Patuli Street Library

Patuli Street Library A street library for book lovers

গতবছর থেকে গড়িয়া সুচর্চা এবং পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি যৌথভাবে আয়োজন করে চলেছে পথনাটক উৎসব।পথচলতি মানুষকে নাটকের সাথে ...
21/08/2026

গতবছর থেকে গড়িয়া সুচর্চা এবং পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি যৌথভাবে আয়োজন করে চলেছে পথনাটক উৎসব।পথচলতি মানুষকে নাটকের সাথে সংযুক্ত করার তাগিদে আমাদের এই প্রচেষ্টা। তাই প্রতি মাসের মতো এই মাসেও আমরা হাজির থাকছি আবারও দুটি ভিন্ন ধরনের পথনাটক নিয়ে "বারো মাসে তেরো নাটক "পথনাটক উৎসবে।
আগামী ২৩শে আগস্ট,রবিবার
সময় : সন্ধ্যা ৬টা
স্থান: পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি

প্রথম নাটক : শেষ বিকেলের ডাক
প্রযোজনা: নাট্যার্ঘ
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: দেবজিৎ ব্যানার্জী

দ্বিতীয় নাটক: ট্রিগার
প্রযোজনা: গড়িয়া সুচর্চা
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: ড: নন্দন ভট্টাচার্য্য
আপনাদের উপস্থিতি আমাদের উৎসাহিত করবে।
দেখা হোক পথে ...
প্রবেশ অবাধ।
যোগাযোগ : ৭০০১৯৬৯৬১৭/৭০৪৪৩৪৯৫৯৫/৯৮৩০৫২১০০৬

গতবছর থেকে গড়িয়া সুচর্চা এবং পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি যৌথভাবে আয়োজন করে চলেছে পথনাটক উৎসব।পথচলতি মানুষকে নাটকের সাথে ...
18/08/2026

গতবছর থেকে গড়িয়া সুচর্চা এবং পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি যৌথভাবে আয়োজন করে চলেছে পথনাটক উৎসব।পথচলতি মানুষকে নাটকের সাথে সংযুক্ত করার তাগিদে আমাদের এই প্রচেষ্টা। তাই প্রতি মাসের মতো এই মাসেও আমরা হাজির থাকছি আবারও দুটি ভিন্ন ধরনের পথনাটক নিয়ে "বারো মাসে তেরো নাটক "পথনাটক উৎসবে।
আগামী ২৩শে আগস্ট,রবিবার
সময় : সন্ধ্যা ৬টা
স্থান: পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি

প্রথম নাটক : শেষ বিকেলের ডাক
প্রযোজনা: নাট্যার্ঘ
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: দেবজিৎ ব্যানার্জী

দ্বিতীয় নাটক: ট্রিগার
প্রযোজনা: গড়িয়া সুচর্চা
সম্পাদনা,অনুবাদ ও নির্দেশনা: ড: নন্দন ভট্টাচার্য্য
আপনাদের উপস্থিতি আমাদের উৎসাহিত করবে।
দেখা হোক পথে ...
প্রবেশ অবাধ।
যোগাযোগ : ৭০০১৯৬৯৬১৭/৭০৪৪৩৪৯৫৯৫/৯৮৩০৫২১০০৬

এক বছর পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি চালানোর পর মনে হল শিশুদের র্সাবিক বিকাশের জন্য একটি নাটকের দল গড়ে তোলা দরকার। অতিন্দ্র ...
17/08/2026

এক বছর পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি চালানোর পর মনে হল শিশুদের র্সাবিক বিকাশের জন্য একটি নাটকের দল গড়ে তোলা দরকার। অতিন্দ্র দানিয়াড়ি দাদা ছোটদের দলের একটি নাটক পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে প্রথম শো। কয়েকজন বিশিষ্ট অতিথিদের আমন্ত্রণ করার কথা ভাবছিলাম। অতিন্দ্রদা বললেন রাজা সেনের কাছে চলুন। উনি এরকম সামাজিক কাজ ভালোবাসেন। এরপর বেশ কয়েকবার এসেছেন আমাদের উৎসাহিত করতে। পাপিয়া সেন ও এসেছেন আমাদেরকে উৎসাহিত করতে। আমার খুব ইচ্ছে ছিল একটি পারফরর্মিং আর্টের স্কুল খোলার। রাজা সেন বললেন বিনা পারিশ্রমিকে তিনি শিশুদের অভিনয় শেখাবেন। জায়গার অভাবে পারলাম না। শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম জন্ম জয়ন্তীতে The Greatest Bengali of The Millennium তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন। আমাকে একদিন ফোন করে জানালেন তথ্যচিত্রটি ড. পবিত্র সরকারকে দেখাতে চান। তাঁর মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার বাড়িতে ব্যবস্থা করলাম। সবপরিবারে চলে এলেন। অনেকদিন এমন হয়েছে লাইব্রেরির শিশুদের নিয়ে নাটকের ক্লাস করছি হঠাৎ রাজা সেন হাজির। চপমুড়ি খেতে খুব ভালোবাসতেন। আজকের দিনে এমন মানুষ বিরল। এমন আকস্মিকভাবে চলে যাবেন ভাবতে কষ্ট হয়। আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম।

১৯৩৬ সালের স্পেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বের্টোল্ট ব্রেশট রচনা করেছিলেন নাটক Die Gewehre der Frau Carrar (Señora Carrar...
13/08/2026

১৯৩৬ সালের স্পেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বের্টোল্ট ব্রেশট রচনা করেছিলেন নাটক Die Gewehre der Frau Carrar (Señora Carrar's Rifles)। ব্যক্তিগত আবেগ বনাম সামাজিক দায়িত্ব এবং অহিংসা বনাম সশস্ত্র প্রতিরোধের আদর্শিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এই নাটক। না এই গল্প যুদ্ধের বীভৎসতার কথা বলে না, বলে এক মায়ের কথা, যে মায়ের কোনো দেশ নেই, ধর্ম নেই। যে মা বিশ্বাস করে যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকলেই তার সন্তানেরা নিরাপদ থাকবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্মমতা তার নিরপেক্ষতার ধারণাকে ভেঙে দেয়। চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে একজন মা কি কাটিয়ে উঠতে পারবে তার মনস্তাত্তিক দ্বন্দ্ব ? অনন্ত সময় পেরিয়ে সেই মা আজও কতখানি প্রাসঙ্গিক? ব্রেশট-এর সেই কালজয়ী নাটকের প্রায় অনুবাদ "ট্রিগার" নিয়ে হাজির হবে গড়িয়া সুচর্চা "বারো মাসে তেরো নাটক " পথনাটক উৎসবে।

নাটক: ট্রিগার
প্রযোজনা: গড়িয়া সুচর্চা
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: ড: নন্দন ভট্টাচার্য্য
আপনাদের উপস্থিতি আমাদের উৎসাহিত করবে।
স্থান: পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি
আগামী ২৩শে আগস্ট,রবিবার
সময় : সন্ধ্যা ৬টা
দেখা হোক পথে ...
প্রবেশ অবাধ।
যোগাযোগ : ৭০০১৯৬৯৬১৭/৭০৪৪৩৪৯৫৯৫/৯৮৩০৫২১০০৬

শেষ বিকেলের নরম আলোয় দুটি পৃথক জীবনবৃত্ত একাকার হয়ে যায় প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মে। অতীত ও বর্তমান মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দী...
11/08/2026

শেষ বিকেলের নরম আলোয় দুটি পৃথক জীবনবৃত্ত একাকার হয়ে যায় প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মে। অতীত ও বর্তমান মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিনের কোন অজানা সত্য উন্মোচিত করে. ..,যা দু'জন মানুষের জীবনকে নতুন অর্থে আবিষ্কার করতে বাধ্য করে ?
নিয়তির অনিবার্য আহ্বানের এক গভীর আবেগময় নাট্যকথা নিয়ে নাট্যার্ঘ-র একটি নাট্য প্রযোজনা 'শেষ বিকেলের ডাক'।
আগামী ২৩শে আগস্ট,রবিবার
সময় : সন্ধ্যা ৬টা
নাটক: শেষ বিকেলের ডাক
প্রযোজনা: নাট্যার্ঘ
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: দেবজিৎ ব্যানার্জী
আপনাদের উপস্থিতি আমাদের উৎসাহিত করবে।
স্থান: পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি
দেখা হোক পথে ...
প্রবেশ অবাধ।
যোগাযোগ : ৭০০১৯৬৯৬১৭/৭০৪৪৩৪৯৫৯৫/৯৮৩০৫২১০০৬

