07/05/2022
ইসলামপুরের সমস্ত ব্যবসায়ী সংগঠন মিলে (FITO) ইসলামপুরকে জেলা করার দাবিতে কর্মসূচী নিয়েছে। ৮ মে রবিবার ইসলামপুর বাস টার্মিনার্সে বিশাল সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। Taso -র পরে প্রথম হয়তো এত বড় কোন সংগঠন এই দাবিতে পথে নামতে চলেছে। Pasarul Alam স্যারের নেতৃত্বে টাসো প্রায় কুড়ি পঁচিশ বছর ধরে জেলার দাবিতে আন্দোলন করে চলেছে।
ইসলামপুর হল ট্রান্সফার্ড এরিয়া অর্থাৎ বিহার থেকে বাংলায় অন্তর্ভুক্ত এলাকা। দেশ স্বাধীনের পর যখন ভাষার ভিত্তিতে পুনরায় রাজ্য গঠন করা হয় তখন বিহার থেকে ইসলামপুরকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৫৬ সালের ১ লা নভেম্বর ইসলামপুর বাংলার অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ১৯৫৯ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায় ইসলামপুরকে মহকুমা শহর ঘোষণা করার পাশাপাশি আশ্বাস দিয়েছিলেন ইসলামপুরকে জেলা করার। তিনি বলেছিলেন, পরিকাঠামো তৈরি হলে সমস্ত ট্রান্সফার্ড এরিয়াকে নিয়ে ইসলামপুরকে সদর করে জেলা করা হবে।
উত্তর দিনাজপুর জেলার ভৌগলিক অবস্থান এমন যে, জেলার সদর শহর রায়গঞ্জ থেকে জেলার অন্য প্রান্তের শেষ সীমানার দুরুত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি। এবং জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দুরুত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার! সরকারী কাজে মানুষকে ইসলামপুর মহাকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে রায়গঞ্জ যেতে হয়। আর তাতে মানুষের হয়রানির শেষ থাকে না।
বর্তমানে ইসলামপুর মহাকুমার ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ। ৭৪৯ বর্গ মাইল এরিয়া। মোট পাঁচটি বিধাসভা – চোপরা, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি। দুটি পোরসভা - ইসলামপুর এবং ডালখোলা। এই সব এলাকা এবং দার্জিলিং জেলার ফাসিদেওয়া বিধানসভার ১৯ টি মৌজা যা ট্রান্সফার্ড এরিয়া অর্থাৎ বিহার থেকে বাংলায় অন্তর্ভুক্ত তা নিয়ে ইসলামপুরকে জেলা করার দাবি আমাদের।
যেখানে কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারের মতো মহাকুমাকে জেলা করে দেওয়া হয়েছে সেখানে এত বিশাল জনবসতি এবং এরিয়া নিয়ে গঠিত ইসলামপুর মহাকুমাকে জেলা না করার কোন মানে হয় না। আর উত্তর দিনাজপুর জেলার ভৌগলিক অবস্থানই ইসলামপুরকে জেলা করার জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ। ইসলামপুরের মানুষ আর কতদিন হয়রানি হবে!
তাই সমস্ত ইসলামপুর বাসীর কাছে অনুরোধ জেলা চাই আন্দোলনে আপনারা শামিল হোন। আওয়াজ তুলুন। সোস্যাল মিডিয়ায় লেখালেখির পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসুচীতে যোগদান করুন। হোক কলরব – ইসলামপুরকে জেলা চাই।