বার্তা -Barta

বার্তা -Barta Friends, here you can find so many articles, which we have to know for our better future

07/06/2026

ব্যান কালচারে চার্লি চ্যাপলিন থেকে দেব আনন্দ, পিট সিগার থেকে কিশোর কুমার, তাহলে আমীর খান থেকে অনির্বাণ হলে সমস্যা কোথায়?

চার্লি চ্যাপলিন। ব্যান হয়েছিলেন। ভাবতে পারেন? দেখুন, তিনি কিন্তু কখনও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন না, তবু তাঁর চলচ্চিত্র তাঁকে সন্দেহের মুখে ফেলেছিল। “লিটল ট্র্যাম্প”-এর স্রষ্টা চ্যাপলিন “মডার্ন টাইমস”, “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” এবং “মসিয়ে ভেরদু” প্রভৃতি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পুঁজিবাদী ও শিল্পসমাজকে তীব্র ব্যঙ্গ করেছিলেন। ব্যাস সরকারি রোষানল শুরু হল।

অবস্থা এতদূর গড়িয়েছিল যে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(FBI) চ্যাপলিনের ওপর দুই হাজার পাতারও বেশি দীর্ঘ একটি নথি সংকলন করেছিল। ফলে ১৯৫২ সালে ব্রিটিশ নাগরিক চ্যাপলিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার জন্য ভিসা অব্দি পাননি। প্রতিবাদে, একমাত্র ১৯৭২ সালে অস্কার গ্রহণের জন্য সংক্ষিপ্ত সফর ছাড়া, চ্যাপলিন আর কখনও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখেননি।

এবার আসুন দেব আনন্দের কথায়। সাল ১৯৭৫। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং সঞ্জয় গান্ধী দেব আনন্দকে দূরদর্শনে এসে সরকারের জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার জন্য চাপ দেন। দেব আনন্দ অত্যন্ত নির্ভীকভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং স্বৈরাচারী নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।

ফলে কী হল? ইন্দিরা গান্ধী সরকার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল দূরদর্শনে দেব আনন্দের সমস্ত সিনেমা সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি সরকারি গণমাধ্যমে তাঁর নাম উচ্চারণ বা উল্লেখ করার ওপরও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এছাড়া তাঁর চলচ্চিত্র 'দেশ পরদেশ' তৈরির সময়েও সরকার পদে পদে বাধা সৃষ্টি করে।

প্রতিবাদে ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পর দেব আনন্দ চলচ্চিত্র জগতের কিছু মানুষকে জুটিয়ে 'ন্যাশনাল পার্টি অফ ইন্ডিয়া' নামে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং কংগ্রেসের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন।

পিট সিগার আর “দ্য উইভার্স” কে না জানে! এঁকে নিয়েও ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তদন্ত করে। পরে তাঁর নাম “রেড চ্যানেলস” নামের একটি প্রভাবশালী পুস্তিকায় প্রকাশিত হলে তাঁকে ব্ল্যাক লিস্টেড করা হয়। সিগারকে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান পরিবেশন থেকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং ১৯৫২ সালে “দ্য উইভার্স” তাদের রেকর্ডিং চুক্তি হারানোর পর ভেঙে যায়।

এছাড়া তিনি সরকারের একটি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার দশটি অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে সেই অভিযোগপত্র বাতিল হয়ে যায়, কিন্তু ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি কার্যত টেলিভিশন থেকে নির্বাসিতই থেকে গিয়েছিলেন।

কিশোর কুমারের সঙ্গেও একই গল্প। ১৯৭৬ সালের শুরুতে সঞ্জয় গান্ধীর নির্দেশে কংগ্রেস সরকার তাদের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচির প্রচারের জন্য দিল্লিতে 'গীতওঁ ভরি শাম' নামক একটি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে কিশোর কুমারকে সেখানে গান গাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হবেন না।

তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ভি. সি. শুক্লা রেগে গিয়ে অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং দূরদর্শনে কিশোর কুমারের সমস্ত গান বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন। তাঁর গানের ক্যাসেট ও গ্রামোফোন রেকর্ড বিক্রির ওপরও নজরদারি শুরু হয়। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র জগতের তীব্র প্রতিবাদ এবং মোহাম্মদ রফির মতো শিল্পীদের মধ্যস্থতায় সরকার এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়। নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে তাঁর প্রথম প্রচারিত গানটি ছিল “দুখী মন মেরে”।

এবার কংগ্রেস নয়, বিজেপি। গুজরাটের বিজেপি। ২০০৬ সালে মেধা পাটেকরের নেতৃত্বে চলা 'নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন'-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আমীর খান। নর্মদা নদীর ওপর তৈরি সর্দার সরোবর বাঁধের উচ্চতা বাড়ানোর ফলে যে হাজার হাজার আদিবাসী পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছিল, আমীর তাদের পুনর্বাসনের দাবিতে সোচ্চার হন।

ফলে বিজেপি এবং তাদের যুব সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা তাঁকে "গুজরাট-বিরোধী" ও "উন্নয়ন-বিরোধী" বলে তকমা দেয়। তারা দাবি করেছিল আমির খানকে গুজরাটের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করায় তাঁর নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'ফানা' গুজরাটে প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তীব্র সহিংস আন্দোলন শুরু হয়। প্রেক্ষাগৃহ ভাঙচুর করার হুমকি দেওয়ায় গুজরাট থিয়েটার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের সুরক্ষার্থে সিনেমাটি পুরো রাজ্যে স্ক্রিন করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে সিনেমাটি গুজরাটে এক প্রকার অঘোষিত সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল।

তাহলে তৃণমূলের কী দোষ? আর অনির্বাণ তো প্রথম বাঙালি নন যিনি ব্যান হলেন। ১৯৬৫ সালে উৎপল দত্ত বিখ্যাত রাজনৈতিক নাটক 'কল্লোল'-এর জন্য তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সরকার তাঁর ওপর খড়গহস্ত হয়েছিল। এমনকি তাঁকে গ্রেফতার করে প্রায় ৭ মাস প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি রাখা হয়েছিল। নকশালবাড়ি আন্দোলনের সমর্থনে লেখা তাঁর বিতর্কিত নাটক 'তীর'-এর কারণে ১৯৬৭ সালে তাঁকে আবারও গ্রেফতার করা হয়।

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি তিনটি নাটক লেখেন—ব্যারিকেড, দুঃস্বপ্নের নগরী এবং এবার রাজার পালা। কংগ্রেস সরকার এই তিনটি নাটকই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু উৎপল দত্ত তো দমে যাননি, তিনি কলকাতার প্রকাশ্য রাস্তায় 'স্ট্রিট থিয়েটার' বা পথনাটকের মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারী নীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যান।

সুতরাং অনির্বাণ যে পথ বেছেছেন, তিনি হালআমলেও ব্যান হতেই পারেন। যাই হোক, সময় বলবে কী হবে না হবে, আমার আপনার তো দম নেই, এঁর আছে। এখন আপনারা সালিশি সভা না বসিয়ে মনের কথা বলুন দিকি, এঁকে কি রাষ্ট্র ছাড়বে?

নাকি ইনি নিজের পথ বদল করতে পারবেন?

