02/06/2026
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছরের মাস্টার্স কোর্স বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এআইডিএসও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্যের নিকট ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
বিষয়: বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বছর স্নাতকোত্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে ২ বছরের কোর্সে ভর্তি না নেওয়া প্রসঙ্গে
আমরা সাম্প্রতিক জানতে পেরেছি যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বছরে ২ বছরের মাস্টার্স কোর্স বন্ধ করা হচ্ছে এবং যে সকল বিষয়ে স্নাতকস্তরে ৪ বছরের ডিগ্রি কোর্স শুরু হয়েছে সেই বিষয়গুলিতে এই বছর (২০২৬) থেকে আর ২ বছরের মাস্টার্স কোর্সের ভর্তি নেওয়া হবে না। আমরা, এআইডিএসও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছি এবং আমরা মনে করছি এর দ্বারা সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে। আমরা জানি বহু ছাত্র ছাত্রী আছেন যারা বিভিন্ন কারণে স্নাতক শেষ হওয়ার পর এক বছর গ্যাপ দিতে বাধ্য হয়েছে, আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু ছাত্র ছাত্রী যাদের কোনও বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি পেতে এক বছর দেরি হয়েছে। সাপ্লিমেন্ট থাকায় বহু ছাত্রছাত্রীকে একবছর অপেক্ষা করতে হয়। এর পাশাপাশি অনেক ছাত্র ছাত্রীরা গবেষণা করার উদ্দেশ্যে একাধিক বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি করে। এই সিদ্ধান্তের দ্বারা বহু ছাত্র ছাত্রী একটি অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা জানি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান চর্চার উদ্দেশ্যে সকল স্তরের মানুষ বয়স নির্বিশেষে, তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে পড়তে আসার সুযোগ পায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের দ্বারা আগামী বছর থেকে কেবল মাত্র ৪ বছরের স্নাতক করা ছাত্ররাই মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ভিত্তিতে আঘাতের সমান।
এই সিদ্ধান্তের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কে লাগু করে শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও বেসরকারিকরণের রাস্তাকে সুগম করা হচ্ছে। এক বছর স্নাতকোত্তর স্তরের সমস্ত ভর্তি বাতিল করার মানে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ কে ধ্বংস করা বলে আমরা মনে করি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এহেন সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি —
১) ২ বছরের মাস্টার্স ডিগ্রি কোর্স বন্ধ রাখা চলবে না।
২) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন করে স্নাতকোত্তরের পঠন পাঠন চালু রাখতে হবে।
৩) অবিলম্বে বেসরকারিকরণ, কেন্দ্রিকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণের নীল নকশা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
অন্যথা, শিক্ষা ধ্বংসকারী ও চূড়ান্ত ছাত্র স্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো।