12/05/2026
সবেমাত্র মাধ্যমিক, ২০২৬ এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। জটেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় এর কৃতী ছাত্র স্বরূপ কন্ঠ আমাদের সবাইকে গর্বিত করে মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে নিয়েছে। আর এই অসাধারণ রেজাল্টের উচ্ছ্বাসে ঢেকে গিয়েছে একটা অসম লড়াইয়ের গল্প। হ্যাঁ, গল্প হলেও সত্যি! সবেমিরা ইয়াসমিন। জটেশ্বর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এর এই মাতৃ-পিতৃহীন ছাত্রীটি মামার সংসারে বেড়ে উঠেছে।প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প আয়েও তার মামা নিজের দুই মেয়ের সাথে বোনের মেয়েটিকেও আদরে যত্নে বড় করেছেন। হয়তো প্রাচুর্যে পারেননি, তবুও আন্তরিকতায় পেরেছেন। তবুও বাবা-মায়ের ছত্রছায়ার অভাব তো কেউ পূরণ করতে পারেন না।মেয়েটি স্বভাব উদাসী ছিলো, কখনো দেখেছি হতাশা ওকে গ্রাস করছে।কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইটা থামায়নি।স্কুলের শিক্ষিকাদের কাছে,আমার কাছে মনের কথা শেয়ার করেছে,আমাদের কাছে মনোবল পেয়ে নতুন উদ্যম নিয়ে পড়ায় মনোনিবেশ করেছে।জানতাম, এর ফল মিলবে।সকাল বেলা স্টাফ মিঠুন যখন রেজাল্ট সংগ্রহ করতে গেলো, ওকে পার্মিশান দিয়েছিলাম কালেকশান সেন্টারেই প্যাকেট খুলে স্কুলের রেজাল্ট দেখে জানাতে।না,সবেমিরা আমাদের নিরাশ করেনি।৬৭৯ পেয়ে স্কুল টপার হয়েছে সে।জীবন বিজ্ঞানে ১০০,বাংলায় ৯৮ -- এই পরিসংখ্যানগুলো ওর মেধাকে চিনিয়ে দেয়।আর পাঁচটা ছাত্র-ছাত্রীদের মতো তুলনামূলক সুস্থ জীবন পেলে হয়তো জটেশ্বরবাসী জোড়া সাফল্যের স্বাদ পেতেন। তবে সবেমিরা ব্লকে ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম হয়েছে,জেলায় ছাত্রীদের মধ্যে যুগ্মদ্বিতীয়(যতটা জেলার ফলাফল জানতে পেরেছি) --এই পরিসংখ্যানটা সাধারণ মানুষ তো অবশ্যই, সংবাদ মাধ্যমও হয়তো খোঁজ রাখেনি।শুধু তাইই নয় জটেশ্বর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে দশম স্থানাধিকারী ছাত্রীটিও ৫৫১ পেয়েছে যা অনেক স্কুলের টপারের থেকেও বেশী। এসবের খোঁজ কেউ রাখেনি।স্কুল কর্তৃপক্ষ যখন ছাত্রীদের মোবাইল আটকে রাখে,কিছু দুর্বৃত্ত প্রধান শিক্ষিকার ওপর চড়াও হয়,সাংবাদিক চলে আসেন পোড়া গন্ধ পেয়ে।অথচ, জটেশ্বর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় যখন সুগন্ধ ছড়ায়,তার আঘ্রাণ নিতে কেউ আসেন না। এইসব অবহেলার ওপর প্রলেপ লাগিয়ে দেয় সবেমিরা, পিউল,গৌরিকাদের রেজাল্ট। তোদের জন্য তোদের বিদ্যালয় গর্বিত। নাই বা থাকুক প্রচারের আলোর ঝলকানি, তোদের সাফল্যে তোদের বিদ্যালয় আজ আলোকিত।