12/05/2026
ছদ্মবেশী অনুপ্রবেশ করে বিয়ানী বাজার বিএনপি সংগঠনকে দুর্বল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে :-
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল — বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোতে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জামায়াত-শিবির ও ফ্যাসিস্ট লীগের একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী দলের ছদ্মবেশী সদস্য হিসেবে অনুপ্রবেশ করে ভেতর থেকে সংগঠনকে দুর্বল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি কাকতালীয় নয় — এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। একসময় আওয়ামী লীগের মধ্যেও ঠিক এভাবেই সুবিধাবাদী ও দলবদলকারীদের ভিড় জমেছিল। পরিণতিতে সেই দলের সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে পড়েছে এবং নেতারা পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছেন। বিএনপির ক্ষেত্রেও যদি এখনই সতর্ক না হওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ একই পথে হাঁটতে পারে।
নির্বাচনে নাশকতার অভিযোগ
বিগত স্থানীয় নির্বাচনে এই গুপ্ত গোষ্ঠীটি বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা বাইরে দলীয় পরিচয় বহন করলেও ভেতরে ভেতরে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তবে তৃণমূলের নিষ্ঠাবান কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসিকতায় শেষ পর্যন্ত বিএনপি সেই নির্বাচনে বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
এই বিজয় তৃণমূল কর্মীদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি দলীয় নেতৃত্বের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তাও বটে — দলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সুবিধাবাদীদের উপর নয়, নিপীড়িত ও পরীক্ষিত কর্মীদের উপর।
সংগঠনে শুদ্ধি অভিযান এখন অপরিহার্য
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, আগামী কমিটি গঠনে দলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একটি কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালু করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষত যারা অন্য দল থেকে এসে দলীয় পদ দখল করে আছেন, তাদের আগামী কমিটিতে কোনো স্থান দেওয়া সমীচীন হবে না।
এছাড়া উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কিছু মুখোশধারী এরই মধ্যে প্রার্থী হওয়ার তৎপরতা শুরু করেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদের মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী ফলাফল উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তৃণমূলই বিএনপির আসল শক্তি
দলের দীর্ঘদিনের কর্মীরা মনে করেন, যারা জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে দলের পাশে থেকেছেন, তাদেরকেই মূল্যায়ন করতে হবে। ক্ষমতার সুবাদে দলে ভিড়ে যাওয়া লোকেরা আবার সুযোগ পেলে দল ছেড়ে চলে যাবে — ইতিহাস বারবার এটি প্রমাণ করেছে।
বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে হলে গুপ্ত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। দেরি হলে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে যাবে — তখন আর আফসোস করেও কোনো লাভ হবে না।
গুপ্ত বাহিনীমুক্ত, সুসংগঠিত বিএনপিই আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা।