20/05/2026
সুন্দরবনের নদীর ধারে, কাদা মাখা পথ,
ছোট্ট শিশু কাজের চাপে হারায় দিনের রথ।
বইয়ের ব্যাগটা ঘরে পড়ে, হাতে ধানের চারা,
শৈশব যেন থেমে গেছে সংসারেরই ভারে সারা।
ভোর না হতেই মাঠের পথে ছোট্ট পায়ের ছাপ,
ধানের ক্ষেতে কাজ করে তারা, রোদে পোড়ে চাপ।
কেউ কাঁকড়া ধরে জোয়ার জলে, কেউ মধুর খোঁজে বন,
ভয় আর কষ্ট সাথী হয়ে কাটে প্রতিক্ষণ।
চাষের মাঠে, নদীর বুকে, একই কষ্ট গান,
ছোট্ট হাতে বড় লড়াই, নেই তো কোনো টান।
বাঘের ভয়, নদীর ঢেউ, তবুও যেতে হয়,
একটু খাবার জোটাতে যে, জীবনটাই ক্ষয়।
এই ছোট হাত কাজের ভারে কেন হলো নত?
খেলার মাঠে থাকার কথা, কেন এত ক্ষত?
সুন্দরবনের নোনা হাওয়ায় কান্না ভাসে দূর,
শিশুর চোখে স্বপ্নগুলো আজও কত ম্লান সুর।
ধান কাটার মৌসুম এলে মাঠে নামে দল,
শিশুরাও যায় কাস্তে হাতে, হারায় দিনের ছল।
স্কুলের ঘণ্টা বাজে দূরে, যেতে পারে না কেউ,
জীবন আগে শেখায় তাদের বড় হওয়ার ঢেউ।
যদি থাকত বই আর খাতা, থাকত পড়ার ঘর,
তবে হয়তো শিশুর মুখে ফুটত হাসির পর।
চাষের মাঠে নয় শুধু, স্বপ্ন হতো সাথি,
ছোট্ট প্রাণে ফিরত আবার নতুন জীবনের গাঁথি।
সুন্দরবনের ঝড়ের রাতে কাঁপে কাঁচা ঘর,
তবু শিশুর স্বপ্ন বাঁচে আলো খোঁজার পর।
এই ছোট হাত কাজের নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার হাত,
শৈশব যেন ফিরে পায় জীবনেরই প্রভাত