04/09/2026
এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। মিথ্যা কথার রেকর্ডটা ১৯৮০সাল থেকে বাজানো হচ্ছে। প্রথমে বাজাত কংগ্রেস,তারপর তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে এখন মহানায়কের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের সুযোগ নিয়ে বিজেপির পালা। এতদিন ধরে বাজানোর ফলে রেকর্ডটা ফেটে গেছে। গোয়েবলসের তত্ত্ব অনুযায়ী মিথ্যা কথাকে বারবার বলে বলে সত্যি বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা এখন আর কাজ দেবে না। মহানায়কের ভাই বিখ্যাত অভিনেতা তরুণ কুমারের কথায় রবীন্দ্রসদনে মহানায়কের মৃতদেহ রাখা হয়নি । তার আশঙ্কা ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের মৃতদেহ নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, মহানায়কের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মানুষের দ্বারা সেই রকম কিছু বা তারও ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে পারে । যেকোনো জায়গায় সি.পি.আই (এম) নিয়ে আসার প্রয়োজন নেই .. মহানায়ক উত্তম কুমার গোটা বাংলার গর্ব । তখনও ছিলেন ... এখনও আছেন । আর মহানায়কের শেষ যাত্রায় পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সব রকম সহযোগিতা করেছিলেন এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে শেষযাত্রা সম্পন্ন হয় । মনে রাখবেন টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের নাম মহানায়ক উত্তম কুমার বামফ্রন্ট আমলে রাখা হয়েছিল । টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিও বাম আমলে স্থাপিত হয়েছিল । হোয়াট-অ্যাপ ইউনিভার্সিটির মিথ্যা প্রচারে প্রভাবিত হলে শেষ পর্যন্ত মানব সন্তান থেকে গোমাতার সন্তানে পরিণত হতে হয় । আর যারা হয় তাদের সাধারণ মানুষ "বলদ" বলে ডাকে ।
একদিন ক্ষমতার দম্ভে কমিউনিস্ট নেতারা ভেবেছিলেন, মহানায়কের শেষ বিদায়ের মুহূর্তেও তাঁর প্রাপ্য সম্মানকে হয়তো দলীয় নির্দেশ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বেড়াজালে আটকে রাখা যাবে। কিন্তু তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন-উত্তমকুমার কোনও দলের নন, কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের নন,তিনি বাঙালির ।
সময়ের স্রোতে সেই রাজনৈতিক ক্ষমতা আজ ইতিহাসের পাতায় মলিন। সিপিএম হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির অন্ধকারে। কিন্তু মহানায়ক উত্তমকুমার? তিনি আজও একইভাবে বাঙালির আবেগে, ভালোবাসায়, স্মৃতিতে এবং সংস্কৃতির গভীরে চিরঅমলিন।