Patrika

Patrika 'পত্রিকা' - নামটাই সব বলে দেয়...

Kodak কোম্পানিকে মনে আছে? ১৯৯৮ সালে কোড্যাক কোম্পানিতে প্রায় ১লক্ষ ৭০ হাজার কর্মচারী কাজ করতেন।এবং বিশ্বে ছবি তোলার প্রা...
18/08/2019

Kodak কোম্পানিকে মনে আছে? ১৯৯৮ সালে কোড্যাক কোম্পানিতে প্রায় ১লক্ষ ৭০ হাজার কর্মচারী কাজ করতেন।
এবং বিশ্বে ছবি তোলার প্রায় ৮৫% ই কোড্যাক ক্যামেরায় তোলা হত। গত কয়েক বছরে মোবাইল ক্যামেরার বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় এমন অবস্থা হয় যে Kodak ক্যামেরার কোম্পানীটাই উঠে যায়। এমনকি Kodak সম্পুর্ন দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং এদের সমস্ত কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক ছাঁটাই করা হয়।

ওই একই সময়ে আরো কতগুলি বিখ্যাত কোম্পানি তাদের ঝাঁপ পাকাপাকি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। যেমন-

HMT (ঘড়ি)
BAJAJ (স্কুটার)
DYANORA (TV)
MURPHY (radio)
NOKIA (Mobile)
RAJDOOT (bike)
AMBASSADOR (গাড়ি)

এই উপরের কোম্পানিগুলোর মধ্যে কারুরই কোয়ালিটি খারাপ ছিল না। তবুও এই কোম্পানি গুলো উঠে গেল কেন? কারণ এরা সময়ের সাথে নিজেকে বদলাতে পারেনি।

এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে আপনি হয়তো ভাবতেও পারছেন না যে সামনের 10 বছরে দুনিয়া কতটা পাল্টে যেতে পারে! এবং আজকের 70%-90% চাকরিই সামনের 10 বছরে সম্পুর্নভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা ধীরে ধীরে ঢুকে পড়েছি "চতুর্থ শিল্প বিপ্লব"-এর যুগে।

আজকের বিখ্যাত কোম্পানিগুলোর দিকে তাকান-

উবের কেবলমাত্র একটি software-এর নাম। না, এদের নিজস্ব কোন গাড়ি নেই। তবু আজ বিশ্বের বৃহত্তম ট্যাক্সি-ভাড়ার কোম্পানি হল উবের।

Airbnb হল আজকে দুনিয়ার সবথেকে বড় হোটেল কোম্পানি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, পৃথিবীর একটি হোটেলও তাদের মালিকানায় নেই।

একইভাবে Paytm, ওলা ক্যাব, Oyo rooms ইত্যাদি অসংখ্য কোম্পানির উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।

আজকে আমেরিকায় নতুন উকিলদের জন্য কোন কাজ নেই, কারণ IBM Watson নামে একটি আইনি software যে কোন নতুন উকিলের থেকে অনেক ভাল ওকালতি করতে পারে। এইভাবে পরের 10 বছরে প্রায় 90% আমেরিকানদের আর কোন চাকরি থাকবে না। বেঁচে থাকবে খালি বাকি 10%। এই 10% হবে বিশেষ বিশেষজ্ঞ।

নতুন ডাক্তারদেরও চাকরি যেতে বসেছে। Watson নামের software মানুষের থেকেও 4 গুন নিখুঁত ভাবে ক্যানসার এবং অন্যান্য রোগ শনাক্ত করতে পারে। 2030 সালের মধ্যে কম্পিউটারের বুদ্ধি মানুষের বুদ্ধিকে ছাপিয়ে যাবে।

2019 সালের মধ্যেই রাস্তায় নামতে চলেছে চালকহীন গাড়ি। 2020 সালের মধ্যেই এই একটা আবিষ্কার বদলে দিতে পারে গোটা দুনিয়ার চালচিত্র। এর ফলে সামনের 10 বছরে আজকের 90% গাড়িই আর রাস্তায় দেখা যাবে না। বেঁচে থাকা গাড়িগুলো হয় ইলেক্ট্রিকে চলবে অথবা হাইব্রিড গাড়ি হবে। রাস্তাগুলো ক্রমশঃ ফাঁকা হতে থাকবে। পেট্রোলের ব্যবহার কমবে এবং পেট্রোল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলি ক্রমশঃ দেউলিয়া হয়ে আসবে।

তখন গাড়ি লাগলে, উবেরের মত কোন software-এর কাছেই গাড়ি চাইতে হবে। আর গাড়ি চাইবার কিছুক্ষনের মধ্যেই সম্পুর্ন চালক-বিহীন একটা গাড়ি আপনার দরজার সামনে এসে দাঁড়াবে। আপনি যদি অনেকের সাথে ওই একই গাড়িতে যাত্রা করেন, তাহলে মাথাপিছু গাড়িভাড়া বাইকের থেকেও কম হবে।

গাড়িগুলো চালকবিহীন হবার ফলে 99% দুর্ঘটনা কমে যাবে। এবং সেই কারণেই গাড়ি-বীমা করানো বন্ধ হবে এবং গাড়ি-বিমার কোম্পানি গুলো সব উঠে যাবে।

গাড়ি চালানোর মত কাজগুলো আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে না। 90% গাড়িই যখন রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যাবে, তখন ট্রাফিক পুলিশ এবং পার্কিং-এর কর্মী-দেরও কোন প্রয়োজন থাকবে না।

ভেবে দেখুন, আজ থেকে 5-10 বছর আগেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে STD বুথ ছিল। দেশে মোবাইল বিপ্লব আসার পর, এই সবকটা STD বুথই কিন্তু পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হল। যেগুলো টিকে রইল, তারা মোবাইল রিচার্জের দোকান হয়ে গেল। এরপর মোবাইল রিচার্জেও অনলাইন বিপ্লব এল। ঘরে বসেই অনলাইনে লোকে মোবাইল রিচার্জ করা শুরু করল। এই রিচার্জের দোকান গুলোকে তখন আবার বদল আনতে হল। এরা এখন কেবল মোবাইল ফোন কেনা-বেচা এবং সারাইয়ের দোকান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেটাও বদলাবে খুব শিগগিরই। Amazon, Flipkart থেকে সরাসরি মোবাইল ফোন বিক্রি বাড়ছে।

টাকার সংজ্ঞাও পাল্টাচ্ছে। একসময়ের নগদ টাকা আজকের যুগে "প্লাস্টিক টাকায়" পরিণত হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ডের যুগ ছিল কদিন আগেও। এখন সেটাও বদলে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে মোবাইল ওয়ালেট-এর যুগ। Paytm-এর রমরমা বাজার, মোবাইলের এক টিপে টাকা এপার-ওপার।

যারা যুগের সাথে বদলাতে পারে না, যুগ তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়। তাই ক্রমাগত যুগের সাথে বদলাতে থাকুন।

সাফল্যকে সাথে রাখুন, সময়ের সাথে থাকুন।

06/08/2019

কাশ্মির প্রথমে স্বাধীন রাজ‍্য ছিল এবং তার রাজা ছিলেন হরি সিং।

হরি সিং প্রথমে চেয়েছিলেন কাশ্মির স্বাধীন থাকবে এবং সুইজারল্যান্ডের মতোই একটা দেশ হবে।

