26/06/2026
গতকাল, ২৫ জুন,
কলকাতাবাসী এক ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মুহুর্মুহু বজ্রপাত, প্রবল বৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতায় শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ডুবে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে খোলা আকাশের নিচে কোনো নির্মাণকাজ চালানো বাস্তবসম্মত ছিল না।
কিন্তু আমাদের ১১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি সমর্থক শ্রীমতী রাখি চ্যাটার্জী 45 বিনোভা ভাবে রোডের একটি নির্মীয়মাণ কমপ্লেক্সের ভিডিও ২৫ জুন প্রায় রাত ১১:৩০ টায় ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে সেখানে কাজ চলছিল। ভিডিওটিতে রৌদ্রোজ্জ্বল ও সম্পূর্ণ শুকনো পরিবেশ দেখা যাচ্ছে, কোথাও জলাবদ্ধতার কোনো চিহ্ন নেই। আমার ধারণা, এটি গতকালের নয়, বরং আগের কোনো দিনের তুলে রাখা ভিডিও। কারণ অত্যাধিক বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ায় কোনো শ্রমিকের ওখানে কাজ করা সম্ভব নয়। আমি নির্মাণ স্থলে খবর নিয়ে জানতে পারি যে আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ আসার পরেই নির্মাণ কার্য্য বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পরের দিন সকালে ২৫ শে জুন ওনারা বিভিন্ন সরঞ্জাম যা নির্মাণ স্থলে ছিল তাও কিছু লোক লাগিয়ে সরিয়ে নেন । ঠিক তার পরেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।আর নির্মাণ স্থলটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে।নিশ্চই এর মধ্যে আর কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। আমার কাছে গতকালের একই নির্মাণস্থলের ভিডিও রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পুরো এলাকা জলমগ্ন । সেই ভিডিওটিও আমি পোস্ট করছি।
জনগণের কাছে আমার অনুরোধ, দুটি ভিডিও দেখে নিজেরাই সত্যতা বিচার করুন। তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার করা উচিত নয়।
বেশ কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি, ফেসবুকসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন মাধ্যমে শ্রীমতী রাখি চ্যাটার্জী ও আরও কয়েকজন ১১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৫, বিনোবা ভাবে রোডের একটি আবাসন নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আমার নাম (বর্তমানে প্রাক্তন কাউন্সিলর) জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রচার করছেন।
তাদের প্রকাশিত ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, এই নির্মাণকাজের বিষয়ে তারা বহুবার আমাকে জানিয়েছেন। এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। এ বিষয়ে আমার সঙ্গে তাদের কোনো মৌখিক আলোচনা হয়নি এবং আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি।
যদি তারা কলকাতা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি কোনো অভিযোগপত্র জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে সে বিষয়ে আমাকে কোনো ভাবে অবহিত করা হয়নি।
জনসাধারণের কাছে আমার অনুরোধ, কোনো তথ্য বা অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর প্রচারে বিশ্বাস করবেন না। সত্য তথ্যের ভিত্তিতেই মতামত গঠন করুন। নির্মাণকাজ চলাকালীন এলাকার কিছু বাসিন্দা আমাকে মৌখিকভাবে কয়েকটি সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি সংশ্লিষ্ট বরো ১৩ বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করি এবং বিভাগ তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
অভিযোগকারিণীর পোস্ট করা ভিডিওতে একজন বাসিন্দাকে বলতে শুনলাম যে সেখানে নাকি ৪০ তলা ভবন নির্মাণ হতে চলেছে। কিন্তু আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যে তথ্য জেনেছি, তাতে অনুমোদিত নির্মাণে G+১৯ পর্যন্ত ছাড়পত্র আছে।অর্থাৎ এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়াও, নির্মাণকাজ চলাকালীন যদি কোনো নাগরিক প্রকৃতপক্ষে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে আমাকে লিখিত অভিযোগ জানাতেন, তাহলে আমি অবশ্যই সেই অভিযোগ যথাযথ দপ্তরে পাঠাতাম। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তো বটেই, একজন মানুষ হিসেবেও আমি কখনোই চাই না কোনো নাগরিকের কোনো ধরনের ক্ষতি বা অসুবিধা হোক।
আমি সকলের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই—কোনো ওয়ার্ডে নির্মাণকাজের বৈধ অনুমোদন বা স্যাংশন কি ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদান করেন? নিশ্চয়ই নয়। এই ধরনের আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেই প্রদান করে।
যেখানে বলা হচ্ছে, ওই এলাকায় একাধিক পুকুর ছিল, সেক্ষেত্রেও অনুমোদন দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে বলেই ধরে নেওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে বরো ১৩ বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট থেকে যে তথ্য পেয়েছিলাম,তাতে জানা গেছিল যে বৈধ অনুমোদন নিয়েই নির্মাণকাজ চলছে।সুতরাং এক্ষেত্রে কাউন্সিলর হিসাবে আমার কি করনীয়??ওয়ার্ডের যেকোনো নির্মাণ কাজের সাথে বারংবার **কাউন্সিলরের মদতে কথাটি** ব্যবহার করার অর্থ কি???বোঝাই যাচ্ছে যে এই সম্পূর্ণ জিনিসটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই এইভাবে কাউন্সিলরের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা ও প্রযোজ্য নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
সবশেষে আমার বিনীত অনুরোধ, অহেতুক আমার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য প্রচার করবেন না। কোনো বিষয়ে মত প্রকাশের আগে অনুগ্রহ করে তথ্য যাচাই করুন। সত্য ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, বিভ্রান্তি নয়।
শ্রীমতী কাকলি বাগ
প্রাক্তন পৌর প্রতিনিধি
১১৯ নং ওয়ার্ড