07/05/2022
জিয়াগঞ্জ - আজিমগঞ্জ পৌরসভা রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান করছে। ভালো কথা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে, এটাও ভালো কথা। তাহলে খারাপটা কি? — বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুতেও রাজনীতি! সর্বসাধারণ বিভাগের অঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয় - কন্যাশ্রী। এতো বিষয়বস্তু থাকতে পৌরসভার এটাই ঠিক মনে হয়েছে, কারণটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। ক্যুইজ প্রতিযোগিতা একসময় জিয়াগঞ্জ - আজিমগঞ্জে নিয়মিত হত। ক্যুইজ পরিচালনার গুণমান ছিল দেখার মতো, বিষয়ভিত্তিক ক্যুইজ হলেও কোনোদিন “ বাংলা উন্নয়নের পথে ” শীর্ষক সরকারের গৃহীত প্রকল্প নিয়ে ক্যুইজ দেখিনি। জিয়াগঞ্জ - আজিমগঞ্জে সিপিএম ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনোদিন কোনো জনমুখী প্রকল্পের এরকম বিজ্ঞাপন দেয়নি। তাৎক্ষণিক বক্তৃতার ক্ষেত্রেও এক বিষয়। বিতর্কও না, যে সমালোচনা হবে, তর্ক হবে। সরকার বাধ্য করছে সেই প্রকল্প গুলো প্রমোট করতে। প্রতিযোগীরা অনিচ্ছুক হলেও প্রতিযোগিতার স্বার্থে বলতে বাধ্য হবেই।
বিশ্বাস করুন, এরকম বিজ্ঞাপন বামফ্রন্ট সরকারকে কোনোদিন দিতে হয়নি। প্রয়োজন পড়েনি। যে কন্যাশ্রীকে জিয়াগঞ্জ - আজিমগঞ্জ পৌরসভা প্রমোট করতে চাইছে, সেই কন্যাশ্রী প্রকল্প ডাহা ফেল করেছে। তথ্য দিয়ে দেখাতে পারি, ছাত্রীদের মধ্যে গত কয়েক বছরে ড্রপ আউটের সংখ্যা বেড়েছে। রাজ্যে ধর্ষণ বেড়েছে, নারী নির্যাতন বেড়েছে। রাজ্য সরকার পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে নির্যাতিতাকেই কটাক্ষ করেছে, ধর্ষিতাকেই কুকথা বলেছে, ধর্ষণকে ‘ পেটি ম্যাটার ’ বলে এড়িয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের দুস্টু ছেলেদের নির্দ্বিধায় ধর্ষণের লাইসেন্স দিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো। তারপর পৌরসভার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বন্দোবস্ত করছে। তাও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে তুলে ধরে! এদের সাহসটা ভেবেছেন?
তবু জিয়াগঞ্জের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এসবের বিরোধিতা করবেনা, নির্দ্বিধায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে। চমৎকার! আপনাদের দেখেও কষ্ট হয়।
যায় হোক, ভালো করে রবি ঠাকুরের জন্মদিনে বিজ্ঞাপন দিন। একদিন আমরাও আপনাদের শেষ হওয়ার বিজ্ঞাপন দেবো।