20/05/2026
যাঁরা পূজার প্যান্ডেল বা ভাসানের সাথে রাস্তায় নমাজ পড়ার তুলনা করছেন, তাঁদের বলি—দুটো বিষয়ের আইনি ও বাস্তব পার্থক্যটা আগে বুঝুন, তারপর তর্কে আসবেন।
প্রথমত, রাস্তার ওপর পূজার প্যান্ডেল হঠাৎ করে কেউ নিজের ইচ্ছামতো তৈরি করে না। এর জন্য পুলিশ, দমকল এবং পুরসভার কাছ থেকে রীতিমতো অনুমতি নিতে হয়, সরকারি ফি জমা দিতে হয়। প্রশাসন জায়গা এবং রুট নির্দিষ্ট করে দেয় যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা থাকে। এটি একটি বার্ষিক, বিধিবদ্ধ এবং সর্বজনীন উৎসব, যার সাথে বিশাল অর্থনীতি ও সব ধর্মের মানুষের রুজি-রুটি জড়িয়ে আছে।
দ্বিতীয়ত, ভাসানের শোভাযাত্রার জন্য ট্রাফিক ডাইভারশন প্রশাসনের তরফ থেকে আগে থেকেই ঘোষণা করা থাকে এবং তা নির্দিষ্ট কিছু দিন ও নির্দিষ্ট রুটেই সীমাবদ্ধ। এটা কোনো বেআইনি জমায়েত নয়। অন্যদিকে, নিয়মিত বা প্রতি সপ্তাহে কোনো রকম আগাম প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই মূল রাস্তা আটকে, ট্রাফিক স্তব্ধ করে প্রার্থনা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়।
তৃতীয়ত, বছরে একবার উৎসবের আনন্দে রাস্তার ধারে প্রসাদ বিতরণ করা আর একটা গোটা রাস্তা পুরোপুরি ব্লক করে দেওয়া এক জিনিস নয়। প্রসাদ বিতরণের জন্য মাইলের পর মাইল ট্রাফিক জ্যাম হয়ে অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকে না।
তাই, বছরে একবারের একটা সর্বজনীন উৎসব—যা সরকারের সমস্ত নিয়মনীতি ও আইন মেনেই হয়—তার সাথে কোনো আগাম অনুমতি ছাড়া জোর করে রাস্তা আটকে রাখার তুলনা করাটা স্রেফ খোঁড়া যুক্তি এবং নিজেদের ভুল ঢাকার একটা মরিয়া চেষ্টা। নিজের অন্যায় ঢাকতে অন্যের বৈধ উৎসবের দিকে আঙুল তোলাটা নিছকই ভণ্ডামি। আজানের শব্দের মতোই নামকির্তনের আওয়াজ সীমায়িত থাকুক। বিশেষত: জনবসতিপূরণ এলাকা, হাসপাতালের কাছে ডেসিবেল মেপে মাইক বাজানো হোক।
#রাধা
সংগৃহীত