17/03/2026
. এক ডাকাত | সে ডাকাতি করে বেড়ায় | সত্য ঘটনা | এই তার পেশা | তার এলাকা দিয়ে ঠাকুরের কোন এক ঋত্ত্বিক যাচ্ছিলেন , যেতে গিয়ে সেই ডাকতের খপ্পরে পড়লেন | ডাকাত বললেন যে, তোর কি আছে দে | সে বলল , ' আমার কাছে গুরুর মন্ত্র আছে | আর কিছু নেই | এইটা দিলে যদি হয়ে যায় |' বলছে ----- এটাই দিয়ে যা | সেই ডাকাত দীক্ষা নিয়ে নিল | ডাকাত ----- সে এমন দুঁদে ডাকাত ----- ঝাড়খণ্ড আর ওড়িষ্যায় border - এ থাকতো | সে জঙ্গলের মধ্যে গাছের কোটরের মধ্যে ঠাকুরের ছবিটা রেখে সেখানেই ধূপধূনা দেয়, পূজা করে, আর ডাকাতি করে | সে কিন্তু ডাকাতি থামায়নি | চলছেই | এইবার ওখানে এক Forest Ranger গিয়ে পৌঁছেছেন | শুনেছেন এই এলাকার ত্রাস ওই ডাকাত | তখন তিনি সেই ডাকাতের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন যে ভাই তুমি তো শুনেছি ঠাকুরের দীক্ষা নিয়েছো | কিন্তু তুমি ঠাকুরকে তো গাছের কোটরের মধ্যে রেখেছো | তুমি ঠাকুরের জন্য একটা ঘর - টর বানাও | তখন সে বলছে আমাকে জমি কে দেবে | তখন ওই Ranger সাহেব বললেন যে আমি ব্যবস্থা করব | তারপর তিনি যে কোনো উপায়ে এক খণ্ড ছোট্ট জমি ব্যবস্থা করে দিলেন এবং শর্ত দিলেন ডাকাতকে যে তুমি এই ঘর তৈরী করতে ডাকাতির কোনো টাকা লাগাতে পারবে না | যা তোমাকে করতে হবে ভিক্ষা করে | সেই ডাকাত তখন লোকের দ্বারে দ্বারে যায়, ভিক্ষা করে | এই করতে করতে সে ঘরটা বানিয়ে ফেলল | লোকজন আসা শুরু হল | ঠাকুর প্রতিষ্ঠা হল | সেই ডাকাত আস্তে আস্তে নিজের অজান্তেই ডাকাতি ভুলে গেল | ডাকাতি সে ছেড়ে দিল | সে তখন ঠাকুরের মানুষ হয়ে গেল | লোককে যাজন করত, দীক্ষা দেওয়াত | আশ্রমে ঠাকুরবাড়িতে আসত | যখন তখন সে আচার্য্যদেবকে নাটমণ্ডপের বাইরে থেকে হাউহাউ করে চিৎকার করে কথা বলত | আচার্য্যদেব তাকে স্নেহ ভরে ডাকলে বলত এইজন্মে দাদা এখান থেকেই | অনেক পাপ করেছি , পরের জন্মে ওখানে ভিতর বসব | কিছুদিন আগে Cancer - এ মারা গেছে | আশি বছর - এর উপর বয়স হয়েছিল | কিন্তু একটা মানুষ ঠাকুরকে আঁকড়ে ধরলে এইভাবে পরিবর্তিত হয় |
অনেকের মধ্যে প্রশ্ন জাগে দীক্ষা নিয়ে তো অনেক মানুষ ছেড়ে দেয় | একটা ঘটনা বলি , একটা গল্প | আমাদের আশ্রমে থাকে পবিত্র দাশ | তাদের জীবনের ঘটনা | তাদের বাড়ি যেখানে আসামে তখন সেখানে খুব একটা Racial problem চলছে | ভাষাভাষী আন্দোলন চলছে, আশান্তি চলছে | বাড়িতে রাত্রিবেলা , হঠাৎ দরজায় খট খট আওয়াজ | ওর বাবা চৌদ্দ বছরের ছেলেকে বলছে তুই দরজা খোল , আর বাবা দা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে | যদি কোনো অজানা অচেনা লোক ঢোকে ওমনি কুপিয়ে দেবে | কেননা প্রান রক্ষা করতে হবে | পরিবারকে রক্ষা করতে হবে এরকম পরিস্থিতি | একটি চৌদ্দ বছরের ছেলেকে নিয়ে তার বাপ defence করছে | দরজা খুলতেই কেউ বলে উঠল জয়গুরু | জানা গেল ঐ লোক বহুদিন আগে দীক্ষা নিয়েছিল | ঐ যে আন্দোলন হচ্ছিল সেইসময় একটা গোপন মিটিং হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে যে এদের বাড়িতে কোন বাংলাদেশী লোক বসে আছে | আর বাংলাদেশী লোক যদি পাওয়া যায় তাহলে বাড়ী পুড়িয়ে দেওয়ার কথা মিটিং - এ ধার্য্য হয়েছে | তাই রাতারাতিই চলে এসেছে, এদেরকে সতর্ক করতে | বললো, আমরা নদী পেরিয়ে এসেছি, কেউ জানতে পারবে না | আপনাদের বাড়িতে যদি কেউ এরকম বাংলাদেশী থেকে থাকে তাকে এই মুহূর্তে বিদায় করুন তা না হলে আপনাদের কেউ আর কাল আস্ত থাকবেন না | বলে তারা আবার অন্ধকারে নদীপথ দিয়ে চলে গেল | এদের বাড়িতে বাংলাদেশ থেকে দু'জন আত্মীয় এসেছিল বর্ডার পার করে | তখন রাতারাতি এদের তিনসুকিয়া পাঠিয়ে ট্রেনে চাপিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হল | ভোড় হতে না হতে পিল পিল করে পাঁচ - সাত শ লোক গিয়ে ধরল বাড়িটাকে | আর বাড়ির মধ্যে ঢুকে গিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগলো, এঘর, সেঘর | চিরুনী তল্লাশি চালানো | শেষে ব্যর্থ হল | যখন খুঁজে পেল না , ওরা নিরস্ত হল | ঠাকুরেরই দীক্ষা নেওয়া দুটো লোক ওদের বাঁচিয়ে দিল সেই রাত্রিতে | তাই আমি বলছি এই বীজ যেখানেই ছড়ানো হোক তা নষ্ট হয় না | এটা রয়ে যায় | কোনো না কোনো ভাবে এটা প্রকাশিত হয় | তাই দীক্ষার জন্য আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই | কে কি করবে, করবে না এ সব নিয়ে না ভাবি | এগিয়ে যাওয়া ভালো | লাফ দিয়ে যদি সূর্য্যকে দেখে দিই চাঁদে পড়ব | তাই আমাদের বড় লাফ দেওয়াই ভালো | এটা আমাদের উত্তরনের একটা দিগন্ত | আমার জীবনে আমি ঠাকুরকে এইভাবে ভাবি | আমার ঠাকুর কোনো মিরাকেল পারেন না | তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই | আমি যেরকম আমার ঠাকুরও সেরকম | আমি যেভাবে ঠাকুরকে ভাবি আমি সেই কথাগুলোই বললাম |
~~~ পরম পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব
তথ্যসূত্রঃ - আলোচনা # আশ্বিন১৪২৩ / অক্টোবর ২০১৬