08/08/2026

"অধনের হও ধন, অনাথের নাথ হও হে, অবলের বল" 🙏🏼

"পারলে একটা বটগাছ হোস! পথিক এসে ছায়া পাবে, শান্তি পাবে, যাবার সময় হয়ত একটা ডাল ভেঙে নিয়ে যাবে! কত পাখি বাসা বাঁধবে, ...
06/08/2026

"পারলে একটা বটগাছ হোস! পথিক এসে ছায়া পাবে, শান্তি পাবে, যাবার সময় হয়ত একটা ডাল ভেঙে নিয়ে যাবে! কত পাখি বাসা বাঁধবে, মলমূত্র ত্যাগ করে নোংরা করবে!কত লতা পরজীবীর মত গজাবে তোকে ঘিরে! কিছু যায় আসে না! বটগাছ বটগাছ‌ই.....তার মহিমা একটা ডাল ভাঙলে কিছু কমে না, পাখির মলমূত্রের নোংরাও কিছু মনে আসে না! ধ্বংস হয়ে গেলেও শুধু ইতিহাসের বুকে লেখা থাকে, এখানে একটি বটবৃক্ষ ছিল।"
গতবছর থেকে পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি ও গড়িয়া সুচর্চা যৌথভাবে বছরভর পথনাটক উৎসবের আয়োজন করে চলেছে। এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল আকাশের চোখ রাঙানি নিয়ে। তারপরে গোটা একটা বছর পার করে আমরা আরেকটি বছরের চতুর্থ মাসে এসে উপস্থিত হয়েছি..। প্রতিমাসে ভাবি, এই মাসে তো নানা উৎসব অনুষ্ঠান রয়েছে, তেমন দর্শক বোধ হয় হবে না এবার। আবার কোন মাসে সকাল থেকে ঝিরিঝিরি বাদল ধারা মনের কোণে আশঙ্কার মেঘ তৈরী করেছে যে, আজ বুঝি কেউ আর নাটক দেখতে আসবে না..মঞ্চের মতো ঠান্ডা ঘরে বসে আরাম আয়েসে নাটক দেখার মজা তো আর গাড়ি ঘোড়ার আওয়াজ এর মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বসে পথনাটকে পাওয়া সম্ভব নয় !!
কিন্তু বিগত একবছরের উপর আমাদের মনের কোণে উঁকি দেওয়া যাবতীয় ভয়,ভ্রান্তি ,ভাবনাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে নাট্যপ্রেমী দর্শক তথা পথ চলতি, অফিস ফেরত, সারাদিন কর্মক্লান্ত সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের উপস্থিতি বুঝিয়ে দেয় থিয়েটার সত্যিই এক জীবন্ত কলামাধ্যম যার বিকল্প এ আই এর ভার্চুয়াল জগত কখনোই হতে পারে না।
আমাদের দর্শককুলের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আপনারাই আমাদের চালিকা শক্তি। তাই আমাদের তো আর বিরাম নেওয়া কোনভাবেই চলবে না ...। প্রত্যেকবারের মতো এই মাসেও আগামী ২৩শে আগস্ট, রবিবার পাটুলিতে আবারো দুটি পথনাটক নিয়ে উপস্থিত থাকবো। দেখা হোক, মত বিনিময় হোক পথে...

আজ ২৯ জুলাই। বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস।আমার প্রিয় লেখক শ্রদ্ধেয় সমীরণ দাস লিখিত "নিঃসঙ্গ ঈশ্বর"  উপন্যাস থেকে।অভিযান পাব...
29/07/2026

আজ ২৯ জুলাই। বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস।
আমার প্রিয় লেখক শ্রদ্ধেয় সমীরণ দাস লিখিত "নিঃসঙ্গ ঈশ্বর" উপন্যাস থেকে।
অভিযান পাবলিশার্স ..........
শরীরটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বিদ্যাসাগর। বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসা করান কখনও হোমিয়োপ্যাথি, কখনও অ্যালোপ্যাথি, কখনও কবিরাজি। কিন্তু উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় না। বিদ্যাসাগরের মন পড়ে থাকে কর্মাটাড়ের গরিব, সরল, অসহায় মানুষগুলোর মধ্যে। শিবপ্রসন্ন ভট্টাচার্য হাইকোর্টের উকিল। মাঝে মাঝে আসেন বিদ্যাসাগরের কাছে। একদিন বললেন, আপনি মনে হয় কর্মাটাড়ে গিয়ে থাকলেই ভালো থাকেন। অনেকদিন এসেছেন, আবার কয়েকদিন ঘুরে আসতে পারেন।