27/04/2026

১৮৪৮ সাল। অক্টোবর মাস।

আমেরিকার ভারমন্ট রাজ্যের একটা ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম — ক্যালাইস।

সেখানে সেদিন সকালটা শুরু হয়েছিল একদম সাধারণভাবে।

পাখি ডাকছে। ঘাসে শিশির। দূরে পাহাড়ের গায়ে কুয়াশা।

কেউ জানত না —
এই সকালটা ইতিহাস বদলে দেবে।

২৫ বছরের ছেলে। নাম Phineas Gage। আমাদের আজকের গল্পের নায়ক।

লম্বা। চওড়া কাঁধ। সবসময় হাসি মুখে।

রেলওয়ে Construction এর Foreman।
মানে — দলের নেতা। সেই দলের প্রাণ।

তার সম্পর্কে সবাই একটাই কথা বলত —

"Gage এলে মনে হয় সব ঠিক হয়ে যাবে। যত বড় সমস্যাই থাক।"

সালটা ৪৮, শীতের সকাল,
সেদিনও কাজ শুরুর আগে, সে হাসতে হাসতে বলেছিল —

"আজকের কাজ শেষ হলে জমিয়ে আড্ডা দেব, বন্ধুরা!😀"

কেউ ভাবতেও পারেনি — সেই আড্ডা আর কোনোদিন হবে না।

---

রেলওয়ে Construction এর এই কাজটা ছিল বিপজ্জনক।

পাহাড়ের বুকে গর্ত করো। ডিনামাইট ভরো।
তারপর লম্বা লোহার দণ্ড দিয়ে সেই গর্তে বারুদ চেপে দাও।

একটুও ভুল মানে — মৃত্যু।

তবে, আমাদের গল্পের নায়ক, Phineas এই কাজ হাজারবার করেছে।

সেদিনও করল। আর তারপরই...

হঠাৎ —
স্ফুলিঙ্গ।
এক মুহূর্ত।
বিকট বিস্ফোরণ।

আর সেই লোহার দণ্ড —
প্রায় ১ মিটার লম্বা, প্রায় সাড়ে ৩ ফিট ।
৬ কেজি ওজন ভারি —

তার বাম গালের নিচ দিয়ে ঢুকে
মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেল।


এটা আবার পড়ো।

নিজের হাতে ধরা লোহার দণ্ড — নিজের মাথার ভেতর দিয়ে চলে গেল।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই, সেই মুহূর্তে পাথর হয়ে গেল।😳

কেউ চিৎকার করল। কেউ মুখ ঢাকল। কেউ পালাল। এই দৃশ্য দেখে কেউ ওখানেই জ্ঞান হারালো।

আর Phineas মাটিতে পড়ে রইলো।
কিছুক্ষনের মধ্যে সবার একটাই ধারণা হল -Phineas মারা গেছে।

কিন্তু তারপর যা হলো — সেটা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজও সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মুহূর্ত।


The Miracle 🌿

মাটিতে পড়ে থাকা Phineas —

হটাৎ নড়ল। উঠে বসল।
তারপর —
নিজের পায়ে দাঁড়াল।

মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। মাংস ছিন্নভিন্ন। মাথার ওপর দিয়ে গেছে লোহার দণ্ড।
তবু সে হাঁটছে। কিছু লোক তখন তা দেখে ভাবল এটা Phineas এর ভূত নিঃসন্দেহে।

কিন্তু সে নিজেই হেঁটে ডাক্তারখানায় যাচ্ছে।

আর ডাক্তারের মুখের দিকে তাকিয়ে
হাসতে হাসতে বলল 😊—

"বুঝলে ডাক্তার, মনে হয় মাথায় একটু গর্ত হয়ে গেছে।"

ডাক্তার বাকরুদ্ধ।😳

যে মানুষের মাথার ভেতর দিয়ে আস্ত ভারি মোটা একটা লোহার রড চলে গেছে — সে এই অবস্থা তেও রসিকতা করছে।

অবাক হয়েও তড়িঘড়ি চিকিৎসা শুরু হল, জানা গেল —
বিস্ফোরণের জেরে সেই রড ঢুকে, তার মস্তিষ্কের সামনের অংশ —
Prefrontal Cortex —
প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

অথচ সে কথা বলছে। হাসছে। নিজের নাম বলতে পারছে।

বিজ্ঞানীরা এটাকে বললেন — অলৌকিক। Miracle

কিন্তু তারা জানতেন না, আসল রহস্য তখনও শুরু হয়নি।


রহস্য শুরু হলো এরপর

কয়েক মাসের চিকিৎসায় আমদের নায়ক Phineas শারীরিকভাবে সুস্থ হলো।

ক্ষত শুকাল। সে হাঁটতে পারছে। কথা বলতে পারছে। বাইরে থেকে বোঝার জো নেই।

সবাই ভাবল — সে আগের মতো হয়ে গেছে।

কিন্তু —

যারা তাকে চিনত —
তারা একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।

কারণ —

এই মানুষটা Phineas এর মতো দেখতে। কিন্তু এটা Phineas না।

যে ছেলেটা ছিল দলের প্রাণ — সে হয়ে উঠল কেমন বদমেজাজি।

যে ছেলেটা সবাইকে ভালোবাসত — সে হয়ে উঠল একা।

যে ছেলেটা কাজে কখনো ফাঁকি দিত না — সে কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলল।

সংযম নেই।
ধৈর্য নেই।
বিবেচনা নেই। কিচ্ছু নেই।

বন্ধুরা একে একে দূরে সরে গেল।

পরিবার হারিয়ে গেল।

আর তার সহকর্মীরা বলতে লাগল —

"Gage is no longer Gage."
"আমাদের প্রিয় Gage আর সেই Gage নেই।"

এখানেই বিজ্ঞান চমকে গেল। কারণ আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন —

মানুষের ব্যক্তিত্ব, বিবেক, নৈতিকতা — এগুলো আত্মার বিষয়। চরিত্র।
হৃদয়ের বিষয়।
শরীরের বাইরের কিছু বিষয়, যা তার চরিত্র নির্মাণ করে। হয়ত বা আত্মিক বিষয়।

কিন্তু Phineas এর ঘটনা
প্রথমবার দেখাল —

এগুলো আসলে সমস্তই মস্তিষ্কের কাজ।

Prefrontal Cortex —
মস্তিষ্কের সামনের এই ছোট্ট অংশটা — যেটা পশুদের প্রায় থাকেই না বললে চলে। সেইটা মানুষ কে 'মান' আর 'হুঁশ' দুটোই দেয়।

সিদ্ধান্ত নেওয়া।
রাগ সামলানো।
অন্যের কথা ভাবা। অন্যের দুঃখ বোঝা।
সঠিক-ভুল বোঝা।
ভবিষ্যৎ ভাবা।

এই সব কিছু এখানে থাকে।

এই অংশটা ক্ষতিগ্রস্ত হলে —
মানুষের "মানুষত্ব" বদলে যায়।

আর আমাদের নায়ক Phineas এর সাথে সেটাই হয়েছিল।

তার শরীর ছিল।
তার স্মৃতি ছিল। তার কথা বলার ক্ষমতা ছিল।

কিন্তু যে জিনিসটা তাকে
'সে' করে তুলেছিল —

সেটা চলে গিয়েছিল। লোহার দণ্ডের সাথে।
..
তারপর কেটে গেছে অনেক গুলি বছর,

আমাদের নায়কের জীবন এর শেষের দিন গুলি — এটাই সবচেয়ে কষ্টের

Phineas এর শেষ জীবন ছিল —
এক নিঃসঙ্গ পরিহাসের গল্প।

আজ আর
তার কাজ নেই।
বন্ধু নেই।
পরিবার নেই।

শহর থেকে শহর ব্যাথা নিয়ে ঘুরে বেড়াত। ব্যথা মাথায় না, মনে, সে জানে না কেন লোকেরা আর তাকে ভালোবাসচে না। কাজ দিচ্ছে না, যত্ন নিচ্ছে না। সে আজ বড্ড একা এত বড় পৃথিবীতে।

একসময় সার্কাসে যোগ দিল।

সেখানে —
নিজের মাথার গর্ত দর্শকদের দেখিয়ে টাকা রোজগার করত।

আর সবসময় সাথে রাখত
সেই লোহার দণ্ডটা।

যেটা তার মাথার ভেতর দিয়ে গিয়েছিল।

সেটাকে সে কখনো ছাড়েনি।

হয়তো সেটাই ছিল
তার পুরনো জীবনের
শেষ স্মৃতি।

দুর্ঘটনার ১২ বছর পর —
একা।
নিঃশব্দে।
দূরে কোথাও —

এক সময় কোনো এক বসন্ত বেলায়, কোনো এক অজানা রাস্তায় Phineas Gage মারা গেল।

কেউ খেয়াল রাখল না। কেউ ঘুরেও তাকালো না।

-

কিন্তু

আমি তোমাদের বলি,

Phineas Gage
সে মরেনি
আজও —

Harvard Medical School এ যদি তোমারা কখনও যাও, সেখানে এর Museum এ
একটা কাচের বাক্সে রাখা আছে —

তাতে একটা মাথার খুলি।
আর পাশে — একটা সাড়ে তিন ফুটের লোহার দন্ড, জেতার ওজন ছয় কেজি।
- হ্যাঁ এটা সেই লোহার দণ্ড।

তুমি দেখবে, আজও হাজার হাজার ছাত্র, গবেষক, বিজ্ঞানী প্রতিদিন সেটার সামনে দাঁড়ায়।

আর ভাবে।

Phineas এর গল্প আমাদের কী শেখায়

১. তুমি তোমার মস্তিষ্ক
তোমার ভালোবাসা।
তোমার রাগ।
তোমার বিবেক।
তোমার সংযম।

এগুলো আত্মায় থাকে না। মাথায় থাকে।

মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া মানে — নিজের যত্ন নেওয়া।

ঘুম দরকার। বিশ্রাম দরকার। শান্তি দরকার।

কারণ —
ক্লান্ত মস্তিষ্ক মানে ক্লান্ত মানুষ।
অসুস্থ মস্তিষ্ক মানে অসুস্থ জীবন। এক অস্থির আত্মা।

২. কেউ ইচ্ছে করে খারাপ হয় না

Phineas খারাপ মানুষ ছিল না। সে অসুস্থ ছিল।

তার Prefrontal Cortex ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।

তাই যখন কেউ বদমেজাজি হয়।
অসংযত হয়।
নিষ্ঠুর হয়।

সাথে সাথে রাগ করার আগে —
একটু ভাবো।

"এই মানুষটার মস্তিষ্কে কী হচ্ছে?"
"সে কী কষ্টে আছে?"
"তার মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ক্ষত আছে?"

বিচার করো না। বোঝার চেষ্টা করো।

৩. ব্যক্তিত্ব বদলানো যায়
এটা সবচেয়ে আশার কথা।
Prefrontal Cortex — এই অংশটা —
সারাজীবন বদলানো যায়। যদি না দুর্ঘটনায় সেটা নষ্ট হয়।

Neuroplasticity —
মস্তিষ্ক সারাজীবন নতুন সংযোগ তৈরি করে।

তার মানে —

তুমি যদি রাগী হও, মস্তিষ্ক অক্ষত থাকলে— বদলাতে পারো। তাই আজ থেকে bike চালালে হেলমেট পোড়ো, গাড়িতে বসলে বেল্ট বেঁধো।

তুমি যদি নেতিবাচক হও — বদলাতে পারো।

তুমি যদি সংযমহীন হও —বদলাতে পারো। শুধু মাথা অক্ষত থাকলেই হল।

প্রতিদিনের অভ্যাস
মস্তিষ্ককে নতুন করে লেখে।

Meditation। Gratitude। ভালো ঘুম। সঠিক খাবার। ভালো সম্পর্ক।

এগুলো শুধু "ভালো অভ্যাস" না।

এগুলো তোমার মস্তিষ্কের surgery।

---

সবচেয়ে গভীর কথা

Phineas Gage এর গল্প পড়ে অনেকে ভাবে —

"কী দুর্ভাগ্য।" কিন্তু আমি ভাবি —

কী সাহস। তাই সে আমার গল্পের নায়ক।

মাথার ভেতর দিয়ে লোহার রড গেছে। তবু উঠে দাঁড়িয়েছে। হেঁটেছে।
বেঁচেছে।

১২টা বছর।
একা।
নিঃসঙ্গ।
ভেঙে পড়া জীবন নিয়ে।

তবু বেঁচে ছিল।

এটাও শেখার।

মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা —
পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জিনিস।

কোনো লোহার দণ্ড সেটা নষ্ট করতে পারে না। আমাদের নায়ক সেটা দেখিয়ে দিয়ে গেছে।

আমার কাছে এত মানুষরা আসে তাদের সমস্যা নিয়ে, আমি তাদের বলি

আজকে তোমার জীবনে
হয়তো কোনো লোহার দণ্ড ঢোকেনি।

কিন্তু হয়তো —
কোনো কথা ঢুকেছে।
কোনো অপমান ঢুকেছে।
কোনো হারানো ঢুকেছে।
কোনো ব্যর্থতা ঢুকেছে।

আর সেটা তোমাকে বদলে দিয়েছে।

তুমি আর আগের তুমি নেই।

কিন্তু —

আমি তাদের বলি Phineas যদি উঠে দাঁড়াতে পারে —
তুমিও পারবে।

কারণ — তোমার মস্তিষ্ক এখনো বদলাতে পারে।
তোমার জীবন এখনো নতুন করে লেখা যায়।
তোমার ভেতরের মানুষটা
এখনো হারিয়ে যায়নি।

শুধু একটু যত্ন দরকার
একটু সময় দরকার।
একটু বিশ্বাস দরকার।

নিজের উপর। 🌸

Harvard এর museum এ আজও সেই খুলি আর লোহার দণ্ড রাখা আছে। Phineas চলে গেছে।
কিন্তু তাঁর গল্প প্রতিদিন হাজারো মানুষকে বলে —

