09/04/2023
তেলুয়া ও ভালিয়া ( সংক্ষেপে তেলাে ও ভেলাে) দুটি পাশাপাশি গ্রাম। দুই গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠই তেলােভেলাের মাঠ। ভালিয়ার পাশ দিয়েই বাস রাস্তা আর এখানেই ডাকাত কালীর মন্দির, তবে এটি ডাকাতদের দ্বারা নির্মিত নয় যদিও এখানে পূজো চড়িয়েই তারা বেরুতাে শিকারের সন্ধানে। মা সারদা এই মাঠে ডাকাতের কবলে পড়েন, আর সেই ঘটনার পর এই মন্দিরও বিখ্যাত হয়ে যায়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষদিকে মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে বর্ধমানের রাজারা এখানে জমি দান করেন এবং গ্রামের মােড়লরা স্বপ্নদর্শে এই স্থানে মন্দির স্থাপন করে। সেই থেকে ঐ একই মূর্তি পুজো হয়ে আসছে আজও। এখনাে কালী পুজোর দিন গ্রামের মােড়লদের পুজো হবার পর বাকি লােকোদের পুজো শুরু হয়।
প্রায় একশো বছরের আগের কথা, তখন মানুষ পায়ের হেঁটে যাওয়া আসা করতেন।সারদা মা পায়ে হেঁটে কামারপুকুর থেকে দক্ষিণেশ্বরে যেতেন। তখন পথে ডাকাতি র ভয় লেগে থাকতো, আর ডাকাতের জন্য বদনাম তেলো ভেলোর মাঠ পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা সকলে সন্ধের আগএ। সঙ্গীরা এগিয়ে গেলেও মা সারদা হাঁটতে পারছিলেন না,হাঁটা পথে ক্লান্তিতে। ফলে পিছিয়ে পড়েন। মা বলেন, তারকেশ্বরে গিয়ে ওঠো সেখানেই তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে।ডাকাতের ভয়ে সঙ্গীরা তাঁকে ফেলে এগিয়ে যান। কামারপুকুর থেকে আরামবাগ আট মাইলের পথ ছিল জলা-জঙ্গল। সেদিন সারদা মায়ের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে, শরীরে ব্যথা। এমন সময় হাড় হিম করা চিৎকার। দৈত্যের মতো কালো চেহারার এক প্রকাণ্ড মানুষ লাঠি ঠুকে এসে মায়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়। তার মাথায় ঝাঁকড়া চুলের গোছা, হাতে পায়ে লোহার বালা, কপালে রক্ততিলক। আচমকা এমন রূপ দর্শনে মা চমকে উঠেন। বুঝতে পারেন, তিনি ডাকাতদের কবলে পড়েছেন। কেউ বলেন সেই ডাকাত সর্দারের নাম ছিল সাগর সাঁতরা। অনেকে তাঁকে ভীম ডাকাত বলেন। কর্কশ গলায় মাকে প্রশ্ন, কে তুই? কোথায় চলেছিস? মা বললেন, আমি তোমার মেয়ে গো বাবা, সারদা। দক্ষিণেশ্বর যাচ্ছি তোমার জামাইয়ের কাছে। বিচলিত না হওয়া গলায়, মায়ের এমন উত্তর শুনে মন গলে গেল ডাকাতের। সেই সময় মা সারদা জগতজননী ও রামকৃষ্ণকে স্মরণ করেন। হঠাৎ এক অলৌকিক আলোতে ভরে যায় তেলোভেলোর মাঠ। মা অনুভব করলেন, যেন জগতজননী এসে দাঁড়িয়েছেন পাশে।ডাকাত হাঁ করে সারদাদেবীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল পেছনে হাতে খড়্গ নিয়ে দাঁড়িয়ে মা কালী। তখন ডাকাত সর্দার ভীম এসে মায়ের হাত দুটো ধরেন। মা বলেন, সঙ্গীরা সবাই এগিয়ে গিয়েছে। আমি তো হাঁটতে পারছি না। ভাগ্যে তোমরা এলে। না হলে এই মানুষশূন্য পথে ভয় লাগছিল। ততক্ষণে এগিয়ে এসেছেন ডাকাতের স্ত্রীও। সারদা মাকে একরকম জোর করেই নিয়ে যান বাড়িতে।
সেই সরল প্রাণের