাবে।
১। প্রোমশনঃ সরকারি হিসাবেই যদি ৩৫ এর ৩৩% ধরে আগাই তাহলে ১১.৫৫ বা ১২ জন, কিন্তূ এইটা ৩৩% নাই এখন কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ৫০% এর থেকে বেশি দিয়ে থাকে অফিসিয়াল ভাবেই আবার যেগুলো দেয় নাহ বা দিতে চায় নাহ সেসবের ক্ষেত্রে দেখবেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে দেরি, সারকুলার প্রকাশিত হওয়ার পর এক্সাম ও রেজাল্ট দিতে দেরি , আবার জয়েনিং দিতে দেরি করছে, এই সব গুলো ঘটনা ঘটে ৩৩% কে আরও বেশি পারসেন্টেন্স এ নিয়ে যাওয়ার জন্য। ১৩ এর নীল নকশা এর জন্য সব প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমাদের আধিক্য বেড়ে যাওয়ার জন্য, তাদের এই দুরাত্ব্য কে থামাতে ম্যানেজমেন্ট এক প্রকার ব্যর্থ । তাই বাধ্য হয়েই এই পারসেন্টেন্স বাড়ায়।। কিন্তু আমি এখানে ৩৩% ধরেই আগালাম।। তাহলে এই ১২ জন ডিপ্লোমা আসলো ১০ম গ্রেডের এন্ট্রি লেভেল থেকে প্রমোশন এর মাধ্যমে আরেক এন্ট্রি লেভেল ৯ম গ্রেড এ।
২। সরাসরি নিয়োগে ২৩ জন বিএসসি।।
এখন আসেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার রা জয়েন করল জুলাই মাসে এবং ডিপ্লোমারা প্রমোটেড হল ডিসেম্বর মাসে।। বিএসসি শিক্ষার্থীরা কি ভাবেছেন ৬ মাস আগে ৯ম গ্রেড জয়েন করেছেন বলে আপানারা প্রমোশন প্রাপ্ত দের থেকে সিনিয়র।। ভুল ভাবছেন।। বাংলাদেশের সবগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবিধানমালা অনুযায়ি একই বছরের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত দের থেকে প্রমোশন প্রাপ্তরা সিনিয়র হিসাবে গন্য হবেন।। কাহিনি এখানেই ঘটে গেছে। এই যে তারা এখানে সিনিয়র হয়ে গেছে এটা আজীবন থাকবে। যেই ছেলেটা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাচের মেধাক্রমে ১ম সেই ছেলেটা ২০২৫ সালের ৯ম গ্রেডের এন্ট্রি পোস্টের ব্যাচের ১৩ম।। এখন আসেন পরে কি ঘটছে, যেহেতু উপরের দিকের পোস্টগুলা ম্যানেজেরিয়াল লেভেল এর সেখানে শুন্যপদ ও কম থাকে । যেহেতু প্রমোশন প্রতিবছরের একটা চলমান প্রক্রিয়া তাই ধরা যাক ৫ বছর পর উপরের পদ খালি হয়েছে ০৪ টা… তাহলে ২০২৫ সালের ব্যাচের সবাই প্রমোশন এর যোগ্য কিন্তু পদ তো ০৪ টা …, আবার ২৫ এর ব্যাচের সিনিয়র লিস্টে বসে আছে ডিপ্লোমারা তাই তারা সবাই আগে প্রমোশন পাবে তারপর আপনি।।
তাহলে ৯ম গ্রেডের এন্ট্রী লেভেল এর পোস্ট থেকে ডিপ্লোমারা প্রমোশন পাচ্ছে ৫ বছর পরেই… আর প্রতিবছর যদি এরকম ০৪ টা করে পোস্ট ফাকা হয় তাহলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা ৮ বছর পর।। মানে দেশ যাদের কে তৈরি করল, ভুরি ভুরি টাকা ইনভেস্ট করল ডিসিশন মেকিং এর জন্য তারা ওই জায়গায় যেতেই পারল নাহ , আর অন্যজন যাদের সেই রিলেটেড কোনো নলেজ নাই নীল নকশা এর জন্য তারা ওইসব সীটে বসে আছে।। তাহলে ৩৩% ডিপ্লোমা দের প্রমশন দেওয়ার জন্য , বিএসসি দের প্রমোশন ৮ বছর এ চলে গেলো ।। তারা এখন পায়তারা করছে এটাকে আরো বাড়ানো (অলরেডি সফল ও হয়ে গেছে)।। তাহলে পারসেন্টেন্স বাড়লে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা ঢুকে প্রমোশন এর আশায় আশায় থাকতে থাকতে কবরে চলে যাবে, তাও প্রমোশন পাবে নাহ।। শিরোনাম মনে আছে তো।। অলরেডি প্রমশন এর এই জটলা শুরু হয়ে গেছে।। এখন আসেন বাকি কথায়,