"তুমি ভাবছ শেষ হয়ে গেছে।
আসলে এখনো শুরু হয়নি।"
😊

লেখা :Suprovo Kar ©

22/03/2026

আমি ওলা চালাই। বেশিরভাগই নাইট শিফট।
গত সপ্তাহে রাত এগারোটার সময় এক বৃদ্ধ ভদ্রলোককে তুলেছিলাম। সাদা পাঞ্জাবি, ধুতি, চোখে ক্লান্তি—কিন্তু গলায় অদ্ভুত দৃঢ়তা।
গাড়িতে উঠে বললেন,
“আজ রাতে আমাকে পাঁচটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। আমি তোমাকে ৫০০০ টাকা দেব। নগদ। কিন্তু শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন জানতে চেয়ো না।”
বলেই একটা কাগজ এগিয়ে দিলেন। তাতে পাঁচটা ঠিকানা লেখা।
প্রথম স্টপ
দক্ষিণ কলকাতার এক পুরোনো বাড়ি।
আমি গাড়ি থামালাম। তিনি নামলেন না। শুধু জানালার কাঁচ নামিয়ে তাকিয়ে রইলেন। দশ মিনিট।
চোখ বেয়ে জল পড়ছে, কিন্তু কোনো শব্দ নেই।
“চলো… পরেরটা।”
দ্বিতীয় স্টপ
একটা প্রাথমিক স্কুল। গেট বন্ধ। ভেতরে অন্ধকার মাঠ।
তিনি নেমে গেলেন। ধীরে ধীরে হেঁটে গেলেন দোলনার দিকে। একটায় বসে আস্তে আস্তে দোল খেতে লাগলেন।
কুড়ি মিনিট পর ফিরে এলেন।
“এখানে আমি পড়াতাম। তেতাল্লিশ বছর। জীবনের সেরা সময় ছিল ওটাই।”
তৃতীয় স্টপ
একটা ছোট পুরোনো কফি হাউস।
ভেতরে ঢুকে এক কাপ চা অর্ডার করলেন। কোণের টেবিলে একা বসে রইলেন। চায়ে হাতও দিলেন না। শুধু চারপাশে তাকিয়ে রইলেন।
পনেরো মিনিট পরে ফিরে এসে মৃদু হেসে বললেন,
“এখানেই আমার আর মিতালির প্রথম দেখা। ১৯৬৯ সাল।”
চতুর্থ স্টপ
নিমতলা শ্মশানঘাট।
তিনি নেমে গেলেন। চিতাভস্মের পাশে, একটা ফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে কথা বলতে লাগলেন। আমি শুনতে পেলাম না।
অর্ধঘণ্টা পরে ফিরে এলেন। চোখ লাল।
“আজ তিন বছর হলো ও চলে গেছে।”
পঞ্চম স্টপ
একটা বড় সরকারি হাসপাতাল।
গাড়ি পার্ক করতে বললেন। তারপর আমার দিকে তাকালেন।
“এবার কারণটা বলি। আমার চতুর্থ স্টেজ ক্যানসার। ডাক্তার বলেছে কয়েক সপ্তাহ… হয়তো কয়েক দিন। আজ আমি আমার পুরো জীবনটা শেষবারের মতো দেখে নিতে চেয়েছিলাম।”
আমি স্টিয়ারিংয়ে মাথা রেখে কাঁদতে শুরু করলাম।
তিনি বললেন,
“বাড়িটা—যেখানে আমার সন্তানদের বড় করেছি।
স্কুলটা—যেখানে নিজের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছিলাম।
কফি হাউস—যেখানে প্রেমে পড়েছিলাম।
শ্মশানঘাট—যেখানে শেষ বিদায় দিয়েছি।
আর এই হাসপাতাল—যেখানে আজ ভর্তি হব। আর বাড়ি ফেরা হবে না।”
তিনি আমার হাতে ৫০০০ টাকা গুঁজে দিলেন।
“ধন্যবাদ। তুমি আমাকে আমার জীবনটা একবার ঘুরিয়ে দেখালে। আমার শেষ অচেনা মানুষ, যে আমার সঙ্গে কোমল আচরণ করল।”
আমি নিতে চাইনি।
“না দাদু, এটা আমি নিতে পারব না।”
তিনি বললেন,
“নাও। আমার কাউকে দেওয়ার নেই। ছেলে-মেয়েরা কথা বলে না। বন্ধুরা কেউ নেই। তুমি তিন ঘণ্টা সময় দিয়েছ। তিন ঘণ্টার মানবিকতা। তার দাম টাকার চেয়ে বড়।”
তিনি ছোট সুটকেসটা হাতে নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলেন।
পরের দিন আবার গেলাম। খোঁজ নিলাম।
“শ্রী অনিরুদ্ধ মুখার্জি। কেবিন ৪১২।”
ফুল নিয়ে ঢুকলাম। আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন।
“তুমি এসেছ?”
“এভাবে ফেলে যেতে পারিনি।”
দুই ঘণ্টা কথা বললাম। তাঁর মিতালি দেবী, তাঁর ছাত্রছাত্রী, তাঁর অভিমানী ছেলেমেয়েদের কথা।
প্রতিদিন যেতে শুরু করলাম। চা নিয়ে যেতাম। খবরের কাগজ পড়ে শোনাতাম। কখনো শুধু চুপ করে বসে থাকতাম।
একদিন বললেন,
“ভাবতাম একাই মরব। কিন্তু তুমি আছ। শেষবেলায় একজন অচেনা মানুষ পরিবারের মতো হয়ে গেল—এটাই আমার আশীর্বাদ।”
আমি তাঁর হাত ধরলাম।
“আপনি একা নন।”
মঙ্গলবার ভোর ৩টা ১৭ মিনিটে তিনি চলে গেলেন।
আমি তখন তাঁর হাত ধরে বসে।
শেষ কথা ছিল,
“সবাইকে বলো… অচেনা মানুষদের দিকে তাকাতে। সত্যি করে তাকাতে। আমরা সবাই কোথাও যাচ্ছি। কেউ একটু দ্রুত, কেউ ধীরে। যাওয়ার পথে দয়া করো। তুমি করেছিলে। তুমি আমার শেষ দিনগুলো বাঁচিয়ে দিলে।”
মনিটরের শব্দ সোজা লাইন হয়ে গেল।
শ্মশানঘাটে তাঁর দাহের সময় ছিল ছ’জন মানুষ।
আমি।
তিনজন নার্স।
একজন উকিল।
আর এক প্রাক্তন ছাত্র।
তেতাল্লিশ বছর শিক্ষকতা। বায়ান্ন বছরের দাম্পত্য। একাশি বছরের জীবন।
ছ’জন মানুষ।
আমি বলেছিলাম,
“অনিরুদ্ধবাবু আমাকে শিখিয়েছেন—
প্রতিটি অচেনা মানুষ কারও না কারও পুরো পৃথিবী।
প্রতিটি যাত্রী একটা গল্প।
প্রতিটি মানুষ বেঁচে আছে, মরছে, অপেক্ষা করছে—কেউ যেন তাকে দেখে।
তিনি আমাকে ৫০০০ টাকা দিয়েছিলেন জীবনের পথে গাড়ি চালানোর জন্য।
কিন্তু তিনি আমাকে যে শিক্ষা দিয়ে গেলেন, তার মূল্য টাকার চেয়ে অনেক বেশি।
মানবিকতা অতিরিক্ত কিছু নয়। এটাই সবকিছু।”
আজও সেই ৫০০০ টাকা আমি গ্লাভ বক্সে রেখে দিয়েছি। খরচ করিনি।
কারণ প্রতিটা যাত্রী হয়তো তার শেষ সফরে বেরিয়েছে।
প্রতিটা অচেনা মানুষ হয়তো শেষ বিদায় জানাচ্ছে।
তাই এখন আমি অন্যভাবে গাড়ি চালাই।
প্রশ্ন করি। শুনি। মানুষকে দেখি।
কারণ এক বৃদ্ধ শিক্ষক এক কোমল রাত চেয়েছিলেন।
আর এক অচেনা মানুষ থেমে গিয়েছিল।
তুমিও সেই মানুষটা হও।
আজ রাতে কেউ হয়তো তার শেষ সফরে বেরিয়েছে।
সেটাকে কোমল করে ।
নিঃশব্দ মুহূর্ত, উচ্চারণহীন সত্য।

Bidisha ghosh er lekha..

