10/09/2026
হ্যাঁ—১৯৮০-এর দশকের ত্রিপুরার রাজনীতি বেশ অশান্ত ও সংঘাতপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে ১৯৮০ সালের জাতিগত দাঙ্গার পর। তবে “মানুষের ওপর অত্যাচার” বললে বিষয়টি একপক্ষীয়ভাবে দেখলে ভুল হবে; আদিবাসী ও বাঙালি—দুই সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষই সহিংসতার শিকার হন।
১৯৮০ সালের ভয়াবহ দাঙ্গা
ত্রিপুরায় তখন মূল রাজনৈতিক সংঘাতের একটি কেন্দ্র ছিল আদিবাসীদের জমি, অধিকার ও রাজনৈতিক স্বশাসনের দাবি এবং অভিবাসী/বাঙালি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান জাতিগত উত্তেজনা। Tripura Upajati Juba Samiti (TUJS)-এর আন্দোলনের পাশাপাশি সশস্ত্র Tripura National Volunteers (TNV) সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় Amra Bangali-ও সংগঠিত হয়। �
Trpenvis +1
জুন ১৯৮০-তে ব্যাপক জাতিগত দাঙ্গা হয়। সরকারি CRPF-এর ইতিহাস অনুযায়ী, এতে ১,৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন এবং ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়। অন্য ঐতিহাসিক গবেষণা/প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১,৮০০ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে—অর্থাৎ সংখ্যাটি নিয়ে উৎসভেদে পার্থক্য আছে। �
CRPF +1
হাজার হাজার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরছাড়া হন। বাঙালি ও আদিবাসী—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন। �
South Asia Terrorism Portal +1
রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল?
বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৮ সালে ক্ষমতায় আসে এবং ১৯৮০-এর দশকের বড় অংশে রাজ্য শাসন করে।
আদিবাসীদের স্বশাসনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে Tripura Tribal Areas Autonomous District Council-এর ব্যবস্থা এগিয়ে যায়; ১৯৮৫ সালে এটি Sixth Schedule-এর অধীনে আসে। �
South Asia Terrorism Portal
একই সময়ে TNV-সহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপ চলতে থাকে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, নিরাপত্তাহীনতা ও বাস্তুচ্যুতি তৈরি হয়। �
Trpenvis
১৯৮৮ সালের বিধানসভা নির্বাচন অত্যন্ত সহিংস পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং বামফ্রন্ট ক্ষমতা হারায়। এরপর কংগ্রেস–TUJS জোট সরকার গঠন করে। একই বছর TNV-এর সঙ্গে শান্তিচুক্তি হয় এবং তারা অস্ত্র সমর্পণের পথে যায়। �
Tripura University +1
সাধারণ মানুষের জীবন
সেই সময় অনেক প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের জন্য পরিস্থিতি ছিল এমন যে রাতে বাইরে বের হওয়া, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত, দোকান-বাজারে যাওয়া—সবকিছুতেই ভয় কাজ করত। রাজনৈতিক পরিচয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে মানুষ হামলা, ঘরবাড়ি পোড়ানো, লুটপাট কিংবা বাস্তুচ্যুতির শিকার হতে পারেন। ১৯৮০-এর সহিংসতার পর এই অবিশ্বাসের প্রভাব বহু বছর ধরে ছিল। �
Trpenvis +1
তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা: ১৯৮০-এর পুরো দশককে শুধু “অত্যাচারের সময়” বলা ঠিক হবে না। একই সময়ে ত্রিপুরায় প্রশাসনিক সংস্কার, স্বশাসন, পুনর্বাসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও চলছিল।
অবশ্যই। ১৯৭৮–১৯৯০ সময়টা ত্রিপুরার ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ—একদিকে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসন, অন্যদিকে আদিবাসী অধিকার ও জমির প্রশ্ন, জাতিগত সংঘাত এবং সশস্ত্র আন্দোলন। নিচে বছর ধরে সহজভাবে দিলাম। বিভিন্ন পক্ষের বর্ণনায় রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা আলাদা হতে পারে, তাই যেখানে প্রয়োজন সেখানে তা উল্লেখ করছি।
১৯৭৮–১৯৯০: বছর ধরে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাস
বছর
সরকার/রাজনৈতিক অবস্থা
প্রধান ঘটনা
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
১৯৭৮
বামফ্রন্ট সরকার — মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী (CPI-M)
৫ জানুয়ারি নৃপেন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হন। বামফ্রন্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও গ্রামীণ উন্নয়নে জোর দেয়। আদিবাসীদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। �
গ্রামাঞ্চলে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ে। একই সময়ে আদিবাসী অধিকার ও জমির প্রশ্নে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
Wikipedia +1
১৯৭৯
বামফ্রন্ট
Tripura Tribal Areas Autonomous District Council (TTAADC)-এর জন্য আইন করা হয়। একই সময়ে TNV-এর মতো সশস্ত্র সংগঠনের উত্থান শুরু হয়। �
আদিবাসীদের স্বশাসনের আশা বাড়লেও জাতিগত অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক সংঘাতও বাড়তে থাকে।
South Asia Terrorism Portal
১৯৮০
বামফ্রন্ট
জুনে ভয়াবহ জাতিগত দাঙ্গা হয়। আদিবাসী ও অ-আদিবাসী, বিশেষ করে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। কেন্দ্রীয় নথি অনুযায়ী ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হন; অন্য গবেষণায় মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলা হয়েছে। �
ঘরবাড়ি পুড়ে যায়, মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, ত্রাণশিবির তৈরি হয় এবং দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতা থাকে। সেনা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। �
Ministry of Home Affairs
Ministry of Home Affairs +1
১৯৮১
বামফ্রন্ট
১৯৮০-র সহিংসতার পর পুনর্বাসন ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজ চলে।
বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর পর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করে। জাতিগত অবিশ্বাস রয়ে যায়।
১৯৮২
বামফ্রন্ট
TTAADC আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়; এটি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্বশাসনের কাঠামো তৈরি করে। �
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও স্থানীয় প্রশাসনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ে।
Tripura State Portal +1
১৯৮৩
বামফ্রন্ট — নৃপেন চক্রবর্তী
বিধানসভা নির্বাচনে CPI(M) ৬০টির মধ্যে ৩৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। একই বছরে ATPLO-এর একটি অংশ আত্মসমর্পণ করে; TNV-এর সশস্ত্র কার্যকলাপ অবশ্য চলতে থাকে। �
নির্বাচনের মাধ্যমে বামফ্রন্টের ক্ষমতা আরও শক্ত হয়, কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের ভয় থেকে যায়।
Wikipedia +1
১৯৮৪
বামফ্রন্ট
রাজনৈতিকভাবে বামফ্রন্ট ক্ষমতায়; মূল সমস্যা ছিল TNV-সহ সশস্ত্র গোষ্ঠী ও জাতিগত উত্তেজনা।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াত, ব্যবসা ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
১৯৮৫
বামফ্রন্ট
১ এপ্রিল TTAADC Sixth Schedule-এর অধীনে আসে, ফলে পরিষদ অতিরিক্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা পায়। �
আদিবাসী এলাকার ভূমি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় প্রশাসন রক্ষার সাংবিধানিক ভিত্তি আরও শক্ত হয়।
Tripura State Portal
১৯৮৬
বামফ্রন্ট
মিজো শান্তিচুক্তির পর TNV-এর বাইরের সহায়তার পরিবেশ কিছুটা দুর্বল হয়; তবুও ত্রিপুরায় সশস্ত্র সমস্যা শেষ হয়নি। �
কিছু এলাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত হলেও নিরাপত্তাহীনতা পুরোপুরি কাটেনি।
South Asia Terrorism Portal
১৯৮৭
বামফ্রন্ট
TNV আবার সক্রিয় হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই বছরে TNV-এর হাতে ৭৫ জন নিহত হন। �
বিশেষ করে সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ে।
Ministry of Home Affairs
১৯৮৮
কংগ্রেস–TUJS জোট সরকার; মুখ্যমন্ত্রী সুধীর রঞ্জন মজুমদার
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কংগ্রেস–TUJS জোট ক্ষমতায় আসে। নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা অত্যন্ত তীব্র ছিল; জানুয়ারি ১৯৮৮-তেই TNV-এর সহিংসতায় ৯৮ জন নিহত হওয়ার সরকারি রিপোর্ট আছে। ১২ আগস্ট TNV-এর সঙ্গে শান্তিচুক্তি হয়। �
ভোটের সময় আতঙ্ক, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা অভিযান চলে। পরে TNV সদস্যদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে শান্তির চেষ্টা শুরু হয়।
Wikipedia +2
১৯৮৯
কংগ্রেস–TUJS জোট
শান্তিচুক্তির পরও সব সমস্যা মিটে যায়নি; TNV-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন সশস্ত্র রাজনীতির ভিত্তি তৈরি হতে থাকে।
কিছু এলাকায় শান্তি ফিরলেও জমি, পরিচয় ও নিরাপত্তার সমস্যা রয়ে যায়।
১৯৯০
কংগ্রেস–TUJS জোট
All Tripura Tribal Force (ATTF)-এর পূর্বসূরি সংগঠন All Tripura Tribal Force গঠিত হয় ১১ জুলাই ১৯৯০। �
Wikipedia
নতুন করে সশস্ত্র আন্দোলনের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং পরবর্তী দশকের সংঘাতের ভিত্তি শক্ত হয়।
কারা কারা এই সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
১. বামফ্রন্ট/CPI(M) — ১৯৭৮–১৯৮৮ পর্যন্ত রাজ্য সরকার পরিচালনা করে। �
Wikipedia
২. TUJS (Tripura Upajati Juba Samiti) — আদিবাসী রাজনৈতিক সংগঠন; জমি, স্বায়ত্তশাসন ও আদিবাসী অধিকার নিয়ে আন্দোলন করত।
৩. TNV (Tripura National Volunteers) — সশস্ত্র আদিবাসী সংগঠন; ১৯৭৮ থেকে সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয় হয় এবং ১৯৮৮ সালে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আত্মসমর্পণের পথে যায়। �
South Asia Terrorism Portal +1
৪. Amra Bangali — বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে গড়ে ওঠা সংগঠন, যা আদিবাসী রাজনৈতিক দাবির বিরোধিতা করত; এর সময়েই জাতিগত মেরুকরণ তীব্র হয়। �
South Asia Terrorism Portal
৫. কংগ্রেস — ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে TUJS-এর সঙ্গে জোট করে বামফ্রন্টকে পরাজিত করে সরকার গঠন করে। �
Wikipedia
৬. নিরাপত্তাবাহিনী/CRPF/সেনা — দাঙ্গা ও সশস্ত্র আন্দোলন দমনে বিভিন্ন সময়ে মোতায়েন করা হয়; ১৯৮৮ সালে পুরো ত্রিপুরাকে “disturbed area” ঘোষণা করে সেনা অভিযানও জোরদার করা হয়। �
Ministry of Home Affairs
সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটি?
১৯৮০ সালের জাতিগত দাঙ্গা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি। সরকারি নথিতে ৫০০-এর বেশি মৃত্যুর পাশাপাশি প্রায় ৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হওয়ার কথা বলা হয়েছে; অন্য ঐতিহাসিক সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১,৮০০ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। সংখ্যার পার্থক্য থাকলেও ব্যাপক প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে সূত্রগুলো একমত। �
Ministry of Home Affairs +1
আর ১৯৮৭–৮৮ ছিল আরেকটি ভয়াবহ পর্যায়—TNV-এর সহিংসতা, পাল্টা নিরাপত্তা অভিযান এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। �
Ministry of Home Affairs +1
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এই ইতিহাসকে শুধু “একটি দল মানুষের ওপর অত্যাচার করেছিল” হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। আদিবাসী ও অ-আদিবাসী—উভয় সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষই বিভিন্ন সময়ে হত্যা, ঘরবাড়ি পোড়ানো, ভয়ভীতি, বাস্তুচ্যুতি ও রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। �
BJP Tripura Nabadal Banik Belonia, South Tripura -India BJP SARA SHIMA Abhishek Debroy Bjp Tripura