সেই সময় কাশ্মীরের জনপ্রিয় নেতা শেখ আব্দুল্লাকে কাশ্মীরের প্রধান মন্ত্রী করে রাজা হরি সিং ভারত সংযুক্ত গনপ্রজাতন্ত্রী দেশে কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করে।তবে এখানে তিনি কাশ্মীরের জন‍্য "বিশেষ রাজ‍্য" হিসাবে ভারত সরকারের থেকে ক্ষমতা আদায় করে নেন।যখন রাজা হরি সিং শেখ আব্দুল্লাকে কাশ্মীরের প্রধান মন্ত্রী বানান তখন ভারতের সংবিধানের খসড়া কমিটি সংবিধান প্রস্তুত করছিল। কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লার উপস্থিতিতে সেই বিশেষ রাজ‍্যর ক্ষমতা কাশ্মীরকে দেয় ভারতীয় সংবিধান।আর এই বিশেষ ক্ষমতা‌ই হল ৩৭০ ও ৩৫এ।এই ধরনের "বিশেষ ক্ষমতা" ভারত সরকার অন‍্যান‍্য আরো কয়েকটি পাহাড়ি রাজ‍্যকেও দিয়ে রেখেছে।

এই পর্যন্ত সবাই জানে এবং গত ৭২ বছর ধরে এই কথাগুলিই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলা হয়েছে।তবে এই "বিশেষ ক্ষমতা" অথবা ৩৭০ / ৩৫এ যে একটি সাময়িক চুক্তি ছিল এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি তার বিশেষ ক্ষমতাবলে এই বিশেষ ক্ষমতা তুলে নিতে পারেন কাশ্মীর থেকে সেটা সময়ের অন্তরালে শুধু সংবিধানের পাতাতেই থেকে গেল।মানুষ ভুলে গেল এই চুক্তির এই অংশের কথা ।স্বাধীনতার পরে প্রায় ৭২ বছর হয়ে গেল।এই ৭২ বছরে কাশ্মীরের নেতারা কাশ্মীরিদের এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে ভারত যে "বিশেষ ক্ষমতা" তাদের দিয়েছে আসলে এটা দ্বারা তারা মূল ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।অর্থাৎ তারা বিশেষ টাকে বিচ্ছিন্ন তে রূপান্তরিত করেছে।

গতদিন যখন গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে সেই বিশেষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ক্ষমতা ৩৭০/৩৫এ কে বাতিল করে দিলেন সম্পুর্ন সাংবিধানিক উপায়ে,তখন আমার মতো অনেক ভারতীয় আসলে এটা বিশ্বাস‌ই করতে পারেন নি।সবার মনেই একটা কথা যে -- যাহ! এটা কি সম্ভব নাকি!কাশ্মীর থেকে ৩৭০ উঠিয়ে নেওয়া যাবে নাকি।অসম্ভব ! এর আগে কথায় কথায় যেভাবে মুফতি,আবদুল্লাহ পরিবার কাশ্মীর প্রসঙ্গ এলেই এই ৩৭০ দেখিয়ে ভারতকে হুমকি দিত ,ভয় দেখাতো এমনকি ব্ল‍্যাকমেল‌ও করত,এটা তারাও ভাবতে পারেনি।আসলে লেবু বেশি চটকালে যে তেতো হয়ে যায়,তা হয়তো কাশ্মীরকে নিজের পারিবারিক সম্পত্তি মনে করা নেতারা ভুলেই গিয়েছিল।আর ৩৭০ যে সেই লেবু,তারা আজ সেটা বেশ ভালো মতোই বুঝতে পারছে।

এবার প্রশ্ন উঠতে পারে এই ৩৭০/৩৫এ এর প্রতি অথবা বিপরীতে ভারতীয় অথবা কাশ্মীরিদের কি কি স্বার্থ লুকিয়ে থাকতে পারে?এই ব‍্যাপারটা সংক্ষেপে বললে ব‍্যাপারটা এরকম দাড়ায় যে এই ৩৭০/৩৫এ এর জন‍্য এতদিন কাশ্মীর ভারতে থেকেও ভারতের বাইরে ছিল।এই ধারার ফলে কাশ্মীরে আলাদা আইন চলত,কাশ্মীরি মেয়েদের শরিয়া আইন অনুসারে চলতে হত,কাশ্মীরি মেয়েরা ভারতের অন‍্য কোন জায়গার পুরুষদের বিয়ে করতে পারত না,কাশ্মীরের আলাদা পতাকা ছিল,ভারতের অন‍্য জায়গার বাসিন্দারা কাশ্মীরের গিয়ে স্থায়ী বসবাস করতে পারত না,তারা কাশ্মীরের সরকারি সার্ভিসে অংশগ্রহণ করতে পারত না।আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে যে এই সব নিয়মতো কাশ্মীরিদের স্বার্থ‌ই সিদ্ধি হচ্ছে।তাহলে এই ৩৭০/৩৫এ তোলাটা কিভাবে কাশ্মীরিদের পক্ষে হল ?

এর উত্তর আমরা দেখব কিন্তু তার আগে দেখে নিই সার্বিক ভারতে কাশ্মীরের অবস্থানটা কি।বিশেষ ক্ষমতা ৩৭০/৩৫এ এর বিপরীতে কাশ্মীরিরা কি পেয়ে এসেছিল এতদিন।ভূস্বর্গ নামে পরিচিত কাশ্মীর এ সৌন্দর্যের কোন অভাব নেই।টুরিজম এখানে একটি বিশাল শিল্প হতে পারত।কিন্তু এত সুযোগ থাকার পরেও কাশ্মীর ভারতের গরীব রাজ‍্যর একটি।কিন্তু কেন ???কেন কাশ্মীর গরীব ? ভারতের অন‍্য যেকোন রাজ‍্যর থেকে কাশ্মীর সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় অনুদান পায়।আপনি জানলে অবাক হবেন যে , যে কাশ্মীরে আপনি এক টুকরো জমি কিনতে পারবেননা,অথবা আপনি ওখানে গিয়ে ব‍্যাবসা করতে পারবেন না।সেই কাশ্মীর চলে আপনার পকেটের টাকায়।

পুরো কাশ্মীরের মোট রাজস্ব যা হয় তার ৭৫% টাকা কাশ্মীর অনুদান হিসাবে পায় ভারত সরকার থেকে।ভেবে দেখুন ব‍্যাপারটা।গত ১৫ বছরে কাশ্মীরকে কেন্দ্র থেকে দুই লক্ষ সাতাত্তর হাজার কোটি টাকা অনুদান হিসাবে দেওয়া হয়েছে।অর্থাৎ আপনার করের টাকা দিয়ে কাশ্মীরকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে।অথচ এই বাঁচিয়ে রাখার পরিমান কতটা তা জানলে আপনি বেহুশ হয়ে যেতে পারেন।২০১১-২০১২ সালে ভারত সরকার প্রতি জন পিছু ভারতীয়র উন্নয়নের পিছনে খরচ করেছে ৩৬৮৩ হাজার টাকা,অপর দিকে এক‌ই সময় একজন কাশ্মীরীর পিছনে খরচ করেছে ১৪২৫৫ টাকা।২০১৭-২০১৮ সালে কেন্দ্র সরকার প্রতি ভারতীয়র মাথা পিছু উন্নয়নে খরচ করেছে ৮২২৭ টাকা,অপর দিকে প্রতি কাশ্মীরির পিছনে খরচ করেছে ২৭৩৫৮ টাকা।অর্থাৎ কেন্দ্র একজন সাধারণ ভারতবাসীর পিছনে যে টাকা খরচ করে,তার প্রায় চারগুন টাকা খরচ করে একজন কাশ্মীরির পিছনে।সারা ভারতের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের ও কম জনসংখ্যা এই জম্মু-কাশ্মীরে রয়েছে,অথচ ভারতের মোট জি.ডি.পি এর দশ শতাংশ এখানে খরচ হয়।এক‌ই হিসাব আপনি যদি উত্তরপ্রদেশকে দিয়ে দেখেন ,সেখানে দেখবেন যে উত্তরপ্রদেশে ভারতের জনসংখ্যার ১৩.৫% মানুষ থাকে,আর তাদের পিছনে মোট জি.ডি.পি এর ৮.২% খরচ হয়।অথচ উত্তর প্রদেশ ভারতের অর্থনীতিতে যে যোগদান দেয়,তার এক শতাংশ‌ও দেয় না কাশ্মীর।

