22/08/2026
ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের "বাবুয জাহির" বা "জাহির গেট"!
‘বাবুয্ জাহির’ দারুল উলুম দেওবন্দের চারটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারের অন্যতম। এটি শুধু একটি প্রবেশদ্বার নয়; বরং দারুল উলুম দেওবন্দের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
হাকীমুল ইসলাম হযরত মাওলানা কারী মুহাম্মদ তায়্যিব সাহেব কাসেমী রহ.-এর মহত্মিম থাকাকালীন সময়ে এই ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বারটি নির্মিত হয়। আফগানিস্তানের বাদশাহ মুহাম্মদ জাহির শাহ মরহুম এর নির্মাণকাজে আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। তাঁর নামের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই এর নাম রাখা হয় ‘বাবুয্ জাহির’।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৩৫৯ হিজরি, মোতাবেক ১৯৪০ সালে দারুল হাদিসের সামনের পশ্চিম পাশে এই প্রবেশদ্বারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দারুল উলুম দেওবন্দ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি স্মৃতিচিহ্ন প্রতিষ্ঠা করা।
এই প্রবেশদ্বারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শূরার সদস্য নওয়াব সদর ইয়ার জং হযরত মাওলানা হাবিবুর রহমান শিরওয়ানী রহ.-কে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম হাকীমুল ইসলাম হযরত মাওলানা কারী মুহাম্মদ তায়্যিব সাহেব কাসেমী রহ. স্বয়ং হাবিবগঞ্জ, আলীগড়ে গিয়েছিলেন।
নির্ধারিত তারিখে হযরত মাওলানা হাবিবুর রহমান শিরওয়ানী রহ. দারুল উলুম দেওবন্দে উপস্থিত হন এবং অসংখ্য আলেম ও ছাত্রের উপস্থিতিতে তাঁর হাতেই ‘বাবুয্ জাহির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
তিনতলা বিশিষ্ট এই দৃষ্টিনন্দন ভবনে ছিল একাধিক কক্ষ ও পাঠদানকক্ষ। এর আয়তন ছিল প্রায় ৫৪ × ৪২ বর্গফুট। এছাড়াও এর প্রাঙ্গণে ২৪টিরও বেশি ছোট-বড় কক্ষ ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে দারুল উলুমের ছাত্রদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়া ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অত্যন্ত দুর্বল ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এর ছাদের একটি অংশও ধসে পড়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দারুল উলুম দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এই ঐতিহাসিক ভবন ও প্রবেশদ্বারটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিঃসন্দেহে, ইতিহাসের একটি স্মৃতিচিহ্নের এভাবে বিলুপ্তি দারুল উলুম দেওবন্দের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখা এবং ইলমপ্রেমী প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক মুহূর্ত। 😢
ইতিহাসের এক সুন্দর স্মৃতি আজ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে।