AIDSO - North 24 Parganas

Call Directions Website Contact the organization

AIDSO - North 24 Parganas ব্যারাকপুর সংগঠনিক জেলা কমিটি।
বারাসাত-বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা কমিটি।
বসিরহাট সংগঠনিক জেলা কমিটি।

29/09/2026

১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইনের বিরুদ্ধে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়। মেদিনীপুরেও তার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ক্রমেই ব্রিটিশ বিরোধী এই আন্দোলন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে যায়। মাতঙ্গিনী ছিলেন এই আন্দোলনের একদম সামনের সারির সংগঠক।। তাঁর বাড়ি হয়ে ওঠে আন্দোলনের কেন্দ্র। সেখানেই স্থাপিত হয় স্বেচ্ছাসেবক শিবির।
পরের বছর ব্রিটিশ সরকারের চৌকিদারী ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তমলুকে আন্দোলন শুরু হয়। এই পর্বে বাংলার গভর্নর তমলুক পরিদর্শনে এলে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। 'গভর্নর ফিরে যাও' স্লোগান তোলার 'অপরাধে' ছয় মাসের জন্য কারাবন্দি হন মাতঙ্গিনী।
তিনি অবিভক্ত মেদিনীপুরের বীর যোদ্ধা । মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানায় হোগলা গ্রামে জন্ম । দরিদ্র পরিবার। প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ হয়নি । অল্প বয়সে বিয়ে আর মাত্র আঠারোতেই বিধবা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব তাঁর ন্যায়-অন্যায়ের বোধকে কখনও ম্লান করতে পারেনি। তাঁর বাড়ি হয়ে উঠেছিল বিপ্লবীদের এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ব্রিটিশ শাসনের কঠোর নজরদারি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নির্ভীকভাবে বিপ্লবীদের পাশে দাঁড়াতেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোপনে তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পৌঁছে দিতেন । শুধু রাজনৈতিক সংগ্রামের ময়দানেই নয়, গরীব- অসহায় মানুষের প্রতি ছিল তাঁর গভীর মমত্ববোধ। তিনি হয়ে উঠেছিলেন অগণিত মানুষের আপনজন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ব্রিটিশ সরকারের দমননীতি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। দেশজুড়ে সভা সমিতিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ ও রাজনৈতিক প্রচারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। যুদ্ধ তহবিলে টাকা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের উপর ব্যাপক চাপ দেওয়া শুরু হয়। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি এবং খাদ্য সংকটে মানুষ জেরবার হয়ে যায়। তারপর শুরু হয় ৪২ এর ঐতিহাসিক ভারতছাড়ো আন্দোলন। গোটা দেশজুড়ে আন্দোলনের নেতাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে বাংলা জুড়েও। তমলুক ও তার আশপাশের এলাকাতেও স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিরোধ ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠে।
২৮ সেপ্টেম্বর তমলুককে বাইরের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রাস্তার উপর বড় বড় গাছ ফেলে পথ অবরুদ্ধ করা হয়। টেলিগ্রাফ এবং টেলিফোন লাইন কেটে দেওয়া হয়। নদীপথে যোগাযোগ বন্ধ করতে নৌকো ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পরেরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক মহকুমার তমলুক, মহিষাদল এবং সুতাহাটা তিনটি থানায় একযোগে অভিযান করা হয়। পাঁচদিক থেকে পাঁচটি বিশাল মিছিল তমলুক শহরের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় ব্যাপক পুলিশি আক্রমণ। লাঠি, গুলি বাদ যায় না কিছুই। পশ্চিম দিক থেকে আসা মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রামচন্দ্র বেরা।
উত্তরদিক থেকে আসা মিছিল তমলুক দেওয়ানী আদালতের কাছে এসে পৌঁছলে পুলিশ শুরু করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ। ছত্রভঙ্গ জনতা। কিন্তু দৃপ্তপদে এগিয়ে চলেছেন ৭৩ বছরের বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী । কণ্ঠে স্লোগান "ইংরেজ ভারত ছাড়ো"। বয়সের বাধা দেশ মুক্তির আহ্বানকে রুদ্ধ করতে পারেনি। হাতের ঋজু মুষ্টিতে জাতীয় পতাকা। প্রথমে দুটি হাত লক্ষ্য করে গুলি চালালো পুলিশ। সবশেষে কপাল ভেদ করে গুলি বেরিয়ে গেল। দেশের সন্তানদের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য অকুতোভয় পদক্ষেপে বুক পেতে দিলেন ইংরেজের গুলির সামনে। স্বাধীনতার স্বপ্নকে বুকে লালন করে, সেদিন তমলুকের মাটিতে শহীদের মৃত্যু বরণ করেন মাতঙ্গিনী হাজরা।