19/03/2026

*প্রিপেইড*

এটা ছিল বিকেল ৩টা, পুনের একটি বড় শ্মশানে।
রোহন (৩৫), যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সফটওয়্যার কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট, সোজা বিমানবন্দর থেকে শ্মশানে এসে পৌঁছেছেন।

তার বাবা সদাশিবরাও (৭৫) আগের রাতে মারা গেছেন।
রোহনের হাতে একটি দামি ল্যাপটপ ব্যাগ, চোখে রে-বেন সানগ্লাস। তিনি ঘামছিলেন এবং বারবার ঘড়ি দেখছিলেন।

সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল “মোক্ষ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নামের একটি অন্ত্যেষ্টি পরিষেবা সংস্থার সুমিত।

সব ব্যবস্থা সে-ই করেছিল। কাঠ সাজানো, পুরোহিত ডাকা, সদাশিবরাওয়ের দেহ স্নান করিয়ে প্রস্তুত করা—সবই সম্পন্ন।

রোহন এসে বাবার মুখের দিকে তাকালেন। দু-এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।

তিনি সুমিতকে জিজ্ঞেস করলেন—
“মিস্টার সুমিত, সব প্রস্তুত তো? আমার ৬টার রিটার্ন ফ্লাইট আছে। কাল একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। দয়া করে দ্রুত শেষ করুন।”

সুমিত হতবাক। *যে বাবা এই ছেলেকে বড় করেছেন, তিনি কি তিন ঘণ্টাও প্রাপ্য নন?*
চুপচাপ মাথা নাড়ল সুমিত।

অনুষ্ঠান শুরু হল। রোহন চিতায় আগুন দিলেন। ধোঁয়া আকাশে উঠতে লাগল।
রোহন সুমিতকে একপাশে নিয়ে চেকবই বের করলেন।
“সুমিত, ধন্যবাদ। খুব ভালো ব্যবস্থা করেছেন। আপনার বিল কত? ৫০ হাজার? ১ লাখ? বলুন, এখনই চেক লিখে দিচ্ছি। আমি আর আসতে পারব না। অস্থি বিসর্জনের ব্যবস্থাও করে দেবেন।”

সুমিত অদ্ভুত এক হাসি নিয়ে রোহনের দিকে তাকাল।
“স্যার, টাকা দেওয়ার দরকার নেই। *আপনার বিল আগেই পরিশোধ করা হয়েছে।”*

রোহন অবাক। “পরিশোধ? কে দিল? আমার কাকা ?”

সুমিত বলল—
“না স্যার। পাঁচ বছর আগে আপনার বাবা সদাশিবরাও আমাদের অফিসে এসেছিলেন। খুব অসুস্থ ছিলেন, ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না।
তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমাদের প্যাকেজ কী? সব ব্যবস্থা করবে তো, যাতে আমার ছেলেকে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়?’

আমরা প্যাকেজের বিস্তারিত বলেছিলাম।
সেদিনই তিনি আগাম ৫০ হাজার টাকা জমা দেন।
আর এই চিঠিটা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে এলে তাকে দেবে। আর যদি না আসে, তোমরাই আমার শেষকৃত্য করো।’”

সুমিত চিঠিটা রোহনের হাতে দিল।
কাঁপা হাতে রোহন চিঠি খুললেন।
বাবার কাঁপা হাতের লেখায় লেখা ছিল—

“ *প্রিয় রোহন,*
বাবা, জানি তুমি খুব ব্যস্ত। আমেরিকায় তোমার নিশ্বাস নেওয়ারও সময় নেই।
জানি আমার মৃত্যুর খবর শুনলে তুমি দুশ্চিন্তায় পড়বে।
‘ *ছুটি পাব তো? টিকিট পাব? মিটিং কী হবে?’—* এসব প্রশ্ন তোমাকে ভাবাবে।

বাবা, তোমার সময় আর ক্যারিয়ার খুব মূল্যবান।
তোমাকে বড় করেছি যাতে তুমি পৃথিবী জয় করো।
এক বুড়ো মানুষের মৃতদেহের জন্য ক্ষতি কোরো না।

তাই আমার মৃত্যুর সব ব্যবস্থা আমি আগেই করে রেখেছি।
এজেন্সিকে টাকা দিয়ে দিয়েছি। তারা সব দেখবে।
তুমি এলে ভালো। না এলেও রাগ করব না।

আমার শুধু একটা অনুরোধ…
*যখন তোমাকে ছোটবেলায় স্কুলে পৌঁছে দিতাম, তোমার হাত কখনও ছাড়িনি।*
আজ যখন আমার চিতায় আগুন দেবে, *তোমার হাত যেন না কাঁপে।*
শিগগির ফিরে যেও। তোমার স্ত্রী অপেক্ষা করছে।
- *তোমার,বাবা* ”

চিঠি পড়ে রোহনের হাত থেকে চেকবই কাদায় পড়ে গেল।
শ্মশানে, যেখানে জ্বলন্ত কাঠের শব্দে ভাঙছিল… রোহনের অহংকার আর ক্যারিয়ারের গর্ব সব ছাই হয়ে গেল।

সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
_*“বাবা…! আমাকে ক্ষমা করো, বাবা!”*_

রোহন সুমিতের পায়ে ধরে বলল—
“সুমিত, আমি আমেরিকায় ফিরতে চাই না! আমি বাবার সাথে থাকতে চাই! আমি অনেক টাকা রোজগার করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত *ভিখারি* হয়েছি!
আমার বাবা মৃত্যুর সময়ও আমার মিটিং নিয়ে ভেবেছেন…
আর আমি তাঁর শেষকৃত্যের দাম নিয়ে দরদাম করছিলাম?”

সেদিন রোহন ফ্লাইট ধরতে পারেনি।
সে সারা রাত জ্বলন্ত চিতার সামনে বসে ছিল।
কারণ সে বুঝেছিল—

“ *প্রিপেইড* ” হতে পারে সিম কার্ড… কিন্তু *বাবার ভালোবাসা* কখনও প্রিপেইড নয়।
বাবার ভালোবাসা সীমাহীন— পৃথিবীর কোনো মুদ্রা তা শোধ করতে পারে না।
তুমি যত বড়ই হও, যত টাকা-ই উপার্জন করো না কেন… যে বাবা-মা তোমার ডায়াপার বদলেছেন, *জীবনের শেষ পথে যখন তোমাকে দরকার হবে, অস্বস্তিতে মুখ ফিরিয়ে নিও না।*
শেষকৃত্য একটি এজেন্সি করতে পারে।
কিন্তু *চোখের জল* … সেটা আউটসোর্স করা যায় না।
*ওটা রক্ত থেকেই আসতে হয়।*

# সংগৃহীত #

06/07/2025

জোহান ইলিয়াশকে চেনেন কেউ?
না, কোনও সেলিব্রিটি ফিল্মস্টার নন। নামজাদা খেলোয়াড়? নাহ্, তাও নন।
অথচ এই ৬৩ বছর বয়সে পৌঁছনোর আগেই তিনি যা যা করেছেন, দুনিয়ার তাবড় স্টার-সেলিব্রিটিরা তা ভাবেনওনি!

