12/06/2025
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শ্রী জ্ঞানেশ কুমার স্টকহোম আন্তর্জাতিক নির্বাচনীয় সততা সম্মেলনে তাঁর ভাষণে ভারতের নির্বাচনী সততা, বিশালতা ও বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরলেন
ভারতের নির্বাচনী স্বচ্ছতা,নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, মাত্রা এবং বৈচিত্র্য তুলে ধরে, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শ্রী জ্ঞানেশ কুমার গত সন্ধ্যায় সুইডেনে স্টকহোম আন্তর্জাতিক নির্বাচনী অখণ্ডতা সম্মেলনে তার মূল বক্তব্য প্রদানকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলির (EMB) সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ সততার সাথে নির্বাচন পরিচালনা আমাদের জাতীয় সংকল্পের প্রমাণ। প্রায় ৫০টি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলির (EMB) প্রতিনিধিত্বকারী ১০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন, যা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (আন্তর্জাতিক আইডিইএ) দ্বারা আয়োজিত হচ্ছে।
শ্রী জ্ঞানেশ কুমার সন্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের ভারতীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত বিশাল নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পর্কেও অবহিত করেন, বিশেষ করে সংসদীয় নির্বাচনের সময়, যা রাজনৈতিক দল; প্রার্থী; জনসাধারণ, পুলিশ ও নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমের নিবিড় পর্যবেক্ষণে পরিচালিত হয়, যারা, বিভিন্ন পর্যায়ে সমসাময়িক নিরীক্ষকদের মতো কাজ করে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভারতের নির্বাচনের পরিচালনার পেছনে যে সমন্বয়ের বিশালতা রয়েছে, তাও তুলে ধরেছেন | নির্বাচন পরিচালনার সময় পোলিং কর্মী, পুলিশ বাহিনী, পর্যবেক্ষক এবং রাজনৈতিক দলের এজেন্ট সহ ২ কোটিরো বেশি কর্মী নিয়ে, নির্বাচন কমিশন বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থায় পরিণত হয়, যা বেশ কয়েকটি জাতীয় সরকার এবং প্রধান বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক সংস্থার সম্মিলিত কর্মীবাহিনীকে ছাড়িয়ে যায় এবং নিশ্চিত করে যে ভারতের প্রায় ১০০ কোটি ভোটার অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে ।
এই বিশ্ব মঞ্চে তাঁর ভাষেণে , শ্রী জ্ঞানেশ কুমার ভারতের নির্বাচনের বিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কীভাবে বিগত কয়েক দশক ধরে এই নির্বাচনী ব্যবস্থা ক্রমাগত জটিলতা সামাল দিয়ে সংবিধানিক মূল্যবোধে দৃঢ়ভাবে অটল থেকেছে। ১৯৫১-৫২ সালে ১৭.৩ কোটি ভোটার থেকে ২০২৪ সালে ৯৭.৯ কোটি ভোটারে পৌঁছানো এবং শুরুর বছরে মাত্র ০.২ লক্ষ ভোটকেন্দ্র থেকে আজ ১০.৫ লক্ষেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে উন্নীত হওয়া – এই যাত্রা ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দূরদর্শিতা এবং অতুলনীয় পরিসরের প্রমাণ।তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৭৪৩টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ৬টি জাতীয় দল, ৬৭টি রাজ্যীয় দল এবং অন্যান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৬২ লক্ষ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ২০,২৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ এবং নিরাপদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশনের সক্ষমতা পুনর্ব্যক্ত করে।
শ্রী জ্ঞানেশ কুমার তাঁর ভাষণে ১৯৬০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চলে আসা বার্ষিক প্রথার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রতি বছর ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় এবং নির্বাচনের আগে ভারতের স্বীকৃত সকল রাজনৈতিক দল কে আইনানুগভাবে ভোটার তালিকা প্রদান করা হয় । দাবী, আপত্তি ও আপিলের সুযোগসহ এই প্রক্রিয়া বিশ্বের অন্যতম কঠোর ও স্বচ্ছ অনুশীলনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা ও সততা নিশ্চিত করে। তিনি আরও বলেন, এই শক্তিশালী ব্যবস্থা দেশের সর্বত্র বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভারতীয় নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি প্রথমবারের ভোটার, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণ নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি (দিব্যাঙ্গ), তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এবং দূর্গম অঞ্চলের ভোটারদের প্রতিও সমান যত্ন ও প্রতিশ্রুতি সহকারে সেবা প্রদান করে। একটি মাত্র ভোটার নিয়ে গঠিত ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে হিমাচল প্রদেশের তাশিগ্যাং-এর মতো সর্বোচ্চ উচ্চতার কেন্দ্রগুলি পর্যন্ত, কোনো ভোটারকে বাদ না দেওয়ার ভারতের প্রতিশ্রুতি একটি পরিবহনগত চ্যালেঞ্জের পরিবর্তে একটি সাংবিধানিক নীতি হিসেবে পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে, শ্রী জ্ঞানেশ কুমার মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, মলদোভা, লিথুয়ানিয়া, মরিশাস, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন । এই বৈঠকগুলিতে ভোটারদের অংশগ্রহণ, নির্বাচনী প্রযুক্তি, প্রবাসী ভোটদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।