বিদ্যাসাগর কথা না বলে কয়েক মুহূর্ত উদাসভাবে তাকিয়ে থাকেন। তারপর বলেন, কেন ভালো থাকি জানো? এখানকার ভদ্রবেশধারী ভণ্ড আর্য সন্তানদের থেকে ওখানকার অশিক্ষিত সাঁওতালরা অনেক ভালো। তারা কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না। তারা অকৃত্রিমভাবে ভালোও বাসতে পারে।

আবার কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকেন বিদ্যাসাগর। ফের বলেন, ওখানে গেলে ভালো থাকি বটে, কিন্তু মাঝে মাঝে খুব খারাপও লাগে। ওখানে এক সের চালের ভাত, আধ সের ডাল, আধ সের আলু আর এক সের মাংস যে লোকগুলো খেতে পারে, তাদের পোয়াটাক ভুট্টার ছাতু খেয়ে থাকতে হয়, তার বেশি জোটে না। অথচ আমি ওদের মাঝখানে বসে দিব্যি খাওয়া-দাওয়া করছি- সহ্য করতে পারি না। এতদিন ওদের মধ্যে থেকেও কাজের কাজ তেমন কিছুই করতে পারিনি।

শিবপ্রসন্ন কথাগুলো শুনতে শুনতে তাকিয়ে দেখেন, বিদ্যাসাগরের চোখে জল। দিনে দিনে বিদ্যাসাগরের অসুস্থতা বাড়ে। বাদুড়বাগানের বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না। শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ডাক্তারের ওষুধ ছাড়াও আফিম সেবন করেন। তবুও পেটের অসুখের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে যকৃতের ব্যথা। ডাক্তার বললেন, লোকজনের সঙ্গে কথা-বলা, মেলামেশা কমাতে হবে। বিদ্যাসাগর বললেন, এই বাড়িতে থাকলে সেটা সম্ভব নয়।

ফের মনে পড়ে গেল মধুসুদনের কথা। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল উত্তরপাড়ার জমিদার জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। কিছু দিন সুস্থ থাকার পর মৃত্যু হয়েছিল আলিপুরের সরকারি হাসপাতালে। আমারও কি একই দশা হবে?

কিছুদিন পর যকৃতের ব্যথা আবার বেড়ে ওঠে। ক্যানসার ধরা পড়ে। আফিম সেবন বন্ধ করে অন্য ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ওষুধে ব্যথা না কমে বাড়তে থাকে। নিয়মিত চিকিৎসার জন্য শ্বেতাঙ্গ ডাক্তার বার্চ ও ম্যাকোলেনকে আনানো হয়। স্থায়ী নার্সের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ছোটোখাটো শরীরটা আরও ছোটো ও লোলচর্মসার হয়ে গেছে। বুকের পাঁজরের হাড় বেরিয়ে পড়েছে, নিশ্বাস-প্রশ্বাসে সেই পাঁজর কামারের হাপরের মতো ওঠে-নামে। এখন তিনি বেশিরভাগ সময়ই আচ্ছন্নের মতো পড়ে থাকেন। বাবার কথা মনে পড়ে। বাবা মারা গিয়েছিলেন মায়ের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর। বিদ্যাসাগর বিড়বিড় করেন, এক সময় আপনাকে অনেক কটু কথা বলেছি বাবা, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।

মায়ের কথা মনে পড়ে, স্ত্রীর কথা মনে পড়ে। ওরা মৃত্যুর সময় ইঙ্গিতে বলে গিয়েছিলেন নারায়ণকে ক্ষমা করতে। নারায়ণও ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। এতদিন পর নারায়ণকে দেখতে ইচ্ছা করে বিদ্যাসাগরের। একটা পুরোনো অ্যালবাম আছে টেবিলের দেরাজের মধ্যে। সেই অ্যালবামে অনেকের ছবি আছে --- বাবার ছবি, মায়ের ছবি, ভাইদের ছবি, নারায়ণের ছবি, মেয়েদের ছবি। বিদ্যাসাগর হেমলতাকে ডাকেন, হেম? মা?
হেমলতা বাবার ডাক শুনে দ্রুত ছুটে আসে। বিদ্যাসাগরের একটা হাত সোজা উঁচু হয়ে আছে, সেই হাত যেন কাউকে খুঁজছে। কাউকে ডাকতে চাইছে, কাউকে ধরতে চাইছে। হেমলতা ছুটে এসে বাবার হাত জড়িয়ে ধরে, জানে বাবাই তার একমাত্র আশ্রয়। বাবার থেকে বড়ো আশ্রয় আর কেউ হয় না। বলে, কী বলছ বাবা?

