MERA MULK MERA GHAR

MERA MULK MERA GHAR Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from MERA MULK MERA GHAR, Armed forces, KOLKATA.

সাল ১৯৪৭। অক্টোবর মাস। ভারত ভাগের মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। কিন্তু কাশ্মীরের আকাশ তখন বারুদের গন্ধে ভারী। পাকিস্তান থেকে হাজ...
08/12/2025

সাল ১৯৪৭। অক্টোবর মাস। ভারত ভাগের মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। কিন্তু কাশ্মীরের আকাশ তখন বারুদের গন্ধে ভারী। পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার সশস্ত্র পাশতুন উপজাতি এবং হানাদার বাহিনী কাশ্মীর দখলের উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসছে। তাদের চোখ তখন শ্রীনগরের দিকে। বিশেষ করে শ্রীনগর বিমানবন্দর। কারণ তারা জানত, একবার যদি বিমানবন্দর তাদের দখলে চলে যায়, তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী আর কাশ্মীরে নামতে পারবে না। আর কাশ্মীর চিরতরে ভারতের হাতছাড়া হয়ে যাবে।

বারামুলা শহর তখন জ্বলছে। হানাদাররা লুটপাট, হত্যা আর ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। তাদের আটকানোর মতো কেউ নেই। ভারতীয় সেনাবাহিনী তখনও শ্রীনগরে পৌঁছাতে পারেনি। দিল্লির মসনদে তখন চরম উত্তেজনা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে এক মরণপণ লড়াই। ঠিক সেই সময়, বারামুলার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ১৯ বছরের এক সাধারণ কাশ্মীরি যুবক।

নাম—মকবুল শেরওয়ানি। ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক তরুণ সদস্য। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। ১৯৪৪ সালে তিনি এতটাই সাহসী ছিলেন যে, খোদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভায় দাঁড়িয়ে তার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭-এর সেই অক্টোবরে তার সামনে ছিল এক মরণপণ চ্যালেঞ্জ।

হানাদার বাহিনী বারামুলা পৌঁছে মকবুলকে ধরে জিজ্ঞেস করল—"শ্রীনগর এয়ারপোর্টে যাওয়ার সবচেয়ে ছোট রাস্তা কোনটা?" মকবুল জানতেন, তিনি যদি সঠিক রাস্তা দেখিয়ে দেন, তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শ্রীনগর পতন হবে। কাশ্মীর চলে যাবে পাকিস্তানের দখলে। তিনি এক অসামান্য এবং বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি হানাদারদের বললেন, "আমি রাস্তা চিনি, আমার পিছু আসুন।"

কিন্তু তিনি তাদের সোজা রাস্তায় না নিয়ে, জঙ্গল আর পাহাড়ের এক ভুল ও দুর্গম রাস্তায় নিয়ে গেলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল একটাই—সময় নষ্ট করা। তিনি চেয়েছিলেন শত্রুরা যেন গোলকধাঁধায় ফেঁসে থাকে, যাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী শ্রীনগরে ল্যান্ড করার সময় পায়।

তার এই বুদ্ধির জোরেই হানাদাররা কয়েক ঘণ্টা নয়, কয়েক দিনের জন্য পিছিয়ে গেল। আর ঠিক সেই সময়ের মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর শিখ রেজিমেন্ট শ্রীনগর বিমানবন্দরে নামতে সক্ষম হলো। মকবুল জানতেন তিনি কী করছেন। তিনি জানতেন এর পরিণাম মৃত্যু। কিন্তু দেশের জন্য তিনি সেই ঝুঁকি নিলেন।

যখন হানাদাররা বুঝতে পারল যে, এক ১৯ বছরের ছেলে তাদের বোকা বানিয়েছে এবং তাদের অভিযান ব্যর্থ করে দিয়েছে, তাদের রাগের সীমা রইল না। তারা মকবুলকে খুঁজে বের করল। তাকে টেনেহিঁচড়ে বারামুলার টাউন স্কোয়ারে নিয়ে আসা হলো। শুরু হলো এক মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

তাকে একটি বারান্দার পিলারের সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা হলো। যিশু খ্রিস্টের মতো তার দুই হাতে বড় বড় পেরেক হাতুড়ি দিয়ে ঠুকে দেওয়া হলো। রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর, যন্ত্রণায় শরীর দুমড়ে যাচ্ছে। তবুও শত্রুরা থামল না। তারা বন্দুকের নল তার কপালে ঠেকিয়ে বলল—"বল, পাকিস্তান জিন্দাবাদ! বল, শের-ই-কাশ্মীর মুর্দাবাদ!"

পেরেক বিঁধনো হাতে ঝুলতে ঝুলতে ১৯ বছরের মকবুল শেরওয়ানি সেদিন যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। তিনি যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে চিৎকার করে বলেছিলেন—"হিন্দু-মুসলিম একতা জিন্দাবাদ! ভারত জিন্দাবাদ!"

তার এই সাহসে হানাদাররা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। একজন নয়, ১৪ জন উপজাতি মিলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাল। ১৪টি বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেল তার শরীর। তিনি লুটিয়ে পড়লেন, কিন্তু তার কাজ তখন শেষ। তিনি তার নিজের জীবনের বিনিময়ে শ্রীনগরকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন বারামুলায় পৌঁছাল, তারা মকবুলের দেহ উদ্ধার করল। এই ১৯ বছরের ছেলেটি যদি সেদিন ওই কয়েকটা দিন সময় না কিনে দিতেন, তবে আজকের মানচিত্রটা হয়তো অন্যরকম হতো। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, যুদ্ধের ময়দানে শুধু বন্দুক দিয়ে লড়া হয় না, বুদ্ধি আর সাহস দিয়েও লড়া যায়।

আজও ভারতীয় সেনাবাহিনী মকবুল শেরওয়ানিকে একজন হিরো হিসেবে সম্মান জানায়। বারামুলায় তার নামে অডিটোরিয়াম এবং মেমোরিয়াল আছে। বিখ্যাত লেখক মুলক রাজ আনন্দ তাকে নিয়ে লিখেছেন 'ডেথ অফ আ হিরো'। মকবুল শেরওয়ানি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি কাশ্মীরের সেই আত্মা—যিনি প্রমাণ করেছিলেন দেশপ্রেমের কোনো বয়স হয় না, আর সাহসের কাছে বুলেটও হার মানে।

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MERA MULK MERA GHAR posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to MERA MULK MERA GHAR:

Shortcuts

Share

Category