বিএসসিরা যেহেতু ওই ম্যানেজেরিয়াল পদে যেতে পারছে নাহ তাহলে কি কি হচ্ছে জব লাইফে আপনার সাথে।।
১। বিএসসি দের কমান্ডিং অথরেটি ডিপ্লোমা ম্যানাজার, অথচ ডিপ্লোমা দের বুলি অনুযায়ি দশম গ্রেডে এ বিএসসিরা এপ্লাই করলে নাকি বিএসসি-বিএসসি কমান্ডিং চেইন নষ্ট হবে, অথচ এখন অই নীল নকশা এর জন্য বিএসসি দের কমান্ডিং অথরেটি ডিপ্লোমা ম্যানাজার। হাঊ ফানি।। এর থেকে তো আমার বিএসসি এর কমান্ড নিতে অসুবিধে হওয়ার কথা নাহ।।
২। বছর শেষে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এমপ্লয়ীদের একটা ACR পাঠানো হয় হেড অফিসে।। আপনার সেই এসিআর এ মার্ক কে দিবে যানেন, একজন ডিপ্লোমা ।। মানে এখন একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার কে জাজ করার দায়িত্ব পড়েছে একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারির উপর।। এর থেকে প্যাথেটিক আর কি হতে পারে।।
উপরের এই দুই পয়েন্টকে কেঊ ভেলিডেট করতে চাইলে গ্যাস সেক্টর, বিসিআইসি সহ যতগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানে আপনার বড় ভাইরা আছে তাদের থেকে খোজ খবর নেন।। আরোও অনেক সমস্যা আছে যেগুলো লিখতে চাচ্ছি নাহ।। এই সব কিছুর কারনে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা হতাশাগ্রস্থ।। শুধু জীবন ও জীবিকার তাগিদেই আছে।। অন্য দিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা খুশি, কেননা তারা তো তাদের যোগ্যতার থেকে বেশি কিছু পাচ্ছে।।
এখন আসেন দেখি… ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারিরা ম্যানেজেরিয়াল পদে গিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো কিভাবে কলাপস করছে, ভাই কলাপস হওয়া মানে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এমন নয়। এমন নয় যে ১৩ এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান কলাপস হয় নি। হয়েছে কিন্তু প্রতিষ্ঠান গুলোর ভিত্তি নষ্ট হয় নি। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে ভিত্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।। বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা ওসব পদে নাহ যাওয়ার কারনে ওই পদগুলো মেধাশুন্য হয়ে যাচ্ছে।। তাছাড়াও উপরের পদগুলোর এরকম মেধাশুন্যতা ও খারাপ লিডারশিপ এর জন্য নিচের পদের ইঞ্জিনিয়াররা উপরের পদগুলো থেকে নলেজ শেয়ারিং কোন স্কোপ পাচ্ছে নাহ।। তাই এখন দেখবেন নতুন যুগের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের ফিল্ড লেভেলে জ্ঞানের পরিধি অনেক কম কেননা তারা উপর থেকে কোন হেল্প পাচ্ছে নাহ, আর নিবেই বা কার থেকে …উপরে তো বসে আছেন একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারি।। তাছাড়াও তারা কিছু জানলেও সেটা বিএসসিদের সাথে শেয়ার করতে চায় নাহ ।।