আমাদের একটা অ্যালবাম ছিল, মনে আছে?

হেমলতা বলল, হ্যাঁ বাবা, মনে আছে।

ওই অ্যালবামটা একবার এনে দিবি?

হেমলতা জানে অ্যালবামটা থাকে বাবার টেবিলের দেরাজে। বাবা মাঝে মধ্যে ওটা দেখে। বলল, এনে দিচ্ছি বাবা, এক্ষুনি এনে দিচ্ছি।

হেমলতা অ্যালবাম এনে দিলে বিদ্যাসাগর ছবিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। নারায়ণের ছবির দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেন। বলেন, নারায়ণকে খবর দে, ওকে একবার দেখতে ইচ্ছে করছে।

খবর পেয়ে নারায়ণ চলে এল ভবসুন্দরীকে সঙ্গে নিয়ে। এই বাড়িতে নারায়ণ আগে একবার এসেছে, কিন্তু ভবসুন্দরী এই প্রথম। নীচে বিশাল চেহারার শ্রীমন্ত কাঁদছে। বৈঠকখানায় অনেক লোক, তারা একবার বিদ্যাসাগরের সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু ডাক্তারের নির্দেশে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। ওরা সাধারণ মানুষ, দূর-দূর থেকে এসে বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ চোখ মুছছে, উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছে, কেউ বুক চাপড়াচ্ছে। মাঝেমধ্যে শ্বেতাঙ্গরা আসছেন, রাজা-মহারাজারাও আসছেন। সেইসব মানুষদের পাশ দিয়ে দ্রুতপায়ে নারায়ণ ওপরে উঠে বাবার পাশে বসে কাঁদতে শুরু করল। ভবসুন্দরীও চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে কাঁদতে থাকে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হেমলতার দুই পুত্র ছোট্ট সুরেশ ও জ্যোতিষ বিভ্রান্তভাবে তাকিয়ে থাকে। তারা জানে, দাদু আর বাঁচবে না। কিন্তু না-বাঁচার গুরুত্ব যে কতখানি, সেটা ওরা জানে না। বিদ্যাসাগর চোখ বন্ধ করে পড়ে ছিলেন বিছানার ওপর, মাঝে মাঝে যন্ত্রণায় মুখ বিকৃত হয়ে উঠছে। নারায়ণ ডাকল, বাবা? ও বাবা?

বিদ্যাসাগর চোখ মেলে তাকালে নারায়ণ চলে আসে মুখের কাছে। বিদ্যাসাগর হাত তোলার চেষ্টা করলে নারায়ণ সেই হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলে, কষ্ট হচ্ছে বাবা?

পুরোনো কথা ভুলে বিদ্যাসাগর আঁকড়ে ধরেন ছেলের হাত। এই ছেলে একসময় বিধবা-বিবাহ করে তাঁর মুখ উজ্জ্বল করেছিল। অন্যের নিন্দার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। ওকে পরিত্যাগ করে কি আমি লঘু পাপে গুরু দণ্ড দিয়েছি? বললেন, না রে। তুই এসে গেছিস, আর কষ্ট নেই।

নারায়ণের মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে? ভাবে, বাবা কি আমাকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন? উইল পালটে এই বাড়ির উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যাবেন আমাকে? সে ফের বলে, বাবা, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।

বিদ্যাসাগর হাত বাড়ান ভবসুন্দরীর দিকে। ভবসুন্দরীও চোখের জল ফেলতে ফেলতে সেই হাত জড়িয়ে ধরলে বিদ্যাসাগর বলেন, আমার দাদুভাই প্যারীমোহন কেমন আছে?

ভবসুন্দরী আরও জোরে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলে, ভালো আছে বাবা। আপনি সুস্থ হয়ে উঠুন তাড়াতাড়ি।

বিদ্যাসাগর তখনও অন্য হাতে নারায়ণের হাত ধরে আছেন। চোখ বন্ধ করে বলেন, আমার জীবনটা ব্যর্থ হয়ে গেল।

নারায়ণ বিচলিত হয়ে বলল, কেন বাবা ওই কথা বলছেন? এই দেশে আপনার মতো সফল পুরুষ কেউ নেই। যে-কোনো লোক আপনার নাম শুনলে কপালে হাত ঠেকায়?

