22/08/2025
II পূর্ব পশ্চিম মেট্রো পথের রানার II
অপারেশন বর্গা, ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ফলস্বরূপ ধান পাট আলু সবজি মাছ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশে একেবারে প্রথম সারির কৃষি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য। এবার আরো এগোতে হবে সামনে। দুনিয়া ছুটছে আলোর চেয়েও জোরে। তাই অবিরাম যাত্রার চিরসংঘর্ষ। নিরন্তর লড়াই। গ্রামবাংলার সেই কৃষক-শ্রমিক বাড়ির মেধাবী ছেলে-মেয়েরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করছে, এবার তাদেরও পায়ের তলার মাটি শক্ত করার সংগ্রাম। সল্টলেক নিউটাউন লাগোয়া বিস্তীর্ণ তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পা রেখেছে উইপ্রো, ইনফোসিস। হাজার হাজার শিক্ষিত ছেলেমেয়ের যাতায়াত হবে দিনরাত ছাপিয়ে। বিপুল কর্মযজ্ঞ সেক্টর ফাইভ জুড়ে। এই মহতী কর্মদ্যোগকে কেন্দ্র করে খাবার, পোশাকের রকমারি পসার সহ ছোটো ভাড়ার গাড়ি সমেত আরো নানা অনুসারী কর্মসংস্থানের সুযোগ।
সদ্য সিঙ্গুর নন্দীগ্রামে সুবিশাল শিল্পসম্ভাবনা কুটিল চক্রান্তে ধ্বংস হওয়ার দগদগে ক্ষত, তবু পিছন ফেরার জো নেই। এগোতেই হবে। বাংলার বেকার যুব'র ভবিষ্যত গড়তেই হবে।
চাই নতুন পথ। কলকাতা শহরের নানা প্রান্ত হাতের নাগালে আসছে একের পর এক উড়ালপুলে - পার্ক স্ট্রীট, নাগেরবাজার, গড়িয়াহাট, উল্টোডাঙ্গা, বাগুইহাটি, নিউটাউন জুড়ে। মাথা তুলছে ইকো ট্যুরিজম পার্ক, পরমা ফ্লাইওভার(বর্তমান নাম মা)।
জ্যোতি বসু-গনিখান চৌধুরী স্থাপিত, দেশের প্রথম পাতালরেল নর্থ সাউথ মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ চলছে। দক্ষিণের টালিগঞ্জ সীমানা ছাড়িয়ে কলকাতার লেজ পৌঁছে যাচ্ছে নিউ গড়িয়া, মাথাকে দমদম থেকে দক্ষিণেশ্বর পৌঁছে দিতে দিল্লীতে রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের কাছে সমানে তদ্বির করছেন সাংসদ অমিতাভ নন্দী।
শহরতলিও হাতের মুঠোয়।
তবুও, আশেপাশের জেলার নিত্য যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে কলকাতাকে আরো ছড়িয়ে যেতে হবে দ্রুত, শহরের পথ ছোটো করতে গঙ্গার নীচ দিয়ে হলেও মেট্রোরেলে হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশনের হাত ধরা চাই। তার সাথেই জুড়ে যাবে আই.টি সেক্টর, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণ, ছুঁয়ে যাবে কলকাতাকে সড়কপথে উত্তর দক্ষিণে বেঁধে রাখা ই.এম. বাইপাস। গমগমিয়ে মফস্বলের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা রোজ দু'বেলা কলার তুলে নিশ্চিন্তে আসবে যাবে। নিজের আয়ে, নিজের যোগ্যতায়। প্রৌঢ় বাপ-মা'দের মাথা উঁচু করে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দিতে ওই ভরসার জায়গাটুকুই মজবুত করতে চেয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
• অক্টোবর, ২০০৮ - ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পটি কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক বরাদ্দ ও পরিবেশ মন্ত্রক সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারী দপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন পায়।
• ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ -
সল্টলেক স্টেডিয়ামে শিলান্যাস অনুষ্ঠান। প্রথম ইউ.পি.এ. সরকারের বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর উপস্থিতিতে শিলান্যাস করেন বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এস. জয়পাল রেড্ডি অসুস্থতার জন্যে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ছিলেন তৎকালীন কলকাতার দুই সাংসদ মহঃ সেলিম ও সুধাংশু শীল, রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের পরিবহন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী, শিল্প মন্ত্রী নিরুপম সেন, পুর মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কালো পতাকা দেখিয়েছিল তৃণমূলের দলবল।
• ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ -
আনন্দবাজার পত্রিকা'র সংবাদ শিরোনাম :
'কংগ্রেসকে চাপে রাখতে এবার আক্রমণাত্মক মমতা'।
ভিতরের পাতায় :
"...প্রণবদা'কে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সি.পি.এম'কে ধোঁয়া দেওয়া বন্ধ করতে হবে।..একটা শহরে ক'টা মেট্রো হয় ? ..সব ভাঁওতাবাজি !.. শিলান্যাস হচ্ছে নাকি শ্যাওলান্যাস হচ্ছে !..পরশুদিন প্রণবদা কেন যাচ্ছেন ?"
অবসন্ন মেঘলা শ্রাবণে পাম এভিনিউ-এর ঘুপচি ফ্ল্যাটের এককোণে পরে থেকে শেষ হয়ে যাওয়া ক্ষীণদৃষ্টি নবতিপর মানুষটা হয়তো মনে মনে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আলোর গতিতে বাংলার এগিয়ে চলার পথ বাঁধতেন...
✍️ : © Souradip Dey