ভারত ছাড়ো আন্দোলন ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ একযোগে সেদিন রাস্তায় নেমেছিলেন। গ্রেপ্তারি বরণ করেছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন। এই লড়াইয়ে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ছিল না। অথচ এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের সরাসরি বিরোধীতা করেছিল একগুচ্ছ সংগঠন। হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তৎকালীন বাংলার গভর্নর হার্বার্টকে চিঠি লিখে "ব্রিটিশ সরকারের এই বিপদের সময় তাদের পাশে থাকার" প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সরকারের প্রতি আবেদন করেছিলেন, 'ভারত ছাড়ো আন্দোলন যাতে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য ব্রিটিশ প্রশাসন যেন ব্যবস্থা নেয়।'
১৯৪২ সালেই হিন্দু মহাসভার একটি সভায় সাভারকার Responsive Co-operation এর নামে দেশবাসীকে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। আরএসএস নেতা গোলওয়ালকর ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে 'বিপর্যয়' আখ্যা দিয়ে দেশের মানুষকে ব্রিটিশ সরকারের আইন মেনে চলার আহ্বান রেখেছিলেন।
আর আজ আমাদের রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শ্যামাপ্রসাদ, সাভারকার, গোলওয়ালকরের উত্তরসূরী হিসেবে যারা পরিচিত তারা গোটা রাজ্য জুড়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করতে দখলদারীর রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিভেদের রাজনীতির বিরোধীতা করতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।
ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের দেশের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের উজ্জ্বল ইতিহাসে এদের কোনো স্থান নেই। স্থান রয়েছে মাতঙ্গিনী হাজরার। স্থান রয়েছে আরো অনেক নাম জানা, নাম অজানা মানুষের। অথচ নতুন করে ইতিহাস লেখার নাম করে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে সেদিনের বিশ্বাসঘাতকদের নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে, আমাদের দেশের গৌরবের ইতিহাসকে বিকৃত করবার বিরুদ্ধে শিরদাঁড়া উঁচু করে লড়াই করার দায়িত্ব আজ এদেশেরই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাঁধে অর্পিত হয়েছে।

28/09/2026

Remembering Great Revolutionary 'Shaheed-E-Azam' Bhagat Singh on His 119th Birth Anniversary

27/09/2026

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবিভিপি আরএসএস এর দখলদারি ও সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI) উপর আক্রমণের ঘটনা প্রসঙ্গে এআইডিএসও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় আজ এক বিবৃতিতে বলেন:-"
আজকে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর ক্যাম্পাসে কলেজ কর্তৃপক্ষের মদতে 'অখিল ভারতীয় গ্রাম পঞ্চায়েত' নামের একটি বহিরাগত আরএসএস প্রভাবিত সংগঠনকে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদ করায় কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর RSS -BJP এর বহিরাগত গুণ্ডারা বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। যার ফলে আটজন ছাত্রছাত্রী গুরুতর আহত সহ আরও বেশ কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। বর্তমানে একদল বহিরাগত গুণ্ডা গোটা ক্যাম্পাস ঘিরে ফেলে চরম সন্ত্রাস কায়েম করেছে। পুলিশ মূল অভিযুক্তকে ক্যাম্পাসের ভেতরে তাদের গাড়িতে আটক করে রাখলেও এই গুণ্ডারা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ক্রমাগত পাথর ছুঁড়ছে এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে চরম আতঙ্কের মধ্যে আটকে থাকা প্রায় ১৫০ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর শারীরিক হেনস্থা চালানোর চেষ্টা করছে। আহতদের সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দেওয়া গেলেও গেটের বাইরে থাকা এই দুষ্কৃতীদের বাধায় আহতরা হাসপাতালে যাওয়ার বা উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গেট বন্ধ করে ভেতরে ছাত্রছাত্রীরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন ও বাইরে থেকে আরএসএস-এর গুণ্ডারা ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে ।
আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে হামলার তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতার তীব্র সমালোচনা করছি অবিলম্বে আটকে পড়া সমস্ত ছাত্রছাত্রীর নিরাপদ উদ্ধার, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা, হামলায় জড়িত বহিরাগত গুণ্ডাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। ক্যাম্পাসে আরএসএস এবিভিপির দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমরা সেই কলেজের ছাত্র সংসদ ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সংগ্রামী অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা বাংলার সমস্ত গণতান্ত্রিক ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এবং ছাত্রসমাজের কাছে আহ্বান জানাই, অবিলম্বে SRFTI-এর আক্রান্ত ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ান এবং ক্যাম্পাসে এই গৈরিকীকরণের চক্রান্ত ও দখলদারির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

সাংবাদদাতা
সুমন দাস
অফিস সম্পাদক
২৭/০৯/২৬

27/09/2026

তখন মোঘল শাসন অবলুপ্ত হয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। গোটা সমাজ মধ্যযুগের ব্যভিচার ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ শাসকদের অনুষঙ্গ হয়ে আসা ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ পেয়ে ভারতীয় সমাজ পশ্চিমী নবজাগরণের চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটছে। ঠিক এই যুগসন্ধিক্ষণে রাজা রামমোহন রায়ের আবির্ভাব। তিনি ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, তদানীন্তন সমাজকে ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামন্ততান্ত্রিক অন্ধতা থেকে মুক্ত না করতে পারলে সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

তদানীন্তন সমাজে বর্ণহিন্দুদের মধ্যে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। বিধবা নারীর ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ না করা এবং তাকে পিতা ও স্বামীর সম্পত্তি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করার প্রবণতা থেকেই এই প্রথার জন্ম হয়েছিল। দেখা গেছে, মৃত স্বামীর পরিবারের পরবর্তী উত্তরাধিকারীরাই জোর করে সদ্য বিধবা নারীকে চিতার আগুনে ঠেলে দিত। কয়েক শত বছর ধরে বন্দি জীবনযাপন করা, শিক্ষা ও সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত নারীর ক্ষমতা ছিল না এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। রামায়ণ–মহাভারত থেকে শুরু করে নানা শাস্ত্রের দোহাই পেড়ে কূপমণ্ডূকতা, কুসংস্কারে পূর্ণ সমাজে ধর্মের নামে এই অনাচারকে ভয়ে মেনে নিত বহু মানুষ। নারীকে বোঝানো হত, স্বামীই দেবতা, মেয়ে মানে তার একমাত্র কর্তব্য পুরুষের সেবা। তাই স্বামীকে সেবা করতেই তার স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীকেও স্বর্গে কিংবা নরকে যেতে হবে। এতেই মঙ্গল নারীর। এই পরিবেশের জন্যই বহু নারীও হয়তো একে সমর্থন করত, ভাবত পরজন্মে সুখ পাবে। এদিকে সহমরণের চিতায় তোলা অসহায় মেয়েটির আর্তনাদ যাতে কারও কানে না যায়, তার জন্য ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টা পিটিয়ে উদ্দাম নৃত্য জুড়ে দিত ধর্মধ্বজ উন্মাদ সমাজপতিরা।