জোহান ইলিয়াশ একজন সুইডিশ শিল্পপতি। না না, আম্বানি আদানির পাশে বসার মত নয় অবশ্যই! কোনোদিক দিয়েই নয়। মাত্র ৪ বিলিয়ন ডলারের (মোটামুটি ৩৫,০০০ কোটি টাকা) মালিক শুনেই নাক সিঁটকোনোর কিছু নেই!
কারণ একাধারে শিল্পপতি, ক্রীড়াকর্তা, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী জোহান ইলিয়াশকে তৃতীয় বিশ্বের বাজারি নজরে দেখলে হয়ত খুবই পাতি মনে হবে।

ভারতের ডাকসাইটে শিল্পপতি যখন জমিজঙ্গল কেনেন তখন একটা শিশুও জানে সেখানে জঙ্গল, বসতি, প্রাণীকুল উচ্ছেদ করে ঝমঝমাঝম বিকাশ হবে। কয়লা উঠবে, তেল উঠবে, গলানো সোনা গলে যাবে আদানি-আম্বানির পকেটে। প্রকৃতিকে ছিন্নভিন্ন করে যান্ত্রিক সভ্যতার উন্নয়নের চুল্লি জ্বলবে।

জোহান ইলিয়াশও জঙ্গল কেনেন। যে সে জঙ্গল নয়, খোদ অ্যামাজনের রেইন ফরেস্ট! কিনেই সেই জমি তিনি সিল করে দেন, বহিরাগত মানবকূলের সেই জঙ্গলে ঢোকা, কাঠকাটা, মধু বা জ্বালানি সংগ্রহ নিষিদ্ধ করে দেন বরাবরের মত!

এভাবেই বহুদিন আগে অ্যামাজনের জঙ্গলের ৪ লক্ষ একর জমি কিনে নিয়েছেন জোহান! খরচ করেছেন প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা! কিনেই সিল করে দিয়েছেন ঐ বিশাল বনভূমি। নিষিদ্ধ করেছেন গাছকাটাসমেত সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ!
কারণটা অনেকের কাছে নেহাতই হাস্যকর! পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণীকুলের সাধ্যমত সংরক্ষণ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা!

এতেই থেমে থাকেননি! সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্রাজিলে তৈরি করেছেন "রেইনফরেস্ট ট্রাস্ট"! গত ১৫ বছরে তাঁর এই এনজিও সংস্থা গোটা পৃথিবী জুড়ে তিনকোটি একরেরও বেশি রেইনফরেস্ট লিজ নিয়ে এভাবেই সংরক্ষণ করছে! বাঁচিয়ে রেখেছে বিশাল বনাঞ্চল ও প্রায় আড়াইহাজার বিলুপ্তপ্রজাতির প্রাণীকে!

তাঁরই তৈরি আরেকটা সংস্থা Cool Earth, অ্যামাজন উপত্যকা সমেত পৃথিবীর বিভিন্ন বনাঞ্চলে আদিবাসীদের শিক্ষাদান ও স্বনির্ভর করার উদ্যোগে স্থানীয় এনজিওগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ২০ বছর ধরে।
উদ্দেশ্য ঐ একটাই। অরণ্য ও পরিবেশ রক্ষা করে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা।

খেলাপাগল এই মানুষটা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য, বিশ্ব স্কিয়িং ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট, গ্লোবাল স্ট্যাটেজি ফোরামের প্রেসিডেন্ট। ২০০৭ - ২০১০ অবধি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অরাজনৈতিক প্রতিনিধি ছিলেন।
বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৫০টা পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
ব্যবসায়ী হিসেবেও সফল। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে যখন HEAD নামক ক্রীড়াসামগ্রী সংস্থার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তা তখন দেউলিয়া। আজ সেই সংস্থা বিশাল লাভজনক।

অবাক লাগছে না? এই অদ্ভুত বর্ণময় অথচ কর্মযোগী মানুষকে আমরা প্রায় চিনিই না! তবে এও নিশ্চিত, তাঁকে মনেপ্রাণে চেনে অ্যামাজনের হাজার লক্ষ বনস্পতি, অসংখ্য পাখি ও প্রাণীকুল। হয়ত এটাই তাঁর কাছে জীবনের সার্থকতা।
তাই হয়ত এক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ফোরামে ভাষণ দিতে উঠে তিনি বলেছিলেন - "জীবনটাকে দামী করতে চাইনি কখনও! কিছুটা মূল্যবান করতে চেয়েছি এই প্রকৃতি ও সমাজের কাছে।"

সৌজন্যে সুব্রত রায়

06/07/2025

ভারত বর্ষের সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি!
বলতে গেলে, তিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যাক্তি!

পয়সার গরম তো জীবনে অনেক দেখলেন । কিন্ত বিদ্যার এমন গরম দেখেছেন না শুনেছেন কখনও? সবটা শুনলে মাথা ঝিমঝিম করবে, হাত পা’ও অবশ হয়ে যেতে পারে বৈকি।এক জীবনে এত পড়াশোনা কোন রক্ত মাংসের মানুষ করতে পারে, না পড়লে বিশ্বাস হবে না।তাও আবার সেই ভদ্রলোক যদি ভারতীয় হন !

মারাঠি এই ভদ্রলোকের নাম ‘শ্রীকান্ত্ জিচকার’।

পড়াশোনার কেরিয়ারটা একবার হাল্কা করে চোখ বুলিয়ে নিন শুধু , তাহলেই মালুম পড়বে ভদ্রলোক কি কাণ্ডটাই না করেছেন।

১.জীবন শুরু MBBS, M.D দিয়ে।

২.এরপর L.L.B করলেন।সাথে করলেন ইন্টারন্যাশানাল ল-এর ওপর স্নাতকোত্তর।

৩.এরপর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এর ওপর ডিপ্লোমা,সাথে M.B.A ।

4. এরপর জার্নালিজম নিয়ে স্নাতক।

এতদূর পড়ার পর আপনার যখন মনে হচ্ছে লোকটা পাগল নাকি,তখন আপনাকে বলতেই হচ্ছে এ তো সবে কলির সন্ধ্যে । এখনো গোটা রাত বাকি।

এই ভদ্রলোকের শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রীই আছে দশটা বিষয়ের ওপর! স্নাতকোত্তরের বিষয়ের তালিকাটা একবার দেখুন খালি-

১.পাবলিক আ্যডমিনিস্ট্রেশন

২.সোশিওলজি

৩.ইকোনমিক্স

৪.সংস্কৃত(ডি.লিট)

৫.হিস্ট্রী

৬.ইংলিশ

৭.ফিলোসফি

৮.পলিটিক্যাল সায়েন্স

৯.এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান হিস্ট্রী, কালচার,এন্ড আর্কেওলজি