আপনার টাকা আপনার বদলে কাশ্মীরিদের উন্নয়নে লাগানোর পরেও আপনি কাশ্মীরে একটুকরো জমি কিনতে পারবেন না,অথবা ওখানে গিয়ে বসবাস করতে পারবেন না।কারন সেই বিশেষ ক্ষমতা ৩৭০/৩৫এ।এর পরেও কোন সমস‍্যা থাকত না,যদি সেই টাকা কাশ্মীরিদের উন্নয়নে খরচ হত।এই টাকাতো সাধারণ কাশ্মীরিদের পর্যন্ত যায়‌ই না।বর্তমানে কাশ্মীর ভারতের অন‍্যতম গরীব রাজ‍্য,যদি উন্নয়নের টাকা তাদের উন্নয়নেই খরচ হত তাহলে আজ তারা এতটা গরীব হত না।সারা দেশের তুলনায় অধিকাংশ সাধারণ সামগ্রীর দাম কাশ্মীরে বেশি।কিন্তু কেন? আপনার পকেটের টাকা কোথায় যাচ্ছে ? আপনার পকেটের টাকা কাশ্মীরিদের নাম করে আসলে কিছু পরিবার,বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিদের পকেটে যাচ্ছে।এতকাল ভাবতেন কাশ্মীরে পাথর ছোড়ার জন‍্য ৫০০ টাকা করে যে বাচ্চারা পাচ্ছে,সেই ফান্ড বুঝি পাকিস্তান থেকেই সব আসছে।আরে নাহ! পাকিস্তান নিজেরাই ভিখারি ওরা অত টাকা পাবে কোথায় ?আসলে আপনি নিজেই সেই টাকা যোগাচ্ছেন।

৩৭০/৩৫এ এর ছায়ায় কোন বেসরকারি করন কাশ্মীরে সম্ভব নয়।বাইরের কোন বেসরকারি সংস্থা কাশ্মীরে ইনভেস্টমেন্ট করতে পারে না সরাসরি,কারন তাদের তো সেখানে জমি কেনার‌ই অনুমতি নেই।আর সেই সুযোগটাই বাগিয়ে নিয়েছে আবদুল্লাহ,মুফতি পরিবার গুলি।যেহেতু কাশ্মীরে তারাই সর্বদা সরকার চালিয়ে আসছে,তাই কাশ্মীরের অধিকাংশ বৃহৎ ব‍্যাবসা অটোমেটিক চয়েজ হিসাবে তারাই করে আসছে।যেহেতু বাইরের কোন প্রতিযোগিতা তাদের নেই,সেক্ষেত্রে তারা জিনিস পত্রের দাম নিজেদের মতো বাড়িয়ে নেয়।এক্ষেত্রে যেহেতু ৩৭০/৩৫এ অনুসারে,যেহেতু কাশ্মীরের আইন আলাদা তাই ভারতের CAG এর মতো দূর্নীতি দমন সংস্থা গুলি সেখানে কাজ করতে পারে না,তাই কাশ্মীরের মুফতি,আবদুল্লাহ পরিবাররা হেসে হেসেই দুর্নীতির পর দুর্নীতি করে যাচ্ছে।কেন্দ্র থেকে আসা অনুদান তো তাদের কাছেই প্রথমে আসে।আর সেই অনুদান কাশ্মীরিদের কাজে ব‍্যাবহার না হয়ে ,ব‍্যাবহার হয়ে আসছে জঙ্গিবাদের পিছনে।কারন এই জঙ্গিবাদ জিয়িয়ে না রাখলে তারা ভারতকে ব্ল‍্যাকমেল‌ও করতে পারবে না,কথায় কথায় হুমকিও দিতে পারবে না।নিজেদের দুই তিনটি পরিবারের স্বার্থ রক্ষার্থেই মেহেবুবা মুফতিদের এতদিন সেই হুমকি চলে আসছে ,যে ৩৭০/৩৫এ না থাকলে কাশ্মীর‌ও ভারতের থাকবে না।

৭২ বছরের একটি রূপকথা ৩৭০/৩৫এ রূপকথার গল্প,যেটিকে নাকি সরানো অসম্ভব ছিল।মোদী সরকার এল,সাংবিধানিক উপায়ে এই অরাজকতা কে উঠিয়ে দিল।এর থেকে এটা প্রমান হয়ে যায় যে,মোদীর আগে যে আরো ১৪ জন বিভিন্ন দলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন,তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি বলে কিছু ছিল না।সবাই মনে মনে এই বিলের বিরোধিতা করলেও,তারা প্রকাশ‍্যে কিছু বলত না।কারন এতে তাদের রাজনৈতিক জীবন সংশয়ের মধ্যে পরে যেত।কারন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর থেকেই মুসলিম ভাইদের নেতারা শুধু ভোটব‍্যাঙ্ক হিসাবেই দেখে গেছে,তাই তাদের তোষামোদ করে গেছে ওপরে ওপরে প্রকৃত মুসলীমদের জন‍্য ভালো কেওই ভাবেনি।আর তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের ৩৭০/৩৫এ তুলে দেওয়ার সাহস‌ও কেউ দেখায় নি।

আজ ৩৭০/৩৫ এ উঠে যাওয়ায় জম্মু-কাশ্মীরে ব‍্যাপক বিপ্লব শুরু হবে।এটা হবে এক বিরাট পরিবর্তনের বিপ্লব।এখন ভারতের অন‍্যান‍্য রাজ‍্যর লোকেরা কাশ্মীরে গিয়ে থাকতে পারবে,বেসরকারি সংস্থা গুলি কাশ্মীরে ইনভেস্ট করা শুরু করবে,হোটেল ইন্ডাস্ট্রি ফুঁলে ফেপে উঠবে।আর এর ফলে প্রকৃত লাভবান হবে কাশ্মীরিরাই।কাশ্মীরিদের মধ্যে বেকারত্ব কমবে এবং কাজ বাড়বে।এর ফলে বেকরত্বে ভুগে মরা তরুন কাশ্মীরিরা উগ্রপন্থার বিপরীতে যেতে পারবে।তবে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে সেই সব কাশ্মীরি পন্ডিতরা,কাশ্মীরি সংখ্যালঘু রা ,যারা আজ নিজেদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত। নতুন নিয়ম অনুসারে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ভাগ হ‌ওয়ায় লাদাখ ব‍্যাপক উপকৃত হবে।কারন এত দিন সবসময় জম্মু-কাশ্মীর শাসন করত কাশ্মীরের হাতে গোনা দুটো পরিবার।তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে লাদাখের দিকে খেয়াল‌ই করত না।অথচ আয়তনে লাদাখ প্রায় জম্মু-কাশ্মীরের সমান।লাদাখে জনসংখ্যা মাত্র তিন লক্ষ, অথচ এখানে প্রতি বছর এক লক্ষ টুরিষ্ট আসে।তাহলে বুঝুন যে হোটেল ইন্ডাস্ট্রি এখানে কি হতে চলেছে!