ইংরেজ মিশনারিরা অনেকে এই প্রথার বিরুদ্ধতা করলেও শাসক ইংরেজরা কোনও দিন হিন্দু সমাজের মাতব্বরদের ঘাঁটিয়ে এর বিরুদ্ধে কিছু করতে চায়নি। যদিও ১৮০৫ সালে লর্ড ওয়েলেসলি 'সতীদাহ প্রথা'র উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা নিষিদ্ধ হয়নি। রামমোহন তখন ইউরোপীয় নবজাগরণের চিন্তার আলোকে ধর্ম, শাস্ত্রকে নতুন করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উপস্থিত হলেন। শুধু সতীদাহ নয়, নারীর মর্যাদাহানিকর ধর্মীয় বিধানগুলির বিরুদ্ধেও তিনি রুখে দাঁড়ালেন। সতীদাহের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৮ বছর আন্দোলন করেন, আইনি লড়াইয়ের পথও নেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই তিনি এ কাজে সফল হন। ব্রিটিশ সরকার ‘সতীদাহ’ নিষিদ্ধ করার আইন প্রণয়নে বাধ্য হয়। পাশাপাশি নারী স্বাধীনতা, নারীর সমতা, নারীর মর্যাদাবোধ, পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাতেও তিনি সচেষ্ট হন। সমাজে জাতিভেদ প্রথারও বিরুদ্ধতা করেন তিনি।

তারপরেও স্বাধীন ভারতবর্ষে তাঁকে বহুবার শুনতে হয়েছে, ‘ব্রিটিশের দালাল’। যে ভারতবর্ষকে তিনি আলো দেখালেন, আদতে সেই ভারতবাসীর পক্ষে কী এই মন্তব্য সম্ভব?

আসলে প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করে তাকে মুছে ফেলে বিকৃত ও অসাঢ় চিন্তাধারাকে দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে, ঐতিহ্যের নামে অযৌক্তিক ধ্যানধারণা ও অবৈজ্ঞানিক, অর্থহীন চিন্তার প্রসার ঘটানো, কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তা ও অন্ধ বিশ্বাসকেই সত্য হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে দেশের বর্তমান শাসক শ্রেণি। তাই যুক্তিবাদীদের আক্রমণ করে নবজাগরণের চরিত্রগুলোকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে, নবজাগরণের মনীষীদের সংগ্রামকে হেয় প্রতিপন্ন করতে না পারলে শাস্ত্রের নামে সমাজ কয়েক শতযোজন পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুশাসন প্রতিষ্ঠা কেমন করে ঘটবে?

কারণ—

“বাল্যে পিতুর্বশে তিষ্ঠেৎ পাণিগ্রাহস্য যৌবনে।
পুত্রাণাং ভর্তরি প্রেতে ন ভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্রতাম্॥”

অর্থাৎ, নারী বাল্যকালে পিতার অধীনে, যৌবনে স্বামীর অধীনে এবং বার্ধক্যে বা স্বামী মারা গেলে পুত্রের অধীনে থাকবেন। (মনুসংহিতা)

ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ, বিদ্বেষের প্রসারই যাদের রাজনীতির ভিত্তি, তারা কি করে সকল মানুষকে সম্মান ও স্বীকৃতি দেবে?

মানুষ বৈজ্ঞানিক চিন্তার অধিকারী হলে শোষণ, জুলুম, অত্যাচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলবেই। তাই জাতপাত–ধর্ম–বর্ণে মানুষকে বিভক্ত করে রাখতে বিভেদের রাজনীতি ছড়াচ্ছে দেশের শাসক শ্রেণি। তাঁরা ভারতীয়ত্বের নামে প্রাচীন ধর্মীয় কুসংস্কারগুলিকে তুলে ধরতে চাইছে। যার বিরোধিতা-ই করেছিলেন রাজা রামমোহন রায়। কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতাকে প্রতিরোধ করার মধ্য দিয়েই সমাজের প্রগতির সন্ধান করেছিলেন তিনি। তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে তাকে স্মরণ করাটা কোন আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং তার জীবন সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সমাজ প্রগতির আন্দোলনকে সঠিক খাতে নিয়ে যাওয়ার কাজটাই আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আশু কর্তব্য।