আর আগের যে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা ছিলেন তাদের জ্ঞানের পরিধি দেখলে অবাক হতে হয়, তাদের এই জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করেছেন তাদের অগ্রজরা। আর এখন ১৩ এর নীল নকশা এর জন্য সেই নলেজ শেয়ারিং অপশন গুলোই বন্ধ হয়ে গেছে, তাই এখন বিভিন্ন ডিসিশন মেকিং সিদ্ধান্ত গুলো ভুল পথে যাচ্ছে।। যার খেশারত হিসাবে জনগনের টাকা নষ্ট হচ্ছে, সামান্য পান থেকে চুন খোশ্লেই সব কাজেই বিদেশি এক্সপার্ট ছাড়া কাজ হয় নাহ।। হবে কিভাবে?? অনেকেই বাইরে থেকে কমেন্ট করেন এত এত টাকা দিয়ে দেশে ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে লাভ কি? যদি সব কাজে এক্সপার্ট আনা লাগে।। ভাইরে বুয়েট থেকে বের হওয়া মেধাবী ছেলেটাকে নীল নকশার মাধ্যমে বানিয়ে রেখে দিয়েছেন ফিল্ড লেভেল এর কাজে আর ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারিরে বসাই দিয়েছেন ডিশিসন মেকিং কাজে।। তাহলে তার থেকে আপনি কিভাবে আউটপুট আশা করেন।।আবার বুয়েট থেকে বের হওয়া মেধাবী ছেলেটা কোন ডিসিশন দিলে উপরে বসে থাকা ডিপ্লোমা বস তা গ্রাহ্য করে নাহ।
আর এদিকে আমাদের বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা দিন রাত ব্যস্ত এটা ভেবে কেন বুয়েটের মেধাবীরা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। তাদের মুল্যায়ন আপনি কতটুকু দিতে পেরেছেন এই দেশে…। আবার প্রকৌশল খাত কে যা বানিয়ে রেখেছেন তারা কেন বিসিএস এডমিন আসবে নাহ ভাই । এই ভাবেই কলাপস হচ্ছে আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো , আমাদের পলিসি মেকাররা বুঝতেও পেরেছেন এটা, কিন্তু দেরীতে ।। এখন সব ধ্বংস হয়ে নতুন করে যতদিন নাহ গড়ে ঊঠবে ততদিন হয়ত ঠিক হবে নাহ এটা।। কেননা পলিসি মেকাররা কিছু করতে গেলেই দেখবেন চাকুরিতে যারা আছে তারা পলিটেকনিক এর ছোট ছোট বাচ্চাদের ভুং ভাং বুঝিয়ে রাস্তায় নামাবে, ব্লকেড দিবে যেহেতু বাচ্চা মানুষ আবেগ অনেক বেশি তাই তাদের কর্মসুচি তে আপনি সরে আসতে বাধ্য।।
নীল নকশার একটু ছোট উদাহরন দেই এক প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে।। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রীস করপোরেশন এ ২০২০ সালে ৯ম গ্রেডের মেক ও ইলেক্ট্রিক্যাল এর ৩৮ জন নিয়োগের প্যানেল টেনেল সব মিলায়ে এখন আছে ৬-৮ জন হয়ত, ২০২২ সালের মেক ও ইলেক্ট্রিক্যাল নিয়োগের ৩৮ জন এর এখন হয়ত আছেন ১৫-১৮ যদিও এই সংখ্যা আরো কমতে পারে।। কি ভাবছেন পরের বছেরের নিয়োগে এই পোস্ট গুলো এড হয় , নাহ রেহ ভাই এইগুলোতে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী দের প্রোমট করা হয়।। এই জন্যি অনেকেই হয়ত বিসি আইসি কে ডিপ্লোমাদের স্বর্গ বলে থাকবেন। কেননা এখানে ডিপ্লোমা দের প্রমোশন এর হার বছরে ৬০-৭০%। কিছুদিন পর হয়ত শুনবেন এই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর হয়েছেন একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারিদের কেঊ।। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের এই কমে যাওয়ার পিছনের কারন কিন্তু উপরের কথাগুলোই্।। অথচ অদুর ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠান যে বিএসসি এবং মেধাশুন্য এর পথে যাচ্ছে তা নিয়ে ম্যানেজমেন্ট এর দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই।। আর নিতে গেলেও বাধার সম্মুক্ষীন হন ডিপ্লোমাদের দ্বারা। কেননা এখানকার ৮৫% এ এখন ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী।। এরকম আরো প্রতিষ্ঠান এর উদাহরন দেওয়া যাবে কিন্তু লিখা বড় হয়ে যাচ্ছে।।
সমাধান কি??
১। ১০ম গ্রেড সবার জন্য উন্মুক্ত করে এবং প্রমোশন ধারা যেভাবে রয়েছে সেভাবেই রাখা।। কিন্তু ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারিরা এটা কখনোই মেনে নিবে নাহ। তারা যতই এই দিকে চিল্লাক বিএসসি রা কি জানে হেন,তেন ।। তারা জানে ১০ম গ্রেড উন্মুক্ত হলে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারিরা একজনও জব পাবে নাহ।। দরকার হলে তারা কাফনের কাপড় পরে নামবে… ১৩ এর মত, শহিদ হবে তবু এই গ্রেড উন্মুক্ত হতে দিবে নাহ।।
তাহলে বিএসসি দের কবর থেকে বের হওয়ার সমাধান।।
২। তারা যদি ১০ম গ্রেড ওপেন হতে নাহ দেয় তাহলে প্রমোশন নীতি বদলে ফেলা।।এবং নবম গ্রেডে প্রমোশন এর মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করা অর্থাৎ বিএসসিদের কোর্স কারিকুলাম যেহেতু ডিসিশন মেকিং এর লেভেলের তাই তাদের প্রমোশন নীতি ৯ম গ্রেড থেকে বর্তমান যেভাবে রয়েছে সেভাবেই রাখা এবং ডিপ্লোমাদের কোর্স কারিকুলাম যেহেতু ফিল্ড লেভেল এনহানসিং আবার প্রমোশন পাওয়া যেহেতু মানুষের জব লাইফ এর মৌলিক অধিকার তাই তাদের পদমর্যাদার ধাপ কে এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এর নিচে রেখে বেতন স্কেল পরিবর্তন করা যেতে পারে । যেমনটা হয়ে থাকে নার্স এবং ডাক্তারদের ক্ষেত্রে সেরকম করা যেতে পারে।। অর্থাৎ ডিপ্লোমাদের সব গুলো পদের পদমর্যাদা এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এর নিচে থাকতে হবে।।
অথবা ৩৩% কে আরো কমিয়ে নিয়ে আসা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবিধানমালা পরিবর্তন করে এন্ট্রি পোস্টে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত রাই সিনিয়র থাকবেন এই বিধান জারি করা।।
উপরের এই সমস্ত লিখা পড়ার পর যারা বিএসসি স্টুডেন্ট রয়েছেন, যারা এইচএসসি তে সাইন্স পড়ছেন- ভাবছেন ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হবো বলে চিন্তা করছেন …তারা যদি এখনও নাহ বুঝেন আপনাদের কি করতে হবে তাহলে আমি বলি ভাই, যেই ডিপ্লোমাকে আজকে তাচ্ছিল্য করছেন তাদেরকে ভবিষ্যতে স্যার স্যার এবং এসিআর এর মার্ক ঠিক রাখার জন্য তাদের কথায় জ্বি হুজুর জ্বি হুজুর বলার অভ্যাস তৈরি করে ফেলুন কারন আপনাদের সময়ে অবস্থা আরও বাজে হবে।। সাথে সাথে একজন হতাশাগ্রস্থ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য আপানাকে অগ্রিম সমবেদনা দিয়ে রাখলাম।।
এখন আসুন তাদের বর্তমান কিছুর দাবির যুক্তিখন্ডন
