27/05/2026
বিখ্যাত বিপ্লবী ভগৎ সিং মূলত যুক্তিবাদ, সমাজতান্ত্রিক আদর্শ এবং পৃথিবীতে বিদ্যমান অবিচার ও দুঃখকষ্টের গভীর উপলব্ধি থেকে নাস্তিক হয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ "কেন আমি নাস্তিক" (Why I Am an Atheist)-তে তিনি নিজের নাস্তিক হওয়ার কারণগুলো অত্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেন।
তাঁর নাস্তিক হওয়ার মূল কারণগুলো নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
অন্ধবিশ্বাসের বিরোধিতা: ভগৎ সিং বিশ্বাস করতেন, কোনো কিছু না বুঝে অন্ধভাবে মেনে নেওয়া মানুষের চিন্তাশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। তিনি যুক্তি ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জীবন পরিচালনা করতে পছন্দ করতেন।
সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদী পাঠ: কারাবন্দী অবস্থায় তিনি মার্কস, লেনিন, ট্রটস্কি এবং বাকুনিনের মতো বিখ্যাত সমাজতান্ত্রিক ও নৈরাজ্যবাদী বিপ্লবীদের রচনা গভীরভাবে পড়েন। এই চিন্তাবিদদের আদর্শ তাঁর নাস্তিক্যবাদী চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করে।
দুঃখকষ্ট ও অন্যায়ের উপস্থিতি: তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান ও দয়ালু হন, তবে তিনি পৃথিবীতে এত বৈষম্য, অবিচার ও মানুষের দুঃখকষ্ট কেন চলতে দেন? ঈশ্বরের অস্তিত্বে অন্ধ বিশ্বাসের চেয়ে মানবকল্যাণকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন।
অহংকার বা হতাশার ফল নয়: অনেকে মনে করতেন তরুণ বয়সের অহংকার বা মৃত্যুর ভয়ে তিনি নাস্তিক হয়েছেন। এই ধারণার তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি জানান, তাঁর নাস্তিকতা কোনো অহংকার নয়, বরং এটি ছিল তাঁর যুক্তিবাদী চিন্তাধারার ফসল।
মৃত্যুর আগমুহূর্তে যখন তাঁকে ধর্মীয় প্রার্থনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মনে করতেন, বিপদের সময় ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চাওয়া মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।