24/09/2026

বিপ্লব দীর্ঘজীবী হউক
আমি ঘোষণা করিতেছি যে, আমি ভারতীয় সাধারণতন্ত্র বাহিনীর চট্টগ্রাম শাখার অন্তর্ভুক্ত। এই বাহিনীর উদ্দেশ্য- অত্যাচারী, শোষণকারী, সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের কবল হইতে মাতৃভূমিকে উদ্ধার করিয়া একটি ফেডারাল ইণ্ডিয়ান রিপাবলিক বা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা। চট্টগ্রাম শাখার ১৯৩০ সনের ১৮ই এপ্রিল তারিখের অভূতপূর্ব্ব কৃতিত্ব এবং ইহার অব্যবহিত পরের জালালাবাদ পাহাড়, সমীরপুর, ফেণী, চন্দননগর, চাঁদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা ও ধলঘাটে ইহার অসম-সাহসিক কার্যকলাপে শুধু বাংলাদেশের কেন, সমগ্র ভারতবর্ষের বিপ্লবী দলের মধ্যে নূতন সাড়া জাগিয়াছে, যুবশক্তির দৃষ্টিও বিশেষভাবে আকৃষ্ট করিয়াছে। আমি এইরূপ একটি দলের অন্তর্ভুক্ত বলিয়া নিজেকে ধন্য মনে করি।

আমরা স্বাধীনতা-সংগ্রামে লিপ্ত। আজিকার কার্য্যটি এই সংগ্রামেরই একটি অঙ্গ। ইংরেজ জাতি আমাদের স্বাধীনতা হরণ করিয়া লইয়াছে, অবারিত শোষণের ফলে কোটি কোটি নরনারীর জীবন আজ বিপন্ন। আমাদের নৈতিক, শারীরিক, রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক ধ্বংসের মূল কারণ তাহারাই। তাহারা এইরূপে আমাদের দেশের নিকৃষ্টতম শত্রু হইয়া দাঁড়াইয়াছে। আমাদের স্বাধীনতা পুনঃপ্রাপ্তির পক্ষে তাহারা বিষম বিঘ্ন। এ হেতু সরকারী বেসরকারী সকল ইংরেজের বিরুদ্ধেই আমরা অস্ত্রধারণ করিতে বাধ্য হইয়াছি, যদিও মনুষ্যের জীবন লওয়া কোন মতেই সুখকর কার্য্য নহে। স্বাধীনতার যুদ্ধে, যে কোন উপায়েই হউক, সকল বাধাবিঘ্ন দূর করিতেই আমরা প্রস্তুত।

দলের শ্রদ্ধাস্পদ নেতা মাষ্টারদা যখন আজিকার আক্রমণে যোগদানের জন্য আমাকে আহ্বান করিলেন তখন আমি আমার বহুদিন পোষিত আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করিবার সুযোগ উপস্থিত হইয়াছে ভাবিয়া নিজেকে ধন্য জ্ঞান করি, এবং সম্পূর্ণ দায়িত্ব লইয়াই এই কার্য্য সম্পাদনে অগ্রসর হইয়াছি। কিন্তু যখন তিনি ইহার নেতৃত্বভার আমার উপর অর্পণ করেন তখন আমি কতকটা কিন্তু বোধ করি এবং এই বলিয়া অনুযোগ দেই যে, এতগুলি অভিজ্ঞ ও যোগ্য ভ্রাতা উপস্থিত থাকিতে একজন ভগিনীর উপর কেন এই ভার দেওয়া হইতেছে। মাষ্টারদা তাঁহার ব্যবস্থার যুক্তিযুক্ততা আমাকে বুঝাইয়া দিলে আমি তাঁহার আদেশ শিরোধার্য্য করিলাম এবং আশৈশব পূজিত সর্ব্বশক্তিমান্ শ্রীভগবানের নিকট প্রার্থনা জানাইলাম, আমার কর্তব্য পালনে তিনি যেন আমায় শক্তি দেন।

