30/10/2024
|| এক অসামান্য অভিজ্ঞতা ||
পরশু (২৯/১০/২০২৪) বি-শিফট ডিউটি করে ১০-টায় বাড়ি ফেরার পথে লিঙ্ক রোডের পাশে যে হেমশিলা স্কুল, সেটা থেকে কনিষ্ক মোড়ের দিকে ৫০ মিটারের মতন এগুতেই দেখলাম মোটরবাইক এগুচ্ছে না, মানে এক্সিলেটার দিলে আওয়াজ বাড়লেও গাড়ি আর এগুচ্ছে না। অগত্যা ঠেলা শুরু করলাম। আমার থেকে বয়েসে অনেকটাই ছোটো এক সহকর্মী আমাকে ওভাবে গাড়ি ঠেলতে দেখে পিছন থেকে এসে জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে দাদা, বললাম কি যে হয়েছে বুঝতে তো পারছি’না কিন্তু গাড়ি এগুচ্ছে না, তাই ঠেলছি। সে নিজের গাড়ি দাঁড় করিয়ে নিচু হয়ে ঝুঁকে দেখে আমাকে দেখালো যে বাইকের চেন’টা পড়ে গেছে (হ্যাঁ বাইকেও চেন থাকে)।
সেই সময়ে অনেকেই ডিউটি থেকে বাড়ি ফিরছেন, তার মধ্যে অনেকেই দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করছেন তাঁরা কিছু হেল্প করতে পারেন কিনা বা আমি কিভাবে এখন বাড়ি ফিরবো, এসব। ঠেলতে ঠেলতে প্রায় কনিষ্ক মোড়ে পৌঁছে গিয়েছি, তা করতেই এক কলিগ (যে কনিষ্ক মোড়ের কাছেই থাকে) খবর পেয়ে চলে এসেছে আমার গাড়িটা ওর বাড়িতে রেখে আমাকে ওর বাইক করে পৌঁছে দেবে আমার ঘরে। এক ডিউটি ফেরতা আমার ডিপার্টমেন্টের বন্ধুও আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চেয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো কনিষ্ক মোড়ে।
হঠাৎ একটি কম বয়সী কিন্তু বেশ ভালো চেহেরার একটি ছেলে বাইকে করে আমার পিছনে এসে বলে, “কিয়া হুয়া আংকেল’জি?” আমি বললাম কি হয়েছে; সে আমাকে অবাক করে বলে, “আপ বৈঠিয়ে বাইকে পে হাম ঠেল দেতা হ্যায়”।
আমি হকচকিয়েই গেলাম, আমার এই ভাড়ি বাইক তার উপরে আবার আমি বসবো, এরপরে সে কিভাবে আমাকে ঠেলে দেবে, বুঝে উঠতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, “এখান থেকে তো আমার বাড়ি আরো ৩ কিলোমিটার, কিভাবে ঠেলবে তুমি?”।
ছেলেটি বলে, “হাম আপনা প্যায়ের সে ঠেল দেগা; আপ গাড়ি মে বইঠিয়ে না!”
আমি বললাম পাড়বে, এতটা রাস্তা?
কিন্তু সে বলে, “আপ চিন্তা মত কিজিয়ে, হাম ঠেল দেগা”।
খানিকটা অবাক হয়েই বাইকে চড়লাম; সে আমার বাইকের বাম দিকে নিজের বাইক নিয়ে এসে, নিজের বাইক’টা চালিয়ে দারুণ স্কিলফুলি, নিজের ডান পা দিয়ে আমার বাইকের পিছনে ঠেলা মেরে মেরে পৌঁছে দিলো আমার বাড়ি; এবং কোথাও একটুও না থেমে। এখানে বলে রাখা ভালো, এই ৩ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার কিন্তু চড়াই রাস্তা। যে দক্ষতার সাথে সে গাড়িটাকে ঠেললো, না অবাক হয়ে উপায় নেই। বাইক আমিও বহুদিন চালাচ্ছি, কিন্তু না, এরকম দক্ষতা আমার-ও নেই। এরকম করে যে বাইকে করে অন্য বাইককে ঠেলে এতটা রাস্তা পার করা যায়, সেটাও আমার ভাবনার অতীত ছিল।
বাড়ি পৌঁছে আমি তার দিকে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে জানলাম যে ছেলেটি বছর দুই হলো গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে বাবার ব্যবসা সামলাচ্ছে। বেনাচিতি গুরুদ্বারার আশপাশের থাকে; নাম আকাশ আগরওয়াল ।
ঘটনা এতটা বিস্তারে বললাম, কারন, আজকাল আমরা প্রায় সবাই বলাবলি করি, আশঙ্কা প্রকাশ করি যে আজকালকার যুবকদের মধ্যে মানবিক বোধের বড্ডই অভাব; আমাদের ভাবনায় ভুল আছে।
ওর আপত্তিতে ওর ছবি দিলাম না।
আকাশ ও আকাশের মতন বাকিরাই আমাদের সমাজের সম্পদ।
(রাজেশ সেন)