এখন থেকে কাশ্মীর আর ভারতের অন‍্য কোন জায়গার মধ্যে কোন পার্থক‍্য নেই।তার ওপর কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হ‌ওয়ায় এর মূখ্য মন্ত্রী থাকলেও আইন শৃঙ্খলা থাকবে কেন্দ্রের রাজ‍্যপালের হাতে।যদিও অমিত শাহ বলেছেন ,যেকদিন কাশ্মীরের অবস্থা সঠিক না হচ্ছে,সেকদিন এটা এমন‌ই থাকবে।তবে একবার কাশ্মীরের অবস্থা ঠিক হয়ে গেলে একে পূর্ন রাজ‍্যর মর্যাদা দেওয়া হবে।

তাজমহল নয়, 'তেজোমহালয়':তাজমহল নির্মানের ইতিহাস সম্পর্কে বলা হয়- তাজের নকশা করার জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার ডাকা হয়েছিলো এব...
20/05/2017

তাজমহল নয়, 'তেজোমহালয়':

তাজমহল নির্মানের ইতিহাস সম্পর্কে বলা হয়- তাজের নকশা করার জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার ডাকা হয়েছিলো এবং সেই নকশার সাথে কাঠের তৈরি তাজের একটি ছোট্ট নমুনা দাখিল করতে বলা হয়েছিলো। বহু নকশা ও নমুনা জমা পড়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর নামকরা স্থপতিদের ডেকে একটা পরিষদ গঠন করা হয় এবং সেই পরিষদ তাজের চুড়ান্ত নমুনা নির্বাচন করে এবং এই নমুনা হলো পারস্য বা তুরস্কের স্থপতি ওস্তাদ ইশা নামের এক ব্যক্তির; হ্যাঁ, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ই বলছে এইসব কথা।

এখন কমনসেন্সটাকে একটু খাটান। তাজের মতো একটি বিখ্যাত অট্টালিকা, যার মতো সৌন্দর্যময় দ্বিতীয় কোনো অট্টালিকা এখনও পৃথিবীতে নেই। যার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছিলেন, পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ আছে; এক. যারা তাজমহল দেখেছে, আর দুই. যারা তাজমহল দেখে নি। সেই তাজমহলে নকশা যার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, তিনি পারস্য না তুরস্কের লোক, সেই কথাই কেউ ঠিক মতো বলতে পারছে না। ইনি নাকি আবার বিখ্যাত স্থপতি ! যার দেশ সম্পর্কেই সঠিক কিছু জানা যাচ্ছে না, তার সম্পর্কে আর অন্যান্য তথ্য জানার চেষ্টা করাটাই তো বৃথা; কারণ, ওস্তাদ ইশা নামের কেউ থাকলে তো তার সম্পর্কে কিছু জানা যাবে ?

আর একটা বিষয়; চীন ও কোরিয়ার ইঞ্জিনিয়াররা বাংলাদেশের অনেক বড় বড় সেতু, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মান করেছে এবং করছে, এর কারণ তারা প্রথমে নিজেদের দেশে ঐসব নির্মান করে দেখিয়েছে, তারপর তাদেরকে ডেকে এনে আমরা তাদেরকে ঐসব বানানোর দায়িত্ব দিয়েছি, এই সূত্রে ওস্তাদ ইশা নামের যদি কেউ থাকতো এবং সে যদি পারস্য বা তুরস্কের কোনো ব্যক্তি হতো, তাহলে নিশ্চয় তাজমহল বা এর মতো বা এই জাতীয় কোনো অট্টালিকা পারস্য বা তুরস্কে নিশ্চয় থাকতো, সেটা কি আছে ?

যদি ধরে নিই শাজহান তাজমহল বানিয়েছিলো, তাহলে এই সব বিক্রীত ঐতিহাসিকদের মতে, তাজমহলের নির্মান শরু হয়- কারো মতে ১৬৩০, কারো মতে ১৬৩১, কারো মতে ১৬৩২, আবার কারো মতে ১৬৪১ সালে। ১৬৪১ সালে কোনোমতেই সম্ভব নয়; কারণ, শাজাহানের জীবনী বাদশানামার তথ্য মতে, শাজাহানের স্ত্রী মমতাজ মহলের মৃত্যু হয় ১৬৩০ সালে, এর পর তাকে অস্থায়ীভাবে বুরহান পুরের একটি উদ্যানে সমাহিত করা হয়, মৃত্যুর ৬ মাস পর তাকে তাজের মধ্যে এনে স্থায়ীভাবে কবরস্থ করা হয়। এই সূত্রে ১৬৩২ সালও গ্রহনযোগ্য নয়; কারণ, ‘বাদশানামা’য় উল্লেখ আছে, আরবি মাস ১৫ জমাদিয়াল আউয়াল মমতাজের মৃতদেহ তাজের মধ্যে স্থানান্তরিত করা হয়। আরবি বছর যেহেতু হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে, সেহেতু ঐ দিনটি ইংরেজি সাল অনুযায়ী সঠিক কোন তারিখ ছিলো তা বের করা খুবই কঠিন হিসাবের একটা ব্যাপার, এই হিসেবকে এড়িয়ে গিয়ে যদি ধরে নিই যে, মমতাজের মৃত্যুর সময়টি ছিলো ১৬৩০ সালের শেষ দিকে, তাহলে মৃত্যুর ৬ মাস পর তাজের মধ্যে তার মরদেহ স্থানান্তর ১৬৩১ সালে হয়েছিলো বলে ধরে নেওয়া যায়। ফলে তাজের নির্মান শুরুর সাল ১৬৩২ ও খারিজ হয়ে যায়।

উপরের এই তথ্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, মমতাজের মৃত্যুর ৬ মাস পর তার দেহকে স্থায়ীভাবে তাজের মধ্যে সমাহিত করা হয়। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, তাজমহল নির্মানের জন্য সময় পাওয়া যাচ্ছে ৬ মাসেরও কম। অথচ আমাদের ঐতিহাসিকরা বলছে, এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক টেণ্ডার ডেকে নকশা অনুমোদন করে তাজ নির্মান করা হয়। এটা কি সম্ভব ? খেয়াল করুন, সময়টা ১৬৩০ সাল, যখন যাতয়াতের একমাত্র দ্রুত মাধ্যম স্থলপথে ঘোড়ার গাড়ি আর জল পথে পাল তোলা জাহাজ। যে জাহাজে ১৭৫৬ সালেও কোলকাতা থেকে মাদ্রাজ যেতেও সময় লাগতো একমাস। এইসব পুরোনো সময়ের কথা ছেড়ে এই আধুনিক যুগের প্রেক্ষাপটেও কী ওরকম একটি ইমারত এক বছরেও কি নির্মান করা সম্ভব ? আপনাদের কমনসেন্স কী বলে ?
এখন দেখুন তাজমহল নির্মানের ইতিহাস সম্পর্কে ইতিহাসের গ্রন্থগুলো কী বলছে ?

সম্রাট শাজহানের রাজত্বকাল এবং তার কিছু আগে পরের ইতিহাস পাওয়া যায় নিচের এই ৭ টি গ্রন্থে –

১.আবদুল হামিদ লাহোরী রচিত ‘বাদশানামা’

২. সম্রাট জাহাঙ্গীরের লেখা আত্মজীবনী ‘ ওয়াকিঅৎ জাহাঙ্গিরী’

৩. ইনায়েত খাঁ রচিত ‘সাহজাহাননামা’

৪. মুফাজ্জল খাঁ রচিত ‘তারিখ-ই-মুফাজ্জলি’

৫. বখতিয়ার খাঁ রচিত “মিরাত-ই-আলম’

৬. মহম্মদ কাজিম রচিত ‘আলমগির নামা’ এবং

৭. কাফি খাঁ রচিত ‘মুস্তাখাবুল লুবাব’

বর্তমান ইতিহাস মতে, শাজাহানের জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো তাজমহল নির্মান, কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো শাজাহানের প্রায় সমসাময়িক এই সব বেতনভোগী মুসলিম ইতিহাস রচয়িতাদের মধ্যে শুধু আবদুল হামিদ লাহোরী রচিত ‘বাদশানামা’ ছাড়া তাজের ব্যাপারে আর কারো কোনো গ্রন্থে তাজের ব্যাপারে কিছু উল্লেখই নেই। বিষয়টি কি মানানসই ? আর বাদশানামায় তাজের ব্যাপারে কী কী বলা আছে, এই পোস্টের মধ্যে প্রসঙ্গক্রমে সেগুলোএকটা একটা করে জানতে পারবেন।

এবার দেখুন তাজ নির্মানের জন্য খরচের ব্যাপারে কে কী বলছে ?

