05/08/2026
"অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে কিছু তথ্য"
এই লেখাটা আমার বিজেপি কর্মী, সমর্থক এবং জনসাধারণের জন্য, অতৃপ্ত আত্মা বিরোধীদের জন্য নয়।
অগাস্ট, ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ কোটি ২৮ লক্ষেরও বেশি সংখ্যক মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছেন।
জুনের ৩ তারিখে ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার এবং ১ লা জুলাই ১ কোটির ৯ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার হয়েছে।
চলতি মাসের টাকা অর্থাৎ অগাস্টের টাকা ১৫ তারিখের পর ঢুকবে, এমনটা মাননীয়া মন্ত্রী শ্রীমতি মালতি রাভা রায় জানিয়েছেন ( সূত্রঃ বর্তমান পত্রিকা, ০৪/০৮/২০২৬ )।
বাকিরা?
বাকিদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ধনী, সরকারী কর্মীদের পরিবারের মহিলারা, মহিলা সেজে থাকা পুরুষ উপভোক্তা রয়েছেন মোটামুটি ২৬ লক্ষের মত। এদের মধ্যেও ধাপে ধাপে যোগ্য প্রাপকদের প্রকল্পে যুক্ত করা হবে।
কিন্তু এসব বাদেও বেশ কিছু সংখ্যক যোগ্য মহিলা এখনও অবধি অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দখলে থাকা পুরসভা ও পঞ্চায়েত শয়তানি করছে।
ডুপ্লিকেট উপভোক্তা অবশ্যই রয়েছে, এটা একটি গুরুতর বিষয়। যে কারণে আধার এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংযোগ করা হচ্ছে। এই কাজে অনেকটা সময়ও লাগছে।
এখনো অনেক আবেদন যাচাই হচ্ছে, ব্যাঙ্কের সমস্যা, পোর্টালের সমস্যা, যার জন্যও কিছুটা সময় নষ্ট হচ্ছে।
এই সবকিছু মিটিয়ে আগামী মাসে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তাকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সমস্ত স্তরে প্রতিদিন কাজ চলছে।
প্রত্যাশা রাখাই যায়, পুজোর আগে সকল যোগ্য বাংলার মা-বোনেরা মা অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ লাভ করবেন।
নবনির্বাচিত সরকার ৩ টে মাস অর্থাৎ জুন, জুলাই, অগাস্ট সময় চেয়েছিল পুরো বিষয়টিকে গুছিয়ে নেওয়ার, সরকারকে ওইটুকু সময় আমাদের দিতে হবে।
এখানে একবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কথা মনে করা যাক।
২০২১-এর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তৃণমূল সরকার শপথ নিয়েছিল।
প্রকল্পের অর্থ অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হয়েছিল কবে?
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। চার মাস পরে।
কতজনের?
মোটামুটি ১ কোটি+।
১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ₹৫০০ করে পূর্বতন তৃণমূল সরকার পাঠাতে পেরেছিল অক্টোবর মাসে।
সেই বিচারে, বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণা যোজনায় জুলাই অবধিই অন্তত ১ কোটি ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ত্রুটিহীন তালিকা তৈরী করে এবং তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেয়।
তৃণমূল সরকার মে মাসে শপথ নেয়। এবারেও বিজেপি সরকার মে মাসেই শপথ নেয়।
এখনও অবধি তিন মাসও হয় নি।
খুব খারাপ মনে হচ্ছে? তুলনামূলক বিচার করুন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ২ কোটিরও বেশী মহিলা এলেন কীভাবে এবং কবে?
সরকারি তথ্য বলছে, ২ বছরের বেশি সময় লেগেছিল, একের পর এক "দুয়ারে সরকার" ক্যাম্পে লাইন, লোকাল নেতাদের অনুগ্রহ, বিরোধী দল করার জন্য বঞ্চনা ইত্যাদি টপকে তারপর ২০২৩-এর অক্টোবর নাগাদ ওই সংখ্যাটা এসেছিল।
তবু অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। হওয়াটা স্বাভাবিক। অনেক প্রত্যাশা এই সরকারের থেকে। বিজেপি সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য সংকল্পবদ্ধ।
দলের প্রকৃত কর্মী তথা শুভানুধ্যায়ীদের কাছে এবং যুক্তিবাদী রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ, অপপ্রচারের শিকার হবেন না। তথ্য ও পরিসংখ্যান সহ মানুষের কাছে আগের সরকারের পারফর্ম্যান্স ও বর্তমান সরকারের পারফর্ম্যান্স তুলে ধরুন। এবং একটু সময় দিন সরকারকে। ৫ বছরের জন্য যে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, ৫ টা মাস সেই সরকারকে সময় দিন তারপর সমালোচনা করবেন। ধৈর্য হারাবেন না।
একদল অতৃপ্ত আত্মা বসে রয়েছে, মিথ্যাচার করে, গুজব রটিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ঝামেলা পাকানোর জন্য। আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
বার্তাটি শেয়ার করুন অথবা কপি পেস্ট করুন।
জয় হিন্দ
হুগলি সাংগঠনিক জেলা চুঁচুড়া মন্ডলের ১ ২৯ নম্বর ওয়ার্ড 🙏