১। ক্রাফট দের প্রমোশনঃ চাকুরী করব অথচ প্রমোশন পাব নাহ এটা একটা মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সহ বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অধ্যায় এর কিছু কিছু অনুচ্ছেদ এর সরাসরি লঙ্ঘন । এখন আসেন তাদের মুখের কমন কিছু বুলি নিয়ে যেগুলা বলে তারা সাধারন মানুষজন দের কে বুঝাচ্ছে… যে একজন ননটেক পারসন, যে ফিজিক্স এর ল্যাব মামা সে আমার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কি বুঝে।। সে আমায় ইঞ্জিনিয়ারিং এর কি পড়াবে?? ভাই বাংলাদেশের এমন কোন ইঞ্জিনিয়ারিং সাব্জেক্ট নাই যেখানে ফিজিক্স নন মেজর সাব্জেক্ট হিসাবে পড়ানো হয় নাহ।। তাই সে যদি প্রমোশন পায় তাহলে সে ফিজিক্স এই প্রমোশন পাবে।। হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে সেই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে প্রত্যেক ক্রাফটরা তাদের স্ব স্ব টেক এ যোগ্যতা অনুসারে প্রমোটেড হয়ে জুনিওয়র ইন্সট্রাক্ট্রর হবেন। অর্থাৎ যে ফিজিক্স এ অনার্স কমপ্লিট করে রেখেছেন এবং ক্রাফট থেকে প্রমোশন এর সময় অতিক্রম করেছেন সে ফিজিক্স এ জুনিয়র ইন্সট্রাক্ট্রর হবেন। অন্য কোন ইঞ্জিনিয়ারিং পদে নয়।।
তাহলে কেন তারা এটার বিরোধিতা করছে, কেননা তাদের সম্পত্তি জুনিয়র ইন্সট্রাক্ট্রর পদ… প্রমোশন এর মাধ্যমে দখল হয়ে যাচ্ছে জেনারেলদের কাছে ।।এখানেই তাদের সমস্যা।। আবার বলতে পারেন ভাই ১৩ম গ্রেড থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেড এ প্রমোশন কেন? ভাই তাদের কারিগরী শিক্ষার বিধানমালাতে ক্রাফট দের শিক্ষক হিসাবে এবং তারা ১ম প্রমোশন পেয়ে জুনিয়ার ইন্সট্রাক্টর হবেন এটাই বলা হয়েছে। যেমন কিছুদিন আগে পেট্রবাংলার অফিস সহকারী ১৩ম গ্রেড থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড এ প্রমোশন পেয়েছিলেন এবং কেন পেয়েছিলেন সেটা পেট্রবাংলা ব্যাখ্যা করেছিল ।।। সেম কাহিনি এখানেও
আবার দেখবেন অনেকেই বলতেছে ল্যাব মামাদের স্যার হিসাবে মানব নাহ, ভাই ওই ল্যাব মামা যাকে প্রমোটেড করা হচ্ছে সে তো অনার্স পাস।। সে যদি ল্যাব মামা থাকা অবস্থায় বিসিএস দিয়ে ইন্সট্রাক্টর হয়ে আসে আপনার প্রতিষ্ঠানে তাহলে তাকে স্যার ডাকবেন নাহ।। তখন ঠিকি ডাকবে, তাহলে এখন এত অজুহাত দিচ্ছে কেন?? কেননা তাদের সম্পত্তি জুনিয়র ইন্সট্রাক্ট্রর পদ প্রমোশন এর মাধ্যমে দখল হয়ে যাচ্ছে জেনারেলদের কাছে।। এখানেই ডিপ্লোমাদের সমস্যা।। ওই যে অবৈধ নিয়োগ হাবিজাবি বলছে এইগুলা সব হুদাই ভাই, যদি নিয়োগ অবৈধ এ হয় তাহলে ২০২১ এত আন্দোলন করেন নি কেন।। করেন নি কেননা ততক্ষন অব্দি আপনাদের জুনিয়র ইন্সট্রাক্ট্রর পদের স্বার্থে টান পড়ে নি… এখন পড়েছে তাই এখন এত ভুজুংভাং করছে। তাই আন্দোলন এর মুখে পরে ক্রাফট দের প্রমোশন বাতিল করলে তাদের মৌলিক অধিকারকে যেমন খর্ব করবে রাষ্ট্র …সাথে সাথে অনার্স পাস করা সত্তেও ল্যাব ক্রাফট হিসাবে রেখে রাষ্ট্র তার শিক্ষাকেও অবমুল্যায়ন করবে।।