১০.সাইকোলজি

ওপরের যতগুলো বিষয় দেখছেন সব ক’টিতেই প্রথম শ্রেণীর সঙ্গে স্নাতকোত্তর, এবং ২৮টি স্বর্ণপদক বিজয়ী।সব মিলিয়ে ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতি গ্রীষ্মে ও প্রতি শীতেই উনি কোনো না কোন স্নাতকোত্তরের বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে গেছেন।

মাথা ঝিমঝিম করছে তো!তা মাথার আর দোষ কি বলুন!তবে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার আগে একবারটি শুধু শুনে যান।এতসব পড়তে পড়তে ওনার যখন একঘেয়েমি লাগছিল,ঠিক করলেন এবার একটু স্বাদ বদলানো যাক! তো স্বাদ বদলাতে আমি আপনি বেড়াতে যাই,আর উনি “আই.পি.এস(IPS)” পরীক্ষায় বসলেন আর পাশ করলেন।সেটা ১৯৭৮ সাল।কিন্তু পোষালো না চাকরীটা।চাকরীটা ছেড়ে দিয়ে বসলেন “আই.এ.এস(IAS)” পরীক্ষায়।১৯৮০ তে “আই.এ.এস(IAS)” হলেন।

নটে গাছটা তাহলে মুড়োলো শেষ অবধি।আজ্ঞে না মুড়োয় নি এখনো।চারমাসের মধ্যে “আই.এ.এস(IAS)” এর চাকরীটাও ছেড়ে দিলেন মহারাষ্ট্রের বিধান সভা ভোটে লড়বেন বলে।১৯৮০ তে উনি যখন বিধায়ক নির্বাচিত হলেন তখন ওনার বয়স সবে ২৫।উনি হলেন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী বিধায়ক।সবই হল যখন তখন মন্ত্রী হওয়াটাই বা আর বাকী থাকে কেন!সেটাও হলেন এবং একটা দুটো দপ্তরের নয়,একেবারে ১৪ টা দপ্তরের।১৯৯২ সাল নাগাদ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হলেন।

ওনার এই ‘সামান্য’ কয়েকটি গুণ ছাড়াও তিনি

অসাধারণ চিত্রশিল্পী,

পেশাদার ফটোগ্রাফার,

মঞ্চাভিনেতা,

সখের বেতার চালক

ও জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ও ইউনেস্কোতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ব্যক্তিগত সংগ্রহে ৫২০০০ বই রয়েছে ওনার। ‘লিমকা বুক অফ রেকর্ডস’ ওনাকে “ভারতবর্ষের সবথেকে শিক্ষিত ব্যক্তি”র শিরোপা দিয়েছে।১৯৮৩ তে উনি ‘বিশ্বের অসামান্য দশজন তরুণ’ হিসেবে নির্বাচিত হন।

২০০৪ এ পথ দুর্ঘটনায় ওনার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৪৯

24/06/2025

বিস্মৃত রূপকার//

১৯৯১ সাল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে ময়দানে রাতের অন্ধকারে সঙ্গীতের ছন্দে আলোর বর্ণমালায় রঙ্গিন হয়ে নেচে উঠল কলকাতার প্রথম Musical fountain : FOUNTAIN of JOY.

আমাদের দুর্ভাগা দেশে অর্থই শেষ কথা বলে, তাই RPG Goenka গ্রুপ যারা তার ফাইন্যান্স করেছিল, সবাই সেটুকুই জানে, জানে না তার তৈরির ইতিহাস; জানে না একটা মানুষ কি ভাবে তার দিন রাত এক করে দিয়েছিল সেটাকে রূপ দিতে, জানে না তার স্ত্রীর নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের কাহিনী, জানে না তার মেয়েদের বাবাকে প্রায় না দেখেই বড় হয়ে ওঠার গল্প। আর কি আশ্চর্য! গুগল এ 'fountain of joy' search করলে উঠে আসে R P GOENKA 'র কথা, CESC'র কথা, কোথাও নেই কলকাতার বুকে বোড়ালে সেই ছোট ফ্যাক্টরিটার কথা যেখানে নির্মিত হয়েছিল এই স্বপ্নের জলধারা।
আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে থাকতাম আমরা। সন্ধ্যেবেলা খাওয়ার টেবিলে খাতা বই নিয়ে কি করছি, বাবা একটা প্যাডের পাতায় ছবি আঁকছেন। দেখি কয়েকটা ফোয়ারা। বললেন, "মৌ বল তো এই ফোয়ারা গুলো যদি আলোর সাথে নাচে কেমন হবে!" কিছু না বুঝেই বাবার উৎসাহে গলা মিলিয়ে বললাম "দারুণ হবে"। সেইদিন জানতাম না একটা মানুষ তাঁর স্বপ্নকে রূপ দিতে চলেছেন।
তারপর শুরু হল বাবার সেই পাইপ আলো আর বাজনা নিয়ে খেলা। আমাদের লাভ ছিল বাবার কেনা অগুন্তি ক্যাসেট। কোনটা বাজনার, কোনটা গানের, কখনও সেতার বাজছে, কখনও সন্তুর, কখনও বা আনন্দ শঙ্করের বাজনার তালে ভরে উঠছে রাতের আকাশ। কিন্তু বাবা ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবন থেকে।
বাবা কাজ করতেন প্রিমিয়ার ইরিগেশন নামে এক কোম্পানিতে। চা বাগান, কফি বাগানে যে জল সেচন হয় তার জন্য যে বিশেষ যন্ত্রপাতি লাগে বাবা তারই কারিগর ছিলেন। নিজে হাতে ডিজাইন করতেন আধুনিক যন্ত্রপাতি। কিন্তু নানা কারণে কোম্পানির তখন মন্দা অবস্থা। সেই সময় বাবার মনে এই নতুন আইডিয়াটা খেলে গিয়েছিল।
ফাউন্টেন'এর কাজ হত সন্ধ্যবেলা সূর্য অস্ত গেলে, তাই সকালে স্প্রিংকলার কাপলার পাইপের কাজ আর সন্ধেবেলা ফাউন্টেন।
আমাদের সেই ছোটবেলা থেকে একসাথে রাতের খাওয়া খেতে বসা, প্রথম সেই অভ্যাসে ছেদ পড়ল। মা কলেজে পড়াতেন, সেইসময় রিসার্চ নিয়ে ব্যস্ত, তার মধ্যেই সন্ধেবেলা আমাদের পড়া দেখতেন। বাবার কাছে কোনদিন পড়িনি, উপায়ও ছিল না। বাড়িতে এক অসম্ভব চাপা আবহাওয়া তখন। আমার স্কুলজীবনের মাঝামাঝি থেকে কলেজ জীবন চলেছিল সেই একই নিয়মে। এইভাবে ধীরে ধীরে আমি কৈশোর পেরিয়ে তরুণী হলাম, বাবার মানসপুত্র রূপ পেল।
ময়দানে যেদিন মাননীয় জ্যোতি বসু ও RP Goenka উদ্বোধন করলেন মা বাবা নিমন্ত্রিত ছিলেন, মনে আছে মা এসে রাগে ফেটে পড়েছিলেন এই বলে যে কোথাও বাবা কোন স্বীকৃতি পাননি সেদিনের সেই অনুষ্ঠানে। সহধর্মিণী হিসেবে তার সেই আবেগ এই বয়সে এসে বুঝতে অসুবিধা হয় না। বাবা চিরকালই শান্ত, কাজকে ভালবেসেছেন, স্বীকৃতির প্রতি কোন আকাঙ্খা সেদিনও ছিল না, আজও নেই।
Times of India' র ২৫ শে জুনের একটি প্রতিবেদন পড়ে মনে হল, হয়তো কন্যা হিসেবে আমারও একটা দায়িত্ব থাকে কথাটা জনসমক্ষে আনার। যে ফাউন্টেনকে পৃথিবীর অন্যতম ২৬ টি ফাউন্টেন এর সঙ্গে স্থান দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে আছে রোমের Trevi ফাউন্টেন, ভার্সাই প্রাসাদের Latona ফাউন্টেন, লাস ভেগাসের fountain of Bellagio; ওদেশে শিল্পীর মর্যাদা আছে, স্বীকৃতি আছে, এ দেশে সেই সৌভাগ্য শিল্পী পান না। তাই এই সুন্দর ফাউন্টেন'এর রূপকার কে ছিলেন কেউ কোনদিন জানবে না! শুধু তাই নয় কি সামান্য
infrastructure'এ এত বড় একটা কাজ কলকাতা নিকটবর্তী বোড়ালে ঘটেছিল এই নিয়ে আমরা অবহিত থাকবো না?
অনেক মানুষের নিঃশব্দ কর্মকাণ্ডে আমরা সমৃদ্ধ হই, মানুষগুলো থেকে যায় চোখের আড়ালে, আমরা জানতেও পারিনা কতটা অধ্যাবসায় আর নিষ্ঠা দিয়ে নির্মাণ করে নিজেদের স্বপ্ন সৌধ, কতজনের আত্মত্যাগ মিশে থাকে সেই সৃষ্টির সঙ্গে। গত তিরিশ বছর ধরে আলোকজ্জ্বল জলের ফোয়ারা কলকাতাকে সুন্দর করেছে, কোন এক সময়ে বিশ্বের ফাউন্টেন এর তালিকায় নিজের স্থান করে নিয়েছে। ভাবতে আনন্দ হয় আমার বাবা শ্রী রুদ্রদেব মুখোপাধ্যায় সেই যজ্ঞের প্রধান হোতা যা আজ আন্তজার্তিক মহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর কেউ না জানুক আমরা জানি তার সেই অক্লান্ত পরিশ্রম আর কাজকে ভালবেসে স্বপ্নকে রূপ দেওয়ার কাহিনী।
@ অদ্রিজা//

