01/09/2026
১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গে চরম খাদ্যসংকট, চাল-গমের তীব্র অভাব এবং কালোবাজারির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। খাদ্যের এই হাহাকারের মধ্যে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের চরম ব্যর্থতার প্রতিবাদে বামপন্থী দলগুলো এবং 'মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ কমিটি' তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫৯ সালের ৩১ আগস্ট (আজকের এই দিনটিতেই) সেই আন্দোলন এক চূড়ান্ত ও রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। খাদ্যের দাবিতে এবং মন্ত্রীদের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেদিন হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন থেকে হাজার হাজার ক্ষুধার্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষ কলকাতার ধর্মতলা ও এসপ্ল্যানেড চত্বরে সমবেত হয়ে মহাকরণ (Writers' Building) অভিযানের ডাক দেন। কিন্তু এই নিরস্ত্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের মিছিলের গতিরোধ করতে পুলিশ বর্বরোচিতভাবে লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়।
পুলিশের এই নির্মম হামলায় সেদিন ও তার পরবর্তী কয়েকদিনে প্রায় ৮০ জন প্রতিবাদী মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন (সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৩৯ জন বলা হয়েছিল)। খাদ্যের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড সারা বাংলাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৫৯ সালের এই খাদ্য আন্দোলন এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মানুষের ক্ষোভকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে পরবর্তীকালে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের (বামফ্রন্টের উত্থানের) অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছিল। তাই প্রতি বছর ৩১ আগস্ট দিনটিকে সেই আত্মত্যাগকারী মানুষদের প্রতি সম্মান জানাতে 'খাদ্য আন্দোলন দিবস' বা শহীদ দিবস হিসেবে স্মরণ করা হয়।