স্বদেশবাসীদের নিকট আমার কিঞ্চিৎ বক্তব্য আছে। তাঁহারা অনেকেই হয়ত ভাবিবেন; একজন ভারতীয় নারী স্বকীয় শিক্ষা-সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলি দিয়া নরহত্যারূপ বীভৎস কার্য্যে কি করিয়া লিপ্ত হইতে পারে। আমি ভাবিয়া বিস্মিত হই স্বাধীনতা-সংগ্রামে পুরুষ এবং নারীর মধ্যে তারতম্য করা হয় কেন। রাজপুত-নারীগণ যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুনিধন করিতে কখনও পশ্চাৎপদ হইতেন না। তাঁহাদের বীরত্ব-কাহিনীতে ইতিহাসের পৃষ্ঠা সমুজ্জ্বল। এইরূপ দৃষ্টান্ত থাকিতে আমরা আধুনিক ভারতীয় নারীগণই বা কেন বিদেশীর কবল হইতে স্বদেশ উদ্ধারের কার্য্যে আত্মনিয়োগ করিব না? সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যখন নারী-পুরুষ পাশাপাশি কার্য্য করিয়াছে, তখন বিপ্লবী আন্দোলনেই বা কেন পুরুষের সঙ্গে নারীগণ একযোগে কাজ করিতে পারিবে না? পদ্ধতি ভিন্ন, না নারীজাতি অযোগ্য বলিয়া? সশস্ত্র বিদ্রোহের ক্ষেত্রে নারীর যোগদান তো নূতন নহে। বিভিন্ন দেশে যে সব সার্থক বিদ্রোহ সংঘটিত হইয়াছে তাহাতে নারীগণ শতে শতে যোগ দিয়াছে। ভারতবর্ষেই বা ইহা কেন নিন্দার্হ হইবে? যোগ্যতা যদি বিচারের মাপকাঠি হয়, তাহা হইলে স্বাধীনতা-সংগ্রামে নারীকে সর্ব্বদা পুরুষের চেয়ে কম যোগ্য বিবেচনা করা কি অসঙ্গত নহে? এই মিথ্যা ধারণা বর্জন করিবার সময় আসিয়াছে। আজ সকল রকম কঠিন ও বিপৎসঙ্কুল কার্য্যেই নারীগণ তাহাদের ভ্রাতাদের পার্শ্বে আসিয়া দাঁড়াইতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমার বিশ্বাস, আমার ভগিনীরা দুর্ব্বলতা ত্যাগ করিয়া হাজারে হাজারে আসিয়া বিপ্লবী দলে যোগ দিবে।...

[চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের দিন শহীদ প্রীতিলতার পোশাকের পকেটের থেকে পাওয়া চিঠির অংশবিশেষ । পরবর্তীকালে এটি ভারতীয় রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা কর্তৃক প্রকাশিত হয়।]
(প্রবাসী, ১৩৫৬, বৈশাখ সংখ্যা থেকে গৃহীত)

23/09/2026
22/09/2026
21/09/2026

মালদার ভূতনি এলাকার দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে ত্রাণ শিবির।।
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আমরা।।
📲 QR কোড স্ক্যান করে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।
📍 ২৪ সেপ্টেম্বর | ২ নং খোসবর টোলা

21/09/2026

সকল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা জানাই।
সেমিস্টার বাতিল সহ স্কুল বাঁচানোর লড়াইয়ের পাশে থেকো।

20/09/2026

২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের জন্মদিবসে শপথ নাও—
সরকারি স্কুল বন্ধ ও বিক্রি রুখে দাও।
বন্ধ স্কুলের তালা খোলো, শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করো, পরিকাঠামোর মান উন্নয়ন করো, শিক্ষার বেসরকারিকরণ করা চলবে না।

Address

Bhatra Palli
Barasat
700126

Telephone

7059826196

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AIDSO - North 24 Parganas posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to AIDSO - North 24 Parganas:

Shortcuts

Share