25/08/2026
কংগ্রেস শক্তিশালী হলে, শক্তিশালী হবে বাংলা — শক্তিশালী হবে কুলটি
বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে—কংগ্রেসই এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি, যা সমাজের সকল শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারে এবং আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী রাজনৈতিক লড়াই গড়ে তুলতে পারে।
আজ দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, সেই লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান মুখ শ্রী রাহুল গান্ধীজি। তাঁর নেতৃত্ব ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলার বিভিন্ন জেলা ও ব্লকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে বহু মানুষ কংগ্রেসে যোগদান করছেন।
কেউ ব্লক কংগ্রেসের নেতৃত্বে, কেউ সংখ্যালঘু কংগ্রেস, কংগ্রেস সেবাদল, OBC কংগ্রেস, মহিলা কংগ্রেস, যুব কংগ্রেস কিংবা কংগ্রেসের অন্যান্য বিভাগ ও ফ্রন্টাল সংগঠনের নেতৃত্বে কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন। কে কার হাত ধরে কংগ্রেসে এলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো—তিনি কংগ্রেসের আদর্শ ও পতাকাকে গ্রহণ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এসেছেন কি না।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কুলটিতে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসেরই কিছু মানুষ অন্যদের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে আপত্তি তুলছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে—নতুন মানুষ কংগ্রেসে এলে সংগঠন দুর্বল হয় না, বরং শক্তিশালী হয়। কংগ্রেস শক্তিশালী হলে কুলটি শক্তিশালী হবে, বাংলা শক্তিশালী হবে এবং দেশজুড়ে শ্রী রাহুল গান্ধীজির নেতৃত্বের লড়াই আরও শক্তি পাবে।
আমাদের লক্ষ্য শুধু আজকের রাজনীতি নয়। ২০২৯ সালে শ্রী রাহুল গান্ধীজিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে আজ থেকেই বুথ, ব্লক, জেলা—প্রতিটি স্তরে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে হবে।
কেউ যদি মনে করেন বাংলায় কংগ্রেস আর কখনও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না, আমি সেই হতাশার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। একটি রাজনৈতিক সংগঠন তার ভবিষ্যৎ তৈরি করে সংগ্রাম, সংগঠন এবং মানুষের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে। কংগ্রেস দীর্ঘ সময় বাংলার ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বলেই আমাদের আশা শেষ হয়ে যায়নি। আমার লক্ষ্য স্পষ্ট—সংগ্রাম থেকে সংগঠন, সংগঠন থেকে মানুষের বিশ্বাস, আর মানুষের বিশ্বাস থেকেই একদিন বাংলায় আবার কংগ্রেসের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত সমীকরণ যেন সংগঠনের স্বার্থের উপরে স্থান না পায়। কারণ এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই কর্মীরা, যারা রাস্তায় নেমে সংগ্রাম করে কংগ্রেসকে আবার শক্তিশালী দেখতে চান।
আমার অবস্থান পরিষ্কার—
সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায় ও শ্রেণির মানুষের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা।
যে ব্যক্তি কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাস করে, কংগ্রেসের পতাকা হাতে নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চান—তাঁকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্বাগত জানানো উচিত।
তিনি কার মাধ্যমে বা কোন কংগ্রেস সংগঠনের নেতৃত্বে দলে এলেন, সেটাই শেষ কথা হতে পারে না। প্রত্যেক কংগ্রেস কর্মীর লক্ষ্য একটাই হওয়া উচিত—কংগ্রেসকে শক্তিশালী করা এবং শ্রী রাহুল গান্ধীজির হাতকে আরও শক্তিশালী করা।
নতুন কর্মীকে অপমান নয়, স্বাগত জানাই।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়, ঐক্য চাই।
হতাশা নয়, সংগ্রাম চাই।
ব্যক্তিস্বার্থ নয়, সংগঠন সবার আগে।
একটি বিষয় আমাদের সবাইকে মনে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে শেখানো দরকার।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বাংলায় কংগ্রেসের নেতৃত্বেই প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপি দীর্ঘ ৭৯ বছর ৮ মাস বাংলায় ক্ষমতার বাইরে থেকেও তাদের সরকার গঠনের সংকল্প কখনও ছাড়েনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সংগঠন গড়ে তোলা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফলেই আজ তারা বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে।
তাহলে আমি কেন হতাশ হব?
কংগ্রেস বাংলায় দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আমার সংকল্প অটুট। আমি বিশ্বাস করি, খুব শীঘ্রই কংগ্রেস আবার বাংলার মানুষের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছাবে।
তার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য, সংগঠন এবং ধারাবাহিক সংগ্রাম।
আমার শক্তি একজোট থাকা। আমি মনে করি, কোনও ব্যক্তি সংগঠনের চেয়ে বড় হতে পারেন না। সংগঠন শক্তিশালী হলেই প্রত্যেক কর্মী শক্তিশালী হন, আর কর্মী শক্তিশালী হলেই কংগ্রেস শক্তিশালী হয়।
তাই ব্যক্তিগত বিরোধ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়—এসো সবাই একসঙ্গে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করি।
সংগঠনই আমার শক্তি।
ঐক্যই আমার অস্ত্র।
কংগ্রেসের পুনরুত্থানই আমার লক্ষ্য।
জয় হিন্দ 🇮🇳
জয় কংগ্রেস ✋
Manish Burnwal মনীশ বার্ন ওয়াল
Chief Organiser
Paschim bardhaman Congress Sevadal
West Bengal Congress Sevadal