09/09/2026
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে বিলাসপুর, ছত্তীসগড়ে আমাদের রাজ্যের মুর্শিদাবাদের বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর যে অন্যায় অত্যাচার চলছে, তা নিয়ে চিঠি লিখেছি।
স্রেফ বাংলায় কথা বলার জন্য তাদের "বাংলাদেশি" দাগিয়ে দিয়ে খেয়ালখুশি মতো আটকে রাখা হচ্ছে!
মিডিয়া রিপোর্টেই স্পষ্ট —যাদের এভাবে ধরা হচ্ছে, তাদের মধ্যে মহিলারা আছেন, পরিচারিকারা আছেন, গরিব দিনমজুররা আছেন। সবার কাছে বৈধ ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সব আছে। তবুও কোনো সঠিক খোঁজখবর না নিয়েই পুলিশ কাস্টডিতে নিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে!
পরিবারগুলোকে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে, সাংবিধানিক অধিকারের তো কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
মনে করিয়ে দিই, বাংলা ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা—৯.৭২ কোটিরও বেশি মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। সংবিধানের ৮ম তফসিলে থাকা আমাদের একটা সরকারি ভাষা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আমার জোরালো দাবি, অবিলম্বে এই বেআইনি ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে এবং ভাষার ভিত্তিতে এই ধরণের হেনস্থা রুখতে কড়া আইন তৈরি করতে হবে।
আর রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রের যদি মনে হয় বাংলা ভাষাটাই দেশের জন্য বিরাট হুমকি, তবে পার্লামেন্টে প্রস্তাব এনে ৮ম তফসিল থেকে বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে দিক না! ঝামেলা মিটে যাক।
আর যতদিন না তা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য কোনো ভারতীয় নাগরিককে নিজের দেশপ্রেম প্রমাণ করতে বাধ্য করা যাবে না।
—শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
সদস্য, ওয়ার্কিং কমিটি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।