08/08/2024
স্বপ্ন দেখানোর সাহস করেছিলেন উনি, কারণ উনি এমন একটা সমাজের কল্পনা করতেন যেখানে মানুষ স্বাধীন হয়ে, নিজের মত করে স্বপ্ন দেখতে পারবে, সেটাকে বাস্তবে পরিণত করতে পারবে, সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন। ছোট ছোট কুঁড়ি, ফুটে উঠবে, তারা তাদের জন্মভূমির মাটিতেই জল হাওয়া পেয়ে বড় হবে, মহীরুহ হবে এই ছিল লোকটার ইচ্ছে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই লোকটির স্বপ্নে দেখা বাংলার চিতা জ্বলছে আজ প্রায় তেরোটা বছর, বাংলার কবরে ফুল জমেছে প্রায় তেরোটা বছর। আজকে চলে গেলেন মানুষটা, চলে গেলেন শারীরিকভাবে। মানসিকভাবে চলে গেছিলেন আগেই, সেই ২০১১ সালে, তবে থেকে আর রাজ্যে কেউ বলেনা নতুন শিল্প কি করে আসবে? নতুন ছেলেমেয়েদের চাকরি কি করে হবে? জেলায় জেলায় সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ কি করে হবে? বাচ্চা ছেলেমেয়েদের শিক্ষার কি হবে? গরীব মানুষের চিকিৎসার কি হবে? বাংলার ভালো কি করে হবে, কেউ বলেনা।
লোকটির কাকা কবিতা লিখতেন, লিখেছিলেন “বলতে পারো বড় মানুষ মোটর কেন চড়বে//আর গরীব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে” হয়ত বা এটাও একটা কারণ ছিল সিঙ্গুরের কারখানার যাতে সস্তার মোটরগাড়ি তৈরি হয় এবং জনগণের কেনার সাধ্যের মধ্যে সেটা থাকে। আজকে সেই সেদিনের লোকটির বিরুদ্ধে করা সমস্ত দাবী নাকচ হয়ে গেছে, প্রমাণ হয়েছে স্পষ্ট যে আসলেই কার কাপড়ে রক্তের দাগ, আসলেই কাদের কলমে রক্ত লেগে আর আসলেই কাদের মুখে রক্ত লেগে আজও...
লোকটি নিজের পূর্বসূরীর ঐতিহ্য ধরে রেখেই বলেছিলেন, দাঙ্গা করতে এলে মাথা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব, এই রকম করে আর কেউ বলেনা, আর কেউ বলবে না কারণ এই শব্দ উচ্চারণ করতে যে ঘরানা লাগে সেই ঘরানার রাজনীতিকে আজ বেশিরভাগ পশ্চিমবঙ্গবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে।
আজকে যারা বাংলাকে খুন করেছে এবং কটা টাকার লোভে যারা এই খুনকে উপভোগ করছে, খুনের উদযাপন করছে রোজ, যারা খুনের থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর কাজে রত, সেই তৃণমূল কংগ্রেস, সেই বিজেপি, সেই আনন্দবাজার পত্রিকা, সেই বর্তমান পত্রিকা ও পোষা বুদ্ধিজীবীর দল, সেই তাদের মুখেই উঠে আসবে এই মানুষটির সম্পর্কে নানা ভালো ভালো কথা, নানা সুখস্মৃতি, নানা প্রশস্তি, কারণ পশ্চিমবঙ্গে এখন দেখনদারি, ধান্দাবাজি, লুটে খাওয়া খুব জনপ্রিয় একটা বিষয়।
এই লেখা কোনো শপথের নয়, কারণ সেসবের পাট চুকেছে অনেক আগেই। এই লেখা হাহাকারের শেষ প্রতিধ্বনি শোনার, পেটে চাকু গেঁথে যাওয়ার পরে শেষ গোঙানি... ক্লু ক্লুকস্ ক্ল্যান