26/11/2024
#সংবিধান_দিবস ✊✊ েম্বর
ভারতীয় সংবিধান প্রস্তাবনা
"আমরা, ভারতের জনগন, ভারতকে সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গনতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে এবং তার সকল নাগরিকেই যাতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সকলের মধ্যে যাতে ভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে উ
ওঠে তার জন্য সত্যিনিষ্ঠার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করে, আমাদের গনপরিষদে আজ, ১৯৪৭ সালের ২৬শে নভেম্বর, এতদ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ, বিধিবদ্ধ এবং নিজেদের অর্পণ করছি।"
ভারতীয় সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ
#জাতীয়_সম্পদ
নাগরিক অধিকার (Article- 5)
বাক স্বাধীনতা (Article- 19)
শিক্ষার অধিকার (Article- 21A)
সাম্যের অধিকার (Article- 15)
বিচার ব্যবস্থা (Article- 14)
ভোটের অধিকার (Article- 326)
নির্বাচন ব্যবস্থা (Article- 324)
ST,SC,OBC সংরক্ষণ (Article- 335)
ব্রিটিশ-পরবর্তী ভারতে নতুন সংবিধান রচনার জন্য 1946 সালে একটি গণপরিষদ গঠন করা হয়েছিল।সেই পরিষদের সভাপতি করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদকে।আর মূল সংবিধান রচনার জন্য গঠন করা হয়েছিল একটি খসড়া-কমিটি বা ড্রাফটিং কমিটি।এই কমিটিতে সাতজন ছিলেন।কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল আম্বেদকরকে।নানা কারণে কমিটির অন্য সদস্যরা সংবিধান রচনার দায়িত্ব পালন করতে পারেন নি।একক ভাবেই সব দায়িত্ব পালন করেছিলেন আম্বেদকর।সংবিধান প্রস্তুত করার পর 1949 সালের শেষদিকে বেশ কিছু দিন সেই খসড়া সংবিধান নিয়ে গণপরিষদে চুল চেরা আলোচনা,সংযোজন-বিয়োজন ইত্যাদি হয়।শেষপর্যন্ত খসড়া সংবিধানের চূড়ান্ত কপি 1949 সালের 26 নভেম্বর তারিখে সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের হাতে তুলে দেন আম্বেদকর।ওইদিনই নতুন সংবিধান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় গণপরিষদ।এবং ঘোষণা করা হয়--আগামী 26 জানুয়ারি 1950 তারিখ থেকে নতুন সংবিধান মোতাবেক দেশ পরিচালিত হবে।সেই মত 26 নভেম্বর তারিখকে বলা হয় গণপরিষদ কর্তৃক সংবিধান গ্রহণ-দিবস এবং 26 জানুয়ারি 1950 তারিখকে বলা হয় সাধারণতন্ত্র দিবস বা সংবিধান কার্যকরী-দিবস।
নতুন সংবিধানে যা ছিল--
(১)দেশের সব নাগরিকের সব বিষয়ে সমান অধিকার।ধর্ম,জাত,লিঙ্গ, ভাষা,খাদ্য,পোশাক,শিক্ষা বা অন্যান্য তফাৎ গত কারণে কোনো প্রভেদ থাকবে না।অর্থাৎ অভিশপ্ত জাতিভেদ প্রথা খতম করার প্রস্তাব ছিল সংবিধানে।রাজনীতিতেও ছিল সমান অধিকার।
(২)জাতিভেদ প্রথা খতম করার জন্য বিয়েতে জাতিভেদ প্রথা মেনে না চলার প্রস্তাব ছিল সংবিধানে।
(৩)নতুন সংবিধানে প্রস্তাব ছিল কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস যুক্ত ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দেশকে বৈজ্ঞানিক শিক্ষার দ্বারা মুক্ত করতে হবে।তবে আপাতত কে কোন ধর্ম পালন করবে বা করবে না সে বিষয়ে রাষ্ট্র নাক গলাবে না।
(৪)নতুন সংবিধানে দেশের ব্যক্তি মালিকানাধীন সমস্ত জমি ও সংস্থার রাষ্ট্র-করণ নীতি ছিল।সমাজ তন্ত্রের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব ছিল।
(৫)গরিব,শ্রমিক,মজুর,অস্পৃশ্য,তফসিলি,নারী ইত্যাদি মানুষের উন্নয়নের জন্য পৃথক ব্যবস্থা ছিল সংবিধানে।
কিন্তু ঘটনা হলো---
ব্রিটিশ-পরবর্তী ভারতবর্ষে সেই সংবিধানের 99% আজও কার্যকরী হয় নি। উল্টে সব ধ্বংস করা হচ্ছে। ভারত আজও ধর্মীয় জাতপাত ও কুসংস্কারে ডুবে আছে। দেশের সম্পত্তি ক্রমশ ব্যক্তি মালিকের হাতে চলে যাচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন।ধর্মীয় মেরুকরণের মধ্য দিয়ে ভারত ক্রমশ মধ্য যুগে চলে যাচ্ছে।
কাজেই এই সংবিধান-দিবস তাই নিছক সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। ভারত-বিরোধী ও দেশ-দ্রোহী শক্তির দ্বারা দেশের সংবিধান আজ বিপন্ন। আজও ভারতের এক শতাংশ মানুষের কাছে সংবিধানের বক্তব্য পৌঁছায় নি। রাজনৈতিক দল ও ক্ষমতাসীন সরকার গুলো কিছু ক্ষমতালোভী ব্যক্তির আখড়া হয়ে গেছে। তারা ব্যক্তি স্বার্থে কাদা ছোঁড়া ছুঁড়ি করে মানুষকে হিংসার পথে ঠেলে দিয়ে রাজনীতি করছে আর ধর্মীয় মেরুকরণ করে রাজনীতি করছে। সাধারণ মানুষ আজ বিপন্ন অথচ নানা কারণে তারা সে বিষয়ে সচেতন নয়।
তাই প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে বিশেষ অনুরোধ আপনারা প্রত্যেকেই সংবিধান পড়ুন, জানুন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন।
তথ্য- দিলীপ গায়েন
জহাইর 🙏🙏🙏