05/07/2026
অভিযোগ, বারুইপুরে একটি ১০ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণ এবং খুন করা হয়। অভিযুক্তদের স্থানীয় লোকে সিসিটিভি দেখে স্থানীয় লোকে ধরে, পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ কোনো তদন্ত করেনি। তারপর বিজেপির স্থানীয় নেতা অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় সবাই বিজেপির কর্মী। লোকে খবর পেয়ে গণপিটুনি দেয়। একজন অভিযুক্ত মৃত। যথারীতি বারুইপুরে ডিম্মিডিয়া পৌঁছতে পারেনি। মাসতিনেক আগে অবশ্য এরকম কিছু ঘটার আঁচ পেলেই হাজির হতো। সেটা ঠিকই আছে, নইলে ডিম্মিডিয়া কেন। 'প্রতিবাদীরা'ও চুপ করে আছেন। এর আগে পুলিশ ধরে ফেললেও তাঁরা প্রতিবাদে নেমে পড়তেন। বড় বড় বাইট দিতেন। এখন ডিম্মিডিয় বাইট চাইছেও না, কোন লাইনে বলতে হবে সেটাও বলে দিচ্ছেনা। তাছাড়া সরকারও হয়তো কপ করে ধরে ফেলে। ফলে সেটাও ঠিকই আছে।
মন্ত্রী-সান্ত্রী নেতাদের বাইট দেখিনি। দুদিন আগে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, পুলিশের তো ডিম-ডিটেক্টর নেই। এবার বলার সুযোগ আছে, পুলিশের তো ধর্ষক-ডিটেক্টর নেই। বললে, সঠিক কথাই হবে। অগ্নিমিত্রা পালকে দুদিন আগে বলতে শুনেছিলাম, আমাদের দল ডিম ছোঁড়া সমর্থন করেনা। এবার নিশ্চয়ই করুণ সুরে বলবেন, আমাদের দল ধর্ষণ সমর্থন করেনা। এখনও বলেননি, কিন্তু বললে সেও সত্যি কথা। কিন্তু ওঁদের লোক ডিম মারা থেকে শুরু করে, ধর্ষণের অভিযোগে জড়িয়ে যাচ্ছেন, ওঁরা ক্ষমতায় আছেন, স্রেফ সমর্থন করিনা বললেই তো ল্যাটা চুকে যায়না। সরকারে থাকলে দায় এবং দায়িত্ব নিতে হয়। ফলে এর দায়টা ওঁদের সরকারের এবং দলের। ব্যারিটোনে কিংবা করুণ সুরে বাণী দেবার কোনো মূল্যই নেই।
এবং এটা শুধু একটা ধর্ষণ বা কয়েকটা ডিমে-ছোঁড়ার অভিযোগ না। রাজ্যজুড়ে নৈরাজ্য নেমে এসেছে। দুই মাসে সাতটি তাহলে বছরে কতো,, পাঁচ বছরে কতো,, পুরো উওর প্রদেশ কেও ছাড়িয়ে যাবে।ব্যবসায়ী-ইশকুল মাস্টারকে ডিম মারা হচ্ছে। সাংসদদের ডিম মারা হচ্ছে। কোমরে দড়ি দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে বিরোধী নেতাদের। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এইসব কাজে লাগানো হচ্ছে। এবং এখন গণপিটুনিতে খুনই হয়ে গেল। ডিম্মিডিয়া দেখাক বা না দেখাক, এই পুরো নৈরাজ্যের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। ডিম-ছোঁড়া, কোমরে-দড়ি, ইউটিউবারদের গ্রেপ্তার, এবং গণপিটুনি, কোনোটাই ন্যায়বিচার না, ঠিক উল্টো।
অন্য সব রাজনীতি ছেড়ে দিন। এঁরা আসলে প্রশাসন চালানোর যোগ্য কিনা নিজেদেরই ভেবে দেখার সময় হয়েছে। দুদিন আগে এক বিধায়ককে দেখছিলাম, বললেন, আমার এলাকায় বিজেপি পরিচয় দিয়ে কারা মারল, তাদেরককে কেউ বিজেপি বলে চেনেই না। যদি এই কথা সত্যি হয়, অবস্থাটা ভাবুন। সংগঠনের এমনই অবস্থা, কোথায় কে বিজেপি বা বিজেপি পরিচয় দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছে, কোনো ট্রেস নেই। বুথে লোক নেই, সংগঠন নেই, এঁরা চালাবেন প্রশাসন। ঈশ্বর এঁদের, এবং বাংলার মানুষের মঙ্গল করুন।