বাদশানামায় আবদুল হামিদল লাহোরী বলছে, তাজের জন্য খরচ হয়েছে ৪০ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে শ্রী রমেশচন্দ্র মজমুদার এবং অতুলচন্দ্র রায় এই সত্যের কাছাকাছি থাকার জন্য বলেছেন ৫০ লক্ষ টাকা। কিন্তু তাজের মতো এত সুন্দর ও বিশাল একটি অট্টালিকা যে এত কম টাকায় নির্মান করা সম্ভব নয় এটা বুঝতে পেরে বিক্রীত ইতিহাস রচয়িতারা এর নির্মান ব্যয় বাড়াতে শুরু করে, এ ব্যাপারে মহম্মদ দীন নামে একজন বলে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা; গাইড টু তাজে বলা আছে ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা; তাবার্নিয়ে বলেছে ৩ কোটি, এই তাবার্নিয়েই ২২ বছর সময়ের প্রবক্তা; যা হোক, তাজমহল যদি সত্যই শাজহান নির্মান করতো, তাহলে মমতাজের মৃত্যুর পর থেকে সেই প্ল্যান করলেও ১৬৩২/৩৩ সালের আগে তা নির্মান শুরু সম্ভব হতো না এবং তখন থেকে ২২ বছর লাগলে নির্মান শেষ হতো ১৬৫৫ সালে, কিন্তু ১৬৫০ সালে থেভেনট নামে এক ফরাসী পর্যটক তাজমহল দেখে বর্ণনা করে গেছেন, ‘তাজ ভারতীয় ভারতীয়দের সূক্ষ্ম শিল্পনৈপূন্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন’।

এর মানে নির্মান শেষ হওয়ার আগে থেকেই তাজ তার জায়গায় দাঁড়িয়েছিলো। এটা কিভাবে সম্ভব ? সম্ভব এভাবেই যে, তাজ শাজাহান বানায় ই নি। যা হোক, ‘কানোয়ারলাল’ বলেছে তাজের নির্মান ব্যয় ৪ কোটি ১৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮২৬ টাকা; টাকার হিসেবে যেমন পয়সা উল্লেখ করা যায়, তেমনি কোটির হিসেবে লক্ষ বা খুব বেশি হলে হাজার উল্লেখ করা যায়, কিন্তু এই ‘কানোয়ার লাল’ ৮২৬ টাকা পর্যন্ত উল্লেখ করেছে এই ভাবনা থেকে যে সূক্ষ্ম হিসেব ধরে নিয়ে তার তথ্যটাই যেন মানুষ বিশ্বাস করে। যা হোক এর পর ‘কীনস’ বলেছে তাজের নির্মানের পিছে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাজের নির্মানের ব্যয় হিসেবে এত মুনির এত মত কেনো ? সত্য তো একটাই হয়। এতগুলো তো আর সত্য নয়। তাহলে তাজের নির্মান ব্যয়ের পেছনে প্রকৃত সত্যটা কী ? প্রকৃত সত্য হিসেবে আমাদেরকে সেটাই ধরে নিতে হবে, তাজ সম্পর্কে যার গ্রন্থে কিছু তথ্যের উল্লেখ আছে, সেই আব্দুল হামিদ লাহোরীর তথ্যকে, যিনি বলেছেন ৪০ লক্ষ টাকার কথা। কিন্তু তাজের মতো একটি বিশাল ও সৌন্দর্যময় অট্টালিকা কী মাত্র ৪০ লক্ষ টাকায় নির্মান করা সম্ভব ?একটু পরে পাবেন এই প্রশ্নের উত্তর।

এখন দেখুন আবদুল হামিদ লাহোরীর ‘বাদশানামা’য় তাজমহল সম্পর্কে কী লিখা আছে। বাদশনামা ফার্সি ভাষায় লিখা; এই গ্রন্থের ৪০৩ নং পৃষ্ঠায় ২১ নং পঙক্তি থেকে ৪১ নং পঙক্তি পর্যন্ত যা লিখা আছে তার বাংলা অনুবাদ এরকম :

২১.শুক্রবার, ১৫ জমাদিয়াল আউয়াল, পরপারের যাত্রী পবিত্রা হজরত মমতাজ উল জামানির সেই পবিত্র মৃতদেহ,

২২. যাঅস্থায়ীভাবে কবরস্থ করা হয়েছিলো, তা

২৩. যুবরাজ শাহ সুজা বাহাদুর, ওয়াজির খাঁ এবং সতিউন্নেসা খানম, যারা

২৪. মৃতের মন মেজাজের ব্যাপারে খুবই ওয়াকিবহাল ছিলো,

২৫. এবং রানীদের রানীর মনোভাব বুঝতো এবং তার কার্যাবলীর সঙ্গে পরিচিত ছিলো,

২৬. তাদের সাহায্যে রাজধানী আগ্রায় আনা হলো

২৭. শহরের দক্ষিনে যেখানে সবুজ ঘাসে ঢাকা বিশাল উদ্যান,

২৮. যার মাঝখানে সেই বিশাল ইমারত, যা পূর্বে রাজা মানসিংহের সম্পত্তি ছিলো এবং

২৯. যার বর্তমান মালিক তাঁর পৌত্র রাজা জয়সিংহ,

৩০. সেখানেই বেহেশতবাসী রানীকে কবরস্থ করা হবে বলে স্থির করা হয়েছিলো,

৩১. যদিও রাজা জয়সিংহ পূর্বপুরুষের সেই সম্পত্তিকে অতিশয় মূল্যবান বলে মনে করতেন, তথাপি সম্রাট শাজাহানকে তা ছেড়ে দিতে রাজী হন।

৩২. কিন্তু ধর্মীয় নিয়ম ও মৃতের প্রতি মর্যাদার কথা চিন্তা করে সম্রাট সেই প্রাসাদ বিনা পয়সায় নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না বিবেচনা করে শরীফাবাদ নামক স্থান তাকে দিলেন।

৩৩. কাজেই সেই বিশাল প্রাসাদ এর বদলে জয়সিংহকে সরকারী জমি দেওয়া হলো।

৩৪. ১৫ জমাদিয়াল আউয়াল, শবদেহ আগ্রায় পৌঁছবার পর

৩৫. সেই শোভন শবদেহকে চির বিশ্রামে শায়িত করা হলো……

৪১. সেই প্রাসাদ নির্মানে ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করা হলো।
এই ৪০ লক্ষ টাকা আসলে জয়সিংহের কাছ থেকে যে প্রাসাদ নেওয়া হয়েছিলো, সেটাকে একটা ইসলামিক কবরখানায় রুপান্তরিত করতে সংস্কারের জন্য ব্যয় করা হয়েছিলো।

এখন দেখা যাক রাজা জয় সিংহ বা তার পূর্ব পুরুষের হাতে এই বিশাল অট্টালিকা এলো কিভাবে ?
আগ্রা শহরের একটি জয়গার নাম বটেশ্বর, এটি আগ্রা থেকে ৪ কি.মি দূরে অবস্থিত। ১৯০০ সালে, ঐ বটেশ্বরের একটাঢিবি খুঁড়ে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের প্রথম অধিকর্তা জেনারেল ক্যানিংহাম একটা শিলালিপি আবিষ্কার করেন, যা বটেশ্বর শিলালিপি নামে পরিচিত। এই শিলালিপিটি বর্তমানে লখনৌ এর সরকারী সংগ্রহশালায় রাখা আছে। এই বটেশ্বর শিলালিপিটি সংস্কৃত ভাষায় লিখা এবং এতে মোট ৩৪টি শ্লোক আছে। এর মধ্যে ২৫, ২৬ এবং ৩৪ নং শ্লোকের বাংলা অর্থ হলো-

২৫. তিনি একটি সৌধ নির্মান করেছেন, যার মধ্যে ভগবান বিষ্ণু অধিষ্ঠান করছেন, রাজা মাথা নাত করে তার চরণ স্পর্শ করেন।

২৬.রাজা মর্মর পাথরে আরও একটি মন্দির নির্মান করেছেন এবং সেখানে সেই দেব অধিষ্ঠান করছেন, যার কপালে শোভা পাচ্ছে চন্দ্র। যিনি এই সুরম্য মন্দিরকে বাসস্থান হিসেবে পেয়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বাসনা ত্যাগ করেছেন।

৩৪. এই শিলালিপিটি আজ বিক্রম সংবতের ১২১২ সালের আশ্বিন মাসে, রবিবার শুক্ল পঞ্চমীর দিনে স্থাপন করা হলো।

বিক্রম সংবত ১২১২ মানে ১১৫৬ খ্রিষ্টাব্দ, যা খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতক। এই সময়ের রাজা ছিলেন চান্দেল রাজ পরমার্দিদেব, যার অন্য নাম ছিলো পরমাল। চান্দেলদের রাজ্যের নাম ছিলো বুন্দেলখণ্ড, যা বর্তমানে ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত ছিলো। এই শিলালিপি অনুযায়ী রাজা চান্দেলদেববিষ্ণু এবং শিবের জন্যশ্বেত পাথরের দুটো মন্দির নির্মান করেছিলেন, সম্ভবত নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে এই দুটি মন্দির আকবরের সময়ে রাজা মানসিংহের হাতে আসে, মানসিংহ যেহেতু নিজের বোনকে আকবরের সাথে বিয়ে দিয়েআকবরের বশ্যতা স্বীকার করেছিলো, সেহেতু আকবর, জাহাঙ্গীরের সময় পর্যন্ত হয়তো সেই মন্দিরগুলো হয়তো অক্ষত ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে সেই মন্দির দুটি গেলো কোথায় ?

বর্তমানে আগ্রা শহরে শ্বেতপাথরের মাত্র দুটি ই ইমারত আছে, একটি তাজমহল এবং অপরটি নূরজাহানের পিতা ইদমত-উদ-দৌলার সমাধি। এ থেকে স্পষ্ট যে, শিব মন্দিরটিকে তাজমহল এবং বিষ্ণু মন্দিরটিকে নূরজাহানের বাবার সমাধি বানানো হয়েছে।

শিব মন্দিরটিই যে তাজমহল, এখুন দেখুন তার আকৃতিগত ও প্রত্নতাত্ত্বিকগত কিছু প্রমান :

১. তাজমহলের প্রধান গম্বুজের শীর্ষদেশে রয়েছে ত্রিশুল যা অভ্রান্তভাবে মহাদেবের অস্ত্র বা প্রতীক।

২. বটেশ্বর শিলালিপিতে বলা হয়েছে, এই মন্দিরকে বাসস্থান হিসেবে পেয়ে মহাদেব শিব কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বাসনা ত্যাগ করেছেন, একমাত্র তাজমহলের সৌন্দর্যের সাথেইশিলালিপিতে বর্ণিত ঐ মন্দিরের সৌন্দর্য মিলে।

৩. তাজমহলের দুটি তলায় কবর রয়েছে, উপরের তলায় নকল কবর, নিচের তলায় আসল কবর। দুই তলায় কবর বিশিষ্ট কোনো কবর ইসলামের ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই, কিন্তু দুই তলায় শিবলিঙ্গ বিশিষ্ট শিব মন্দির ভারতের নানা জায়গায় আছে।

৪. ইসলামিক কবরখানায় কেউ কবরকে প্রদক্ষিণ করে না, কিন্তু তাজের কবর প্রদক্ষিণ করার ব্যবস্থা আছে, এ থেকে স্পষ্ট যে, ভক্তরা এককালে সেই পথে শিবলিঙ্গকে প্রদক্ষিণ করতো।

৫. তাজমহলের প্রধান গম্বুজের ছাদ থেকে ঝুলছে একটি শিকল, কবরখানার সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই। এক সময় সেই শিকলের সঙ্গে ঝোলানো ছিলো একটি মঙ্গলঘট, যার থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল শিবলিঙ্গের মাথায় পড়তো, এখনও বৃষ্টি হলে সেই বৃষ্টির জল কবরের উপর পড়ে। আসলে এটা শিবলিঙ্গের উপর জল পড়ার স্মৃতিমাত্র।

৬. ‘জ্যঁ বাপতিস্ট তাভার্নিয়ে’ ভারত ভ্রমন করে গিয়ে এ সম্পর্কে একটি বই লিখেন যা লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে, সেই বই য়ে তিনি লিখেছন, তাজ পরিসরের মধ্যে বাজার বসতো। একমাত্র হিন্দু মন্দিরের মধ্যেই বাজার বসে এবং যেখানে ফুল, ফল, প্রসাদের উপকরণসহ আরও নানা জিনিসের বেচাকেনা হয়, কোনো মুসলিম কবরখানায় কোনোদিন বাজার বসে না।

৭. তাজমহলে স্থাপিত শিবলিঙ্গের নাম ছিলো তেজোলিঙ্গ, এই নাম থেকেই তাজমহলের পূর্বনাম ছিলো তেজোমহালয়। তেজোমহালয়ে স্থাপিত মহাদেব শিবের আরেকটি নাম ছিলো অগ্রেশ্বর মহাদেব, যার থেকেই উৎপত্তি হয় আগ্রা নামের।

৮. যার কবরকে নিয়ে এত কথা ও কাহিনী, শাজাহানের সেই স্ত্রীর নাম প্রকৃত নাম ছিলো ‘আরজুমান্দ বানু’ যাকে ‘মমতাজ উল জামানি’ বলেও ডাকা হতো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মমতাজের নামে সমাধি বানানো হলো তার নাম ‘মমতাজমহল’ না হয়ে বা নাম থেকে ‘মম’ বাদ দিয়েশুধু ‘তাজমহল’ হবে কেনো ? প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, এর পূর্ব নাম ‘তেজোমহালয়’ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর নাম করণ করা হয়েছে তাজমহল। যদিও এর কোনো প্রয়োজন ছিলো না, কিন্তু ঐ যে খুনিরা যেমন খুনের প্রমান রেখে যায়, এই ব্যাপারটিও ঠিক তেমন।

৯. তাজমহলের প্রধান ফটকের উপর রয়েছ একটা স্থান, বর্তমানে যার নাম দেওয়া হয়েছে নহবত খানা; এককালে সেখান থেকে নাকি সকাল সন্ধ্যা সানাই বাজানো হতো; আসলে সেখান থেকে এক সময় পূজা উপলক্ষে ঢাক ঢোল বাজানো হতো । নিস্তব্ধতায় কবরখানার বৈশিষ্ট্য, সেখানে এরকম সানাই বাজানোর স্থান বড়ই বেমানান। কিন্তু আগে থেকেই যেহেতু আছে এবং সেটাকে আর ভেঙ্গেও ফেলা যাচ্ছে না, তাই ঢাক ঢোল বাজানোর স্থানকে নহবতখানা নাম দিয়ে প্রকৃতসত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র।

১০. তাজের বিশাল কমপ্লেক্স জুড়ে রয়েছে নানা বাড়িঘর দালান কোঠা। যা একটি মুসলিম কবরখানার জন্য অপ্রয়োজনীয় ও বেমানান। বরং অতিথিশালা, গোশালা, ভাণ্ডারঘর, রন্ধনশালা, ঠাকুরের ঘর, চাকর ও রক্ষীদের থাকার ঘর এবং অফিস ঘরের জন্যই একটা মন্দিরের এসব দরকার এবং যা এখনও আছে ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে, কিন্তু যা নেই কোনো ইসলামিক কবরখানায়।