সবাইকে শেয়ার করার এই অনুরোধ রইল |
☄☄⚡⚡🎼🎼
সংযোজন:
ঠিক।এমন করেই বিখ্যাত লোকেদের মাঝে অখ্যাত থেকে যান প্রকৃত শিল্পী রূপকার। এই পোষ্টটি পড়ে অন্তত: কিছু লোক জানুক। মেয়ের কর্তব্য করেছেন শ্রীমতী অদ্রিজা।
তাকে ধন্যবাদ; এবং যারা লোকজনকে জানাচ্ছেন তাদেরও ধন্যবাদ। আমিও জানাচ্ছি share করে।
আপনিও জানান।।
🙏🌹🙏🌹🙏🌹🙏🌹🙏

24/06/2025

🤞পৃথিবী কাঁপানো এই বিখ্যাত মনিষীর কাহিনী পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। হায়রে মানব জীবন!!!

১৯৬১ সালে পুরো ভারতবর্ষে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম। এরপর ১৯৬৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাত্র দুবছরের মাঝে গণিতে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করে ১৯৬৯ সালে গণিতে পিএইচডি। Reproducing Kernels and Operators with a Cyclic Vector- এর জনক হিসাবে স্বীকৃতি। ১৯৬৯ সালেই নাসার গবেষক হিসাবে যোগদান করে ১৯৭৩ সালে দেশ সেবার মহানব্রত
নিয়ে ফিরে আসেন ভারতে। নাসা'তে উনার অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বলা হয়েছিলো- গণিতে যদি কোনো নোবেল পুরস্কার থাকতো তবে সেটা উনারই প্রাপ্য হতো। আইআইটি সহ ভারতের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

তারপর শুরু হতে থাকে ধীরে ধীরে উনার মানসিক ভারসাম্য হীনতা। তিনি সিজোফ্রেনিয়া নামক একটি রোগে আক্রান্ত হন। (এ রোগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভুলভাল শোনা, উদ্ভট, বিভ্রান্তিকর বা অলীক কিছু দেখা এবং অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা এবং চিন্তাধারা এবং অনুভূতির প্রকাশের মধ্যে সঙ্গতি থাকে না। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক বা কর্মক্ষেত্রে প্রায়শঃই অক্ষমতাজনিত অসুবিধার সম্মুখীন হন।)

উনি স্ত্রী, ঘর ,সংসার সবকিছু থেকে আলাদা হয়ে যান। প্রায় তিন বছর ব্যাঙ্গালোরের একটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৯৮৮ সালের পর থেকে একেবারেই নিঁখোজ। কারো সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। কেউ জানেনা উনি বেঁচে আছেন নাকি মারা
গেছেন।

তারপর, ১৯৯২ সালে উনাকে পাওয়া যায় গৃহহীন হয়ে বিহারের রাস্তার ফুটপাথে অর্ধউলঙ্গ হয়ে শুয়ে আছেন।
কোনো কথা নেই, কাউকে চিনেন না। গণিতের অসংখ্য সূত্র যিনি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা মুহুর্তেই বলে দিতে পারতেন-
সেই বিদ্বান, মনিষী, গণিত বিজ্ঞানী নিজের নামটিও আর বলতে পারেননা।

শুধু ভারত নয় , ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উনি একনামে পরিচিত গণিত বিজ্ঞানী হিসাবে - ড: বশিষ্ঠ নারায়ণ সিংহ। Dr. VashishthaNarayanSingh।

বিহারে যখন উনাকে ভবঘুরে অবস্থায় পাওয়া যায় তখনকার এই ছবি। পুরো ভারতবর্ষের মানুষ বিশেষ করে
শিক্ষিতজন উনার এই ছবি দেখে চমকে ওঠেছিলো। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় হেডলাইন হয়। পাটনার এক ঘরে এখন তিনি বলতে গেলে একেবারে একাকী জীবন যাপন করেন। এই অসামান্য গুণী মানুষের জীবন কাহিনী পড়ে আমি নিথর, নীরব, নিস্তব্ধ হয়ে গেছি। হারিয়ে গেছি এক ভাবনার জগতে। হায়!! মানব জীবন!! আমরা কত বেশি অসহায়!!! কত রহস্যময় এই পৃথিবী। কখন,কেমন করে, কীভাবে যে কি হয়ে যায়। নিমিষেই বদলে যায় মানুষের জীবন। এই রকম জীবন্ত একটা দৃষ্টান্ত থেকে যদি শিখার কিছু না থাকে তবে আমাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ নেই। নিমিষেই সবকিছু চূর্ণ হয়ে যায়।

সংগৃহীত

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বার্তা -Barta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category