29/01/2024
**বইমেলার গণতান্ত্রিক মুক্ত চিন্তার পরিসর রক্ষা করতে জোট বাঁধুন**
গতকাল যাদবপুর কমিউনের প্রীতিলতার পাঠশালা, আশু তিমিরের পাঠশালা ও ভগৎ সিং-এর পাঠশালার পড়ুয়া ও শিক্ষক শিক্ষিকারা তাদের পত্রিকা 'চরকি' ও ফিলিস্তিনের বাচ্চাদের উপর নেমে আসা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাঠশালার বাচ্চাদের আঁকা কিছু পোস্টার নিয়ে বইমেলায় লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের সামনে বসলে তাদের উপর আক্রমণ চালায় ইসকন, শপিজেন বাংলা এবং গিল্ড কর্তৃপক্ষ। পয়সা দিয়ে স্টল বুক করা হয়নি বলে বের করে দেওয়া হয়। একই সাথে, ফিলিস্তিনের মুক্তির দাবিতে পোস্টার রাখায় তাদের বলা হয় তারা শিশুদের নিয়ে ব্যবসা করছে, ব্যবভার করছে। পাঠশালার পড়ুয়াদের ধমকিয়ে, হুমকি দিয়ে, শিক্ষকদের মেরে ধরে বের করা হয় মেলা প্রাঙ্গণ থেকে।
এই ঘটনার কিছু আগেই বইমেলা প্রাঙ্গণে বন্দী মুক্তির দাবিতে একটি মিছিল করায় আরএসএফের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মারধর করে বিধান নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের পত্রিকায় বন্দী মুক্তির কথা কেন আছে তাই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
কিছুদিন আগেই মনফকিরার স্টলে ফিলিস্তিনের সংহতিতে একটি পোস্টার থাকায় সেখানে হামলা চালায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। গিল্ড কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ।
এর আগেও আমরা দেখেছি এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের টুটি চিপে ধরা হয়।
যে বইমেলা ঐতিহাসিক ভাবে সাক্ষী থেকেছে বহু প্রতিবাদ, প্রতিরোধের, যেখানে নানান প্রতিরোধের সাহিত্য জায়গা করে নেয়, সেই বইমেলার গণতান্ত্রিক পরিসরে একের পর এক হামলার প্রতিরোধে, বইমেলার মুক্ত চিন্তা পরিসরকে জিইয়ে রাখতে, বইয়ের উপর চলা নজরদারির বিরুদ্ধে, প্রতিবাদের অধিকার বুঝে নিতে আমরা আজ গিল্ড কর্তৃপক্ষকে একটি ডেপুটেশন দিতে যাবো। আমরা সমস্ত গণগতন্ত্র প্রেমী মানুষদের, সমস্ত সংগঠনদের, সমস্ত পত্র পত্রিকার কমরেডদের আওহবান জানাচ্ছি এই প্রতিবাদে সামিল হতে। গতকাল বড়দের ওই চোখ রাঙানির সামনেও পাঠশালার ক্ষুদেরা প্রতিরোধের গান গেয়েছে। আসুন ছোটদের সেই প্রতিরোধের সংহতিতে আমরাও পথে নামি, বইমেলা যে শুধু হিন্দুত্ববাদী ও পয়সাওয়ালাদের কথায় চলবেনা সেইটা বুঝিয়ে দিই।
২৯ শে জানুয়ারি, বিকেল ৫.৩০, লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন।