14/08/2026
# ১৪২ দিনের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের অবদান #
টানা ১৪২ দিন ধরে চলা এই ধরনা কর্মসূচি আজ যে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ, গ্রামবাসী ও শুভানুধ্যায়ীর অকুণ্ঠ ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং মুক্তহস্তে দেওয়া অনুদান। এই লড়াই শুধু সংগঠনের নয়—এটি মানুষের লড়াই, আর সেই লড়াইকে বাঁচিয়ে রেখেছেন সাধারণ মানুষই।
কেউ এক বস্তা চাল, ডাল, তেল, নুন, মশলা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ দিয়েছেন মুড়ি, চা, বিস্কুট—যাতে ধরনা মঞ্চে থাকা আন্দোলনকারীদের নিত্যদিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়। কেউ দিয়েছেন মশারি, চাদর, বেডশিট, আবার কেউ সংগ্রহ করে দিয়েছেন বাঁশ, ত্রিপল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
অনেকে কাজের ব্যস্ততা কিংবা দূরত্বের কারণে মঞ্চে এসে সময় দিতে পারেননি। কিন্তু তাঁদের হৃদয় ছিল এই আন্দোলনের সঙ্গেই। তাই দূর থেকেই অর্থ পাঠিয়ে তাঁরা এই সংগ্রামের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সবচেয়ে আবেগঘন বিষয় হলো—অনেক গ্রামে মানুষ ঘরে ঘরে গিয়ে চাল, ডাল, তেল, নুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন। সেই সামান্য সামান্য সঞ্চয় একত্রিত করে তাঁরা ধরনা মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন। কারও দেওয়া হয়তো এক কেজি চাল, কারও এক লিটার তেল, কারও এক প্যাকেট নুন—কিন্তু প্রতিটি দানের সঙ্গে মিশে ছিল ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং আন্দোলনের প্রতি গভীর আস্থা।
এই ১৪২ দিনের পথ আমাদের শিখিয়েছে—অর্থের পরিমাণ বড় কথা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। কারও সাহায্য ছিল সামান্য, কারও একটু বেশি; কিন্তু প্রতিটি সহযোগিতাই এই দীর্ঘ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমান মূল্যবান।
আজ তাই ১৪২ দিনের এই সংগ্রামের মঞ্চ থেকে আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সমস্ত গ্রামবাসী, সাধারণ মানুষ, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের, যাঁরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের ভালোবাসা, শ্রম, সময়, খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতাই এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তি।
এই লড়াইয়ের প্রতিটি দিনের পেছনে রয়েছে আপনাদের অবদান।
এই মঞ্চের প্রতিটি নিঃশ্বাসে রয়েছে আপনাদের ভালোবাসা।
আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের ১৪২ দিনের পথ চলার সাহস জুগিয়েছে।
কৃতজ্ঞতা নয়, আপনাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।
মানুষের এই ভালোবাসা ও ঐক্যই আমাদের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করবে।
@ দিশম আদিবাসী গাঁওতা, পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটি