16/08/2026
আজ ১৬ই আগস্ট
"ওরা একজন মারলে, আমরা দশ জন মারবো" এই হুঙ্কারে যিনি হিন্দু গণহত্যার প্রতিরোধে নেমেছিলেন তার নাম গোপাল মুখার্জী ওরফে গোপাল পাঁঠা।
১৯৪৬ সালের ১৬ই আগষ্ট মুসলীম লীগ পাকিস্তান দাবীর স্বপক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে কোলকাতায় "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" (Direct Action Day) ঘোষনা করেছিল। ঘোষনা অনুযায়ী ১৬ই আগষ্ট ভোর সাড়ে চারটার সময় একজন হিন্দু গোয়ালাকে হত্যার মাধ্যমে শুরু হয় হিন্দু গণহত্যার সূচনা।
হাজার হাজার হিন্দু নর নারী শিশু হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষনের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দুদের রক্ষার্থে সেইদিন হাতে বন্দুক ও তরবারি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন গোপাল পাঁঠা। তার আখড়ার তিন শতাধিক ব্যায়ামবীরকে সাথে নিয়ে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে গোপাল পাঁঠা বলেছিলেন "ওরা একজন মারলে, আমরা দশ জন মারবো", তবে সকলে মাথায় রাখবে নিরীহ রিক্সা চালক ঠেলা চালক মুসলিমদের কেউ কোন আঘাত করবে না। দাঙ্গাকারী মুসলিমদের আধমরা করবে না তাদের সোজা জাহান্নমে পাঠিয়ে দিতে হবে। এই বক্তব্য সবার সামনে পেশ করে জয় মা কালী ধ্বনি দিয়ে সবাইকে নিয়ে গোপাল পাঁঠা বেরিয়ে পরেছিল কোলকাতাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত রুখতে ও হিন্দু গণহত্যা রুখতে।
পার্থক্য স্পষ্ট, মুসলিম দাঙ্গাকারীরা নিরীহ হিন্দুদের খুন ধর্ষন করেছিল, লুটপাট করেছিল অপরদিকে গোপাল পাঁঠার দল যারা হিন্দু সনাতনী তারা নিরীহ হিন্দুদের সহিত মুসলিম নিরীহদেরও রক্ষা করেছিল। বদলা ছিল শুধু মুসলিম লীগ দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে।
সনাতনী চিন্তাধারা ও মুসলিম চিন্তাধারার ফারাক ছিল আছে থাকবে।
কোলকাতা ও হিন্দুদের বাঁচাতে গোপাল পাঁঠার লড়াইয়ে রিভলভার কিনতে, বিভিন্ন অস্ত্র সস্ত্র কিনতে অন্যান্য খরচের ব্যয়ভার বহন করেছিল শহরের বড়বড় মারোয়াড়ী ব্যবসায়ীগণ।
১৬ই আগষ্ট যতবার আসবে গোপাল পাঁঠার নাম ততবার উচ্চারিত হবে।
গোপাল পাঁঠা অমর রহে ।🙏