07/06/2026
নমস্কার,
আমি পঞ্চানন দাস। ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সততার সাথে মানুষের সেবা করে আসছি। কিন্তু ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকে এলাকায় এক অদ্ভুত এবং নোংরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবহ তৈরি করা হয়েছে। বিজেপির কিছু ঘোষিত নেতা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আমার, আমার পরিবার এবং আমাদের কর্মীদের ওপর লাগাতার রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ৩০শে মে থেকে আমি চিকিৎসার প্রয়োজনে (মেডিকেল সংক্রান্ত কাজে) এলাকার বাইরে আছি। আর এই সুযোগে, গত ৩১শে মে আমি জানতে পারি যে, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে থানায় আমার এবং আমার কিছু কর্মী-নেতৃত্বের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুধু মিথ্যা মামলাই নয়, ৩১ তারিখের পর থেকে বিজেপির কর্মীরা আমার বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং বাড়ি লুটপাটের ষড়যন্ত্র করছে।
এমতাবস্থায়, বাড়িতে আমার স্ত্রী একা থাকেন (আমার ছেলে বাইরে পড়াশোনা করে)। পরিবারের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার কথা ভেবে আমি আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির কিছু দরকারি জিনিসপত্র, গয়না এবং জমি-বাড়ির কাগজপত্র আমার জামাইয়ের বাড়িতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কম্বল সরানোর দরকার কী ছিল?
সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু জায়গায় এই কম্বল নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। তাই সমস্ত সত্যিটা আপনাদের সামনে আনা দরকার। একজন জনপ্রতিনিধি বা সমাজসেবক মানুষের ঘরে গরিব মানুষের জন্য আসা কম্বল, ত্রিপল বা বাচ্চাদের জামাকাপড় থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। বিভিন্ন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন থেকে প্রত্যেক বছর গরিব মানুষকে বিলি করার জন্য আমাকে কম্বল দেওয়া হয়। আমি জানতাম, রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করার জন্য ওরা আমার বাড়িতে রাখা এই কম্বলগুলো নিয়েও নোংরা রাজনীতি করতে পারে। তাই মানুষের আমানত সুরক্ষিত রাখতেই আমি গাড়ি করে ওগুলো অন্যত্র পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা সেই গাড়ি আটকে, সাধারণ মানুষকে জড়ো করে একটা সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অপচেষ্টা করেছে।
আপনারাই বলুন, এই তীব্র গরমে কি গরিব মানুষকে কম্বল দান করা সম্ভব? গত শীতের পর যে গুটিকয়েক কম্বল বাকি রয়ে গিয়েছিল, সেগুলো নিশ্চয়ই আমি নিজে ব্যবহার করার জন্য রাখিনি! আগামী শীতে গরিব মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই ওগুলো রাখা ছিল।
রাজনীতির নোংরামি এখানেই শেষ হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে গত ৪ঠা জুন গভীর রাতে (রাত প্রায় ২:৩০ টা থেকে ভোর ৫:০০ টা পর্যন্ত) আমার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। আমার স্ত্রী একা ঘরে অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটিয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রশাসনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে এবং আমি জানি আমি কোনো ভুল বা দুর্নীতি করিনি, তাই আমি নিজেই আমার স্ত্রীকে ফোন করে রাতের বেলা প্রশাসনের জন্য দরজা খোলার অনুমতি দিয়েছিলাম।
শুনলাম প্রশাসন নাকি আমার বাড়ি থেকে কিছু ফাইল নিয়ে গেছে। একজন রাজনৈতিক ও সামাজিক মানুষের বাড়িতে ফাইল বা কাগজপত্র থাকবে না তো কি থাকবে? এটা দেখে আমার হাসি পায়!
বিভিন্ন নিউজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে যে আমার বাড়ি থেকে নাকি ২০টি এটিএম কার্ড এবং ২০টি অ্যাকাউন্ট বুক পাওয়া গেছে! আমি স্পষ্ট ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি—এই ধরণের কোনো জিনিস আমার বাড়িতে কোনোদিন ছিল না এবং আজও নেই। মিথ্যা অপপ্রচার করে দু-একদিন খবরের শিরোনামে থাকা যায়, কিন্তু আইন আদালতের কাছে প্রমাণ লাগে। আমি ১০০% নিশ্চিত, এই মিথ্যা দাবির কোনো প্রমাণ ওরা কোনোদিন দিতে পারবে না। কারণ আমি বা আমার পরিবার কোনো ধরণের দুর্নীতির সাথে জড়িত নই।
প্রশাসনের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আপনারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুন, আপনাদের ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কিন্তু বিজেপির রাজনৈতিক চাপের কাছে দয়া করে মাথা নত করবেন না। সত্যটা যাতে মানুষের সামনে আসে, সেজন্য প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ—আপনারা একটি অফিসিয়াল 'প্রেস মিট' করে স্পষ্ট করে দিন যে তদন্তে আমার বাড়ি থেকে ঠিক কী কী পাওয়া গেছে। এতে দুষ্কৃতীদের মিথ্যা প্রচারের বেলুন ফেটে যাবে।
বিজেপির বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলি, ব্যক্তিস্বার্থ, হিংসা আর মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কখনো সুস্থ রাজনীতি হয় না। রাজনীতি করতে হলে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, মানুষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে শিখুন। ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে একাকী একজন মহিলার ওপর রাতের অন্ধকারে মানসিক নির্যাতন চালানো কোনো রাজনৈতিক বীরত্ব নয়।
জনগণের আদালতে আমি পরিষ্কার ছিলাম, আছি এবং থাকব। সত্যের জয় হবেই।
ধন্যবাদ,
পঞ্চানন দাস
অঞ্চল সভাপতি, রগড়া 2নং অঞ্চল তৃনমূল কংগ্রেস।
উপপ্রধান, রগড়া গ্রাম পঞ্চায়েত।
সাঁকরাইল ব্লক, ঝাড়গ্রাম।