১১. তাজমহলের নিচতলার ঘরগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কারণটা কী ?
নেহেরু সরকারে সময়ে একবার তাজমহলে ফাটল দেখা দেয়। সেইসময় প্রত্নতত্ত্ববিদ শ্রী এস.আর.রাও আগ্রার আর্কিওলজিক্যাল সুপারিটেনডেন্ট ছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি দল তাজের ফাটল পরীক্ষা করার জন্য একটু দেওয়াল খুঁড়তেই দেওয়ালে আঁকানো বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি বেরিয়ে পড়ে, যেটা বিভিন্ন মন্দিরের গায়ে অঙ্কিত একটি সাধারণ চিত্র। সেই সময় নেহেরুর নির্দেশে ঘটনাটা দ্রুত চাপা দেওয়ার জন্য একেবারে নিচতলায় যাবার রাস্তা ই স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেই থেকেই নিচতলার যাওয়ার রাস্তা বন্ধ।

১২. তাজমহল এবং শাজাহানের পক্ষে সাফাই প্রদানকারী ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন তাজমহলের বাগানের নকশা করেছিলেন ‘রনমল’ নামে কাশ্মিরের এক লোক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক টেন্ডার ডেকে যে তাজের নকশা অনুমোদন করা হয় সেই তাজের বাগানের নকশা, কাশ্মিরের কোনো হিন্দুকে দিয়ে করাতে হবে কেনো ? নাকি মিথ্যার আড়ালে সত্যের ইঙ্গিত এভাবেই মাঝে মাঝে প্রকাশ পায়।

১৩. ১৯৭৩ সালে, যখন নেহেরু আর নেই, আমেরিকারনিউইয়র্কের প্র্যাট স্কুলের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক অধ্যাপক ‘মারভিন মিলস’ আগ্রায় তাজ পরীক্ষা করতে আসে এবং তাজের কোনো এক কাঠের দরজার সামান্য নমুনা সংগ্রহ করে আগ্রায় নিয়ে যায়। আমেরিকার ব্রুকলিন কলেজের রেডিও কার্বন ল্যাবরেটরির অধ্যক্ষ ড. ইভান উইলিয়ামস এর তত্ত্বাবধানে ঐ কাঠের নমুনাটির ‘কার্বন-১৪’ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, সেটা১৩২০ থেকে ১৪০০ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ের তৈরি। যেটা শাজহানের সময় থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগের। এখন এটা অসম্ভব কিছু নয় যে, দ্বাদশ শতকে তৈরি করা শিব মন্দির তেজোমহালয়ের কোনো দরজা বা জানালার সংস্কার দেড়শ দুশো বছর করা হয় নি ? কিন্তু এই পরীক্ষা থেকে এটা তো প্রমানিত যে, শাজহানের অনেক আগে থেকেই তাজমহল বলে যাকে চালানো হচ্ছে, তা পৃথিবীতে ছিলো ।

মমতাজমহল ওরফে আরজুমান্দ বানু ছাড়া শাজহানের আরো অনেক নিকা করা বিবি ছিলো। তাজমহলের চত্বরের মধ্যেই আরো দুজন নিকা করা বিবি কবর আছে। এরা হলো সতিউন্নেসা খানম ও সরহন্দি বেগম। এছাড়া আরজুমান্দ বানুর এক খাস পরিচারিকার কবরও তাজের মধ্যে আছে। এখানে উল্লেখ্য যে এই তিনজনের কবর প্রায় হুবহু একই রকম। এখন প্রশ্ন হলো, একই সমাধি সৌধের মধ্যে প্রধান বেগমের সাথে অপ্রধান বেগম এবং তার দাসীকে কবর দিয়ে শাজাহান কি মমতাজের সম্মান বাড়িয়েছে, না কমিয়েছে ? আসলে শাজাহান, কোনো একটা উছিলায়, জয়সিংহের এই মন্দিরটিকে দখল করবে ব’লে, মমতাজের মৃত্যু উপলক্ষে দখল করেছিলো এবং পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থান বানিয়েছে, প্রেম ট্রেম কিচ্ছু নয়, মমতাজের প্রতি এত প্রেম থাকলে মমতাজের মৃত্যুর পরই শাজহান মমতাজের ছোট বোনকে বিয়ে করতে পারতো না।

আজ ২৫ ডিসেম্বর। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয় বড়দিন বা ক্রিসমাস হিসেবে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে ২৫ ডিসেম্বর খুবই তাৎপর...
25/12/2016

আজ ২৫ ডিসেম্বর। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয় বড়দিন বা ক্রিসমাস হিসেবে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে ২৫ ডিসেম্বর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ কারণ দিনটিকে তারা যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন হিসেবে পালন করেন।



প্রায় দুই হাজার বছর আগে যিশুর জন্ম হলেও বড়দিন পালন শুরু হয় আরো অনেক পরে। এমনকি যিশুর শিষ্যরাও কখনো তার জন্মোৎসব পালন করেননি বা তার জন্মদিনকে ধর্মীয় উৎসবে রূপান্তর করেননি। তারপরও সময়ের আবর্তে বড়দিন আজ পেয়েছে সার্বজনীন উৎসবের আবহ। যিশু খ্রিষ্ট, যার জন্ম উপলক্ষ্যে বড়দিন পালন করা হয়, তার মৃত্যুর বহু বছর পর থেকে শুরু হয় এই উৎসব পালন।



মাতা মেরির (বিবি মরিয়ম) গর্ভে জন্মেছিলেন যিশু। তবে যিশুর জন্ম হয়েছিল অলৌকিকভাবে। মেরি ছিলেন ইসরাইলের নাজারেথবাসী যোসেফের বাগদত্তা। সৎ, ধর্মপ্রাণ ও সাধু এই মানুষটি পেশায় ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। একদিন এক স্বর্গদূতের (ফেরেস্তা) কাছ থেকে মরিয়ম জানতে পারেন, মানুষের মুক্তির পথ দেখাতে তার গর্ভে আসছেন ঈশ্বরের পুত্র। দূত শিশুটির নাম যিশু রাখার নির্দেশ দেন।



বিয়ের আগেই মেরির সন্তান হচ্ছে জেনে ধর্মপ্রাণ যোসেফ খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন গোপনেই ত্যাগ করবেন মেরিকে। কিন্তু সেই স্বর্গদূত এসে যখন ঈশ্বরের পরিকল্পনা যোসেফের কাছে খুলে বলেন, তখন যোসেফ রাজি হয়ে যান মেরিকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে।



যোসেফের গ্রাম নাজারেথ ছিল জুদেয়া রাজ্যের একটি শহর। রাজার নির্দেশে তখন রাজ্যজুড়ে চলছে আদমশুমারির কাজ। কর দেওয়া ও নাম লেখানোর জন্য হাজার হাজার মানুষ বেথেলহেমে যান। মেরিকে গাধার পিঠে বসিয়ে যোসেফও রওয়ানা দেন বেথেলহমে। পথেই মেরির গর্ভবেদনা ওঠে। রাজ্যের মানুষের ভিড়ে বেথেলহেমের কোনো সরাইয়ে জায়গা হয় না তাদের। অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে সন্তান জন্মদানের জন্য মেরিকে এক গোয়ালঘরে ঠাঁই নিতে হয়। সেখানেই জন্ম নেন যিশু।



যিশুর জন্মের অনেক বছর পর থেকে খ্রিষ্টানরা এ দিনকে আনন্দ ও মুক্তির দিন হিসেবে পালন করতে শুরু করে। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালন করা হয় বলে অনেকের ধারণা এই দিনেই যিশু খ্রিষ্ট জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই ধারণা ঠিক নয়। প্রকৃতরূপে যিশুর জন্মগ্রহণের সঠিক দিন-ক্ষণ পাওয়া যায় না। এমনকি শুরুর দিকে খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই বড়দিন অন্তর্ভুক্ত ছিল না। দ্বিতীয় শতাব্দীর দুজন খ্রিষ্টধর্মগুরু ও ইতিহাসবিদ ইরেনাউস ও তার্তুলিয়ান বড়দিনকে খিষ্টানদের উৎসবের তালিকায় যুক্ত করেননি।