এর ভবিষ্যতে প্রভাব কি- তাদের দাবীর একটা দাবি হলো কারিগরি শিক্ষার সব জায়গায় তাদের মত কারিগরি মানুষরা থাকবেন।। এই টাতেই সব আন্সার রয়েছে, ১৩ এর নীল নকশা এর মাধ্যমে বিএসসিদের যেমন কবর দেওয়া হয়েছে , তেমনি এখনকার আন্দোলন এর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষায় জেনারেল পড়ুয়া ছাত্রদের যে পদ গুলো রয়েছে…সেগুলো নিজেরা দখল করার ধান্দায় রয়েছে, আর কিছু নাহ।। তাই তারা ক্রাফট টা কে একটা ইস্যু বানিয়ে দেশের সংবিধান ও আইনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে রাস্তা ব্লক করে আন্দোলন করছে।। তার উপর পেয়েছে ইন্টেরিম গভমেন্টকে।। জানে ইন্টেরিম গভমেন্ট ছাত্রদের উপর চরাও হবে নাহ।।
২। ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যবস্থা করা তাদের আরেকটা দাবী। তবে এখানেও তারা মুলত শুধুমাত্র তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর কথা বলছে ,মানে এক ধরনের কোটাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর কি… যেটা শুধু তাদের জন্যই বরাদ্দ।। কোটা ছাড়া কোন সুযোগ নিতে তারা নারজ… উদাহরন দিয়ে বলিঃ শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর তাদের ভর্তি সারকুলারে ডিপ্লোমা দেরও আবেদন করার সুযোগ রাখে কিন্তু আমি আমার ভার্সিটি লাইফের ০৪ বছর কিংবা এখনো কোন ডিপ্লোমা কে এপ্লাই এবং চান্স পেতে দেখি নি।। বরংচ আমি আমার বাড়ির পাশের এক ডিপ্লোমা পাস করা জুনিয়রকে বলেছিলাম এপ্লাই করতে, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে আমায় বলছে… ভাই মাফ করে দেন, এই প্রশ্ন দেখে আমার শখ মিটে গেছে।। অথচ তাদের অনেকেই এইচ এস সি শিক্ষার্থীদের কে হেয় করে দেখে। যে এইচ এস সি পাস ছেলেরা তাদের জন্য কিছু নাহ।।
তাই এখন তারা উচ্চ শিক্ষার জন্য কোটাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চাচ্ছে যেন জেনারেলদের সাথে কোন প্রকার প্রতিযোগিতা করতে নাহ হয়।। আবার সন্ধাকালিন কোর্স করে প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে কোনভাবে যে বিএসসি ডিগ্রি নিয়ে নিচ্ছে… সেগুলোর মান যাচ্ছে তাই । বাংলাদেশে কোন প্রকার রেগুলেটারি অথরেটি নাহ থাকার জন্য, প্রাইভেট ভার্সিটিগুলো টিচার দের বলেই রাখে ডিপ্লোমা দের কে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য।। মানে এক প্রকার টাকা দেও বিএসসি সার্টিফিকেট নাও এরকম আর কি।। তাই প্রাইভেট ভার্সিটি গুলোর উপর বিএসসি সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে রেগুলেটারি অথরেটি ফুল মনিটরিং চালু করা উচিত।।
যাই হউক, তারা হয়ত আবার একরকম জনদুর্ভোগ তৈরী করে তাদের দাবীদাওয়া প্রতিষ্ঠিত করবে। প্রশাসন হয়ত জনদুর্ভোগ এর কথা চিন্তা করে তাদের দাবী দাওয়া মেনে নিবে তা অন্যায্য হলেও ।। তারপর আর কি… উদ্ভড ঊঠের পিঠে চলবে দেশের কারিগরি ও প্রকৌশল খাত।। চলছে, চলুক………।
(কপি)