অস্থিরভাবে বিদ্যাসাগর বললেন, তাহলে আমি বহুবিবাহ রোধ করতে পারলাম না কেন? বহুবিবাহ রোধ না করতে পারলে বালবিধবা তো বাড়তেই থাকবে।

নারায়ণ বলে, আপনি যেটুকু করেছেন, সেটুকুর জন্যই দেশের মানুষ আপনাকে মাথায় করে রাখবে।

ভুল, নারায়ণ, ভুল! কত লোক আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আমাকে অপমান করেছে, তুই জানিস না। কিছু লোক আমার বিরোধিতা করেছে, আমি হিন্দু হয়েও হিন্দুর মতো ধর্মাচরণ করিনি বলে। কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটা পয়সা দান করিনি। আমি যা করেছি, মানুষের জন্য করেছি। তবুও এই হতাশার মধ্যেও শান্তি পাই যখন ভাবি রাজা রাধাকান্ত দেবের মতো মহা পরাক্রমশালী মানুষের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিধবা-বিবাহ আইন পাস করাতে পেরেছিলাম। বহুবিবাহ বিরোধী আইনও হয়তো পাস করাতে পারতাম যদি বঙ্কিমের মতো লেখকেরা আমার পাশে দাঁড়াত। বঙ্কিমের মতো আচরণ কিন্তু মধুসূদন করেনি। সেজন্যই সে অনন্য।

নারায়ণ কথা বলে না। তাকিয়ে থাকে বাবার দিকে। পাশে ভবসুন্দরীও তাকিয়ে থাকেন বিদ্যাসাগরের দিকে। বিদ্যাসাগর ফের বলেন, রামকৃষ্ণ পরমহংস এসেছিলেন আমার এই বাড়িতে। আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলে আমাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি কোনো উত্তর দিইনি। কেন জানিস? দুঃখী মানুষের প্রার্থনায় ঈশ্বর সাড়া দেন না।

নারায়ণ বলে, তবুও আপনি দেশের জন্য যা করেছেন, আর কেউ করেনি। বিদ্যাসাগর বলেন, আমি আশা করেছিলাম বিধবা-বিবাহকে শাস্ত্রসম্মত প্রমাণ করতে পারলেই এদেশের লোক সেটা অবনত মস্তকে গ্রহণ করবে, কিন্তু আমার সে বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে। এদেশে শাস্ত্র ও দেশাচার এক পথে না চলে পরস্পর ভিন্ন পথে চলেছে।

বিদ্যাসাগর দীর্ঘ সময় চুপ করে থাকেন। তারপর বলেন, ধন্য রে দেশাচার। তোর কী অনির্বচনীয় মহিমা! তুই তোর অনুগত ভক্তদের দুর্ভেদ্য দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে একাধিপত্য কায়েম করেছিস। আমি পারিনি পুরোপুরি সেই একাধিপত্য ভাঙতে।

নারায়ণ কথা বলে না, চারিদিকে নৈঃশব্দ্য জাগে। বিদ্যাসাগর আবার বলেন, আমার আরও একটা দুঃখ কী জানিস নারায়ণ?

নারায়ণ কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, কী বাবা?

আমার ছেলে হয়ে তুই কী করে বিধবার সম্পত্তি গ্রাস করতে গিয়েছিলিস?

নারায়ণ আবার বিদ্যাসাগরের পা জড়িয়ে ধরে বলে, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন বাবা।

বিদ্যাসাগর কথা বলেন না। চোখ বন্ধ করে শুয়ে শুয়ে কর্কট রোগের যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকেন। মায়ের কথা, স্ত্রীর কথাও মনে পড়ে, বিড়বিড় করেন, তোমাদের শেষ ইচ্ছা আমি রাখব। ক্ষমা করব নারায়ণকে। পালটে দেব ইচ্ছাপত্র। এটাই হয়তো শেষ সময়, এখন না পালটালে আর সময় পাওয়া যাবে না। তখন একটা চিঠি এসে পৌঁছোল। বীরসিংহ জননীর পত্র। চমকে উঠলেন বিদ্যাসাগর, কে বীরসিংহ জননী? তিনি তো আমারও জননী!