২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মিসরে প্রথম বড়দিন পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়। গ্রিক কবি, লেখক ও ইতিহাসবিদ লুসিয়ান তার সময়ে ক্রিসমাস পালিত হত বলে উল্লেখ করেছেন। ২২১ খ্রিষ্টাব্দে মিসরের একটি দিনপঞ্জিতে লেখা হয়েছিল, মা মারিয়া ২৫ মার্চ গর্ভধারণ করেন। এ বিষয়টি রোমান ক্যালেন্ডারেও ছিল। এ ক্যালেন্ডারে সূর্যদেবতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উৎসবের কথাও রয়েছে। সে হিসাবে গর্ভধারণের নয় মাস পর ২৫ ডিসেম্বর যিশু জন্মগ্রহণ করেন বলে খ্রিষ্টান ধর্মগুরুরা মত দেন। ইতিহাস রয়েছে, ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে রোমে সর্বপ্রথম বড় আকারে বড়দিন উদযাপন শুরু হয় ‘স্যাটার্নালিয়া’ উৎসবকে কেন্দ্র করে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য দেশেও। ৩৫৪ খ্রিষ্টাব্দের রোমান ক্রমপঞ্জিতে ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মদিন উল্লেখ করে দিনটিকে যিশুর জন্মদিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ৪৪০ সালে পোপ একে স্বীকৃতি দেন।



মধ্যযুগে বড়দিন উৎসব আরো জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ৮০০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে জার্মানির রাজা রোমান সম্রাট হিসেবে গির্জা কর্তৃক মুকুট ধারণ করেন। ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা সেন্ট স্টিফেন হাঙ্গেরিকে খ্রিষ্টান রাজ্য ঘোষণা করেন। ১০৬৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা উইলিয়াম ইংল্যান্ডের মুকুট ধারণ করেন। ক্রিসমাস উৎসব প্রসারে এগুলো বেশ প্রভাব ফেলে। তবে প্রটেষ্টান্ট সংস্কারের সময় একদল লোক বড়দিন পালনের বিরোধিতা শুরু করে। তাদের অভিযোগ, উৎসবটি পৌত্তলিক এবং ধর্মীয়ভাবে এর কোনো তাৎপর্য নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডের গোঁড়া শাসকরা ১৬৪৭ সালে বড়দিন উৎসব পালন নিষিদ্ধ করে। অবশ্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর এ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। বর্তমানে শুধু ক্যাথলিক নয়, প্রটেষ্টান্টসহ সব খ্রিষ্টানরাই এ উৎসব পালন করেন।



ভারতবর্ষে প্রথম ক্রিসমাস উৎযাপিত হয় ১৬৬৮ সালে। কলকাতা নগরী গোড়াপত্তনকারী জব চার্ণক প্রথম বড়দিন পালন শুরু করেন বলে জানা যায়। ওই বছর হিজলি যাওয়ার পথে সুতানুটি গ্রামে আসার পর চার্ণক খেয়াল করলেন, বড়দিন এল বলে! সেখানেই যাত্রাবিরতি করে বড়দিন পালন করেন চার্ণক। সেই থেকেই আমাদের দেশে বড়দিন পালিত হয়ে আসছে।



বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালিত হলেও রাশিয়া, জর্জিয়া, মিসর, আর্মেনিয়া, ইউক্রেন ও সার্বিয়ায় ব্যতিক্রম। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের জন্য এ দেশগুলোতে ক্রিসমাস পালিত হয় ৭ জানুয়ারি। উত্তর ইউরোপীয়রা যখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তখন পৌত্তলিকতার প্রভাবে ক্রিসমাস শীতকালীন উৎসবের মতো পালন শুরু হয়। ফলে সেখানকার এ উৎসবে শীত উৎসবের অনুষঙ্গও জড়িত হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্ক্যান্ডিনেভীয়রা এ দিনটিকে ‘জুন’ উৎসব বলে থাকে। পূর্বদেশ অর্থাৎ এশিয়া মাইনরের দেশগুলোতে ৬ জানুয়ারি এ উৎসব পালন করা হয়। ৬ জানুয়ারি যিশুর ব্যাপ্টিজম বা দীক্ষাস্নান দিবস।



দিনক্ষণ সঠিকভাবে জানা না গেলেও, বড়দিন উদযাপন বর্তমানে এক সার্বজনীন রূপ পেয়েছে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে যিশু খ্রিষ্ট মানুষকে দেখিয়েছিলেন মুক্তি ও কল্যাণের পথ। বড়দিনে তাই যিশু খ্রিষ্টকে গভীরভাবে স্মরণ করে সারা বিশ্বের খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা।

তাজমহলের ইঞ্জিনিয়ার  কারা ছিলেন? লোকগাথা অনুযায়ী তাজমহল দেখে নাকি শাহজাহান এত খুশি হয়েছিলেন যে তৎক্ষণাৎ হুকুম দেন---প্রধ...
25/09/2016

তাজমহলের ইঞ্জিনিয়ার কারা ছিলেন? লোকগাথা অনুযায়ী তাজমহল দেখে নাকি শাহজাহান এত খুশি হয়েছিলেন যে তৎক্ষণাৎ হুকুম দেন---প্রধান বাস্তুবিদের হাতদুটি কেটে নেওয়া হোক ও মুখ্য স্থপতিবিদের গর্দান নেওয়া হোক। যাতে আর কোনো তাজমহল না গড়ে ওঠে। তাই ইঞ্জিনিয়ার বা বাস্তুবিদদের নাম মুছে যাওয়ারই কথা! কিন্তু ইতিহাস ফিসফিস করে কথা বলে। শাহজাহান কিন্তু হাজিরা খাতা ও হিসাবের খাতাটা নষ্ট করেননি! সেখান থেকে জানা যায় মোটামুটি ৬-৭ জনের নাম। তার মধ্যে পাঁচজন ছিলেন প্রধান। একনম্বরে ছিলেন মুহম্মদ ঈশা আফান্দি, এসেছিলেন তুর্কিস্তান থেকে, পরিকল্পনাকার এবং ইনচার্জ। দুই নাম্বারে সত্তার খান, তুর্কিস্তান থেকে, ছিলেন রেখাকার। তিন নাম্বারে ছিলেন আমানৎ খান শিরাজি, এসেছিলেন সিরাজ থেকে, ছিলেন তুঘরা লেখক, মনে আছে তো তাজমহলের গায়ে কোরানের কথা, এনারই তৈরি। চতুর্থ মুহম্মদ সীরফ এসেছিলেন সমরখন্দ থেকে, ছিলেন নকশাবিদ। পঞ্চমজন একজন ভারতীয়, নাম চিরঞ্জীৎ লাল, ইনি ছিলেন মোজাইক বিশেষজ্ঞ। হিসাব খাতা বলে এদের প্রত্যেকের মাইনে ছিল মাসিক ১০০০ টাকা। ভাবুন সেটা ছিল ১৬৪৪ সাল আজ ৪০০ বছর বাদে তার অর্থমূল্য মাসিক দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি । এছাড়াও ১৭ বছর ধরে ২০ হাজার শ্রমিক তাদের শ্রম দান করেছিলেন।
মজার তথ্য হচ্ছে এত গোপনীয়তার মধ্যেও আমানৎ খান শিরাজি নিজের নাম লিখে গেলেন গম্বুজের একদম মাথায় -- 'লিপিকার অভাগা আমানৎ খান শিরাজি'। ১৯৮৮ সালে মেরামতির সময় তা আবিষ্কৃত হল। প্রকাশ্য স্থানে নাম লেখার কি ফলাফল হতে পারত তা তিনি বিলক্ষণ জানতেন। কিন্তু এই সাহসটুকু দেখাতে পারেননি অন্য ইঞ্জিনিয়াররা!!

Address

Siliguri/Kolkata
Bankura
734004

Telephone

9153016476

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Patrika posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share