26/08/2026
শনবিলের মামলায় হাইকোর্টে জিতলো মুসলিম ফিশারম্যন সম্প্রদায় : সাধুবাদ আইনজীবীকে:
অসমের করিমগঞ্জ জেলার শনবিল অঞ্চলের মৎস্যজীবী হিন্দু- মুসলিম, উভয় সম্প্রদায় মিলে গঠন করে শনবিল ফিশারম্যন সমবায় সমিতি । সমিতি গঠন হয় ১৯৭৫ সালে । ৫১ বছর আগে । এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল হচ্ছে শনবিল । আর এই বিলকে কেন্দ্র করে স্থাপিত হয় শনবিল ফিশার ম্যেন সমবায় সমিতি । লক্ষ্য, বিলের মাছ ধরা ও মাছের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ । সমিতির কার্যালয় স্থানীয় কালীবাড়ি বাজারে ।
বিশাল শনবিলের মাছ ধরা ও মাছের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে মৎস্যজীবীরা গঠন করে এই সমবায় সমিতি । পরবর্তীতে অসম সরকার এক নোটিফিকেশনের মাধ্যমে মুসলিম ফিশারম্যেন ( মাইমাল) সম্প্রদায়ের সদস্যদের সমবায় সমিতি থেকে বহিস্কার করে দেয় ।
কেবল তফসিলি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ফিশারম্যেন সমবায় সমিতি চালাবেন বলে অসম সরকারের সমবায় বিভাগের নোটিফিকেশনে উল্লেখ করা হয় । এতে বৈষম্যের শিকার হওয়া বহিষ্কৃত মুসলিম ফিশারম্যেন ( মাইমাল ) প্রায় ৭০০ সমিতির সদস্য নিরুপায় হয়ে পড়েন । তাঁদের সদস্য পদ কেটে দেয়া হয় সমিতির রেকর্ড থেকে । কেটে দেয়া হয় ভোটার তালিকা থেকে নামও। বিলের উপর তাঁদের অধিকার হারিয়ে বসেন মুসলিম ফিশার ম্যেন সম্প্রদায় ।
বছরের পর বছর ধরে বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রীদের পিছে পিছে ঘুরতে থাকেন এই সব মুসলিম বহিষ্কৃত শনবিল সমবায় সমিতির সদস্যরা । বিফল হয় তাঁদের সকল প্রচেষ্টা ।উল্লেখ্য, বৈষম্যের শিকার হওয়া এই সব মুসলিম মাইমাল সদস্যদের বাসস্থান শনবিলের পূর্ব পারের দেওদ্বার, তুলাকোনা, ছড়ারপার, রংপুর, শিংগুয়া, বালির বন্দ প্রভৃতি গ্রামে ।
শনবিল ফিশারম্যেন সমবায় সমিতির সদস্য পদ পুনরায় ফিরিয়ে পেতে তাঁরা অবশেষে দ্বারস্থ হন গৌহাটি হাইকোর্টের । দায়ের করেন রিট পিটিশন । পিটিশন নম্বর WP(C) 5562/ 2018 । এর মধ্যে সমিতির বোর্ড অফ ডিরেক্টরস গঠনের নিমিত্তে নির্বাচন আয়োজনের বিজ্ঞপ্তি জারী হয় । মুসলিম সদস্যদের বাদ দিয়ে । বহিষ্কৃত সদস্যরা সমিতির নির্বাচন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে দায়ের করেন আরেক রিট পিটিশন । পিটিশন নম্বর WP(C ) 544/ 2020 । হাইকোর্ট মুল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেন । সেই ২০২০ সাল থেকে আজ অবধি শনবিল সমবায় সমিতির নির্বাচন বন্ধ রয়েছে ।
গৌহাটি হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় কুমার মেধী ।মেধীর আদালত সম্প্রতি মূল রিট পিটিশন WP(C) 5562/ 2018 অর্থাৎ মেইন মামলার রায় ঘোষণা করেন । রায় আসে মুসলিম ফিশার ম্যেন ( মাইমাল ) সম্প্রদায়ের পক্ষে । মহামান্য হাইকোর্ট ফিশারম্যেন সদস্যদের সমিতি থেকে বহিস্কারকে অন্যায়, বৈষম্যমূলক ও বেআইনী বলে ঘোষণা দেন । সরকারি নোটিফিকেশন বাতিল করেন । সেই সঙ্গে ১ মাসের ভিতরে বহিষ্কৃত সকল মুসলিম মাইমাল সদস্যদের শনবিল ফিশারম্যেন সমবায় সমিতির সদস্যপদ ফিরিয়ে দিতে অসম সরকারকে কড়া নির্দেশ দেন ।
হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে অসম সরকারের সমবায় বিভাগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। হাইকোর্টের রায়ে খুশির লহর শনবিল অঞ্চলের মুসলিম ফিশারম্যেন গ্রামগুলোতে । উল্লেখ্য, গৌহাটি হাইকোর্টে মুসলিম মাইমাল সম্প্রদায়ের পক্ষে ওকালতি করেন আইনজীবী রহিম তালুকদার । মুসলিম ফিশারম্যেন সম্প্রদায় তাঁদের আইনজীবী রহিম তালুকদারকে অশেষ সাধুবাদ জানান।
#𝐉𝐚𝐧𝐚𝐁𝐚𝐫𝐭𝐚জনবার্তা #শনবিল