চিঠি শেষ করে বিদ্যাসাগর কাঁদতে শুরু করেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন, মা। আমার বীরসিংহ মা। আমি এতদিন তোমাকে ছেড়ে থেকে অন্যায় করেছি। বুঝতে পারিনি তোমার মর্মবেদনা। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো, আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো।

বিদ্যাসাগরের কান্না, তাঁর গলার স্বর চারদিক আচ্ছন্ন করে। ছুটে আসে হেমলতা, বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে, কী হয়েছে বাবা? কাঁদছ কেন? কষ্ট হচ্ছে? বিদ্যাসাগর ওঁর কথার উত্তর না দিয়ে বলেন, একটা কাগজ দে, কলম দে। আমি চিঠি লিখব দীনবন্ধু ও শম্ভুচন্দ্রকে।

হেমলতা কাগজ এনে দিলে বিদ্যাসাগর তাকান নারায়ণের দিকে। এই অবস্থায় তাঁর পক্ষে উঠে বসে কিছু লেখা সম্ভব নয়। বলেন, বাবা নারায়ণ, চিঠিটা লেখো। নারায়ণ লিখতে শুরু করে।

শ্রীশ্রীহরি শরণম

প্রিয় দীনবন্ধু ও শম্ভুচন্দ্র,

আমি প্রায় সতের বছর বীরসিংহে পদার্পণ করিনি। ভেবেছিলাম আর কখনো যাব না। কিন্তু আমার সেই সিদ্ধান্তে ভুল ছিল। আমি "বীরসিংহ জননী"-র চিঠি পেয়ে সেই ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি আমার মায়ের প্রতি অবিচার করেছি। এখন আমি খুবই অসুস্থ, একটু সুস্থ হয়ে উঠলেই চলে যাব আমার জননীর কাছে। গিয়ে তাঁর পা ধরে ক্ষমা চেয়ে আসব। আর ভুল হবে না, মা তাঁর এই অভাগা সন্তানকে নিশ্চয়ই ক্ষমা করবেন।

শুভার্থিনঃ

শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র শর্মণঃ

কিন্তু শরীর আর সুস্থ হল না। শ্রাবণ মাসের চার তারিখ তিনি গোপালচন্দ্র শাস্ত্রীকে বললেন নতুন উইলের ব্যবস্থা করার কথা।

এখন লোকজনের আসা আরও বেড়ে গেছে। যাঁরা এক সময় তাঁর চরম বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁরাও আসছেন। বিদ্যাসাগর কখনও একটু-আধটু কথা বলতে পারেন, কখনও পারেন না। কয়েকদিন পর উইল তৈরি হল, সাক্ষীরাও তৈরি। গোপালচন্দ্র বললেন, পণ্ডিতমশাই, সই করুন।

বিদ্যাসাগর তাকালেন। নানা রকম ভাষা ফুটে উঠল তাঁর সেই দৃষ্টিতে, তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, না, থাক।

বিদ্যাসাগর এখন চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। একটু একটু করে নাড়ির স্পন্দন কমছে। সকলেই বুঝে গেছেন কী ঘটছে। ঘরের মধ্যে, ঘরের বাইরে অনেকেই চোখ মুছছেন, হাউ হাউ করে কাঁদছেন। অন্ধকার ভেদ করে এগিয়ে চলেছেন চিরনিঃসঙ্গ এক প্রবীণ। একবার চোখ মেলে তাকালেন, সেই চোখের দৃষ্টিতে অতলান্ত গভীরতা। কাকে যেন খুঁজছেন। এক দিকের দেয়ালে ভগবতী দেবীর ছবি। বিদ্যাসাগর ভাষাহীন চোখে তাকালেন মায়ের মুখের দিকে, তারপরই শেষ নিশ্বাস ফেললেন।

আর তিনি তাকাবেন না কোনো দিকে।..............

Address

Near Satyajit Ray Park , E. M. Bypass
Kolkata
700094

Opening Hours

Monday 6pm - 8pm
Tuesday 6pm - 8pm
Wednesday 6pm - 8pm
Thursday 6pm - 8pm
Friday 6pm - 8pm
Saturday 6pm - 8pm
Sunday 6am - 8pm

Telephone

+919830521006

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Patuli Street Library posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Patuli Street Library:

Shortcuts

Share

Category