28/05/2026
বিপ্লবী ভগবতীচরণ ভোরার প্রয়াণ দিবসে AIDSO রাজ্য কমিটির শ্রদ্ধার্ঘ্য (২৮শে মে,১৯৩০):
“হেন কোন অপরাধ নেই যা ব্রিটেন ভারতে করেনি। ইচ্ছাকৃত অপশাসন আমাদের ভিক্ষুকে পর্যবসিত করেছে, আমাদের চামড়া অতিরিক্ত রক্তপাতে সাদা হয়ে গেছে। একটি জাতি হিসেবে, জনগণ হিসেবে আমরা অসম্মানিত এবং বিক্ষুব্ধ। তাও কি কেউ আশা করেন যে আমরা ভুলে যাব আর ক্ষমা করে দেব? আমরা আমাদের প্রতিশোধ নেবই — স্বৈরাচারীর ওপর জনগণের ন্যায়নিষ্ঠ প্রতিশোধ। ভীরুরা পিছিয়ে যাক আর আপোস ও শান্তির জন্য অবমানিত হোক। আমরা করুণা প্রত্যাশা করি না, আর দয়ার দান ও দিইনা। আমাদের যুদ্ধ শেষ তক — বিজয় অথবা মৃত্যু।"
গান্ধীজীর বিপ্লববাদ বিরোধী এক প্রবন্ধের উত্তরে সুদক্ষ কলমে 'দা ফিলোসফি অফ বোম' শীর্ষক প্রবন্ধে কথাগুলি লিখেছিলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের আপসহীন ধারার এক অন্যতম যোদ্ধা বিপ্লবী ভগবতীচরণ ভোরা।
জন্ম ১৯০৩ সালের ১৫ই নভেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত পাঞ্জাবের লাহোরে।উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবার। পিতা ব্রিটিশদের সাহায্য করে রায় বাহাদুর খেতাব পান। কিন্তু পিতার পথ তিনি অনুসরণ করেননি।
লাহোরে লালা লাজপত রায় প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল কলেজে পড়াকালীন অধ্যাপক জয়চন্দ্র বিদ্যালঙ্কার এর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে যিনি 'হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মি' নামে একটি বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত।এখানেই বিপ্লবী ভগৎ সিং, শুকদেব, যশপালদের সঙ্গে তাঁর এক আদর্শময় বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে থাকে।
কলেজে পড়তে পড়তেই ১৯২০ খ্রীঃ তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হন। কিন্তু লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ যখন মুক্তির আকাঙ্খায় অসহযোগ আন্দোলনকে ভিত্তি করে রাস্তায় নেমেছিলেন ঠিক তখনই গান্ধীজী চৌরিচৌরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেন। বিপ্লবী সাথীদের মতোই খুব মর্মাহত হলেন তিনি এই ঘটনায়। সরে এলেন গান্ধীজির পথ থেকে।
এই সময় ভগবতী চরণ প্রথমে আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও তারপরে রাশিয়ার প্রথম শোষণমুক্ত শ্রমিক বিপ্লবের আদর্শে আকৃষ্ট হতে থাকেন। মার্কসবাদ ও কমিউনিজমকে জানার জন্য তিনি গভীর অধ্যায়ন করেন।
এই কলেজে পড়াকালীন HSA ও পরে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে গঠিত HSRA 'এর সদস্য হন। জ্ঞানজগৎ ও তত্বচর্চায় তার অবাধ দখল ছিল। সে কারণেই প্রচার প্রপাগান্ডার গুরুদায়িত্ব তার উপরেই থাকত। এমনকি ভগৎ সিং প্রতিষ্ঠিত নওজোয়ান ভারত সভার প্রোপাগান্ডা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
১৯২৮ খ্রীঃ ৩০শে অক্টোবর সায়মন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত লালা লাজপত রায়ের উপর পুলিশি বর্বর আক্রমণ ও হত্যার প্রতিবাদে স্যান্ডার্স হত্যার মূল কান্ডারী ভগৎ সিং,চন্দ্রশেখর আজাদ ও রাজগুরুকে গ্রেপ্তার করতে শুরু হয় ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি। সেই সময় ভগবতী মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় পলাতক ছিলেন। বিপ্লবীদের আত্মগোপন করাটা খুব প্রয়োজন ছিল। এক্ষেত্রে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ভগবতী চরণ ভোরার যোগ্য বিপ্লবী সাথী ও স্ত্রী দুর্গাবতী দেবী যাকে বিপ্লবী আদর্শ উদ্বুদ্ধ করেছিলেন ভগবতীচরণ নিজেই। নিজের ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে ভগৎ সিং এর স্ত্রীর ছদ্মবেশ ধরে পালাতে সাহায্য করলেন যা ভগবতী চরণ ভোরার ঐকান্তিক সাহায্য ছাড়া সম্ভব হতো না।
১৯২৯ সালের এপ্রিলে যখন ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত আইনসভায় বোমা নিক্ষেপ করেন এবং তার মাধ্যমে তাদের লিখিত বক্তব্য সর্বত্র ছড়িয়ে দেন। এই কাজে সাহায্য করা অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন ভগবতিচরণ ভোরা।
১৯৩০ সালের ২৮শে মে রাবি নদীর তীরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভগৎ সিং এর জেল থেকে উদ্ধারের জন্য তৈরি করা বোমার পরীক্ষা করতে গিয়ে অত্যন্ত অল্প বয়সে তিনি মারা যান।২৫ বছরের এই সংক্ষিপ্ত জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি পরাধীন দেশ কে স্বাধীন করার লক্ষ্যে নিজের জীবন নিয়োজিত করেছিলেন।